প্রযুত চান-ও-চা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
প্রযুত চান-ও-চা
ประยุทธ์ จันทร์โอชา

MPCh MWM TChW RMK
Prayuth Jan-ocha 2010-06-17 Cropped.jpg
২০১৫ সালে প্রযুত চান-ও-চা
থাইল্যান্ডের ২৯তম প্রধানমন্ত্রী
অধিকৃত অফিস
২২ মে, ২০১৪
ভারপ্রাপ্ত: ২২ মে, ২০১৪ - ২৪ আগস্ট, ২০১৪
রাষ্ট্রশাসক ভূমিবল অতুল্যতেজ
পূর্বসূরী নিওথামরং বুনসংপাইসান (ভারপ্রাপ্ত)
ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর পিস এন্ড অর্ডারের প্রধান
অধিকৃত অফিস
২২ মে, ২০১৪
পূর্বসূরী পদ সৃষ্ট
রয়্যাল থাই আর্মি’র কমান্ডার ইন চিফ
অফিসে
১ অক্টোবর, ২০১০ – ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
পূর্বসূরী অনুপাং পাওচিন্দা
উত্তরসূরী ইউদমেমজ সিতাবুর
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম (১৯৫৪-০৩-২১) ২১ মার্চ ১৯৫৪ (বয়স ৬৩)
নাখোন রাচাসিমা, থাইল্যান্ড
রাজনৈতিক দল স্বতন্ত্র
দাম্পত্য সঙ্গী নারাপর্ন চান-ও-চা[১]
সন্তান থানায়া
নিত্যা
প্রাক্তন ছাত্র ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ
চুলাচমকলাও রয়্যাল মিলিটারী একাডেমি
ধর্ম থেরবাদ বৌদ্ধ
স্বাক্ষর
সামরিক পরিষেবা
আনুগত্য  Thailand
সার্ভিস/শাখা রাজকীয় থাই সেনাবাহিনী
কার্যকাল ১৯৭২-২০১৪
পদ RTA OF-9 (General).svg জেনারেল
কমান্ড কমান্ডার-ইন-চিফ

প্রযুত চান-ও-চা (থাই: ประยุทธ์ จันทร์โอชา; IPA:[prà.jút tɕān.ʔōː.tɕʰāː]; জন্ম: ২১ মার্চ, ১৯৫৪) নাখোন রাচাসিমা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী অবসরপ্রাপ্ত রাজকীয় থাই সেনা কর্মকর্তা।[২] বর্তমানে তিনি থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি দেশ পরিচালনায় নিযুক্ত সামরিক একনায়কতন্ত্রবাদী ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর পিস এন্ড অর্ডারের (এনসিপিও) প্রধান। রয়্যাল থাই আর্মির সাবেক কমান্ডার ইন চিফ ছিলেন তিনি।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

চুলাচোমলাও রয়্যাল মিলিটারী একাডেমি থেকে বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন।[৩] তাঁর পূর্বসূরী অনুপাং পাওচিন্দা ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রয়িত অংসুয়ানের ন্যায় তিনিও সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন টাইগার্সের সদস্য। থাইল্যান্ডের পূর্বাংশে স্থাপিত দ্বিতীয় পদাতিক ডিভিশনে বিশেষতঃ ২১শ পদাতিক রেজিম্যান্টে (কুইন্স গার্ড) অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাঁর সামরিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে।[৪][৫][৬][৭]

২০০৮ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ছিলেন। ২০০৯ সালে রাজা কর্তৃক তাঁকে সম্মানসূচক সহকারী হিসেবে মনোনীত করা হয়। ২০১০ সালে অনুপাং পাওচিন্দার পরিবর্তে তাঁকে কমান্ডার ইন চিফ করা হয়।[৩][৮]

এ পদে অক্টোবর, ২০১০ থেকে অক্টোবর, ২০১৪ পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন।[৯][১০] সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালনের পর প্রযুত রাজ পরিবারের বেশ জোরালো সমর্থক ছিলেন ও পরবর্তীকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা’র বিরুদ্ধাচরণ করেন।[১১]

সামরিকবাহিনীতে অবস্থানকালে তিনি বেশ কঠোর ছিলেন। এপ্রিল, ২০০৯ ও এপ্রিল-মে, ২০১০ সালে সৃষ্ট ‘লাল শার্ট’ আন্দোলন দমনে অন্যতম ভূমিকা পালন করেন।[১২][১৩] পরবর্তীতে তাঁকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত বিক্ষোভকারীদের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে কথা বলতে দেখা যায়।[১৪] এছাড়াও, জুলাই, ২০১১ সালের সংসদীয় নির্বাচনে বিজয়ী ইংলাক সিনাওয়াত্রা’র সরকারকে সহযোগিতা করেন।[১৫]

ক্ষমতায় আরোহণ[সম্পাদনা]

নভেম্বর, ২০১৩ সালে রাজনৈতিক সঙ্কট ঘণীভূত হতে শুরু করলে ও ইংলাক সিনাওয়াত্রা’র তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিপক্ষে প্রতিবাদ হতে থাকলে প্রযুত সেনাবাহিনীকে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকার কথা ঘোষণা করেন।[১৬] এছাড়াও তিনি অভ্যুত্থান ঘটাবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু, মে, ২০১৪ সালে সরকারের বিরুদ্ধে অপ্রত্যাশিতভাবে সামরিক অভ্যুত্থান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন ও এনসিপিও নেতাদের নিয়ে দেশের নিয়ন্ত্রণভার দখল করেন।[১৭] পরবর্তীতে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধানে ক্ষমতার বিষয়ে স্বাক্ষর দেন ও অভ্যুত্থানের ফলে নিজেকে নির্দোষ দাবী করেন।[১৮] আগস্ট, ২০১৪ সালে জাতীয় আইনসভায় তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রভাব বৃদ্ধি করেন। সদস্যরা তাঁকে থাইল্যান্ডের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করে।[১৯][২০] ২৪ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। অক্টোবর, ২০১৪ তারিখে সেনাপ্রধানের পদ থেকে অবসর নেয়ার পূর্বে তিনি একই সময়ে সেনাপ্রধান, এনসিপিও নেতা ও প্রধানমন্ত্রী - এ তিন পদ ধারণ করেছিলেন।

পদক্ষেপ গ্রহণ[সম্পাদনা]

ক্ষমতা দখলের পর প্রযুত ভিন্নমতাবলম্বীদের দমনে সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ নেন।[২১] তাঁর নির্দেশনায় থাই বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদেরকে ‘বারো মূল্য’ শিরোনামে কবিতা আবৃতির বিষয়টি বাধ্যতামূলক করেন।[২২][২৩][২৪] এছাড়াও তিনি গণতন্ত্রের বিষয়ে যে-কোন ধরনের আলাপ-আলোচনা নিষিদ্ধকরণসহ তাঁর সরকারের সমালোচনা না করার কথা জানান।[২৫]

অভ্যুত্থানের বিষয়ে তিনি দূর্নীতি মোকাবেলা করাকে উল্লেখ করেন। কিন্তু তাঁর ভাই প্রিচা চান-ও-চাসহ নিজ মন্ত্রীসভা ও জাতীয় আইনসভার কিছু সদস্য দূর্নীতিতে জড়িত।[২৬] ফলশ্রুতিতে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।[২৫] ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ তারিখে এ বিষয়ে বলেন, ‘যদি জনগণ নিজেদের মতামত ভোটের মাধ্যমে দিতে চায়, তাহলে তারা তা দিতে পারে। কিন্তু যদি ঐ ভোট এনসিপিও’র বিপক্ষে যায় তাহলে তা মেনে নেয়া হবে না।’[২৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Wassana Nanuam (আগস্ট ২৩, ২০১৪)। "General gets ready to swap into civvies"Bangkok Post। সংগৃহীত ৪ Sep ২০১৪ 
  2. "Army chief retires after four turbulent years"The Nation। ২০১৪-০৯-৩০। সংগৃহীত ২০১৪-১১-২২ 
  3. "Prayut Chan-O-Cha: Executive Profile & Biography"Bloomberg BusinessWeek। সংগৃহীত মার্চ ৩০, ২০১৪ 
  4. Avudh Panananda (জুন ৮, ২০১০)। "Is Prayut the best choice amid signs of Army rivalry?"The Nation। মে ২০, ২০১৪-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত মে ২০, ২০১৪ 
  5. John Cole; Steve Sciacchitano (অক্টোবর ১৩, ২০১২)। "Thai military resists political pressure"Asia Times Online। ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৪-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত মে ২০, ২০১৪ 
  6. Wassana Nanuam (১২ ডিসেম্বর ২০১৩)। "'Silent' military coup beats having a real one"Bangkok Post। সংগৃহীত ২০ মে ২০১৪ 
  7. Wassana Nanuam (২ জানুয়ারি ২০১৪)। "Will this crisis lead to another coup?"Bangkok Post। সংগৃহীত ২০ মে ২০১৪ 
  8. "ประยุทธ์ จันทร์โอชา"Thai Rath। ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৪-এ মূল থেকে আর্কাইভ 
  9. Fredrickson, Terry (১ Oct ২০১০)। "Gen Prayut takes command"Bangkok Post। সংগৃহীত ২০১২-০৩-১৯ 
  10. Corben, Ron। "Thailand's new army chief takes office"Deutsche Welle। ২২ মে ২০১৪-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ১৯ Mar ২০১২ 
  11. Chico Harlan (৭ Jun ২০১৪)। "Behind Thailand's coup is a fight over the king and his successor. But it's hush-hush"The Washington Post। সংগৃহীত ২৪ Jun ২০১৪ 
  12. "Thai king appoints hardliner as next army chief"The Hindu। ২ Sep ২০১০। ১৩ Apr ২০১৪-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ৯ এপ্রিল ২০১৪ 
  13. "Q+A: Are Thailand's "red shirts" regrouping?"Reuters। ১৯ নভেম্বর ২০১৩। ২ মে ২০১৪-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ২ মে ২০১৪ 
  14. "Gen Prayut takes command"Bangkok Post। ১ Oct ২০১০। সংগৃহীত ২ মে ২০১৪ 
  15. "No coup, Prayut tells Yingluck"Bangkok Post। ২৭ মে ২০১৩। 
  16. "Prayut says army neutral"Bangkok Post। ৩০ Nov ২০১৩। 
  17. [Prayut and military chiefs are controlling state powers] |trans-title= |title= প্রয়োজন (সাহায্য)Komchadluek (Thai ভাষায়)। ২২ মে ২০১৪। ২২ মে ২০১৪-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ২২ মে ২০১৪ 
  18. "Military dominates new Thailand legislature"BBC News। ১ আগস্ট ২০১৪। ২ Aug ২০১৪-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ৩ Aug ২০১৪ 
  19. "Prayut elected as 29th PM"The Nation। ২১ Aug ২০১৪। ২৩ Aug ২০১৪-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ২১ Aug ২০১৪ 
  20. "Thailand's Junta Chief Chosen as Prime Minister"Voice of America। ২১ Aug ২০১৪। সংগৃহীত ২৩ Sep ২০১৪ 
  21. "The Thai junta's latest crackdown on dissent is a bogus Facebook login button"। Quartz। ২০১৪-০৬-২৬। সংগৃহীত ২০১৪-০৮-২৫ 
  22. Chan-o-cha, Prayut। "National Broadcast, 2014-07-11"Royal Thai Embassy, Islamabad। সংগৃহীত ২০১৪-১১-১২ 
  23. "Loved and Hated, Former Premier of Thailand Is Erased From Textbook"New York Times। ২০১৪-০৯-১৫। সংগৃহীত ২০১৪-০৯-১৬ 
  24. Prachatai (Thai ভাষায়)। ২০১৪-০৯-১৫ http://prachatai.org/journal/2014/09/55548 |url= শিরোনাম অনুপস্থিত (সাহায্য)। সংগৃহীত ২০১৪-০৯-১৬ 
  25. [PM insists, discussing about democracy or criticizing government is prohibited] |trans-title= |title= প্রয়োজন (সাহায্য)Post Today (Thai ভাষায়)। ২০১৪-০৯-১৯। সংগৃহীত ২০১৪-০৯-১৯ 
  26. Pavin Chachavalpongpun (২০১৪-১০-১২)। "Thai Junta Beset By Corruption Scandals"The Diplomat। সংগৃহীত ২০১৪-১০-১২ 
  27. Haworth, Abigail (২০১৫-০৩-২২)। "Bangkok's Big Brother is watching you"The Guardian। সংগৃহীত ২২ মার্চ ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

সামরিক দপ্তর
পূর্বসূরী
অনুপাং পাওচিন্দা
রয়্যাল থাই আর্মি’র কমান্ডার-ইন-চিফ
২০১০-২০১৪
উত্তরসূরী
ইউদমেমজ সিতাবুর
রাজনৈতিক দপ্তর
পূর্বসূরী
নিওথামরং বুনসংপাইসান
ভারপ্রাপ্ত
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী
২০১৪-বর্তমান
নির্ধারিত হয়নি