ফ্যাট ম্যান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
ফ্যাট ম্যান
Fat man.jpg

প্রকৃত বোমাসদৃশ ফ্যাট ম্যান
প্রকার পারমাণবিক অস্ত্র
উদ্ভাবনকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
তথ্যাবলি
ওজন ১০,২১৩ পাউন্ড (৪,৬৩৩ কেজি)
দৈর্ঘ্য ১০.৭ ফুট (৩.৩ মি)
ব্যাস ৫ ফুট (১.৫ মি)

Filling প্লুটোনিয়াম
বিস্ফোরণের ফলন ২১ কিট (৮৮ টেজু) ~৭৫ মিলিয়ন ডিনামাইটের সমতূল্য

ফ্যাট ম্যান (ইংরেজি: Fat Man) মনুষ্য নির্মিত তৃতীয় আণবিক বোমার সাঙ্কেতিক নাম। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তৈরী করা হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োগের মানদণ্ডে বিশ্বযুদ্ধে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছিল। প্রথম আণবিক বোমাটি ছিল লিটল বয়৯ আগস্ট, ১৯৪৫ তারিখে তৎকালীন জাপান সাম্রাজ্যের নাগাসাকি দ্বীপপুঞ্জে মিত্রশক্তির পক্ষ হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল।[১]

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুরুরদিকের পারমাণবিক অস্ত্রের নকশা প্রণয়নে 'ফ্যাট ম্যান' মডেল অনুসরণে নির্মাণ করা হয়েছে। ১৬ জুলাই নিউ মেক্সিকোর অ্যালামোগোর্দো এয়ার ফিল্ডে পরীক্ষামূলকভাবে বিস্ফোরণের এক মাসের মধ্যে এটি তৈরী করা হয়।[২] খুব সম্ভবতঃ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের নামানুসারে আণবিক বোমাটির এরূপ নামকরণ করা হয়েছে।[৩] কিন্তু রবার্ট সার্বার স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন যে, বোমাটি গোলাকার ও মোটা ছিল যা দ্য মাল্টিজ ফ্যালকন চলচ্চিত্রের সিডনী গ্রীনস্ট্রিট অভিনীত ক্যাস্পার গাটম্যান চরিত্র থেকে উদ্ভূত।

লক্ষ্যস্থল[উৎস সম্পাদনা]

বোমা নির্মাণের প্রয়োজনীয় উপকরণাদির অপর্যাপ্ততায় বেশ কয়েকমাস বিলম্ব হয়। এ বিলম্বের ফলে ইউরোপ নিশ্চিত যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে যায়। বিকল্প লক্ষ্য হিসেবে ধীরে ধীরে জার্মানি থেকে জাপানের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়। ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের পর ককুরা শহরকে লক্ষ্যস্থল করা হয়। কিন্তু আকাশ জুড়ে মেঘ জমে থাকায় বিকল্প লক্ষ্যস্থল হিসেবে নাগাসাকিকে নির্ধারণ করা হয়।

বক্সকার নামীয় বি-২৯ বোমারু বিমানের সাহায্যে ফ্যাট ম্যানকে বহন করা হয়। ৩৯৩ডি বোম্ব স্কোয়াড্রনের মেজর চার্লস সুইনে বিমানটির পাইলট ছিলেন। জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১:০২ ঘটিকায় ১,৬৫০ ফুট উঁচু থেকে বোমাটি নিক্ষেপ করেন। এর ক্ষমতা ছিল ৮৮ টেরাজুল বা ২১ কিলোটন টিএনটি।[৪] পার্ল হারবার আক্রমণে ব্যবহৃত টাইপ ৯১ টর্পেডোর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মিতসুবিশি-উরাকামি অস্ত্র কারখানাটি বিস্ফোরণের পর ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছিল।[৫]

ফলাফল[উৎস সম্পাদনা]

আকাশ মেঘে ঢাকা থাকার ফলে সঠিকভাবে লক্ষ্যস্থল নির্ধারণ করা যায়নি। ফলে বোমাটি কেন্দ্রস্থল বিচ্যুত হয় এবং হিরোশিমার তুলনায় কম ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আনুমানি ঊনচল্লিশ হাজার লোক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়াও পঁচিশ হাজার লোক আঘাতপ্রাপ্ত হন।[৬] বিস্ফোরণ ও অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাজারো লোক পরবর্তীকালে মারা যান। তেজষ্ক্রিয়তার প্রভাবে শত শত লোক আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। নাগাসাকিতে এ নিহত হবার ঘটনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তৃতীয় সর্বোচ্চ।[৭] এর পূর্বে রয়েছে হিরোশিমা[৮][৯][১০][১১]৯/১০ মার্চ, ১৯৪৫ তারিখে সংঘটিত টোকিওতে বোমাবর্ষণ[১২]

তথ্যসূত্র[উৎস সম্পাদনা]

আরও দেখুন[উৎস সম্পাদনা]