নেসারি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
Nesari
village
স্থানাঙ্ক: ১৬°০৪′০০″ উত্তর ৭৪°১৯′৫৮″ পূর্ব / ১৬.০৬৬৭৪৩° উত্তর ৭৪.৩৩২৭০২° পূর্ব / 16.066743; 74.332702
India India
Stateকোলহাপুর
সরকার
 • ধরনগ্রাম পঞ্চায়েত
আয়তন
 • মোট১০.৬৯ বর্গকিমি (৪.১৩ বর্গমাইল)
উচ্চতা১,৫৯৯ মিটার (৫,২৪৬ ফুট)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট২১,০০০
Languages
 • Officialমারাঠি
সময় অঞ্চলআইএসটি (ইউটিসি+০৫:৩০)
পিন৪১৬৫০৪
টেলিফোন কোড০২৩২৭
যানবাহন নিবন্ধনমহ০৯

নেসারি ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের কোলহাপুর জেলার গড়হিংলাজ শহরের একটি গ্রাম। ২০১১ সাল পর্যন্ত এর জনসংখ্যা ছিল ২১,০০০ জন। এটি গড়হিংলাজ শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার এবং জাতীয় সড়ক ০৪ (এনএইচ ৪) থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে।

ভূগোল[সম্পাদনা]

নেসারি মহারাষ্ট্র এবং কর্ণাটক রাজ্যের সীমান্তের নিকটে অবস্থিত। এর স্থানাঙ্ক ১৬°০৪′০০″ উত্তর ৭৪°১৯′৫৮″ পূর্ব / ১৬.০৬৬৭৪৩° উত্তর ৭৪.৩৩২৭০২° পূর্ব / 16.066743; 74.332702। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে এর গড় উচ্চতা ৬২৫ মিটার এবং গড় তাপমাত্রা শীতকালে থাকে ১৯°সেলসিয়াস এবং গ্রীষ্মকালে ২৬°সেলসিয়াস।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী নেসারির জনসংখ্যা ১৯,০০০,[১] যার মধ্যে নেসারি শহরের পাশাপাশি শহরটিতে অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য অঞ্চলগুলিও রয়েছে। নেসারির গড় সাক্ষরতার হার ৮৫% যেখানে জাতীয় গড় ৭৪.৯%। পুরুষদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৮৪%, এবং নারীদের মধ্যে এই হার ৭২%। এই শহরের জনসংখ্যার ৯% ছয় বছরের কম বয়সী।

ধর্ম[সম্পাদনা]

বেশীরভাগ অধিবাসী হিন্দু ধর্মাবলম্বী। এছাড়াও ইসলাম, বৌদ্ধ, শিখ এবং অন্যান্য ধর্মের মানুষও রয়েছে।

নেসারিতে ধর্মবিশ্বাস
ধর্মাবলম্বী শতকরা হার
হিন্দু
  
৯৯.৬%
মুসলিম
  
০.২%
বৌদ্ধ
  
০.১%
অন্যান্য†
  
০.১%
শিখ (০.১%), বৌদ্ধ (<০.১%)

ভাষা[সম্পাদনা]

এখানকার সর্বাধিক ব্যবহৃত ভাষা হচ্ছে মারাঠি এবং ১৯,০০০ মানুষ মাতৃভাষা হিসেবে মারাঠিতে কথা বলে।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব[সম্পাদনা]

প্রতাপরাও গুজর, জন্ম হয় কুদ্টোজি গুজর হিসেবে। তিনি ছিলেন ছত্রপতি শিবাজীর সেনাবাহিনীর তৃতীয় রাজকীয় সেনপতি। সতের শতকে এই বাহিনী সম্ভবত ভারতের সবচেয়ে সফল গেরিলা বাহিনী ছিল। মির্জা জয়সিংহের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাঁর সাহসিকতার স্বীকৃতি স্বরূপ ছত্রপতি শিবাজী তাঁকে প্রতাপরাও (সাহসী) উপাধি দিয়েছিলেন।

প্রতাপরাও একজন অত্যন্ত প্রতিভাধর অভিজাত সেনাপতি ছিলেন।সেনাপতি হিসেবে তিনি তাঁর রাজার বিশ্বাস এবং তাঁর সৈন্যদের আনুগত্য অর্জন করেছিলেন। সালহেরের বিখ্যাত যুদ্ধে তিনি একটি বিশাল মুঘল সেনাবাহিনীকে পরাজিত করেন। সালহের যুদ্ধ হল মুঘল এবং মারাঠাদের মধ্যে উন্মুক্ত প্রান্তরে সংঘটিত প্রথম বৃহদাকারের যুদ্ধ। বলা হয়ে থাকে সালহের প্রান্তরে মুঘলদের বিরুদ্ধে মুখোমুখি যুদ্ধে মারাঠাদের বিজয় ছিল তাদের সামরিক বাহিনীর উত্থানের সন্ধিক্ষণ। মানুষ হিসেবে প্রতাপরাও একজন আবেগপ্রবণ ব্যক্তি ছিলেন।

১৬৭৪ সালে ছত্রপতি শিবাজীর রাজ্যাভিষেকের কয়েক মাস আগে, সেনাপতি বাহলুল খানের নেতৃত্বাধীন আক্রমণ বাহিনীর মোকাবিলা করার জন্য প্রতাপরাও গুজরকে প্রেরণ করা হয়। মারাঠা সেনাবাহিনী নেসারিতে স্থাপিত বাহালোল খানের সৈন্য শিবিরটিকে ঘিরে ফেলে। যুদ্ধে প্রতাপরাও এর বাহিনী প্রতিপক্ষের সেনাপতিকে পরাজিত ও বন্দী করে। ছত্রপতি শিবাজীর এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট সতর্কতাবাণী থাকা সত্ত্বেও, যখন বাহলুল খান ছত্রপতির অঞ্চলগুলোতে পুনঃআক্রমণ না করার প্রতিশ্রুতি দেন, তখন প্রতাপরাও বাহলুল খানকে তার সৈন্যবাহিনী ও জব্দকৃত যুদ্ধ সামগ্রী সহ মুক্তি দিয়ে দেন। কিন্তু মুক্তির পরের দিন থেকেই বাহলুল খান নতুন আক্রমণ শুরু করার প্রস্তুতি শুরু করে দেন।

ছত্রপতি শিবাজী যখন প্রতাপরাও এর সিদ্ধান্তের কথা শুনলেন, তখন তিনি ক্রুদ্ধ হন এবং বাহলুল খানকে পুনরায় বন্দী না করা পর্যন্ত তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার অনুমতি প্রত্যাখ্যান করে প্রতাপরাওকে একটি ক্ষুদ্ধ চিঠি লিখেন। তাঁর কৃত কর্মের ভুল বুঝতে পেরে প্রতাপরাও অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়েন এবং বাহলুল খানকে বন্দি করার জন্য আবারও বদ্ধ পরিকর হয়ে ওঠেন।

একদিন, তিনি কাছাকাছি বাহলুল খানের ঘাঁটি গড়ার কথা জানতে পারেন। প্রতাপরাও নেসারিতে বাহলুল খানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রতাপরাও গুজরের সৈন্য সংখ্যা ছিল ১২০০, অপরদিকে খানের ছিল ১৫,০০০। তাই, প্রতাপরাও বিবেচনা করেন যে ১২০০ জন লোক তার সাথে আত্মহত্যা করার কোনও অর্থ নেই। ফলে, ক্ষোভ এবং চিঠির পরার পরে অতি উত্তেজনায় তিনি তাঁর অশ্বারোহী বাহিনীকে নির্দেশ না দিয়ে একাই রওনা হন। এতে তাঁর সেনাবাহিনী নয়, বরং তাঁর আত্মসম্মানবোধ সংকটাপন্ন হয়েছিল। দলপতিকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হতে দেখে ছয় জন মারাঠা সর্দার তাঁর সাথে লড়াইয়ে যোগদান করেন, তারা শত্রু শিবিরে আক্রমণ করেন এবং তাদের সকলকেই হত্যা করা হয়। আনন্দরাও এবং হাসাঁজি মোহিত যদিও পশ্চাতে অবস্থান করেছিলেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] প্রতাপরাও এর সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ প্ররোচিত এবং গুজরের মৃত্যু মারাঠাদের বিরাট ক্ষতি করে। পরবর্তীতে আনন্দরাও মোহিত সৈন্য বাহিনীকে নিরাপদ অঞ্চলে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন।

ছত্রপতি শিবাজীর সেনাবাহিনী বাহলুল খানকে পরাজিত করে এবং আনন্দরাও এবং হাম্বিরাও মোহিতের নেতৃত্বে তার জায়গীর লুট করে তাদের সেনাপতির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিয়েছিল। হাম্বিররাও মোহিত নতুন "সরনৌবত" (মারাঠা বাহিনীর সর্বাধিনায়ক) হয়েছিলেন।

প্রতাপরাও এর মৃত্যু সংবাদ শুনে ছত্রপতি শিবাজী গভীর শোক করেছিলেন। তিনি তাঁর দ্বিতীয় পুত্র রাজারামকে প্রতাপরাও গুজরের কন্যার সাথে বিবাহ দিয়েছিলেন; যিনি পরবর্তীকালে মারাঠা সাম্রাজ্যের সম্রাজ্ঞী হন, মহারাণী জাঙ্কিভাই। এই অনুষ্ঠানটি একটি মারাঠি কবিতা "বেদাত মারাঠে বীর দাউদলে সাত" আকারে পুনঃলিখিত হয়েছে। কবিতাটি লিখেছেন বিখ্যাত কবি কুসুমাগ্রজ। এটি গান আকারে গেয়েছেন লতা মঙ্গেশকর।


নাগরিক প্রশাসন[সম্পাদনা]

গ্রামের নাগরিক প্রশাসন নেসারী গ্রাম পঞ্চায়েত দ্বারা পরিচালিত হয়।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

নেসারির বাণিজ্যের প্রধান ক্ষেত্রগুলো হল বাণিজ্য, চিনি উৎপাদন এবং লাল মরিচ । কাছাকাছি বিপণনের কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে গোয়া এবং সিন্ধুদুর্গ জেলা

পরিবহন[সম্পাদনা]

নেসারি বেশ কয়েকটি রাজ্য মহাসড়কের মাধ্যমে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে সংযুক্ত এবং প্রায় জাতীয় সড়ক ০৪ (এনএইচ ৪) থেকে ১৫ কিমি দূরে। নিকটতম বিমানবন্দর ৩৯ কিমি দূরে বেলগামে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Census of India 2001: Data from the 2001 Census, including cities, villages and towns (Provisional)"। Census Commission of India। ২০০৪-০৬-১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-১১-০১