নিকোলা টেসলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নিকোলা টেসলা
Tesla circa 1890.jpeg
Tesla, aged 34, 1890, photo by Napoleon Sarony
জন্ম (১৮৫৬-০৭-১০)১০ জুলাই ১৮৫৬
Smiljan, Austrian Empire (modern-day Croatia)
মৃত্যু ৭ জানুয়ারি ১৯৪৩(১৯৪৩-০১-০৭) (৮৬ বছর)
নিউ ইয়র্ক সিটি, নিউ ইয়র্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
নাগরিকত্ব অস্ট্রীয় সাম্রাজ্য (১০ জুলাই ১৮৫৬ – ১৮৬৭)
অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি (১৮৬৭ – ৩১ অক্টোর ১৯১৮)
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (৩০ জুলাই ১৮৯১ – ৭ জানুয়ারী ১৯৪৩)
টেমপ্লেট:Infobox engineering career
স্বাক্ষর TeslaSignature.svg

নিকোলা টেসলা(১০ জুলাই ১৮৫৬-৭ জানুয়ারী ১৯৪৩)ছিলেন একজন সাইবেরিয়ান আমেরিকান।তিনি ছিলেন একজন যন্ত্র প্রকৌশলী,তড়িৎ প্রকৌশলী এবং তিনি ছিলেন আধুনিক তারবিহীন তড়িৎ পরিবহণ ও পরিবর্তিত বিদ্যুতের জনক। নিকোলা টেসলা টেলিফোন এবং তড়িৎ প্রকৌশল সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন।১৮৮৪ সালে টমাস এডিসন এর সাথে নিউইয়র্ক সিটিতে কাজ শুরু করেন। তিনি তার গবেষণাগার এবং তড়িৎ প্রকৌশলের উন্নয়নের জন্য নিজের আর্থিক অবস্থার চেষ্টা করেন।তিনি আবেশ মোটর এবং ট্রান্সফরমার এর অনুমোদন জর্জ ওয়াশিংটন হাউজ এর কাছ থেকে নিয়েছিলেন।তিনি তড়িৎ শক্তি উন্নয়ন এর জন্য অনেক কাজ করেন। তার কাজ এক কথায় তড়িৎ যুদ্ধ নামে পরিচিত। টেসলা তার উচ্চ ভোল্টেজ তড়িৎ এবং উচ্চ স্পন্দন এর পরীক্ষা করেন নিউইয়র্কে ও কলোরাডোতে।এরপর তিনি তারবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা করেন।তিনি তার সকল ধারনা,প্রচেষ্টা ওয়ার্ডেনক্লিফ টাওয়ারএ দেবার চেষ্টা করেন।তিনি তার গবেষণাগার এক্স রশ্মি, তড়িৎ বিছিন্ন চার্জ নিয়ে গবেষণা করেন।তিনি একটি নৌকা বানান যা ছিল তারবিহিন। তিনি পরে তার প্রদর্শনী করেন। নিকোলা টেসলা তার খ্যাতি, সুনামের জন্য বেশ পরিচিত ছিলেন, তাকে অনেকে পাগল বিজ্ঞানী বলত।তার বিশেষ গুনাবলির জন্য তিনি প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন এবং বেশীরভাগ অর্থ তার গবেষণাগার এর সফলতার জন্য ব্যাবহার করেন।তিনি তার জীবনের বেশীরভাগ সময় নিউইয়র্কে এর একটি হোটেল এ ছিলেন। তিনি ১৯৪৩ সালের ৭ জানুয়ারী মারা যান। তিনি মারা যাবার পর তার অসমাপ্ত কাজগুলো করতে অনেক সমস্যায় পরতে হয় বিজ্ঞানীদের।তার সম্মানার্থে ১৯৬০ সালে তড়িৎ ফ্লুক্স এর এস এই একক টেসলা করা হয়। ১৯৯০ সাল থেকে টেসলা সংস্কৃতি অঙ্গনে বেশ

১৮৮৬ সালে টেসলা প্রতিষ্ঠা করেন নিজ কোম্পানি টেসলা ইলেকট্রিক লাইট অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং। তবে বিনিয়োগকারীদের অনীহার কারণে প্রতিষ্ঠানটি চালাতে পারেননি। এরপরই তিনি সাধারণ গবেষকের জীবনযাপন শুরু করেন। তৈরি করেন বিশেষ ধরনের এসি ইন্ডাকশন মোটর, নতুন ধরনের এক্স-রে। ১৮৯৫ সালেই নিয়ে আসেন টেসলা জেনারেটর। এর মধ্যে একবার টেসলার গবেষণাগার পুড়ে যায়। এজন্য একটি পেটেন্টও হাতছাড়া হয়ে যায়। পরে তার গবেষণা মোড় নেয় অন্যদিকে। একে একে পেটেন্টের তালিকায় যোগ হতে থাকে ইলেকট্রিক্যাল কনডেনসার, ট্রান্সফরমার, সার্কিট কন্ট্রোলার, মেথড অব সিগন্যালিং এবং গতিনির্দেশক যন্ত্র ছাড়াও আরো অনেক কিছু। মাঝে একবার রেডিওর পেটেন্ট নিয়ে মার্কোনির বিরুদ্ধেও মামলা করেন তিনি। ১৯০৯ সালে রেডিও আবিষ্কারের জন্য মার্কোনি নোবেল পান। কিন্তু তখন রেডিও প্রযুক্তির নেপথ্যে টেসলা ও এডিসনের অবদান কেউ অস্বীকার করতে পারেনি। এজন্য ১৯১৫ সালে সম্ভাব্য নোবেল বিজয়ীর তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন এই দু'জন।

নিকোলা টেসলা ১৮৫৬ সালের ১০ জুলাই সিমিলজান(বর্তমান ক্রোয়েশিয়া) নামক একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তার বাবার নাম মালতিন, তিনি একজন ধর্মযাজক ছিলেন।তার মা ছিলেন ডুকা টেসলা।তার বাবা ছিলেন খুব জ্ঞানী যিনি বাসার জিনিসপত্র বানাতে এবং যন্ত্র প্রকৌশল বিষয়ে অভিজ্ঞ ছিলেন।তার মা ডুক প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন নি কিন্তু তার মা ছিলেন অসাধারন মেধার অধিকারিণী।তিনি তার মায়ের কাছ থেকে প্রাথমিক জ্ঞান লাভ করেন। টেসলার পূর্বপুরুষরা ছিলেন পশ্চিম সাইবেরিয়ান,মন্তিনিগ্রর এলাকার। টেসলা তার বাবা মায়ের পাঁচ সন্তানের মধ্যে ৪র্থ।তার বড় ভাই এর নাম ডানে এবং তিনটি বোন ছিল। তাদের নাম হল মিল্কা, এঞ্জেলিনা , মারিকা। নিকোলা যখন ৫ বছরের তখন তার ভাই ডানে এক ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতায় মারা যায়। তিনি ১৮৬১ সালে মাত্র ৫ বছর বয়সে সিমিলজানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান এবং ধর্ম, জার্মান শিখেন।১৮৬২ সালে তার পরিবার গোসপিক এ যায়।সেখানে তার বাবা কাজ করত। টেসলা তার প্রাথমিক শিক্ষা সাধারণ বিদ্যালয় থেকেই শেষ করেন। ১৮৭০ সালে তিনি ক্রোয়েশিয়ার কারলভাক এ যান।সেখানে উচ্চ বিদ্যালয় এ ভর্তি হন।তিনি মারটিন সেকুলিক নামক একজন গনিত শিক্ষক দ্বারা প্রভাবিত হন।তিনি ক্যালকুলাসের সমাকলন করতে সমর্থ ছিলেন,যা তার শিক্ষকের মনে কোওতুহল এর সৃষ্টি করেছিল।১৮৭৩ সালে তিনি তার ৪ বছরের বিদ্যালয় মাত্র ৩ বছরে শেষ করেন।১৮৭৪ সালে তিনি অষ্টরও হাঙ্গারির সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।তিনি শিকারি পর্বত অন্বেষণ করেন।তিনি বলতেন, প্রকৃতি তাকে মানসিক এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী করেছে।তিনি টোমিনগাজ এ থাকাকালীন অনেক বই পরেন।পরে তিনি বলেন যে,মার্ক টোয়েন এরসাথে কাজ করায় তার প্রাথমিক অসুস্ততা দূর হয়েছিলো।১৮৭৫ সালে নিকোলা টেসলা অস্ট্রিয়ার গারাজে সেনাবাহিনীর একটি বৃত্তি লাভ করেন।তিনি প্রথম বছর কোন ক্লাস বাদ দেন নি এবং সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে ৯ টি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।তিনি সাইবেরিয়ান একটি সংস্কৃতি ক্লাব এ যোগদান করেন।তার বিজ্ঞান বিভাগের প্রধানের কাছ হতে তার বাবার কাছে একটি চিঠি যায়। সেখানে লিখা ছিল, আপনার ছেলে মেধাতালিকায় প্রথম। টেসলা বলেন যে তিনি রবিবার এবং ছুতির দিন ছাড়া অন্ন সব দিন ভর ৩ টা হতে রাত ১১ টা পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তিনি তার বাবার কাছ থেকে কঠোর পরিশ্রম করার অনুপ্রেরণা পেতেন।১৮৭৯ সালে তার বাবার মৃত্যুর পর তার প্রফেসার এর কাছ থেকে তার বাবার চিঠি পান। সেখানে লিখা ছিল অতিরিক্ত পরিশ্রম করলে টেসলা মারা যেতে পারে। যদি টেসলা অতিরিক্ত পরিশ্রম করে তবে তাকে যেন বিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়া হয়। সেই সময় ২য় বর্ষে থাকাকালীন তিনি তার শিক্ষক গ্রামে ডাইনামো দারা প্রভাবিত হন। তিনি ২য় বর্ষের পর তার বৃত্তি হারান কারন তিনি জুয়া খেলায় আসক্ত হয়ে পরেন। ৩য় বর্ষে তিনি ভর্তি, সুবিধাসহ সকল সুবিধা হারান।এরপর তিনি সব ছেড়ে তার পরিবার এর কাছে ফিরে যান।তিনি বলেছিলেন,তার আবেগ আগে ও পরে সব সমান ছিল।পরবর্তীতে তিনি আমারিকাতে বিলিয়ার্ড খেলায় বেশ সুনাম অর্জন করেন।যখন পরীক্ষা চলে আসে তখন তিনি পরীক্ষার জন্য তৈরি ছিলেন না।তিনি পড়ালেখা করতে অস্বীকার করেন। তিনি তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ বর্ষে কোন নম্বর পাননি। ১৮৭৮ সালে তিনি তার পরিবারের সাথে সব কিছু গোপন রেখে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেন।এরপর তিনি মারিবর চলে যান।যেখানে তিনি মাসে মাত্র ৬০ ফ্লরিন এর জন্য কাজ করতে থাকেন।তিনি তার রাস্তার মানুষের সাথে কার্ড খেলে পার করতেন।১৮৭৯ সালে তার বাবা মালটিন মারিবর যান তাকে বাসায় নিয়ে আসার জন্য কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।সেই তিনি রোগে ভুগছিলেন।১৮৭৯ সালের ২৪ জানুয়ারী তিনি গোসপিক ফিরে আসেন।১৮৭৯ সালের ১৭ এপ্রিল তার বাবা মারা যান।তখন তিনি গোসপিক বিশ্ববিদ্যালয় এর সবচাইতে বয়স্ক ছাত্র। ১৮৮০ সালে তিনি তার দুই চাচার কাছ থেকে টাকা নিয়ে গোসপিক ত্যাগ করে প্রাগে আসেন পড়ালেখা করার জন্য কিন্তু তিনি অনেক দেরি করে ফেলেন।তিনি কখনও গ্রিক ভাষা শিখেননি এবং চেক ভাষাও জানতেন না।তাই এসব বিষয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় হতে কোন নম্বর পান নি।১৮৮১ সালে টেসলা বুদাপেস্ট এর একটি কোম্পানিতে কাজ সুরু করেন।তিনি বুজতে পারেন যে তার এই কোম্পানি নির্মাণ অধীন,তাই তিনি কঠোর পরিশ্রম করতে থাকেন। কয়েক মাসের মধ্যেই তার কোম্পানি বুদাপেস্ট এর অন্যতম কোম্পানিতে পরিণত হন এবং তিনি ছিলেন তার প্রধান ইলেক্ট্রিশিয়ান।তিনি সেখানে চাকরি করার সময় কোম্পানির যে উন্নতি হয় তা পরবর্তীতে আর কেও করতে পারে নাই।

এডিসন এর সাথে কাজ[সম্পাদনা]

১৮৮২ সালে ফ্রান্সে তিনি এডিসন এর কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন।১৮৮৪ সালে তিনি এডিসনের নিউইয়র্কের কোম্পানিতে যন্ত্রের কাজে আসেন। তিনি তার প্রাথমিক জীবন তড়িৎ প্রকৌশল হিসাবে শুরু করেন এবং দ্রুত অনেক কঠিন সমস্যার সমাধান করেন। এডিসন এর কোম্পানি থেকে তাকে সরাসরি তড়িৎ জেনারেটর এর ডিজাইন বানানোর প্রস্তাব দেয়া হয়। ১৮৮৫ সালে তিনি দাবি করেন যে তিনি এডিসন এর কোম্পানির অপর্যাপ্ত মোটর,জেনারেটর এর ডিজাইন করে উন্নত করতে পারবেন যা আর্থিক এবং ব্যবসায়িক উভয় দিক থেকে লাভ হবে। এডিসন তখন তাকে বলেন যে, ৫০ হাজার ডলার তমার জন্য যদি তুমি করতে পার। এটি শুধু মাত্র তার জন্যই প্রযোজ্য ছিল।পরবর্তী মাসে তিনি তার কাজ শেষ করেন এবং তার টাকা চান। কিন্তু এডিসন তার জবাবে বলেন যে, তিনি মজা করেছিলেন যা টেসলা আমেরিকার রসিকতা বুঝতে পারে নি।পরবর্তীতে, এডিসন টেসলার জন্য সপ্তাহে ১০ ডলার থেকে ১৮ ডলার করে বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।কিন্তু টেসলা তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং পদত্যাগ করেন।

মধ্যবর্তী জীবন[সম্পাদনা]

টেসলা এডিসন এর কোম্পানি ছাড়ার পর ১৮৮৬ সালে দুজন ব্যবসায়ির সাথে যোগ দেন।তারা হলেন রবার্ট লেন এবং বেঞ্জামিন ডালে।যারা তার তড়িৎ বাল্ব ও কারখানার জন্য আর্থিক সাহায্যও করতে সম্মত হয়।আলোর ব্যবহার এর ডিজাইন এর উপর ভিত্তি করে নিকোলা টেসলা প্রথম তড়িৎ বাতি তৈরি করেন এবং তিনি ডাইনামিক যন্ত্রের ডিজাইন করেছিলেন যা ছিল আমেরিকার প্রথম ডিজাইন।কিন্তু বিনিয়োগকারীরা নিকোলা টেসলার নতুন ধরনের মোটর এবং বাতির প্রতি কম আগ্রহ দেখায়।তারা মনে করে যে,তড়িৎ উন্নয়ন এর চাইতে অন্য কিছু উন্নত করলে ভাল হবে।তারা টেসলাকে টাকাপয়সা ছাড়াই কোম্পানি থেকে বের করে দিতে চান।টেসলা তার প্রায়ই সকল ক্ষমতা হারাতে থাকেন কোম্পানি থেকে।এমন কি তড়িৎ মেরামত এর কাজ মাত্র ২ ডলার এর বিনিময়ে করেন।১৮৮৬-৮৭ সালের শীতের সময় টেসলা মাথা এবং চোখ এর সমস্যার জন্য অনেক দিন অসুস্থ থাকেন।

এসি এবং আবেশ মোটর[সম্পাদনা]

১৮৮৬ সালের শেষের দিকে টেসলা ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন এর নিয়ন্ত্রক আলফ্রেড ব্রাওন এবং নিউইয়র্কের এটর্নি চার্লস এফ পিক এর সাথে যোগাযোগ করেন।তাদের দুইজনের কোম্পানি চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল এবং আরথিক সাহায্য করার জন্য তৈরি ছিল।তারা টেসলার কথা শুনে তাকে সাহায্য করতে সম্মত হয়।১৮৮৭ সালে তারা টেসলার কোম্পানির সাথে একটি চুক্তি করেন।সে অনুযায়ী,১/৩ অংশ হবে টেসলার, ১/৩ অংশ হবে পিক এবং ব্রাউনের এবং ১/৩ অংশ হবে প্রকল্প উন্নয়নের।তারা একটি গবেষণাগার তৈরি করেন টেসলার জন্য ৮৯ লিফটি রোড, মান্থানে। সেখানে তিনি নতুন ধরনের মোটর জেনারেটর এবং যন্ত্রপাতি উন্নয়নের কাজ করতেন।১৮৮৭ সালে একটি জিনিসের বেশ উন্নয়ন করেন তা হল তড়িৎ আবেশ মোটর।যা পর্যায়ক্রমিক তড়িৎ এর সাহায্যে দ্রুত চলে।তিনি শক্তির একটি নিয়মে ইউরোপ এবং আমেরিকাতে সুরু করেছিলেন যার ফলে উচ্চ ভোল্টেজ এর ট্রান্সমিশন এর বিশাল দূরতের জন্য উপকারী ছিল।মোটরে অনেকগুলো তড়িৎ পর্ব ছিল যা মোটর ঘুরার সময় একটি বৃত্তাকার চুম্বক ক্ষেত্রের তৈরি করতে পারে।আর তাই তড়িৎ মোটর এ ১৮৮৮ সালে একটা নতুন ডিজাইন দেয়া হয় যেখানে তড়িৎ প্রবাহের যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না এবং অগ্নি বিস্ফোরণ রোধ উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন যান্ত্রিক বাল্ব এর প্রতিস্থাপন করা হয়।১৮৮৮ সালে টেসলার পর্যায়ক্রমিক তড়িৎ মোটর এবং আবেশ মোটর এর ঘটনা ইলেকট্রিক ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনে প্রকাশ করা হয়। ওয়াশিংটন হাউজ এর তড়িৎ প্রকৌশলীরা জর্জ ওয়াশিংটনকে বলেন যে, টেসলা যে এসি মোটর ও শক্তি ব্যবহার করেন তা ওয়াশিংটন হাউজ এর জন্য প্রয়োজনীয়।ওয়াশিংটন হাউজ তখন ১৮৮৮ সালে ইতালির পদার্থবিদ গেলিলিও এর সাথে তার সদৃশ দেখেন কিন্তু সিধান্ত নেয়া হয় যে বাজার নিয়ন্ত্রন করবে টেসলার।

১৮৮৮ সালে ব্রাউন এবং পিক জর্জে ওয়াশিংটন এর কাছ থেকে টেসলার তড়িৎ মোটর এর পর্যায়ক্রমিক তড়িৎ এর ডিজাইন এর জন্য নগদ ৬০০০০ ডলার এবং প্রতি এসি হর্স শক্তির জন্য আড়াই ডলার চুক্তি করে সমঝোতা করেন। ওয়াশিংটন ১ বছরের জন্য লোনে ২০০০ ডলার (বর্তমানে ৫২,৫০০ ডলার)খরচে প্রতিমাসে তড়িৎ কারখানায় নিয়ে আসেন। সেই বছর টেসলা পিটাসবারগে কাজ করেন এবং রাস্তায় গাড়ির শক্তি ব্যবহার করে পর্যায়ক্রমিক তড়িৎ তৈরি করেন। তিনি ওয়াশিংটন হাউজএর অন্যান্য প্রকৌশলীদের মধ্যে সবচাইতে শক্তিশালী পর্যায়ক্রমিক তড়িৎ উদ্ভাবন করেন।সেখানে প্রস্তাব দেন যে,তারা সেখানে ৬০ চক্রে তড়িৎ দিতে পারেন কিন্তু তা রাস্তার গাড়িতে কাজ করবে না।তারা এসি মোটরের ব্যবহার বাড়িয়ে ডিসি মোটরের ব্যবহার কমায়।

তড়িৎ যুদ্ধ[সম্পাদনা]

টেসলার পর্যায়ক্রমিক তড়িৎ এর উপর কাজকে অনেকে তড়িৎ যুদ্ধ বলে। যা মুলত থমাস এডিসন এবং জর্জ ওয়াশিংটন এর মধে চলত। টেসলার বিশেষ পধতির মাধ্যমে ওয়াশিংটন হাউজএর অনেক উন্নতি হয় এবং ওয়াশিংটন হাউজএর এসি মোটর তৈরি হয় এডিসন এর ডিসি মোটরের সাথে সাথেই। ১৮৯৩ সালে জর্জ ওয়াশিংটন হাউজ শিকাগোতে ওয়ার্ল্ড কলম্বিয়ান প্রতিযোগিতায় এসি মোটরের কারনে জয়ী হন । তার প্রতিপক্ষ এডিসন এর ডিসি মোটরকে তিনি পরাজিত করেন সেই ওয়ার্ল্ড ফেয়ারএ। এটা ছিল পর্যায়ক্রমিক তড়িৎ শক্তির সূচনার ইতিহাস।যা ওয়াশিংটন হাউজ নিরাপদে এবং শান্তভাবে আমেরিকান জনগন এর মাঝে এনেছিলেন।এই কলম্বিয়ান প্রদর্শনীতে টেসলা ইউরোপ এবং আমেরিকার তড়িৎ এর পার্থক্য তুলে ধরেন।তিনি উচ্চ ভোল্টেজে, উচ্চ স্পন্দন এবং পরযায়ক্রমিক তড়িৎ এর তারবিহীন বাতি প্রদর্শন করেন। টিনের পাত দিয়ে দুটি কঠিন রাবারের প্লেটের ঘরের মধ্যে স্থাপিত করা হয়।এটার দূরত্ব ছিল প্রায়ই ১৫ ফুট এবং ট্রান্সফরমার থেকে তারের মাধ্যমে টার্মিনালে তড়িৎ প্রবাহ ছিল।যখন তড়িৎ প্রবাহ শুরু হত,টিউব বাতি যেগুলো তারের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিল না কিন্তু পর্যায়ক্রমে এর মাঝে ছিল সেগুলো জ্বলে উঠত।এটি টেসলার ২ বছর আগে লন্ডনে করা পরীক্ষার মতন ছিল।সেখানে তারা এর ফলাফল দেখে আশ্চর্য করেছিল এবং হয়েছিল। টেসলা চুম্বক ক্ষেত্রের ঘূর্ণনের নীতি ব্যাখ্যা করেন এবং কীভাবে কপার এগ কাজ করে আবেশ মোটর দারা তার ব্যাখ্যা দেন।এই যন্ত্রটি কলম্বাস এগ নামে পরিচিত ছিল। ১৮৯২ সালে এডিসন এর কোম্পানি শক্তিশালী হতে থাকে জে পি মরগানকে দারা এবং এর ফলে ওয়াশিংটন হাউজএর সাথে নতুন করে আরেকটি যুদ্ধের সৃষ্টি হয়।১৮৯৬ সাল পর্যন্ত এটি মাত্র এই দুটি কোম্পানির মধ্যে ছিল কিন্তু এর পর থেকে ওয়াশিংটন হাউজ টাকার যুদ্ধ শুরু করেন।তখন নিরাপত্তার জন্য ওয়াশিংটন হাউজ টেসলাকে তার এসি মোটর প্রকল্প দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে।কিন্তু টেসলা বলেন যে এভাবে চলতে থাকে তিনি ওয়াশিংটন হাউজ এর নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন না। ওয়াশিংটন হাউজ টেসলাকে ২১৬০০০ ডলার বিনিময়ে পর্যায়ক্রমিক তড়িৎ প্রকল্পের সাথে অনুমতির পরিবর্তন করতে চান।এতে করে পর্যায়ক্রমিক তড়িৎ জনপ্রিয়তা অনেক বাড়তে থাকে। প্রতি হর্স পাওয়ার এর জন্য আড়াই ঘোষণা করা হয়।

আমেরিকার নাগরিকত্ব[সম্পাদনা]

১৮৯১ সালের ৩০ জুলাই, ৩৫ বছর বয়সে টেসলা আমেরিকার নাগরিকত্ব লাভ করেন।তিনি দক্ষিণের ৫ম এভেনিউতে একটি গবেষণাগার তৈরি করেন এবং পরে ৪৬ই হাউজটন রোড,নিউইয়র্কে।তিনি তারবিহীন শক্তিশালী ট্রান্সমিশন বসান এবং তারের মাধ্যমে উভয় জায়গাতে বাতি বসান।একই বছর তিনি টেসলা কয়েল উদ্ভাবন করেন।তিনি আমেরিকান ইনস্টিটিউট অফ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর সহকারী প্রধান হন(১৮৯২-১৮৯৪) পর্যন্ত।যা আধুনিক (আই ইইই) ইনস্টিটিউট অব রেডিও ইঞ্জিনিয়ারস নামে পরিচিত।

এক্স- রে পরীক্ষা[সম্পাদনা]

এই পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ১৮৯৪ সাল থেকে। তিনি তার গবেষণাগারে পূর্ববর্তী নষ্ট ফিল্ম এর মধ্যে দেখেন এবং সেখানে তিনি অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রদীপ্ত রশ্মি দেখতে পান।(পরে তা রঞ্জন রশ্মি বা এক্সরে রশ্মি নামে )পরিচিত হয়।তার প্রাথমিক পরীক্ষাগুলো ছিল ক্রুক এর টিউব এবং ঠাণ্ডা ক্যাথোডের বিছিন্ন তড়িৎ এর সাথে।কিছুদিনের মধ্যেই টেসলার সকল গবেষণা, মডেল, ডাটা ছবিসহ ৫০০০০ ডলারের জিনিস ৫ম এভেনিউর গবেষণাগার থেকে হারিয়ে যায়।১৮৯৫ সালের মার্চে দ্যা নিউইয়র্ক টাইমে নিকোলা টেসলা বলেন যে,আমি খুব দুঃখিত । আমি কি করতে পারি। তিনি মার্ক টোয়েন এর সাথে টিউব নিয়ে কাজ করার সময় একই বছরের ডিসেম্বর মাসে এক্সরের ছবি তুলেন। ক্যামেরার লেন্সের একমাত্র জিনিস যা বুঝা গিয়েছিল তা হল ইস্ক্রু।১৮৯৬ সালের মার্চ মাসে উইলহম রন্তেজন এক্সরে এবং এক্সরের ছবি আবিস্কার করেন। টেসলা গবেষণা এক্সরে,এক্সরের ছবি এবং উচ্চ শক্তি নিয়ে করতে থাকেন।তিনি নিজে এর ডিজাইন করেন যার আউটপুট হিসাব টেসলা কয়েল।তার গবেষণাতে তিনি এক্সরে রশ্মি,বর্তনী তৈরি করেন এবং তার যন্ত্রপাতি দারা রন্তেজন চাইতে শক্তিশালী এক্সরে রশ্মি এবং ছবি বানান। টেসলা একসাথে এক্সরে রশ্মি,বর্তনী নিয়ে কাজ করার সময় একটি বিপদজনক জিনিস লক্ষ্য করেন।তিনি তার প্রথম যেসব অজানা পরীক্ষা করেছিলেন, তিনি চামড়ার ক্ষতি হবার কথা বলেছিলেন।তিনি বিশ্বাস করতেন চামড়ার ক্ষতি এক্সরে রশ্মির জন্য নয়, কিন্তু ওজন চামড়ার উপর প্রভাব ফেলে এবং নাইট্রাস এসিড ক্ষুদ্র প্রভাব ফেলে। টেসলা ভুলবশত বিশ্বাস করেছিল যে,রঞ্জন রশ্মি অনুদৈর্ঘ্য রশ্মি।যদিও সেটা ছিল প্লাসমা দৈর্ঘ্য।এই প্লাসমা দৈর্ঘ্য চুম্বকীয় ক্ষেত্রের মধ্যে ঘটে থাকে।১৯৩৪ সালের ১১ জুলাই নিউইয়র্ক হিরালড টারবাইন এ টেসলার একটি অনুছেদ প্রকাশ করা হয়।সেখানে তিনি পুনরায় বলেন যে,পরীক্ষা যখন একটি মাত্র শূন্য ইলেক্ট্রোড এর মধ্যে হয়,তখন একটি অংশ ক্যাথোডে ভেঙে যেতে পারে,টিউবকে অতিক্রম করতে পারে এবং ভৌতভাবে আঘাত করতে পারে।তিনি অনুভব করেন যে,এটি দেহের মধ্যে দিয়ে যেভাবে প্রবেশ করে ঠিক সেই পথ দিয়েই বের হতে পারে।এটিকে তড়িৎ বন্ধুক বলে।এটি ধাতব কামড় নামেও পরিচিত।এই কণাগুলোর বল একসাথে ভ্রমন করবে।

রেডিও[সম্পাদনা]

রেডিও তরঙ্গ দারা সংক্রমন এর সম্ভাবনা বিষয়ক টেসলার তত্ত্ব নিয়ে ১৮৯৩ সালে সেন্ট লুইসে,মিসরিতে ফ্রাঙ্কলিন ইনস্টিটিউট এ আলোচনা করা হয়। টেসলার গবেষণা এবং নীতি অনেক কিছুই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। রেডিওর উন্নতিতে ব্যবহা্রকৃত অনেক যন্ত্রপাতি যেমন টেসলা কয়েল ব্যবহার করা হয়। ১৮৯৬ সালে রেডিওর তরঙ্গের পরীক্ষা করা হয়েছিল গালবার হোটেলে যেখানে তিনি থাকতেন।১৮৯৮ সালে তিনি একটি রেডিও নিয়ন্ত্রণকারী নৌকা তৈরি করেন যা টেলিযোগাযোগের কাজে লাগে এবং এটি মাদিসন স্কয়ারে গার্ডেন তড়িৎ প্রদর্শনীতে করা হয়।তিনি এর কাযকারিতা ব্যাখ্যা করেন যা একধরণের যাদু এবং একটি প্রশিক্ষিত বানর দারা নিয়ন্ত্রিত ছিল।টেসলা তার রেডিও সম্পর্কিত সকল মতবাদ,চিন্তাভাবনা আমেরিকান সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করতে চেয়েছিল কিন্তু আমেরিকান সেনাবাহিনী সেখানে কোন আগ্রহ দেখায় নি।প্রথম বিশযুদ্ধ পর্যন্ত রেডিও বেশ প্রয়োজনীয় যন্ত্র ছিল এবং পরে তা অনেক দেশের সেনাবাহিনীতে ব্যবহার করা হয়।১৮৮৯ সালের ১৩ মে টেসলা যখন শিকাগোতে ভ্রমন করছিলেন তখন তিনি একটি বাণিজ্যিক ক্লাবকে সয়ঙ্কক্রিয় টেলিযোগাযোগ এর সুবিধা দেখিয়েছিলেন। ১৯০০ সালে তিনি ট্রান্সমিটিং তড়িৎশক্তি এবং তড়িৎ ট্রান্সমিটার এর অনুমোদন লাভ করেন।যখন মার্কনি ১৯০১ সালে প্রথম রেডিও সম্প্রচার করে। তিনি দাবি করেন এটি তার সহযোগিতায় করা হয়েছে।এটি ছিল রেডিও আবিষ্কারের মুহূর্তে বিভিন্ন ধারণা এবং বিজ্ঞানীদের মধ্যে যুদ্ধে।১৯৪৩ সালে আদালত রায় দেয় যে, মার্কনির যুক্তি গ্রহণযোগ্য এবং সব ধারণা একই ছিল না।

কলোরাডো স্প্রিং[সম্পাদনা]

১৮৯৯ সালের ১৭ মে টেসলা কলোরাডোতে চলে আসেন সেখানে তিনি উচ্চ ভোল্টেজ ও উচ্চ স্পন্দন এর পরিক্ষা করেন।তার গবেষণার ছিল ফুতাডে এবং কিওলার কাছে।তিনি এই জায়গাটি পছন্দ করেছিলেন কারণ সেখানে পর্যায়ক্রমিক তড়িৎ শক্তির বণ্টনের ধাপগুলোর কাজ করা সহজ ছিল এবং সেখানে কাজের জন্য অতিরিক্ত কোন টাকা দিতে হত না।তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি তারবিহীন টেলিযোগাযোগ এর পরীক্ষা করছেন যার সংকেত প্যারিসের পিকের চূড়া থেকে সংগ্রহ করা হয়। ১৮৯৯ সালের ১৫ জুনে তিনি কলোরাডো স্প্রিং এর পরীক্ষা শুরু করেন।তিনি প্রাথমিক আগুনের স্ফুলিঙ্গ ৫ ইঞ্চি পরিমাপ করেন এবং এটি খুব পুরু , গোলমালপূর্ণ শব্দ ছিল। টেসলা বায়ুমণ্ডলীয় তড়িৎ এর অনুসন্ধান করেন। তার গ্রাহক যন্ত্রের মাধ্যমে তিনি আলোর সংকেত পর্যবেক্ষণ করেন।তিনি স্থির তরঙ্গও প্রথম লক্ষ্য করেন।বিশাল দূরত্ব এবং প্রকৃতিতে আলোর ঝলকানি দেখে টেসলা বলেন যে, পৃথিবীর প্রতিধ্বনি স্পন্দন রয়েছে।তিনি কৃএিম বজ্রপাত তৈরি করেছিলেন (চার্জবিহীন এবং মিলিয়ন ভোল্ট,১৩৫ ফুট উপরে)।তাই বজ্রপাতের শব্দ ১৫ মাইল দূরে ক্রিপল কিক কলোরাডোতে ও শোনা যায়।মানুষ রাস্তায় হাটার সময় আগুনের স্ফুলিঙ্গ দেখেছিল। এই স্ফুলিঙ্গ যখন পানির পাইপে প্রবেশ করেছিল তখন থেকে কিছু কমে যেতে থাকে।সুইচ বন্ধ করার পরেও সেখানকার বাতিগুলো জ্বলছিল।মানুষ তাদের ধাতুর জুতার মধ্যে শক পাওয়ার পায় এবং স্থিতিশীল হয়ে পরে।সেখানকার প্রজাপতিগুলোর মধ্যেও তড়িৎ প্রবাহ শুরু হয় এবং পাখায় আগুন ধরে যায়।পরিখা চলাকালীন তিনি কিছু ভুল করেন যার ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়।১৯১৭ সালের অগাস্ট মাসে তিনিএর কারন ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন যে,সেখানে ১০০ কিলোওয়াট শক্তির উচ্চ স্পন্দন তৈরি হয় যার ফলে ৬ মাইল দূরে একটি বাসায় আগুন ধরে যায়।এর ফলে আর উচ্চ স্পন্দন এর সৃষ্টি হয় তড়িৎ উৎপাদন করে এবং চারিদিকে ছড়িয়ে পরে। তিনি তার গবেষণাগারে কাজ করার সময় মাঝে মাঝে শব্দ পেতেন যা তিনি ধারনা করতেন অন্ন কোন গ্রহ থেকে আসছে। ১৮৯৯ সালে তিনি এসব উল্লেখ করে একটি চিঠি জুলিয়ান হাওতনের কাছে পাঠান।১৯০০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি আরও একটি গবেষণার তথ্য নিয়ে একটি চিঠি রেড ক্রস সোসাইটিতে পাঠান।তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন।সাংবাদিকগণ তার কথা শুনে বলেছিল যে,এটি মঙ্গল গ্রহ থেকে আসতে পারে।১৯০১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারী কলিকার সাপ্তাহিক অনুছেদ টকিং উইথ প্ল্যানেট এ তিনি বলেন যে, তিনি ধিরে শান্তভাবে একটি শব্দ পেয়েছেন যা মঙ্গল,বুধ অথবা ভেনাস থেকে আসতে পারে। এরপর সবাই একটি সিধান্তে আসে যে, ১৮৯৯ সালে মার্কনি ইউরোপীয় গবেষণায় (এস-------)কিছু শব্দ পেয়েছিল যা কলোরাডো গবেষণার তারহীন মাধ্যমে আবারও পাওয়া যায়।১৮৯৯ সালে জন জেকব এস্তর এই পরীক্ষার উন্নতি এবং উদ্ভাবনের জন্য তাকে ১০০০,০০০ ডলার দেন।তিনি সব টাকা এই প্রকল্পে ব্যবহার করেন।১৯০০ সালের ৭ জানুয়ারী তিনি কলোরাডো স্প্রিং গবেষণা বাদ দেন। ১৯০৪ সালে তার গবেষণাগার নষ্ট হয়ে যায় এবং ২ বছর পর বিক্রি করে দেয়া হয়।তিনি কলোরাডো স্প্রিং তৈরি করেছিলেন তারবিহীন টেলিযোগাযোগ মাধ্যমে যা ওয়েরডেন ক্লিফ নামে পরিচিত।

ওয়েরডেন ক্লিফ[সম্পাদনা]

১৯০০ সালে ১৫০,০০০( বর্তমানে ৪২৫২,২০০ ডলার) ডলার (৫১ ভাগ মরগান হতে) নিয়ে তিনি তার ওয়েরডেন ক্লিফ প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। তিনি পরে মরগানকে আরও টাকা দেবার জন্য বলেন যাতে সেখানে আরও শক্তিশালী ট্রান্সমিটার ব্যবহার করা যায়।যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় এত টাকা কথায় গেল জবাবে তিনি বলেন ১৯০১ সালে তিনি অনেক ঝামেলার শিকার হন যার কারণ ছিল মরগান। মরগান তার কথা শুনে অবাক হন এবং শেয়ার বাজার ধ্বংসের কথা শূনে বিস্মিত হন।তখন তিনি পুনরায় প্রকল্প শুরু করার জন্য মরগানের কাছ থেকে টাকা চান কিন্তু যা ছিল ফলহীন। ১৯০১ সালে মার্কনি সফলভাবে এস অক্ষরটি ইংল্যান্ড হতে নিউ ফাউন্ডেশন এ প্রেরণ করেন যাতে করে তার সাথে মরগানের সম্পর্ক প্রায় শেষ হয়ে যায়। পরবর্তী ৫ বছর তিনি ৫০ এর অধিক চিঠি মরগানকে পাঠান এবং ওয়েরডেন ক্লিফ প্রকল্পের কাজ শুরু করার জন্য সাহায্য চান।তিনি নিজেই প্রথম ৯মাস কাজ চালিয়ে যান ।এই ভবনটি ছিল খাড়া ১৮৭ ফিট (৫৭ মিটার)।১৯০৩ সালের জুলাই মাসে তিনি পুনরায় মরগান এর কাছে চিঠি লিখেন যে তারবিহীন যোগাযোগ মাধ্যমের কাজ করতে হলে ওয়েরডেন ক্লিফ প্রকল্পের কাজ করতে হবে।১৯০৪ সালের ১৪ অক্টোবর মরগান অবশেষে তাকে উত্তর দেন। মরগানের চিঠিতে লিখা ছিল, আমার পক্ষে এসব করা অসম্ভব।পরে আবারও টাকার জন্য তিনি মরগানকে চিঠি লিখেন। ১৯০২ সালে তিনি তার গবেষণাগার হাউজটন থেকে ওয়েরডেন ক্লিফ এ নিয়ে আসেন।১৯০৬ সালের ৫০তম জন্মবার্ষিকীতে তিনি তার ২০০ হর্স পাওয়ার (১৫০ কিলোওয়াট )১৬০০০ রেম্প ধারবিহিন টারবাইন (১০০-৫০০০ এইচ পি)ক্ষমতার ইঞ্জিন পরীক্ষা করেন। তিনি স্টিম ইঞ্জিন শক্তির যান্ত্রিক দোলক তৈরি করেন।যা টেসলার দোলক নামে পরিচিত।হাউজটন গবেষণাগারে কাজ করার সময় তিনি যান্ত্রিক দোলক তৈরি করেন।যত বেশি গতি বৃদ্ধি পায়,তা যান্ত্রিক দোলকের স্পন্দনের সেই অনুনাদ এর জন্য ক্ষতি হয়।তিনি হাতুরি বিশেষ টারবাইনের ব্যবহারর চেষ্টা করেন কিন্তু এর মধ্যে পুলিশ এসে যায়।১৯১২ সালের ফেব্রুয়ারীতে নিকোলা টেসলা ড্রিম নামে ওয়ার্ল্ড টুডে পত্রিকায় এলান বেন্সন একটি অনুছেদ প্রকাশ করেন। সেখানে বেন্সন তার সম্পর্কে দেখান যে, নিকোলা টেসলা দাবি করে যে তিনি পৃথিবীর কঠিন স্তরের স্পন্দন বের করতে পারবেন যা পৃথিবীর সভ্যতাকে ধ্বংস করে দিতে পারে।এই প্রকিয়া নিয়মিত করলে হয়ত পৃথিবীকে দুই ভাগে ভাগ করা যাবে। টেসলার তড়িৎ তত্ত্ব যা মস্তিস্কের উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।১৯১২ সালে তিনি দেখান যে,তড়িৎ এর অসাবধানতার জন্য একজন মেধাবী ছাত্র নিস্তেজ হয়ে যায়। তিনি বলেন কোন বিদ্যালয়ের দেয়ালের তার এবং উচ্চ তড়িৎ এর তরঙ্গ একসাথে তড়িৎ এর ক্ষেত্রে পরিনত হবে।এটি নিউইয়র্কের সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষক উইলিয়াম মাক্সয়েল দারা প্রমানিত হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ হবার পূর্বে তিনি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সাহায্য চেয়েছিলেন।যুদ্ধ শুরু হবার পর যেসব ইউরোপিয়ান দেশগুলো থেকে সাহায্য পেতেন তা বন্ধ হয়ে যায়।এমনকি তিনি তার ওয়েরডেন ক্লিফ বিক্রি করে দেন ২০,০০০ ডলার (বর্তমানে ৪৭০,৯০০ ডলার)।১৯১৭ সালে ওয়েরডেন ক্লিফ ধ্বংস করা হয়েছিল।কারন গুরুত্বপূর্ণ রিয়েলস্টেটের ব্যবসার জন্য।তিনি তখন এ আই ইই থেকে সর্বোচ্চ সম্মান এডিসন পদক গ্রহন করেন। ১৯১৭ সালের অগাস্ট মাসে ইলেকট্রিক এক্সপেরিমেন্ট ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয় যে,তড়িৎ সাব মেরিনে তড়িৎ রশ্মি স্পন্দন হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।তিনি তার ধারনা কিছুটা ভুল করেছিলেন। উচ্চ স্পন্দন এর রেডিও দৈর্ঘ্য হবে পানির মধ্যে দিয়ে।কিন্তু এমিলে গিরাও যিনি প্রথম ১৯৩০ সালে ফ্রান্সের রাডার এর নিয়ম উন্নত করেন সেই গিরাও ১৯৫৩ সালে বলেন যে টেসলার সাধারন কল্পনা যা ছিল তা খুব উচ্চ স্পন্দন এর সংকেতের জন্য দরকার ছিল।যা ছিল টেসলার সপ্ন এবং যা টেসলা শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যান কিন্তু যদিও সেটা সপ্ন তবুও কিছুটা সত্য হয়।

নোবেল প্রাইজের গুজব[সম্পাদনা]

১৯১৫ সালের ৬-ই নভেম্বর রয়টার্স খবর সংস্হা লন্ডন থেকে খবর দেয় যে, ১৯১৫ সালের পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পাবেন থমাস এডিসন এবং নিকোলা টেসলা।...

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]