প্লাজমোডিয়াম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search

প্লাজমোডিয়াম
Malaria.jpg
Plasmodium জীবাণুর স্পোরোজয়েট দশা (ভুল রঙ এবং ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দৃষ্ট)
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Chromalveolata
মহাপর্ব: Alveolata
পর্ব: Apicomplexa
শ্রেণী: Aconoidasida
বর্গ: Haemosporida
পরিবার: Plasmodiidae
গণ: Plasmodium
Marchiafava & Celli, 1885
Species

about 200

Plasmodium গণভুক্ত আণুবীক্ষণিক পরজীবী। এরা মানুষ ও আন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর ম্যালেরিয়া রোগের জন্য দায়ী।

ম্যালেরিয়া পরজীবীর বিভিন্ন প্রজাতি ও জ্বরের নাম[সম্পাদনা]

মোট আবিষ্কৃত প্রজাতি প্রায় ৬০টি।মাত্র ৪টি প্রজাতি মানবদেহে রোগ সৃষ্টি করে।

  • Plasmodium vivax - বিনাইন টারশিয়ান ম্যালেরিয়া
  • Plasmodium malariae- কোয়ারটার্ন ম্যালেরিয়া
  • Plasmodium ovale- মৃদু টারশিয়ান ম্যালেরিয়া
  • Plasmodium falciparum- ম্যালিগন্যান্ট টারশিয়ান ম্যালেরিয়া

ম্যালেরিয়ার পোষক[সম্পাদনা]

ম্যালেরিয়ার পোষক হল মানুষ

ম্যালেরিয়ার বাহক[সম্পাদনা]

ম্যালেরিয়ার বাহক হল স্ত্রী Anopheles মশকী।

ম্যালেরিয়া রোগের লক্ষণ[সম্পাদনা]

  • প্রাথমিক পর্যায়ে মাথাধরা,বমি বমি ভাব,অনিদ্রা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়।
  • দ্বিতীয় পর্যায়ে রোগীর শীত অনুভূত হয় এবং কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে।জ্বর ১০৫°-১০৬° ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে।কয়েক ঘন্টা পর জ্বর কমে যায়।

৪৮ ঘন্টা পর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসাই P.vivax জীবাণু সৃষ্ট ম্যালেরিয়ার প্রধান লক্ষণ।

  • তৃতীয় পর্যায়ে রোগীর দেহে জীবাণুর সংখ্যা অসম্ভবভাবে বেড়ে যাওয়াত কারণে দ্রুত রক্তের লোহিত কণিকার ভাঙ্গণ শুরু হয়,ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়,প্লীহা ও মস্তিষ্ক আক্রান্ত হয়ে রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে।

ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ[সম্পাদনা]

Plasmodium vivax জীবাণু বহনকারী স্ত্রী Anopheles মশকী মানবদেহ থেকে রক্ত গ্রহণ করার সময় মশকীর লালার সাথে জীবাণু (স্পোরোজয়েট দশা) সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ করে এবং রক্ত প্রবাহের সাথে ৩০মিনিটের মধ্যেই যকৃত কোষে চলে আসে। এই জীবাণুর সুপ্তকাল ১২-২০ দিন অর্থাৎ সুস্থ দেহে জীবাণু প্রবেশের ১২-২০ দিন পর লক্ষণ প্রকাশ পায়।মানবদেহে এই জীবাণুর জীবনচক্রে প্রতিবার মেরোজয়েট দশা সৃষ্টির সময় গায়ে জ্বর দেখা দেয়।

ম্যালেরিয়া রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধ[সম্পাদনা]

ম্যালেরিয়া জ্বর হলে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া দরকার।ম্যালেরিয়া জ্বরের অনুমোদিত ওষুধ হল কুইনাইন। কুইনাইন দিয়ে তৈরি বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ হল ক্লোরোকুইন,নেভাকুইন,সালফাডক্সিন ইত্যাদি ওষুধ এর ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। কুইনাইন পাওয়া যায় Rubiaceae গোত্রর Cinchona officinalis নামক পুস্পক উদ্ভিদ থেকে। স্ত্রী Anopheles মশকী এই জীবাণু বহন করে থাকে এবং এক রোগী থেকে অন্য সুস্থ দেহে সংক্রমণ ঘটিয়ে থাকে। তাই মশকী নিধনি ম্যালেরিয়া জ্বর প্রতিরোধের একমাত্র উপায়। মশকী নিধনের জন্য মশকীর প্রজনন ক্ষেত্র গুলো ধ্বংস করা,প্রজনন ক্ষেত্রে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো, মশার লার্ভা ধ্বংস করা,জলাশয়ে মশকীর লার্ভা ভক্ষণকারী গাপ্পী,চেলা,খলিশা মাছ চাষ করা ইত্যাদি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। ঘরে মশারী ব্যবয়,মশকী নিধনকারী রাসায়নিক স্প্রে করা,মশকীরোধী ক্রিম ব্যবহার করা উচিত। বাড়ির আশেপাশে প্রচুর পরিমাণে তুলসি গাছ লাগালে মশকীর উপদ্রব কম হয়।

জীবনচক্র[সম্পাদনা]

মানুষের যকৃত ও লোহিত রক্তকণিকায় ম্যালেরিয়া পরজীবী অযৌন পদ্ধতিতে জীবনচক্র সম্পন্ন করে।

এদের জীবনচক্রে "'সাইজন্ট"' নামক একটু বিশেষ দশা বিদ্যমান থাকেন

এ ধরণের "'অযৌন"' জননকে "'সাইজোগনি"' বলে। সাইজোগনি দুটি প্রধান পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়-

  • হেপাটিক বা যকৃত সাইজোগনি
  • এরিথ্রোসাইটিক বা লোহিত রক্তকণিকা সাইজোগনি

হেপাটিক বা যকৃত সাইজোগনি[সম্পাদনা]

হেপাটিক সাইজোগনি দুটি পর্যায়ের মাধ্যমে সংঘটিত হয়-

  • প্রি এরিথ্রোসাইটিক হেপাটিক সাইজোগনি
  • এক্সো-এরিথ্রোসাইটিক হেপাটিক সাইজোগনি

প্রি-এরিথ্রোসাইটিক হেপাটিক সাইজোগনি[সম্পাদনা]

  • Anopheles মশকীর লালাগ্রন্থিতে অবস্থিত Plasmodium এর স্পোরোজয়েট দশার জীবাণু মশকীর দংশনের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে এবং প্রায় ৩০মিনিট এর মধ্যেই রক্তস্রোতের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায় এবং হেপাসাইটিক র আক্রমণ করে।
  • যকৃত থেকে খাদ্য গ্রহণ করে মাকু আকৃতির স্পোরোজয়েট গুলো গোলাকার ক্রিপজয়েট এ পরিণত হয়।
  • প্রতিটি ক্রিপ্টোজয়েট এর নিউক্লিয়াস ক্রমাগত বিভক্ত হয়ে কয়েকদিন এর মধ্যে বহ নিউক্লিয়াস (প্রায় ১২০০) বিশিষ্ট দশায় পরিণত হয়।পরজীবীর এ দশাকে সাইজন্ট বলে।
  • পরবর্তী পর্যায়ে সাইজন্ট এর প্রতিটি নিউক্লিয়াস কিছু পরিমাণ সাইটোপ্লাজম এবং চারপাশে! প্লাজমামেমব্রেন সৃষ্টি করে। পরজীবীর এ দশাকে ক্রিপ্টোমেরোজয়েট বলে।
  • চক্রের শেষ পর্যায়ে হেপাসাইট বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং ক্রিপ্টোমেরোজয়েটগুলো যকৃতের সাইনুসয়েডে আশ্রয় নেয় এবং এখান থেকে পরবর্তী চক্র শুরু হয়।