টমি গ্রীনহফ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
টমি গ্রীনহফ
টমি গ্রীনহফ.jpg
১৯৫৯ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে টমি গ্রীনহফ
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামটমাস গ্রীনহফ
জন্ম(১৯৩১-১১-০৯)৯ নভেম্বর ১৯৩১
রোচডেল, ল্যাঙ্কাশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু১৫ সেপ্টেম্বর ২০০৯(2009-09-15) (বয়স ৭৭)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি লেগ ব্রেক
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৩৯৩)
৪ জুন ১৯৫৯ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট২৩ আগস্ট ১৯৬০ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৫১ - ১৯৬৬ল্যাঙ্কাশায়ার
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ২৫৫
রানের সংখ্যা ১,৯১৩
ব্যাটিং গড় ১.৩৩ ৮.৩৯
১০০/৫০ –/– –/১ –/–
সর্বোচ্চ রান ৭৬* ০*
বল করেছে ১,১২৯ ৪২,২১৯
উইকেট ১৬ ৭৫১
বোলিং গড় ২২.৩১ ২২.৩৭
ইনিংসে ৫ উইকেট ৩৪
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং ৫/৩৫ ৭/৫৬
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/– ৮৪/– –/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৯ নভেম্বর ২০২০

টমাস গ্রীনহফ (ইংরেজি: Tommy Greenhough; জন্ম: ৯ নভেম্বর, ১৯৩১ - মৃত্যু: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০০৯) ল্যাঙ্কাশায়ারের রোচডেল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।[১][২] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫০-এর দশকের শেষদিক থেকে শুরু করে ১৯৬০-এর দশকের শুরুরদিক পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।[৩]

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি লেগ ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন টম গ্রীনহফ

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫১ সাল থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত টমি গ্রীনহফের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ক্রমশঃ অপ্রচলিত হতে থাকা বিলুপ্ত গুগলি সহযোগে লেগ স্পিনার হিসেবে টমি গ্রীনহফের আবির্ভাব ঘটে। বেশ দূর থেকে তিনি বলকে পর্যাপ্ত বাঁক খাওয়াতে পারতেন। দুইবার এক মৌসুমে ১০০ উইকেট লাভ করেছেন।

ডগ রাইট, এরিক হোলিসরলি জেনকিন্সের অবসর গ্রহণের পর ব্রুস ডুল্যান্ড ও গামিনি গুনেসেনা’র সাথে কাউন্টি দলের লেগ স্পিনার হিসেবে খেলতেন। ১৯৪০-এর দশকের পর ঘাষাচ্ছদনযুক্ত পিচে দূর্দান্ত সাফল্য পান।[৪]

১৯৫১ সালের শুরুরদিকে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে প্রথম খেলেন। এর পূর্বে লীগের ক্লাব ক্রিকেটে ফিল্ডহাউজের পক্ষে খেলতেন। তবে, ১৯৫৬ সালের পূর্ব-পর্যন্ত খুব কমই প্রথম একাদশের সদস্য হতে পেরেছিলেন। ঐ মৌসুমে আঠারো রানের কম গড়ে ৬৬ উইকেট লাভ করেছিলেন তিনি। রয় ট্যাটারসলম্যালকম হিল্টনের সাথে স্মরণীয় ত্রয়ী-স্পিনার হিসেবে আবির্ভূত হন।

১৯৫৭ সালে গ্রীনহফের স্পিন দূর্বলতা ধরা পড়ে। ফলশ্রুতিতে, ১৯৫৮ সালে প্রথম একাদশের সদস্যরূপে আটাশটি খেলার মধ্যে মাত্র আটটি খেলায় অংশ নিতে পেরেছিলেন। তবে, ১৯৫ সালের শুষ্ক গ্রীষ্মে বিস্ময়করভাবে ট্যাটারসল ও হিল্টনকে পাশ কাটিয়ে অগ্রসর হন। এক পর্যায়ে তাকে ভারত দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে ইংল্যান্ড দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ব্যাটিং উপযোগী পিচ থেকে সফলতা পেলেও খুব শীঘ্রই নিজের বোলিং করার পর সামলিয়ে নেয়ার দূর্বলতা চোখে পড়ে।[৫] এর পূর্বেও তার এ সমস্যার সমাধান করা হয়। আঠারোটি কাউন্টি খেলায় ৯৩ উইকেট লাভ করলেও পাঁচটি খেলায় সঠিকভাবে দৌঁড়ুতে পারেননি। তাহলে হয়তোবা প্রায় দেড়শত উইকেট পেতেন ও নিজেকে ইংল্যান্ডের শীর্ষ উইকেট শিকারীতে পরিণত করতে পারতেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন টমি গ্রীনহফ। ৪ জুন, ১৯৫৯ তারিখে নটিংহামে সফরকারী ভারত দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১৮ আগস্ট, ১৯৬০ তারিখে ওভালে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

অংশগ্রহণকৃত চার টেস্টের সবকটি’ই নিজ দেশে খেলেছেন। ১৯৫৯ সালে ভারতের বিপক্ষে তিনটি ও পরবর্তী গ্রীষ্মে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একটি টেস্টে অংশ নেন। লর্ডসে নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টে ভারতের প্রথম ইনিংসে ৫/৩৫ পান। প্রাপ্ত ১৬ উইকেট লাভ গড়ে ২২.৩১ গড়ে রান খরচ করেছিলেন। তবে, ক্রমাগত আঙ্গুলের চোঁট ও দূর্বলমানের ব্যাটিংয়ের কারণে তাকে দলের বাইরে রাখা হয়।

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৬০ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে টমি গ্রীনহফ ১১১ উইকেট দখল করেন ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এক টেস্টে অংশ নেন। কিন্তু, ১৯৬১ সালে প্রথমবারের মতো ক্রমাগত আঙ্গুলের আঘাতে স্বাভাবিক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে ব্যর্থ হন। আরোগ্যলাভের পর আবারও তিনি স্পিনের সমস্যায় ভুগেন। কেবলমাত্র দূর্বল কাউন্টি দলের বিপক্ষেই কিছু সফলতার স্বাক্ষর রাখেন।

আঙ্গুলের সমস্যার কারণে ১৯৬৪ সালের অধিকাংশ সময়ই মাঠের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন। ঐ মৌসুমে তাকে আর্থিক সুবিধে গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত হন। এ পর্যায়ে তিনি তার দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন। নিজস্ব শেষ কাউন্টি খেলায় ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ৭/৫৬ লাভ করেন। এর পূর্বেকার খেলায় মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ৭/১০৮ পেয়েছিলেন।

১৯৬৫ সালে শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও ১৯৬৪ সালের শেষদিকের সুন্দর ক্রীড়াশৈলীর প্রদর্শন অব্যাহত রাখতে পারেননি। জুলাই, ১৯৬৬ সালে কোনরূপ আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই তাকে দল থেকে বাদ দেয়া হয়। এরপর তিনি সাউথ ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে খেলেন। ১৯৭৭ সালে তার মূল ক্লাব ফিল্ডহাউজের পক্ষ থেকে সম্মানিত করা হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০০৯ তারিখে ৭৭ বছর বয়সে টমি গ্রীনহফের দেহাবসান ঘটে।

মূল্যায়ন[সম্পাদনা]

ক্রিকেট লেখক কলিন বেটম্যান মন্তব্য করেন যে, সর্বোপরী টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন টমি গ্রীনহফ, এটিই পরম বিস্ময়কর ছিল। ল্যাঙ্কাশায়ারের তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে শীতকালে তুলা কারখানায় কাজ করতেন ও ক্রেনের নিচের চাপা পড়েন। উভয় পা-ই গুরুতরভাবে ভেঙ্গে যায় ও তার পা ভিন্ন আকার ধারণ করে। তাসত্ত্বেও, তিনি এ বাঁধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে দেশের অন্যতম সৃজনশীল লেগ ব্রেক বোলার হিসেবে পরিচিত হন। দূর্দান্ত খেলে ১৯৫৯ সালে ইংল্যান্ড দলে খেলার জন্য আমন্ত্রণবার্তা পান। ১৯৬০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমন করেন। তবে, আত্মবিশ্বাসের অভাবহেতু তাকে কোন টেস্টে খেলানো হয়নি।[৬]

ডগ রাইট কিংবা রলি জেনকিন্সের ন্যায় তার স্পিন বোলিং ছিল না। তবে, ব্যতিক্রমীপন্থায় গুগলি বোলিং করতেন। কিছুটা দৌঁড়ে ধীরগতিসম্পন্ন বোলারের ন্যায় বোলিংকর্মে অগ্রসর হতেন। ১৯৫৯ ও ১৯৬০ সালে ব্রায়ান স্ট্যাদামের সাথে বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সেরা জুটি গড়েন। তবে, এ দুই বছর বাদে ক্রমাগত আঘাতপ্রাপ্তি, দূর্বল ক্রীড়াশৈলীর কারণে তাকে নিরাশ হতে হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Asked by a honey-toned interviewer how he ought to pronounce his name — "Greenho", "Greenhow" or "Greenhough" — he indifferently replied, "I'm not rightly bothered."
  2. Lccc.co.uk ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৬ জুন ২০১১ তারিখে
  3. "Hadlee's nine-for"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৯ 
  4. Wellings, E.M.; “Googly Bowlers and Captains Retire”
  5. Preston, Norman (editor); Wisden Cricketers’ Almanac; Ninety-Seventh Edition (1960); p. 448
  6. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 73আইএসবিএন 1-869833-21-X 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]