পিটার ম্যাকালিস্টার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পিটার ম্যাকালিস্টার
Peter McAlister 1909.jpg
১৯০৯ সালে ইংল্যান্ডে অ্যাশেজ সফরে পিটার ম্যাকালিস্টারের সংগৃহীত স্থিরচিত্র
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামপিটার আলেকজান্ডার ম্যাকালিস্টার
জন্ম(১৮৬৯-০৭-১১)১১ জুলাই ১৮৬৯
উইলিয়ামসটাউন, ভিক্টোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া
মৃত্যু১০ মে ১৯৩৮(1938-05-10) (বয়স ৬৮)
রিচমন্ড, ভিক্টোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
ভূমিকাব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৮৬)
২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯০৪ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট১ জুলাই ১৯০৯ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৮৫
রানের সংখ্যা ২৫২ ৪৫৫২
ব্যাটিং গড় ১৬.৮০ ৩২.৭৪
১০০/৫০ ০/০ ৯/২২
সর্বোচ্চ রান ৪১ ২২৪
বল করেছে ১২৮
উইকেট
বোলিং গড় ১৮.৬৬
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১০/০ ৯১/০
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৭ জানুয়ারি ২০২০

পিটার আলেকজান্ডার ম্যাকালিস্টার (ইংরেজি: Peter McAlister; জন্ম: ১১ জুলাই, ১৮৬৯ - মৃত্যু: ১০ মে, ১৯৩৮) ভিক্টোরিয়ার উইলিয়ামসটাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯০৪ থেকে ১৯০৯ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।[১]

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেন পিটার ম্যাকালিস্টার। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৮৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ১৯১০-১১ মৌসুম পর্যন্ত পিটার ম্যাকালিস্টারের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। শেফিল্ড শিল্ডের খেলায় ৩২ গড়ে ২৩৯৮ রান তুলেন। ১৮৯৮-৯৯ মৌসুমে ভিক্টোরিয়ার সদস্যরূপে সফররত নিউজিল্যান্ডীয় একাদশের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ২২৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে আটটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন পিটার ম্যাকালিস্টার। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৪ তারিখে সিডনিতে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১ জুলাই, ১৯০৯ তারিখে লিডসে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

দীর্ঘদেহের অধিকারী পিটার ম্যাকালিস্টার অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আটটি টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তবে, মাঠে তিনি তেমন কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি। অংশগ্রহণ টেস্টগুলোর ছয়টি ১৯০৩-০৪১৯০৭-০৮ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন।

১৯০৯ সালে অস্ট্রেলিয়া দল ইংল্যান্ড গমন করে। সফরের পূর্বে তাকে অগণতান্ত্রিক পন্থায় দলের সহঃঅধিনায়ক ও কোষাধ্যক্ষ হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়। ফলশ্রুতিতে অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সাথে খেলোয়াড়দের মতবিরোধ ঘটে। খেলোয়াড়দের মনোনীত ব্যবস্থাপক ফ্রাঙ্ক লেভার তাকে সাথে নিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেও তিনি জোরপূর্বক এ সফরে যান। এরফলে বিগ সিক্সের মন্ত্রণা, দক্ষিণ অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট সংস্থার সমর্থন ও মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের কয়েকজনের অসন্তুষ্ট সদস্যদের প্রভাবে ১৯১২ সালের ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় বিরূপ প্রভাব পড়ে।

বিতর্কিত ভূমিকা[সম্পাদনা]

১৯০৯ সাল থেকে তার আচরণের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। ১৯১২ সালে ক্লেম হিলের সাথে বাদানুবাদের ফলে সুনাম ক্ষুণ্ন হয় তার। দল নির্বাচকমণ্ডলীর সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন ও তাৎক্ষণিকভাবে অধিনায়ক মন্টি নোবেলের সহযোগী হিসেবে দলকে নিয়ে ইংল্যান্ডের পথে পাড়ি জমান। এ সিদ্ধান্তটি ৬-৫ ভোটে গৃহীত হয়েছিল। এ সফরটি মোটেই স্বার্থকরূপ লাভ করেনি। উইজডেন কৌশলগতভাবে মন্তব্য করে যে, ৪০ বছর বয়সী হিসেবে দশ বছর পূর্বেই তার ইংল্যান্ড যাবার দরকার ছিল। এ সফরে ২৯ গড়ে ৮১৬ রান তুলেন। ব্যক্তিগত সেরা করেন ৭৫ রান।

অবসর[সম্পাদনা]

ফেব্রুয়ারি, ১৯১২ সালে নির্বাচকমণ্ডলীর সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্যায়ে ক্লেম হিল ম্যাকালিস্টারের নাকে ঘুষি মারেন ও ২০ মিনিট ধরে ধ্স্তাধস্তি চলে। এরপর থেকে ক্রিকেট খেলার সাথে ম্যাকালিস্টারের সম্পর্ক চ্যূতি ঘটে।

১০ মে, ১৯৩৮ তারিখে ভিক্টোরিয়ার রিচমন্ড এলাকায় ৬৮ বছর বয়সে পিটার ম্যাকালিস্টারের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Australia – Test Batting Averages"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১০ জানুয়ারি ২০২০ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]