দিলমা রৌসেফ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দিলমা রৌসেফ
Dilma Rousseff 2010.jpg
৩৬তম ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি
অফিসে
১ জানুয়ারি, ২০১১ – ৩১ আগস্ট, ২০১৬[পাদটীকা ১]
উপরাষ্ট্রপতি মিশেল টেমার
পূর্বসূরী লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা
উত্তরসূরী মিশেল টেমার
৪০তম চিফ অব স্টাফ অব ব্রাজিল
অফিসে
২১ জুন, ২০০৫ – ৩১ মার্চ, ২০১০
রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা
পূর্বসূরী জোস ডার্সিও
উত্তরসূরী ইরেনিস গুইরা
খনিজ ও জ্বালানী মন্ত্রী
অফিসে
১ জানুয়ারি, ২০০৩ – ২১ জুন, ২০০৫
রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা
পূর্বসূরী ফ্রান্সিস্কো লুইজ সাইবুত গোমিদে
উত্তরসূরী সিলাস রন্ডিও
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম দিলমা ভানা রৌসেফ
(১৯৪৭-১২-১৪) ১৪ ডিসেম্বর ১৯৪৭ (বয়স ৬৮)
বেলো হরাইজন্তে, ব্রাজিল
রাজনৈতিক দল ওয়ার্কার্স পার্টি
দাম্পত্য সঙ্গী
  • ক্লদিও গ্যালিনো লিনহেয়ার্স (১৯৬৭-১৯৬৯)
  • কার্লোস ফ্রাঙ্কলিন পাইজাও দ্য আরাওজো (১৯৬৯-২০০০)
সন্তান পলা
বাসস্থান অ্যালভোরাদা প্যালেস
প্রাক্তন ছাত্র ফেডারেল ইউনিভার্সিটি অব রিও গ্রান্দে দো সাল
ধর্ম রোমান ক্যাথলিক
স্বাক্ষর
ওয়েবসাইট dilma.com.br

দিলমা ভানা রৌসেফ (পর্তুগিজ উচ্চারণ: [ˈd(ʒ)iwmɐ ˈvɐ̃nɐ ʁuˈsɛfⁱ]; জন্ম: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৪৭) বেলো হরাইজন্তে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ব্রাজিলের বিশিষ্ট প্রমিলা অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদ। তিনি ব্রাজিলের ৩৬তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ১ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে ব্রাজিলের প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেয়ার পর[১][২] ৩১ আগস্ট, ২০১৬ তারিখে অভিশংসন ও দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার পূর্ব পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন। ব্রাজিলের প্রথম মহিলা হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।[৩] এরপূর্বে ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা’র চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করেন।[৪]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

বুলগেরীয় আইনজীবি ও উদ্যোক্তা পেড্রো রৌসেফের কন্যা দিলমা রৌসেফ উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর পরিবারে মিনাস গেরাইজের বেলো হরাইজন্তে এলাকায় বড় হন।[৫][৬][৭] তাঁর মা দিলমা জেন দা সিলভা পেশায় বিদ্যালয়ের শিক্ষয়িত্রী ছিলেন।[৮][৯] বাবা বুলগেরিয়ার গাবরোভো এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন[১০][১১] ও তাঁর বন্ধু ছিলেন এলিসাভেতা বাগ্রিয়ানা নামীয় নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত কবি[১২] ১৯২০-এর দশকে তিনি বুলগেরীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।[১৩] পিতার রুসেভ ১৯২৯ সালে রাজনৈতিক নির্যাতনের কারণে বুলগেরিয়া থেকে ফ্রান্সে আবাস গড়েন। ১৯৩০-এর দশকে বিপত্নীক অবস্থায় ব্রাজিলে আসেন। কিন্তু তিনি পুণরায় বুয়েন্স আয়ার্সে স্থানান্তরিত হন। কয়েক বছর বাদে ব্রাজিলের সাউ পাওলোতে বাসস্থান গড়েন ও ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। পিটার রুসেভ তাঁর নামের প্রথমাংশ পর্তুগীজ ও শেষাংশ ফরাসী ভাষায় গ্রহণ করেছিলেন। ওবেরাবা ভ্রমণে দিলমা জেন দা সিলভা’র সাথে পরিচিত হন। বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বেলো হরাইজন্তে এলাকায় আবাস গড়েন। তাঁদের তিন সন্তান - ইগর, দিলমা ভ্যানে ও জানা লুসিয়া। দিলমা’র বড় ভাই ইগর রৌসেফ পেশায় একজন আইনজীবি।[১৩]

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

যুবাবস্থায় সমাজতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণায় জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬৪ সালে ব্রাজিলে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। এরফলে বিভিন্ন বামপন্থী রাজনীতি ও মার্কসবাদী শহুরে গেরিলা গ্রুপে যোগদানের মাধ্যমে ১৯৬৪ থেকে ১৯৮৫ সময়কালে ব্রাজিলের একনায়কতান্ত্রিক সামরিক শাসনের বিপক্ষে অবস্থান নেন। জানুয়ারি, ১৯৭০ সালে মার্কসবাদী দলের সদস্য থাকাকালীন ব্যাংক ডাকাতিখুনের দায়ে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হন বলে জানা যায়।[২][৫][১৪][১৫] তিন বছর পর কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করেন তিনি। মুক্তিলাভের পর পোর্তো আলেগ্রে এলাকায় কার্লোস আরাওজো’র সাথে ঘরোয়া সঙ্গী হিসেবে ৩০ বছর কাটান।[৫] তাঁরা উভয়েই রিও গ্রান্দে দো সাল এলাকায় ডেমোক্র্যাটিক লেবার পার্টি (পিডিটি) গঠনে ব্যাপক সহায়তাসহ দলের বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন। অ্যালসিও কলারেজ প্রশাসনে পোর্তো আলিগ্রে শহরে দলের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। পরে কলারেজ এবং অলিভো দুতরা’র উভয় প্রশাসনেই রিও গ্রান্দে দো সাল প্রদেশে শক্তি সচিবের দায়িত্বে ছিলেন।[৫] ২০০০ সালে দুতরা মন্ত্রীপরিষদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে তিনি পিডিটি থেকে চলে আসেন ও ব্রাজিলের ওয়ার্কার্স পার্টিতে যোগ দেন।[৫] ২০০২ সালে রৌসেফ রাষ্ট্রপতি প্রার্থী লুলা দা সিলভা’র শক্তি নীতি-নির্ধারণ কমিটিতে যোগদান করেন। এরপর ২০০৩ সালে লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা নির্বাচনে বিজয়ী হলে এ সরকারের খনিজ ও শক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান ছিলেন রৌসেফ।[৫] ম্যানসালাও কেলেঙ্কারী নামে পরিচিত দূর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত জোস ডারসিও’র পদত্যাগজনিত কারণে তিনি ২০০৫ সাল থেকে ৩১ মার্চ, ২০১০ তারিখ পর্যন্ত লুলা’র চিফ অব স্টাফ হয়েছিলেন।[৫][১৬] রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রৌসেফ প্রার্থী হওয়ায় তিনি এ পদ থেকে চলে আসেন।[৫] অতঃপর ৩১ অক্টোবর, ২০১০ তারিখে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী হন রৌসেফ।

অভিশংসন[সম্পাদনা]

১২ মে, ২০১৬ তারিখে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বে পালনকালে রৌসেফের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়ার শুনানি শুরু হলে উপ-রাষ্ট্রপতি টেমারের কাছে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা চলে আসে ও সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ায় রৌসেফের পরিবর্তে তাঁকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়।

৩১ আগস্ট, ২০১৬ তারিখে ব্রাজিলীয় সিনেটে ৬১-২০ ভোটের ব্যবধানে রৌসেফকে ক্ষমতাচ্যুত করেন।[১৭] এরফলে উপ-রাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মিশেল টেমার ৩৭তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত হন।[১৮]

সম্মাননা[সম্পাদনা]

ফোর্বস ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে ২০১৩ সালে প্রকাশিত বিশ্বের ১০০ সেরা ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় রৌসেফকে দ্বিতীয় স্থান দেয়া হয়। তিনি জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের পিছনে ছিলেন।[১৯] আগস্ট, ২০১১ সালেও রৌসেফ ফোর্বসের বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় ৩য় স্থানে ছিলেন। তাঁর পূর্বে ছিলেন মার্কেল ও মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন[২০][২১] অক্টোবর, ২০১০ সালেও তিনি ফোর্বসের তালিকায় ষোড়শ অবস্থানে ছিলেন।[২২][২৩] অ্যাঞ্জেলা মার্কেল ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী’র সাথে এ তালিকায় তৃতীয় সেরা নারী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. Suspended since 12 May 2016 by the Federal Senate until final impeachment verdict on 31 August 2016.

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Dilma Rousseff wins Brazil's presidential election. The Guardian. Retrieved 2 November 2010.
  2. ২.০ ২.১ "BBC News - Dilma Rousseff sworn in as Brazil's new president"bbc.co.uk। সংগৃহীত ৮ জানুয়ারি ২০১১ 
  3. EFE. "Dilma, 1ª mulher presidente e única economista em 121 anos de República". BOL. 31 October 2010.
  4. Bennett, Allen."Dilma Rousseff biography", Agência Brasil, 9 August 2010.[অকার্যকর সংযোগ]
  5. ৫.০ ৫.১ ৫.২ ৫.৩ ৫.৪ ৫.৫ ৫.৬ ৫.৭ Bennett, Allen."Dilma Rousseff biography"[অকার্যকর সংযোগ], Agência Brasil, 9 August 2010.
  6. PIZZETTO, Renato. "Nunca vou falar não para o Lula, diz Dilma sobre 2010". Folha da Bahia, 20 April 2008.
  7. United States Consulate document about Dilma Rousseff, sent to the U.S. Department of State.
  8. Who Is Who: Bulgarian Origins and Relatives of Brazil's Dilma Rousseff
  9. LEITÃO, Matheus and RAMOS, Murilo. "Dilma, a poderosa". Época, 10 November 2006.
  10. "Габровци пожелаха успех на Дилма Русеф" (Bulgarian ভাষায়)। Дарик Габрово। ৩ অক্টোবর ২০১০। সংগৃহীত ৩ অক্টোবর ২০১০ 
  11. Инджов, Момчил (১ সেপ্টেম্বর ২০০৪)। "Братът инж. Любен Русев: Тайно получавах пари от Бразилия" (Bulgarian ভাষায়)। Труд। সংগৃহীত ৩ অক্টোবর ২০১০ 
  12. ДИЛМА РУСЕФ Е ДЯСНАТА РЪКА НА ПРЕЗИДЕНТА ИГНАСИО ЛУЛА ДА СИЛВА[অকার্যকর সংযোগ]
  13. ১৩.০ ১৩.১ CARVALHO, Luiz Maklouf. "As armas e os varões: A educação política e sentimental de Dilma Roussef". Piauí, number 31 (April 2009), p. 22-31.
  14. Ex-Guerrilla to be Brazil's First Female President[অকার্যকর সংযোগ] by Bradley Brooks, Associated Press, 31 October 2010
  15. "Brazil elects Dilma Rousseff as first female president"theaustralian.com.au। সংগৃহীত ৮ জানুয়ারি ২০১১ 
  16. NEWS IN ENGLISH – Dilma Rousseff biography. Agência Brasil. Retrieved 2 November 2010.
  17. "Brazil President Dilma Rousseff removed from office by Senate"BBC News। সেপ্টেম্বর ১, ২০১৬। সংগৃহীত সেপ্টেম্বর ১, ২০১৬ 
  18. Shasta Darlington and Dana Ford, CNN (১৭ আগস্ট ২০১৫)। "Protesters in Brazil call for President Dilma Rousseff's impeachment"। CNN। 
  19. Merkel, Dilma Rousseff top Forbes powerful women list Forbes.com. Retrieved 2013-22-05.
  20. Power Women Forbes Magazine
  21. BBC Brasil – Notícias – Dilma é 3ª mulher mais poderosa do mundo, segundo 'Forbes'
  22. Em ranking da 'Forbes', Dilma é a 16ª pessoa mais poderosa do mundo G1.com.br. Retrieved 2010-11-06. (পর্তুগিজ).
  23. Dilma Rousseff Forbes magazine. Retrieved 4 November 2010.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

প্রাতিষ্ঠানিক

প্রচারমাধ্যম

রাজনৈতিক দপ্তর
পূর্বসূরী
ফ্রান্সিস্কো লুইজ সিবাট গোমিদে
খনিজ ও জ্বালানী মন্ত্রী
২০০৩-২০০৫
উত্তরসূরী
সাইলাস রোনদিয়াও
পূর্বসূরী
জোস দারসিউ
চিফ অব স্টাফ অব ব্রাজিল
২০০৫-২০১০
উত্তরসূরী
ইরেনাইস গুয়েরা
পূর্বসূরী
লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা
ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি
২০১১-২০১৬
উত্তরসূরী
মিশেল টেমার
পার্টির রাজনৈতিক কার্যালয়
পূর্বসূরী
লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা
ওয়ার্কার্স পার্টি’র পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী
২০১০
সাম্প্রতিক