জাতীয় ক্রীড়া দল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
১৯৮৬ সালে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল

জাতীয় ক্রীড়া দল কোন নির্দিষ্ট ক্রীড়ায় সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিনিধিত্বকারী একটি দল। এটি একটি ক্রীড়া পরিভাষা। সচরাচর এটি জাতীয় দল নামেই সমধিক পরিচিত। দলটি কোন নির্দিষ্ট ক্লাব বা অঞ্চলের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় না। পরিভাষাটি সাধারণতঃ দলগত ক্রীড়ার জন্যেই প্রযোজ্য। তারপরও দেশের প্রতিনিধি হিসেবে ব্যক্তিগত পর্যায়েও এর ব্যবহার হয়ে থাকে। ব্যক্তির ফলাফলকে অনেক সময় দলের ফলাফলরূপে গণ্য করা হয়।

বিভিন্ন পর্যায় বা স্তরে ও বয়স পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেখা যায়। সেজন্যে জাতীয় দলে অনেক ধরনের নির্বাচন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। তবে জাতীয় দলে সদা-সর্বদাই সেরা খেলোয়াড়দেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। অন্যান্য ক্রীড়া দলের ন্যায় জাতীয় দলেও লিঙ্গ, বয়স কিংবা অন্য কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভক্ত করা হয়। মর্যাদাসম্পন্ন জাতীয় দলে প্রায়শঃই জ্যেষ্ঠ পুরুষ ও জ্যেষ্ঠ মহিলা দল হয়ে থাকে। কিন্তু তারা যে সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় অথবা সফলতার ভাগিদার তা বলা যাবে না।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জাতীয় দল কোন একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের পক্ষে এককভাবে প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। তবে অনেকগুলো ক্রীড়ায় ইংল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলস পৃথকভাবে জাতীয় দল প্রেরণ করে থাকে। কিন্তু অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় সম্মিলিতভাবে যুক্তরাজ্য দল নামে জাতীয় দল প্রেরণ করে। রাগবি ইউনিয়নে আয়ারল্যান্ড জাতীয় রাগবি ইউনিয়ন দল আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করে। এছাড়াও, সর্বদলীয় আয়ারল্যান্ড দল নামে অনেকগুলো ক্রীড়ায় মাঠে নামে।

জনপ্রিয়তা[সম্পাদনা]

জাতীয় দলের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা অনেকগুলো অনুঘটকের উপর নির্ভর করে। তন্মধ্যে নির্দিষ্ট ক্রীড়াটি সংশ্লিষ্ট দেশের জনগোষ্ঠীর আগ্রহ ও জনপ্রিয়তার উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। কিছু দেশে নির্দিষ্ট ক্রীড়াটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কখনোবা তা জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়া হিসেবে গণ্য হয়। নিজ দেশে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত না হওয়া স্বত্ত্বেও জাতীয় দল জনপ্রিয়তা পেতে পারে। পাপুয়া নিউগিনি জাতীয় রাগবি লীগ দল প্রকৃত অর্থেই ঐ দেশে জনপ্রিয় কিন্তু সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতা হিসেবে রাগবি লীগ বিশ্বকাপে তেমনটা নয়।

কোন দেশের অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট ক্রীড়াটি কোন জনগোষ্ঠীর কাছে জনপ্রিয়তা পেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ: মহিলাদের দলটি পুরুষদের দলের তুলনায় জনপ্রিয়তা পেতে পারে যদি সংশ্লিষ্ট ক্রীড়ায় তাদের অংশগ্রহণ অধিক থাকে।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় জনপ্রিয়তার সাথে দলের অংশগ্রহণ জাতীয় ক্রীড়া দলের জনপ্রিয়তা সর্বাপেক্ষা প্রভাববিস্তার করে। বৈশ্বিক পর্যায়ে অংশগ্রহণের ফলে এ মর্যাদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।

যে-সকল প্রতিযোগিতায় অধিকাংশ দল অংশগ্রহণ করে সেগুলো অধিক জনপ্রিয়তা পায়। বহু-ক্রীড়া আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতারূপে অলিম্পিক গেমস, কমনওয়েলথ গেমসে সকল দলের অংশগ্রহণের সাথে জড়িত। নির্দিষ্ট ক্রীড়ার অন্যান্য প্রতিযোগিতারূপে ফিফা বিশ্বকাপ, রাগবি বিশ্বকাপ (রাগবি ইউনিয়ন) ও ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলার জন্য অনেক দলকে বাছাই-পর্বে অংশ নিতে হয়।

অংশগ্রহণের যোগ্যতা[সম্পাদনা]

অনেক ধরনের নিয়ম-কানুন বা পদ্ধতি ব্যবহার করে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রূপে নির্ধারণ করা হয়। ফুটবলে সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকসহ পাসপোর্ট বহন করতে হয়। অথবা, জন্মস্থান অথবা, পিতা-মাতা বা দাদার জন্মস্থান অথবা আঠারো বছর পূর্তির পর পাঁচ বছর অবস্থান করলে তিনি এ মর্যাদা পেতে পারেন।[১] রাগবি ইউনিয়নে জন্মস্থান অথবা, পিতা-মাতা বা দাদার জন্মস্থান অথবা তিন পাঁচ বছর অবস্থান করলে তিনি এ মর্যাদা পেতে পারেন। তবে কোন খেলোয়াড় যদি কোন একটি জাতীয় দলে খেলেন, তাহলে তিনি অন্য দেশের হয়ে একই স্তরে অথবা জ্যেষ্ঠদের দলে খেলতে পারবেন না।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Johnson, Daniel (২ অক্টোবর ২০১৩)। "Football, cricket, rugby league and rugby union - how England's teams compare for foreign-born talent"Daily Telegraph। সংগৃহীত ৭ জুন ২০১৪ 
  2. "Regulation 8. Eligibility to play for national representative teams"। International Rugby Board। সংগৃহীত ৭ জুন ২০১৪