ফতোয়ায়ে আলমগীরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব ফতোয়ায়ে আলমগীরী সঙ্কলনের নির্দেশ দেন।[১]

ফতোয়ায়ে আলমগীরী (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া নামেও পরিচিত) একটি আইন সংকলন। মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের নির্দেশে এই সংকলন প্রণীত হয়। সুন্নি হানাফি মাজহাবের ভিত্তিতে শরিয়া আইন এতে সংকলিত হয়েছে। অনেক আলেম এই গ্রন্থ প্রণয়নে অবদান রেখেছেন।[২]

ফতোয়ায়ে আলমগীরী প্রণয়নের উদ্দেশ্যে আওরঙ্গজেব ফিকহের ৫০০ আলেমকে নিয়োগ দেন। তাদের মধ্যে ৩০০ জন দক্ষিণ এশিয়া, ১০০ জন ইরাক এবং ১০০ জন হেজাজ থেকে আগত। দিল্লিলাহোরে সংকলন কর্মে শেখ নিজাম বুরহানপুরি দলের নেতৃত্ব দিয়েছন। তাদের কয়েক বছরব্যপী পরিশ্রমের মাধ্যমে ফতোয়ায়ে আলমগীরী প্রণীত হয়। এই গ্রন্থে বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতির সাপেক্ষে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, দাস, যুদ্ধ, সম্পদ, আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক, বিনিময়, কর, অর্থনীতি ও অন্যান্য আইন এবং আইনি নির্দেশনা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

এই কিতাব খানি ফতোয়ায়ে আলমগিরি বলে প্রখ্যাত। কিন্তু আসল নাম হলো ফতোয়ায়ে-হিন্দিয়াহ। কথিত আছে যে, ১০০ হানাফি আলেম কিতাব-খনির সম্পাদনায় অংশগ্রহন করেন। সম্পাদক-মন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শায়খ নিজামুদ্দিন। তার জন্ম তারিখ পাওয়া যায় না। তার মৃত্যু ১১০৩ হিজরীতে বলে জানা যায়। ফতোয়ায়ে-আলমগিরি লেখা হয় ১১০৩ হিজরীতে অর্থাত ইমাম আবু হানিফার মৃত্যুর (১১০৩-১৫০)= ৯৫৩ বছর পর। এই কিতাবে ইমাম আবু হানিফার কথা গুলো প্রাপ্তির কোনো সুত্র নাই। কিতাব-খানির নামের নিচে বড়-বড় অক্ষরে লেখা আছে কিতাব-খানি ইমাম আবু-হানিফার মাজহাব। অর্থাত কিতাব-খানি অন্য কিছু নয়, কেবল ইমাম আবু-হানিফার মতামত। কিতাব-খানির পাশে আরো দু-খানি কিতাব আছে। এক-খানির নাম ফতোয়ায়ে-কাজী-খান। লেখকের নাম হাসান বিন-মনসুর। ৫৯২ হিজরীতে মারা যান। জন্ম তারিখ পাওয়া যায়না।[৩]

এটি প্রণয়নের পর ফতোয়ায়ে আলমগীরী হানাফি মাযহাবের একটি রেফারেন্স গ্রন্থ হিসেবে গণ্য ব্যবহৃত হতে থাকে।[৪]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Jamal Malik (2008), Islam in South Asia: A Short History, Brill Academic, আইএসবিএন ৯৭৮-৯০০৪১৬৮৫৯৬, pp. 194-197
  2. The Administration of Justice in Medieval India, MB Ahmad, The Aligarh University (1941)
  3. মুফতি মাউলানা আব্দুর রউফ। হানাফি ফিকহের ইতিহাস ও পরিচয় 
  4. David Arnold and Peter Robb, Institutions and Ideologies: A SOAS South Asia Reader, Psychology Press, pp. 171-176

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

  • গুগল বইয়ে The Muhammadan Law, English translation of numerous sections of Fatawa i Alamgiri (Translator: SC Sircar, Tagore Professor of Law, Calcutta, 1873)
  • Sheikh Nizam, al-Fatawa al-Hindiyya, 6 vols, Beirut: Dar Ihya' al-Turath al-'Arabi, 3rd Edition, (1980)