প্রশান্ত কিশোর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
প্রশান্ত কিশোর
জন্ম১৯৭৭
রথাস, করান, বিহার, ভারত
পেশানির্বাচন কৌশলী
রাজনীতিবিদ
পরিচিতির কারণগুজরাট বিধানসভা নির্বাচন, ২০১২
ভারতের সাধারণ নির্বাচন, ২০১৪
বিহার বিধানসভা নির্বাচন, ২০১৫
তানজানিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০১৫
পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচন, ২০১৭
উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন, ২০১৭
অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন, ২০১৯
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন, ২০২১

প্রশান্ত কিশোর একজন ভারতীয় নির্বাচনী কৌশলী ও রাজনীতিবিদ যিনি জনতা দল (সংযুক্ত) এর রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

প্রশান্ত কিশোর ১৯৭৭ সালে বিহারের রথাস জেলার করানে জন্মগ্রহণ করেন।[১] তিনি পড়াশোনা করেছেন বক্সার জেলায়হায়দ্রাবাদেহায়দ্রাবাদে প্রকৌশলবিদ্যায় পড়াশোনা শেষ হলে তিনি জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচীতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছে।[১][২] তিনি সেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে নির্বাচন কৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ও সিটিজেন্স ফর অ্যাকাউন্টেবল গভর্নমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন।[২][৩]

গুজরাট বিধানসভা নির্বাচন ২০১২[সম্পাদনা]

তিনি ২০১২ সালের গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষে কাজ করেন।[৪] নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি জয়লাভ করে ও নরেন্দ্র মোদি টানা তৃতীয় বারের মত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ষোড়শ লোকসভা নির্বাচন[সম্পাদনা]

তিনি ষোড়শ লোকসভা নির্বাচনে আবারো ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষে কাজ করেন।[৪] নির্বাচনে তিনি "হর হর মোদি, ঘর ঘর মোদি" স্লোগান, "চায়ে পে চর্চা" ও "রান ফর ইউনিটি" প্রচারাভিযান প্রবর্তন করেন।[২][৪] নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি জয়লাভ করে ও নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দলটির নেতাদের সাথে মনোমালিন্য তৈরি হয় তার। ফলে তিনি দলটির সাথে নিজের সম্পর্ক ত্যাগ করেন ও সেসময় তার সংস্থা সিটিজেন্স ফর অ্যাকাউন্টেবল গভর্নমেন্টের নাম পরিবর্তন করে ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি রাখেন।[২]

বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০১৫[সম্পাদনা]

২০১৫ সালে বিহার বিধানসভা নির্বাচনে তিনি জনতা দল (সংযুক্ত) এর পক্ষে কাজ করেন।[৫] তিনি দলটির সাথে রাষ্ট্রীয় জনতা দলের জোট গঠনে ভূমিকা রাখেন। সে সময় তিনি "বিহারি বনাম বাহারি" স্লোগান প্রবর্তন করেন ও বিহারে গেরুয়া ঝড় থামিয়ে দেন।[৫] নির্বাচন শেষে নীতিশ কুমার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তানজানিয়ার রাষ্ট্রপতি ও আইনসভা নির্বাচন ২০১৫[সম্পাদনা]

২০১৫ সালে তিনি নির্বাচন কৌশলী হিসেবে তানজানিয়ায় কাজ করেছিলেন।[৩] ২০১৫ সালে তানজানিয়ার রাষ্ট্রপতি ও আইনসভা নির্বাচনে জন মাগুফুলি ও চামা চা মাপিন্দুজি দলের জন্য কাজ করেছিলেন।[৬] ২০১৫ সালে তানজানিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জন মাগফুলি ও আইনসভা নির্বাচনে চামা চা মাপিন্দুজি দল জয়লাভ করে।

পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচন ২০১৭[সম্পাদনা]

২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ২০১৬ সালে তাকে পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশলী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।[৭][৮][৯] তিনি অমরিন্দর সিংয়ের জন্য "পাঞ্জাব দা ক্যাপটেন", "ক্যাপটেন দা পাঞ্জাব" স্লোগান তৈরি করে দেন।[৩] নির্বাচনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস জয়লাভ করে ও দশ বছর পর পাঞ্জাব বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অমরিন্দর সিং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন ২০১৭[সম্পাদনা]

২০১৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোর আবারো ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষে কাজ করেন। এই নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মত ব্যর্থ হন। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ৪০৩ টি আসনের মাঝে মাত্র ৭টি আসন লাভ করে। তবে অভিযোগ আছে, তিনি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নাম ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী পদের প্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করলে তা গ্রহণ করা হয় নি।[১][২]

অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন ও সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচন[সম্পাদনা]

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন ও অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে তিনি জগন্মোহন রেড্ডির ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টির হয়ে কাজ করেছিলেন। তিনি এবার "রাভালি জগন, কাভালি জগন" স্লোগান প্রবর্তন করেন।[১] বিধানসভা নির্বাচনে ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি জয়লাভ করে ও জগন্মোহন রেড্ডি অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহ্ণ করেন। আর, লোকসভা নির্বাচনে অন্ধ্রপ্রদেশের লোকসভা কেন্দ্রগুলোতে ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

দিল্লি বিধানসভা নির্বাচন ২০২০[সম্পাদনা]

২০২০ সালে অনুষ্ঠিত দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রশান্ত কিশোর ও তার সংস্থা আম আদমি পার্টির হয়ে কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। নির্বাচনের পর টানা তৃতীয়বারের মত আম আদমি পার্টি জয়লাভ করে ও অরবিন্দ কেজরিওয়াল টানা তৃতীয়বারের মত দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন।[১০][১১][১২]

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২১[সম্পাদনা]

২০১৯ সালে তিনি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচন কৌশলী হিসেবে নিযুক্ত হন। প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শে দিদিকে বলো কর্মসূচী চালু হয়।[১৩][১৪] এছাড়া, তার পরামর্শে "আমার গর্ব মমতা" প্রচারাভিযান চালু করে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস[১৫][১৬]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

তিনি গৌহাটির জাহ্নবী দাসের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।[৩] জাহ্নবী দাস পেশায় একজন ডাক্তার। প্রশান্ত-জাহ্নবীর দুইটি পুত্রসন্তান আছে।[৩]

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি জনতা দল (সংযুক্ত) এ যোগদান করেন।[২][৬] তিনি দলটির সহসভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০২০ সালে ২৯ জানুয়ারি দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।[১৭][১৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "ভারতে ভোটজয়ের কারিগর প্রশান্তের কোচিং সেন্টার"প্রথম আলো। ২৬ মে ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  2. "কে এই প্রশান্ত কিশোর? সাফল্যের রসায়নই বা কী? চিনে নিন রাজনীতির 'মেঘনাদ'কে"আনন্দবাজার পত্রিকা। ৭ জুন ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  3. "ঘাসফুলের ভরসা প্রশান্ত কিশোর কে, কত টাকা নেন পিকে, জানুন ১০ তথ্য"দ্য ওয়াল। ২৮ জুন ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  4. "এবার মমতার নির্বাচনী রণকৌশলের দায়িত্বে 'ভোটগুরু' প্রশান্ত কিশোর"বর্তমান। ৭ জুন ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  5. "বিকাশপুরুষ থেকে সুশাসনবাবু, সাত ঘাটের জল খেয়ে এবার তৃণমূলে,কে এই প্রশান্ত?"জি ২৪ ঘণ্টা। ৬ জুন ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  6. "Political strategist Prashant Kishor joins JD(U) in Bihar CM Nitish Kumar's presence"Times Now। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  7. "How Captain Amarinder Singh Won Punjab: Here's the Inside Story"The Quint। ২০১৭-০৩-৩০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০১৭ 
  8. "Amarinder-Prashant Kishor 'Jodi' Ensured Congress' Punjab Comeback"The Quint। ২০১৭-০৩-৩০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০১৭ 
  9. "The man who won Punjab: breaking down Captain Amarinder's path to victory"CatchNews.com। ৩০ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০১৭ 
  10. "গুরুর ভূমিকায় ফের সফল প্রশান্ত কিশোর, বজায় রাখলেন ঈর্ষনীয় রেকর্ড"সংবাদ প্রতিদিন। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  11. "দেশের আত্মাকে বাঁচানোয় দিল্লিকে ধন্যবাদ: আপের পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর"এই সময়। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  12. "পিকে ম্যাজিকেই ফের বাজিমাত, দিল্লির মসনদে কেজরিই"দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  13. "'‌দিদিকে বলো'‌ কর্মসূচী নিয়ে এলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, জনসংযোগই লক্ষ্য"আজকাল। ২৯ জুলাই ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  14. "বস্তিবাসীদের ঘরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়"ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা। ২০ আগস্ট ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  15. ""আমার গর্ব মমতা", নয়া প্রচারাভিযান চালু করল তৃণমূল কংগ্রেস"এনডিটিভি বাংলা। ২ আগস্ট ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  16. "মোদীর প্যাকেজেই প্রশান্তের কৌশল 'ব্র্যান্ড মমতা','দিদিকে বলো'র পর #আমারগর্বমমতা"জি ২৪ ঘণ্টা। ২ আগস্ট ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  17. "সিএএ বিরোধিতা করার খেসারত! এবার প্রশান্ত কিশোরকে বহিষ্কার করল নীতীশের দল"আজকাল। ২৯ জানুয়ারি ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জানুয়ারি ২০২০ 
  18. "প্রশান্ত কিশোরকে দল থেকে বহিষ্কার করল জেডিইউ"আনন্দবাজার পত্রিকা। ২৯ জানুয়ারি ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জানুয়ারি ২০২০