দোলাখা জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(দোলখা জেলা থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
দোলাখা জেলা
दोलखा
জেলা
দোলাখা জেলা
দোলাখা জেলা
নেপালের মানচিত্রে দোলাখা জেলার অবস্থান
নেপালের মানচিত্রে দোলাখা জেলার অবস্থান
দেশ   নেপাল
বিকাস ক্ষেত্রমধ্যমাঞ্চল
অঞ্চলজনকপুর
প্রশাসনিক সদরদপ্তরচারিকোট (ভীমেশ্বর
আয়তন
 • মোট২১৯১ কিমি (৮৪৬ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট১,৮৬,৫৫৭
 • জনঘনত্ব৮৫/কিমি (২২০/বর্গমাইল)
সময় অঞ্চলএনপিটি (ইউটিসি+৫:৪৫)
ওয়েবসাইটhttp://www.ddcdolakha.gov.np/

দোলাখা, দোলখা নামেও পরিচিত (নেপালি: दोलखा जिल्ला এই শব্দ সম্পর্কেশুনুন , হচ্ছে নেপালের মধ্যমাঞ্চল বিকাস ক্ষেত্রের জনকপুর অঞ্চলের একটি জেলাচারিকট হচ্ছে এই জেলার সদরদপ্তর। এই জেলার আয়তন ২১৯১ বর্গ কিঃমিঃ। ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুসারে এ জেলার লোকসংখ্যা ২০২,৬৪৬ জন এবং ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে লোকসংখ্যা ১৮৬,৫৫৭ জন।[১]

এই জেলা বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যকলাপের সাথে জোরালো ভাবে সম্পৃক্ত । এটা বেশীর ভাগ নেপালিদের কাছে দোলাখা ভীমেশ্বর মন্দিরের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। দোলাখা নামটি উদ্ভব হয়েছে শেরপা সম্প্রদায় থেকে। শেরপা ভাষায় ”দো” মানে পাথর (ধুনগা), “লা” মানে ভেতরে (মা), এবং “খা” মানে মুখ(মুখ) যেটার পুরো অর্থ ”পাথরের ভেতরে মুখ”.

ভীমেশ্বর মন্দির[সম্পাদনা]

ভীমেশ্বর মন্দির ভীমেশ্বরের দোলাখা বাজারে অবস্থিত। এই মন্দিরের প্রধান মূর্তি হলো ভগবান ভীমের। ভীমসেন বা ভীমেশ্বর বা দোলাখার ভীমকে সারা নেপাল জুড়ে বিখ্যাতদের একজন বলে গন্য করা হয়। তিনি ছিলেন পঞ্চ পাণ্ডবদের দ্বিতীয় রাজপুত্র এবং সাধারন ব্যবসায়ী ও মহাজনেরা প্রধানত তাদের ইচ্ছে পূরনের দেবতা হিসেবে তার পূজা করত । দোলাখাতে ছাদবিহীন মন্দির গঠন করা হয়েছিল ভীমেশ্বর প্রতিমার জন্য যেটা ত্রিভুজাকার এবং নির্মিত হয়েছিল অমসৃন পাথর দিয়ে । বলা হয় মন্দিরের এই প্রতিমার সাদৃশ্য তিনজন দেবতার মতঃ সকালে ভীমেশ্বর, সারাদিন মহাদেবে এবং সন্ধ্যায় নারায়ণের মত।

বহু বছর ধরে স্থানীয় কিংবদন্তী চালু আছে যে, ১২জন কুলি অন্যখান থেকে আসবার সময় এই জায়গায় থামে এবং ভাত রাধবার জন্য তারা তিনটি পাথর দিয়ে চুলা বানায়। কিছুক্ষন পরে দেখা যায় যে, একপাশের চাল রান্না হয়েছে কিন্তু অন্যপাশেরটা রান্না হয় নি। যখন একজন কুলি রান্না করা অংশটি উল্টো করে ধরে, দেখা যায় তিন কোণা কালো পাথরের সংর্স্পশে এসে রান্না করা অংশটি আবার চাল হয়ে গেছে। একজন কুলি এতে ভীষণ রেগে যায় এবং পরিবেশন করার জন্য ব্যবহৃত চামচ দিয়ে (পানু) দিয়ে পাথরে আঘাত করে তখন পাথরের কাটা অংশ দিয়ে রক্তের সঙ্গে মেশান দুধ বেরিয়ে আসতে থাকে। পরে তারা বুঝতে পারে পাথরটি আসলে দেবতা ভীম। এরপর থেকে ভক্তরা দেবতা ভীমের পূজা করতে থাকে।

দোলাখার ভীমসেনের প্রতি বিশ্বাসকে প্রশ্রবিদ্ধ করে এমন অনেক ঘটনা আছে। ভীমসেনের মূর্তির অপ্রাকৃতিক ব্যাপারগুলোর মধ্যে একটা হলো শরীরের ঘামের মত তরল গরম পানি ফোঁটার নিঃসরন। লোকেরা বিশ্বাস করে যে, দেশে যখন কোন খারাপ ঘটনা ঘটছে বা অদূর ভবিষ্যতে ঘটবে, তখন ভীমসেন সবাইকে রক্ষা করার জন্য নিজের শরীরের ঘাম ঝরিয়ে সাবধান করে দিতে চান।

শ্রী ভীমেশ্বর শিবপুরানের দৃষ্টিকোণ থেকে, ভীমার একটি রাজত্ব ছিল যেটা পাহাড়ের চূড়ার একপাশে দেবতা ব্রহ্মার আর্শীবাদ পেয়েছিল । ভীমার রাজত্বে যারা বসবাস করত তারা ভীমার কারনে ভীষণ কষ্টের জীবন যাপন করত। তারা দেবতা শিবের কাছে তাদের জীবন বাচাঁবার জন্য প্রার্থনা করেছিল। দেবতা শিব গৈৗরিসংকর থেকে নেমে এসে রাজা ভীমকে হত্যা করেন। ইতিহাস অনুযায়ী, ভীমের মৃত্যর পর সেখানকার মূর্তির নামকরন করা হয় ভীমেশ্বর। (भिमेश्वर)

দোলাখা অন্যান্য পবিত্র মন্দিরের জন্যও পরিচিত যেমন কালিনচোক ভগবতী মন্দির। এটা নেপালে সবচেয়ে শক্তিশালী দেবীদের মন্দির হিসেবে পরিচিত। এটি উচুঁ পাহাড়ে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এটা প্রায় ৩৮৪২ মিটার উচ্চতায় এবং জানা যায় আগে তীর্থযাত্রীর লম্বা এবং বিপদজনক পাহাড়ী পথ হেঁটে এই মন্দিরে যেত। কিন্তু ২০১৮ সাল থেকে সরকার র্তীথ যাত্রীদের সুবিধার জন্য ক্যাবল কার সার্ভিস চালু করেন। বিশ্বাস করা হয়, তীর্থযাত্রীদের প্রার্থনা পূরনের ক্ষেত্রে এই মন্দিরের দেবীদের শক্তিশালী আধ্যাত্মিক ক্ষমতা আছে।

ভৌগলিক ও জলবায়ূর উপাত্ত[সম্পাদনা]

জলবায়ু মন্ডল[২] উচ্চতার ব্যাপ্তি অঞ্চলের % অংশ
উচ্চতর উষ্ণপ্রধান ৩০০ থেকে ১,০০০ মিটার
১,০০০ থেকে ৩,৩০০ ফুট
 ১.৯%
উপক্রান্তিয় অঞ্চল ১,০০০ থেকে ২,০০০ মিটার
৩,৩০০ থেকে ৬,০০০ ফুট
২৬.২%
নাতিশীতোষ্ণ ২,০০০ থেকে ৩,০০০ মিটার
৬,৪০০ থেকে ৯,৮০০ ফুট
২৮.৫%
অব আল্পীয় ৩,০০০ to ৪,০০০ মিটার
৯,৮০০ থেকে ১৩,১০০ ফুট
১৬.৬%
আল্পীয় ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ মিটার
১৩,১০০ থেকে ১৬,৪০০ ফুট
 ৯.৪%
তুষারের নীচে বর্ধমান ৫,০০০ মিটারের বেশী ১৭.৪%

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

২০১১ সালের নেপালের আদমশুমারি অনুযায়ী দোলাখা জেলার লোক সংখ্যা ছিল ১৮৬,৫৫৭ জন। এই জনসংখ্যার মধ্যে মাতৃভাষা হিসেবে ৬৫.২% নেপালি, ১৫.৮% তামাং, ৮.০% থামি, ৪.৬% শেরপা, ২.৩% জিরেল, ২.০% নেওয়ারি এবং ১.০% সুনুওয়ার ভাষায় কথা বলত। এই জেলার জনসংখ্যার মধ্যে ৩২.৫% নেপালি ভাষায় এবং ০.৬% ইংরেজী ভাষাকে তাদের দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ব্যবহার করত। [৩]

প্রশাসন[সম্পাদনা]

এই জেলা ৯টি পৈৗরসভা নিয়ে গঠিত, তার মধ্যে ২টি নগর পৈৗরসভা ও ৭টি গ্রামীণ পৈৗরসভা। এগুলো হলঃ[৪]

ভূতপূর্ব পৈৗরসভা ও গ্রাম উন্নয়ন কমিটিগুলো (ভিডিসিস)[সম্পাদনা]

দোলাখা জেলার ভিডিএসগুলোর মানচিত্র

এই জেলাটি পূর্ণগঠন হবার আগে নীচের পৈৗরসভা ও গ্রাম উন্নয়ন সমিতিগুলো নিয়ে দোলাখা গঠিত ছিলঃ

গ্যালারি[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "হাউসহোল্ড এন্ড পপুলেশন বাই ডিষ্ট্রিক, সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ষ্ট্যাটিসটিকস (সিবিএস) নেপাল" (PDF)। ৩১ জুলাই ২০১৩ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০১৪ 
  2. The Map of Potential Vegetation of Nepal - a forestry/agroecological/biodiversity classification system (PDF), . Forest & Landscape Development and Environment Series 2-2005 and CFC-TIS Document Series No.110., ২০০৫, আইএসবিএন 87-7903-210-9, সংগ্রহের তারিখ নভে ২২, ২০১৩ 
  3. [https://cbs.gov.np/wp-content/upLoads/2018/12/Volume05Part02.pdf ২,০০০ সাল নেপাল আদমশুমারি সোস্যাল ক্যারেক্টারিসটিক টেবিল]
  4. "स्थानिय तह" (Nepali ভাষায়)। মিনিষ্ট্রি অব ফেডারেল এ্যাফার্য়াস এন্ড জেনারেল এ্যাডমিনিষ্ট্রেশন। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ 

স্থানাঙ্ক: ২৭°৪০′ উত্তর ৮৬°২′ পূর্ব / ২৭.৬৬৭° উত্তর ৮৬.০৩৩° পূর্ব / 27.667; 86.033