দ্য গড অব স্মল থিংস
দ্য গড অব স্মল থিংস (ইংরেজি: The God of Small Things, অনুবাদ 'ছোট বিষয়ের ঈশ্বর') ভারতীয় লেখিকা অরুন্ধতী রায় রচিত প্রথম উপন্যাস, যা ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসের কেন্দ্রে রয়েছে সাত বছর বয়সী যমজ ভাইবোন এস্থা ও রাহেল, যারা তাদের একক মাতার কাছে বেড়ে ওঠে। তাদের ব্রিটিশ চাচাতো বোন সোফি মলের আগমনকে কেন্দ্র করে পরিবারে সৃষ্ট টানাপোড়েন এবং একটি মর্মান্তিক ঘটনাকে ঘিরে কাহিনি আবর্তিত হয়েছে, যার রেশ ধরে বহু বছর পর বিচ্ছিন্ন যমজদের পুনর্মিলন ঘটে। ১৯৬০-এর দশকের কেরালাকে পটভূমি করে রচিত এই উপন্যাসে জাতিভেদ প্রথা, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতার অবশেষ, সামাজিক বৈষম্য ও রাজনৈতিক অস্থিরতা কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
![]() প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ | |
| লেখক | অরুন্ধতী রায় |
|---|---|
| মূল শিরোনাম | The God of Small Things |
| প্রচ্ছদ শিল্পী | সঞ্জীব শেঠ |
| প্রকাশনার স্থান | ভারত |
| ভাষা | ইংরেজি |
| ধরন | উপন্যাস |
| প্রকাশক | ইন্ডিয়াইঙ্ক, ইন্ডিয়া[১] |
প্রকাশনার তারিখ | ১৫ মার্চ ১৯৯৭ |
| মিডিয়া ধরন | মুদ্রিত (শক্তমলাট ও পেপারব্যাক) |
| আইএসবিএন | ০-০৬-০৯৭৭৪৯-৩ |
| ওসিএলসি | ৩৭৮৬৪৫১৪ |
| পরবর্তী বই | দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস (২০১৭) |
চরিত্র ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট
[সম্পাদনা]উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র দুই যমজ ভাইবোন, এস্থা ও রাহেল। সাত বছর বয়সে, তাদের মাতা আম্মু ইপে স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর তাদের নিয়ে কেরালার আয়েমেনেম গ্রামে তার পৈতৃক বাড়িতে ফিরে আসেন। সেখানে বসবাস করতেন আম্মুর মাতা মাম্মাচি, ভ্রাতা চাক্কো এবং তাদের বয়োজ্যেষ্ঠ আত্মীয়া বেবি কোচাম্মা।
চাক্কোর প্রাক্তন স্ত্রী মার্গারেট কোচাম্মা একজন ইংরেজ নারী, যার সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। তাদের এক কন্যা সন্তান রয়েছে সোফি মল নামে। মার্গারেটের দ্বিতীয় স্বামীর মৃত্যুর পর চাক্কো মার্গারেট ও সোফিকে আয়েমেনেমে বেড়াতে আসার আমন্ত্রণ জানান।
কাহিনি
[সম্পাদনা]১৯৬৯ সালের ঘটনাপ্রবাহ
[সম্পাদনা]সোফি মলকে বিমানবন্দর থেকে আনতে যাওয়ার পথে পরিবারটি একটি রাজনৈতিক মিছিলের সম্মুখীন হয়। মিছিলকারীরা তাদের গাড়ি ঘিরে ফেলে এবং বেবি কোচাম্মাকে হেনস্তা করে। ভিড়ের মধ্যে রাহেল ভেলুথাকে দেখতে পায় বলে মনে করে — ভেলুথা পরিবারের মালিকানাধীন প্যারাডাইস পিকলস কারখানার কর্মচারী এবং যমজদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। নিম্নবর্ণের (পারাভান) হওয়ায় সমাজে তার অবস্থান ছিল প্রান্তিক।
এই ঘটনার পর বেবি কোচাম্মার মনে বদ্ধমূল ধারণা জন্মায় যে ভেলুথাও তাকে হেনস্তাকারী জনতার অংশ ছিল। এই ভ্রান্ত ধারণা থেকেই ভেলুথার প্রতি তার মনে বিদ্বেষ ও অবিশ্বাস তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে গুরুতর পরিণতি ডেকে আনে।
এদিকে আম্মুর সঙ্গে ভেলুথার একটি গোপন প্রণয় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তৎকালীন সামাজিক প্রেক্ষাপটে উচ্চবর্ণের নারী ও নিম্নবর্ণের পুরুষের মধ্যে এই সম্পর্ক কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল।
ভেলুথার পিতা ভেলিয়া পাপেন এই সম্পর্কের কথা মাম্মাচিকে জানালে, আম্মুকে গৃহবন্দী করা হয় এবং ভেলুথাকে বহিষ্কার করা হয়। ক্ষুব্ধ আম্মু এর জন্য সন্তানদের দায়ী করলে, অভিমানে এস্থা, রাহেল ও সোফি মল নদী পেরিয়ে পরিত্যক্ত হিস্ট্রি হাউসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নৌকায় পালিয়ে যায়। যাত্রাপথে নৌকা উল্টে সোফি মলের সলিলসমাধি ঘটে।
দুর্ঘটনা-পরবর্তী ঘটনা
[সম্পাদনা]সোফি মলের মৃত্যুর পর বেবি কোচাম্মা পুলিশের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করেন যে ভেলুথা তার অপহরণ ও হত্যার জন্য দায়ী। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভেলুথাকে আটক করে নির্মমভাবে প্রহার করে, যা এস্থা ও রাহেল প্রত্যক্ষ করে।
থানায় কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা অনুধাবন করেন যে বেবি কোচাম্মার অভিযোগ মিথ্যা, কিন্তু নিজের অবস্থান রক্ষার্থে তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বেবি কোচাম্মাকে তার বয়ানের উপর অটল থাকতে বাধ্য করেন। আত্মরক্ষার্থে বেবি কোচাম্মা এস্থা ও রাহেলকে দিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ান যে ভেলুথাই সোফি মলকে অপহরণ করেছে। নির্যাতনের ফলে ভেলুথার মৃত্যু হয়, যদিও তিনি নির্দোষ ছিলেন।
এই ঘটনার পর চাক্কো মনে করেন, আম্মু ও তার সন্তানদের অবহেলার কারণেই সোফি মলের মৃত্যু হয়েছে। ফলে তিনি আম্মুকে বাড়ি থেকে বহিষ্কার করেন। আম্মু এস্থাকে তার পিতার কাছে কলকাতায় পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হন, অন্যদিকে রাহেল আয়েমেনেমে থেকে যায়। এভাবে যমজ ভাইবোন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
পরবর্তী জীবন ও পুনর্মিলন
[সম্পাদনা]পরবর্তীতে আম্মু চাকরিচ্যুত হন এবং নিঃসঙ্গ ও দারিদ্র্যের মধ্যে ৩১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। রাহেল বড় হয়ে দিল্লিতে স্থাপত্যবিদ্যা অধ্যয়ন করেন, একজন মার্কিন নাগরিককে বিবাহ করে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান, তবে পরবর্তীতে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। ১৯৯৩ সালে রাহেল আয়েমেনেমে প্রত্যাবর্তন করেন এবং দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর এস্থার সঙ্গে তার পুনর্মিলন হয়। এস্থা ততদিনে মানসিক আঘাতের কারণে প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করতে থাকে।
উপন্যাসটিতে অরৈখিক আখ্যান কাঠামো অনুসরণ করা হয়েছে, যেখানে কাহিনির সময়রেখা সময়ক্রম অনুযায়ী না হয়ে ১৯৬৯ সালের অতীত এবং ১৯৯৩ সালের বর্তমানের মধ্যে আবর্তিত হয়েছে।
উপন্যাস লেখার পেছনের গল্প
[সম্পাদনা]তিনি ১৯৯২ সালে উপন্যাসটি রচনা শুরু করেন এবং ১৯৯৬ সালে এটি সম্পন্ন করেন।[২] পূর্বে চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকার হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তীতে স্বাধীনভাবে সৃষ্টিশীল কাজ করার আগ্রহ থেকে উপন্যাস রচনায় মনোনিবেশ করেন। এজন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি কম্পিউটার ক্রয় করেন এবং স্ব-প্রচেষ্টায় এর ব্যবহার রপ্ত করেন। লেখার প্রাথমিক পর্যায়ে অনুধাবন করেননি যে, তিনি প্রকৃতপক্ষে একটি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস রচনা করছেন।[৩]
চরিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে লেখিকা বাস্তব জীবনের ব্যক্তিদের থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করেছেন; যেমন আম্মু চরিত্রটি তার নিজ মাতা মেরি রায়ের আদলে এবং চাক্কো চরিত্রটি তার মামার আদলে নির্মিত।[৪] তবে তার মা কখনো নিম্নবর্ণের কারও সঙ্গে প্রণয় সম্পর্কে জড়িত ছিলেন না, এই দিক থেকে তিনি ব্যতিক্রম ছিলেন।[৫]
প্রকাশনা ও পুরস্কার
[সম্পাদনা]উপন্যাসটির প্রকাশনা স্বত্ব ২১টি দেশে বিক্রি হয় এবং রায় অগ্রিম হিসেবে প্রায় ১৬ লক্ষ মার্কিন ডলার লাভ করেন।[৩][৬] প্রকাশের পর উপন্যাসটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে[৭], তবে যুক্তরাজ্যে কিছু সমালোচক এর বুকার পুরস্কার বিজয় নিয়ে আপত্তি উত্থাপন করেন।[৮] ভারতে উপন্যাসটি যৌনতার খোলামেলা বর্ণনার জন্য সমালোচিত হয়।[৯]
পরবর্তীতে মালয়ালম ভাষায় উপন্যাসটি অনূদিত হয়[১০], এবং বিবিসি নিউজ এটিকে বিশ্বের ১০০টি সবচেয়ে প্রভাবশালী উপন্যাসের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।[১১]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ রায়, অরুন্ধতী (১৯৯৭)। The God of Small Things। নতুন দিল্লি: ইন্ডিয়াইঙ্ক। পৃ. ৩৭। আইএসবিএন ৮১৮৬৯৩৯০২৪।
- ↑ "Interview with Arundhati Roy: How Small Things Grow into Something Far Greater"। HarperCollins। ৭ মে ১৯৯৭। ১৩ অক্টোবর ১৯৯৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪।
- 1 2 Sachdeva, Maanya (৮ এপ্রিল ১৯৯৭)। "Goddess of Small Things"। The Independent। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪।
- ↑ Abraham, Vinu (২৬ অক্টোবর ১৯৯৭)। "Ayemenem country"। The Week। সংগ্রহের তারিখ ৬ জানুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "There's something about Mary"। The Times of India। ১৭ আগস্ট ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭।
- ↑ Cooper, Kenneth J. (১৯ অক্টোবর ১৯৯৭)। "For India, No Small Thing"। The Washington Post। সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ Kakutani, Michiko (৩ জুন ১৯৯৭)। "Melodrama as Structure for Subtlety"। The New York Times।
- ↑ "The scene is set for the Booker battle"। BBC News। ২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০১০।
- ↑ Bumiller, Elisabeth (২৯ জুলাই ১৯৯৭)। "A Novelist Beginning with a Bang"। The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০১০।
- ↑ Basheer, K. P. M. (৩ জানুয়ারি ২০১২)। "Estha, Rahel now speak Malayalam"। The Hindu। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০১৫।
- ↑ "100 'most inspiring' novels revealed by BBC Arts"। BBC News। ৫ নভেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১০ নভেম্বর ২০১৯।
- ১৯৬৯-এর পটভূমিতে কল্পকাহিনী
- ১৯৯৩-এর পটভূমিতে কল্পকাহিনী
- ১৯৯৭-এর ভারতীয় উপন্যাস
- ১৯৯৭-এ অভিষেক উপন্যাস
- ভারতীয় ইংরেজি ভাষার উপন্যাস
- বুকার পুরস্কার বিজয়ী সৃষ্টিকর্ম
- কল্পকাহিনীতে অজাচার
- কেরলের পটভূমিতে উপন্যাস
- উত্তর-ঔপনিবেশিক উপন্যাস
- অরুন্ধতী রায়ের উপন্যাস
- অরৈখিক বর্ণনাধর্মী উপন্যাস
- টেলিভিশন অনুষ্ঠানে উপযোগকৃত ভারতীয় উপন্যাস
- ১৯৯৭-এর উপন্যাস
- টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অভিযোজিত ভারতীয় উপন্যাস
