দশম অবতার (চলচ্চিত্র)
| দশম অবতার | |
|---|---|
প্রচারণা পোস্টার | |
| পরিচালক | সৃজিত মুখার্জি |
| প্রযোজক |
|
| রচয়িতা | সৃজিত মুখার্জি |
| শ্রেষ্ঠাংশে | |
| সুরকার | |
| চিত্রগ্রাহক | সৌমিক হালদার |
| সম্পাদক | প্রনয় দাশগুপ্ত |
| প্রযোজনা কোম্পানি | |
| মুক্তি |
|
| দেশ | ভারত |
| ভাষা | বাংলা |
| আয় | ₹ ৬ কোটি (ইউএস$ ০.৭৩ মিলিয়ন) [১] |
দশম অবতার হলো একটি ভারতীয় বাংলা নিও-নয়ার থ্রিলার চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটি সৃজিত মুখার্জি পরিচালিত এবং শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস এবং জিও স্টুডিও প্রযোজিত।[২][৩] ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, যীশু সেনগুপ্ত এবং জয়া আহসান ।[৪][৫][৬] ২০২৩ সালের ২০শে অক্টোবরে দুর্গা পূজা উপলক্ষে মুক্তি দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্মাতাদের মতে, বাইশে শ্রাবণের চ্যাটার্জির চরিত্র প্রবীর রায় চৌধুরী এবং ভিঞ্চি দা- এর ভট্টাচার্যের চরিত্র বিজয় পোদ্দার, বাইশে শ্রাবণের ঘটনার আগে একটি মামলার সমাধান করতে দশ অবতার একত্রিত হবেন।[৭][৮]
দশম অবতার চলচ্চিত্রটি বাইশে শ্রাবণ ও ভিঞ্চি দা চলচ্চিত্র দুইটির প্রিকুয়েল ক্রসওভার।
কাহিনী
[সম্পাদনা]২০০৩ সালে কলকাতা শহরে একের পর এক ভয়ঙ্কর সিরিয়াল খুনের ঘটনা ঘটতে থাকে। প্রতিটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বিষ্ণুর দশ অবতার থেকে অনুপ্রাণিত একটি বিশেষ কৌশল ব্যবহার করে। লক্ষ্য করা যায়, খুনের শিকাররা সমাজের উচ্চপদস্থ ব্যক্তি, যারা কেউ দুর্নীতিবাজ, কেউ বা জঘন্য অপরাধে অভিযুক্ত।
এই ঘটনার তদন্তে নিযুক্ত হন প্রবীর রায় চৌধুরী—একজন কুখ্যাত, রূঢ় ভাষাব্যবহারকারী ও বদমেজাজি পুলিশ অফিসার, যিনি একসময় কাস্টডিতে মৃত্যুর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় সাসপেন্ড হতে হতে বেঁচেছিলেন। তার সহকর্মী অমিত কুমার শ্রীবাস্তব তাকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিলেও প্রবীর তার নিজস্ব কায়দায় কাজ করে চলেন। একদিন এক বারে পরিচয় হয় এক তরুণ কিন্তু ক্ষিপ্র মেজাজের অফিসার বিজয় পোদ্দারের সঙ্গে, যিনি পরে এই সিরিয়াল কিলিং তদন্তে প্রবীরের সঙ্গী হন।
তদন্ত চলাকালীন, জানা যায় বিজয় পোদ্দারের জন্ম কালীঘাটের এক যৌনপল্লীতে, যেখানে তিনি এখনো শিশুদের পড়ান। খুনের সংখ্যা বাড়তেই থাকে—একজন প্রোমোটার, একজন মাফিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী, চিকিৎসায় অবহেলাকারী ডাক্তার এবং একজন সন্ত্রাসবাদী রক্ষাকারী আইনজীবী—এরা সবাই খুন হয়।
এই অবস্থায় মনোচিকিৎসক মইত্রেয়ী ঘটক এগিয়ে আসেন। তিনি জানান, তার এক রোগী বিশ্বরূপ বর্ধন নিজেকে বিষ্ণুর দশম অবতার ‘কল্কি’ মনে করেন এবং এই খুনগুলোকে সমাজের নৈতিক শুদ্ধি বলে মনে করেন। এই তথ্য পেয়ে পুলিশ তার খোঁজে নামে। তদন্তে মইত্রেয়ী ও পোদ্দারের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে, যা প্রবীর পছন্দ করেন না কারণ তার স্ত্রী-সন্তান খুন হওয়ার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
একপর্যায়ে প্রবীর মইত্রেয়ীকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করতে চান, কিন্তু বিজয় তার বিরোধিতা করেন। দু’জনের মধ্যে মারামারিও হয়। পরে মইত্রেয়ীর অনুরোধে বিজয় প্রবীরকে ক্ষমা চায়, এবং তারা আবার একত্রে কাজ শুরু করে।
পরবর্তী খুনের পর মইত্রেয়ী রাজি হন নিজেকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহারে। এক রাতে বিজয় মইত্রেয়ীকে তার বাড়ি পৌঁছে দিলে দেখে বিশ্বরূপ ওখানে অপেক্ষা করছে। বিশ্বরূপ তাকে বিশ্বাসঘাতক বলে বন্দি করে রাখে। ঠিক সেই সময় প্রবীর ও বিজয় সেখানে পৌঁছে যায়। বিশ্বরূপ তাদের সামনে তার খুনের পিছনের যুক্তিগুলো ব্যাখ্যা করে—ব্যবসায়ীর হাতে তার বাবার খুন ও বোনের উপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা তার মানসিকতাকে নষ্ট করে দেয়।
বিশ্বরূপ প্রবীরকে মারতে গেলে প্রবীর তাকে একটি লুকানো পিস্তল দিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এরপর এক চমকপ্রদ সত্য উদ্ঘাটিত হয়—মইত্রেয়ী আসলে বিশ্বরূপের বোন! বিজয় জানতে পারে, প্রোমোটারের প্রথম খুনটি ছিল একটি বিভ্রান্তি তৈরি করার জন্য, যাতে পরবর্তী খুনগুলি সিরিয়াল কিলিংয়ের মতো দেখানো যায়। মূল লক্ষ্য ছিল সেই ব্যবসায়ী, যিনি তাদের বাবাকে খুন করে মইত্রেয়ীকে ধর্ষণ করেছিল। মইত্রেয়ী তার ভাইকে সাহায্য করেছিলেন প্রতিশোধ নিতে। কিন্তু বিশ্বরূপ মানসিকভাবে বিকৃত হয়ে পড়ায় হত্যার ধারা বন্ধ হয়নি।
মইত্রেয়ী এই ভয়াবহ ঘটনার ভার সইতে না পেরে পুলিশের সাহায্য নেন। বিজয় এই সত্য জানার পর চরমভাবে হতবাক ও বিমর্ষ হয়ে পড়ে। সে অনুভব করে মইত্রেয়ী তাকে কেবল ব্যবহার করেছে। শেষ দৃশ্যে, মইত্রেয়ী বিজয়ের ঘৃণাভরা কথায় ভেঙে পড়ে এবং এক পাহাড়ের কিনারা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। বিজয় কিছুই করতে পারে না, আর প্রবীর তার ফোন পেয়ে বুঝতে পারেন, তিনি দেরি করে ফেলেছেন।
২০০৪ সালে দেখা যায়, মইত্রেয়ীর মৃত্যুর পর বিজয় মদে ডুবে যায়। তবে আবার এক নতুন সিরিয়াল কিলিং মামলায় তাকে ও প্রবীরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়—এক অশান্ত শহরে আবারও নেমে পড়ে এক জুটি: প্রবীর ও পোদ্দার।
অভিনয় শিল্পী
[সম্পাদনা]- প্রবীর রায় চৌধুরীর চরিত্রে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়
- বিজয় পোদ্দারের চরিত্রে অনির্বাণ ভট্টাচার্য
- বিশ্বরূপ বর্ধনের চরিত্রে যীশু সেনগুপ্ত
- মৈত্রী ঘটকের চরিত্রে জয়া আহসান
- কমিশনার রজত রায়ের চরিত্রে রজত গাঙ্গুলি
- বিশ্বরূপের বাবার চরিত্রে অনিমেষ ভাদুড়ি
- অমিত শ্রীবাস্তবের চরিত্রে রাজেশ শর্মা
সঙ্গীত
[সম্পাদনা]সাউন্ডট্র্যাক অ্যালবামটির সুর করেছেন অনুপম রায় এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর করেছেন ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত । গায়ক হলেন রূপম ইসলাম, অরিজিৎ সিং এবং শ্রেয়া ঘোষাল ।
মুক্তি
[সম্পাদনা]প্রেক্ষাগৃহে
[সম্পাদনা]ছবিটি দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৯ অক্টোবর ২০২৩ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ।
হোম মিডিয়া
[সম্পাদনা]ছবিটির ডিজিটাল স্বত্ব "হইচই" অধিগ্রহণ করেছে। এটি ২রা ফেব্রুয়ারী ২০২৪ তারিখে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রিমিয়ার হয়েছিল। টেলিভিশনে, এটি ১৮ই আগস্ট ২০২৪ তারিখে জলসা মুভিজে প্রদর্শিত হয়েছিল।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Kanji, Subhasmita (২৪ অক্টোবর ২০২৩)। "পুজোর ভেলকি! মুক্তির ৫ দিনের মধ্যেই ঘরে কত কোটি তুলল দশম অবতার?"। bangla.hindustantimes.com। Hindustantimes Bangla। ২৯ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২৩।
- ↑ "Srijit's 'Dasham Avatar' will be all about suspense and thrill"। The Times of India। ২০ এপ্রিল ২০২৩। আইএসএসএন 0971-8257। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০২৩।
- ↑ "আসছে ʼদশম অবতারʼ, লক্ষ্মীবার সকালে ভক্তদের চমকে দিলেন সৃজিত"। Editorji। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০২৩।
- ↑ "Jaya to play Srijit's 'Dasham Avatar' along with a bunch of stars"। bangladeshpost.net (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০২৩।
- ↑ "Jaya Ahsan to replace Subhashree Ganguly in Srijit Mukherji's upcoming film Dasham Avatar"। The Times of India। ৫ জুলাই ২০২৩। আইএসএসএন 0971-8257। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০২৩।
- ↑ ভট্টাচার্য্য, তোর্ষা (২০ জুলাই ২০২৩)। "'বাইশে শ্রাবণ'-এর রেশ ধরে প্রসেনজিৎ-অনির্বাণকে নিয়ে নতুন ছবি সৃজিতের, থাকছেন জয়া, যিশু"। bengali.abplive.com। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০২৩।
- ↑ MPost (২০ জুলাই ২০২৩)। "Bengali cop universe 'Dawshom Awbotaar' goes on floor in Kolkata"। www.millenniumpost.in (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০২৩।
- ↑ "Srijit Mukherji is coming up with his 'cop universe' with a crossover prequel to Baishe Srabon and Vinci Da"। www.telegraphindia.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০২৩।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজে দশম অবতার (ইংরেজি)