ফলি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ফলি মাছ
Notopterus notopterus
Notopterus notopterus43.JPG
ফলি মাছ
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Animalia
পর্ব: কর্ডাটা
শ্রেণী: Actinopterygii
বর্গ: Osteoglossiformes
পরিবার: Notopteridae
গণ: Notopterus
Lacépède, 1800
প্রজাতি: N. notopterus
দ্বিপদী নাম
Notopterus notopterus
(Pallas, 1769)
প্রতিশব্দ

Notopterus bontianus Valenciennes, 1848
Notopterus kapirat Lacepède, 1800
Notopterus osmani Rahimullah & Das, 1991
Notopterus pallasii Valenciennes, 1848

ফলি মাছ (বৈজ্ঞানিক নাম Notopterus notopterus) (ইংরেজি bronze featherback) হচ্ছে Notopteridae গোত্রের সদস্য যা এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পাওয়া যায়। এটি এ গোত্রের একমাত্র সদস্য। এটি আসামে কান্ধুলি নামে পরিচিত।[১] যদিও এই মাছ স্বাদু জলের মাছ তবে ঈষৎলোনা পানি অর্থাৎ স্বাদু জল থেকে বেশি কিন্তু লোনা জল থেকে কম লবণাক্ত জলে এরা বিচরণ করে বলে জানা গেছে।[২] বর্তমানে প্রজাতিটি এর গণের একমাত্র সদস্য হলেও বর্তমানে একে species complex হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।[১]

দৈহিক গঠন[সম্পাদনা]

শুকনো এবং ভাপা করা প্লা সালাত, খোরাতে এর বিশেষত্ব রয়েছে

অত্যন্ত চাপা দেহের এই মাছটির স্থানীয় নাম ফলুই। পৃষ্ঠ ও পুচ্ছ পাখনা ছোট, পায়ু পাখনা লম্বা। দৈর্ঘ্যে প্রায় ৬০ সে.মি. হলেও বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ৩৬ সে.মি. রেকর্ড করা হয়েছে।[৩][৪]

জীবন চক্র[সম্পাদনা]

শৈবাল, পোকামাকড়, কাদা, বালি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। কখনও কখনও ছোট মাছ খেয়ে থাকে। প্রজননের সময় বর্ষাকাল এবং এক প্রজনন ঋতুতে ২৫ সে.মি. লম্বা মা মাছ ৩০০০ টি ডিম দিয়ে থাকে। আগাছা যুক্ত স্থানে বাসা করে ডিম ছাড়ে এবং ডিম আঠালো ও হলুদ রঙের। বাবা ও মা উভয় মাছই ডিম পাহারা দিয়ে থাকে।[৩][৪]

দেশিয় প্রজাতির এই মাছ শৈবাল, পোকামাকড়, কাঁদা, বালি, ছোট মাছ ইত্যাদি খেয়ে জীবন ধারণ করে থাকে। বর্ষাকালে একটি মা মাছ প্রায় তিন হাজার ডিম দিয়ে থাকে। [৫]

বিস্তৃতি[সম্পাদনা]

এই প্রজাতির মাছ বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। এছাড়া পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াতেও পাওয়া যায়।[৬]

বাংলাদেশে বর্তমান অবস্থা এবং সংরক্ষণ[সম্পাদনা]

আইইউসিএন বাংলাদেশ (২০০০) এর লাল তালিকা অনুযায়ী এই প্রজাতিটি এখনও সংকটাপন্ন প্রাণী হিসাবে চিহ্নিত। আবাসস্থল কমে যাওয়া, জল দূষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণই এই প্রজাতির অস্তিত্বের জন্য প্রধান হুমকি।[৬]

কমে যাওয়ার কারন[সম্পাদনা]

প্রাকৃতিক জননাধার দাম ধ্বংস, বৈশ্বিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়, নদীভাঙ্গন- ভরাট, ঘন বাঁধ তৈরি, বন্যা, আবহাওয়া পরিবর্তন, নদ- নদীর গতিপথ পরিবর্তন, হাওর- বাঁওড়, খাল -বিল বরাট, মাটি দূষণ প্রভৃতি কারণে ময়মনসিংহসহ সারাদেশে ফলি মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। [৫]

ব্যবহার[সম্পাদনা]

লাওস, ইন্দোনেশিয়া এবং থাইল্যান্ডে এই মাছ খুব জনপ্রিয়। এই মাছ খেতে সুস্বাদু কিন্তু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাঁটায় পূর্ণ।[৬]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "IUCN - Notopterus notopterus"। ২৯ এপ্রিল ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০১৪ 
  2. টেমপ্লেট:FishBase species
  3. http://bn.bdfish.org/2009/10/ফলি/
  4. http://www.fishbase.org/
  5. মনোনেশ দাস (২০১৫-০৪-০৫)। "ময়মনসিংহে ফলি মাছের আকাল"blog.bdnews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৪-১১ 
  6. আলম, গাজী নুরুল (অক্টোবর ২০০৯)। "স্বাদুপানির মাছ"। আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; আবু তৈয়ব, আবু আহমদ; হুমায়ুন কবির, সৈয়দ মোহাম্মদ; আহমাদ, মোনাওয়ার। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ২৩ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৪–৫। আইএসবিএন 984-30000-0286-0 |আইএসবিএন= এর মান পরীক্ষা করুন: invalid prefix (সাহায্য)