চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর
Flag of the People's Republic of China.svg Flag of Pakistan.svg বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, শক্তি উৎপাদন, দ্রুত পরিবহণ
অবস্থানপাকিস্তান: বেলুচিস্তান, গিলগিত-বালতিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়া, পাঞ্জাব, সিন্ধু
চীন: শিনচিয়াং
মালিকসরকারি ও বেসরকারি খাত
হু জিনতাও
শি জিনপিং
লি কেকিয়াং
দেশগণপ্রজাতন্ত্রী চীন, পাকিস্তান
প্রতিষ্ঠিত২২ মে ২০১৩ (2013-05-22)
বাজেটচীন উন্নয়ন ব্যাংক
এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক
সিল্ক রোড ফান্ড
এক্সিম ব্যাংক অফ চীন
চীনের শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক
অবস্থাআংশিক কর্মক্ষম
ওয়েবসাইটcpec.gov.pk

চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর বা সিপিইসি হল চীনপাকিস্তান এর মধ্যে গড় ওঠা এক বিশেষ অর্থনৈতিক করিডর।করিডরটি চীনের প্রস্তাবিত ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড নীতির অন্তর্গত। এটি চীনের অর্থ সহায়তায় গড়ে তুলা হচ্ছে। এই করিডরটি মোট দৈর্ঘ্য হবে ২,০০০ কিলোমিটার (১,২০০ মা)।এটি পাকিস্তানএর গদর শহরের গদর বন্দর থেকে চীনের শিনচিয়াং প্রদেশের কাশগর পর্যন্ত নিরমান করা হবে। এই প্রকল্পে গদরকাশগর মহাসড়ক ,রেলপথ দ্বারা যুক্ত হবে। এছাড়া এই পথে অপটিকাল ফাইবার বসানো হবে দ্রুত যোগাযোগের জন্য। তেল ও গ্যাসের পাইপ লাইন এই পথে নিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।[২] এই পকল্পে গদর ও কাশগর এর সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ, লাহোরকরাচি যুক্ত হবে।করিডরের অংশ হিসাবে ১,১০০ কিলোমিটার করাচি থেকে লাহর পর্যন্ত মোটরওয় নির্মাণ করা হবে। রায়ালপিন্ডি থেকে কাশগর পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে ১,৩০০ কিলোমিটার (৮১০ মা) কারাকোরাম মহাসড়ক। করাচি থেকে খাইবার পাক্তুন পর্যন্ত রেল পথকে আধুনিক করা হবে।করিডরের নির্মাণ কাজে যুক্ত রয়েছে ৭ হাজার চীনা কর্মী।[৩] এই করিডরের পাশে প্রায় ১২ টির মত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়া হবে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৫০ সালে চীন সীমান্ত থেকে গদর পর্যন্ত করিডর নির্মাণের চেষ্টা চালায়। এর পর ১৯৫৯ সালে ১,১০০ কিলোমিটার (৬৮০ মা) দীর্ঘ কারাকোরাম হাইওয়ে নির্মাণ শুরু হয়। এই হাইওয়ে চীনপাকিস্তানকে যুক্ত করেছে।এর পর চীন ১৯৯৮ সালে গদর বন্দর নির্মাণে আগ্রহ দেখায়। ২০০২ সালে গদর বন্দ নির্মাণ শুরু করে চীন এবং ২০০৬ সালে বন্দরটির নির্মাণ সম্পূর্ন হয়। চীন ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড নীতিতে গদর এর সঙ্গে কাশগরের সংযোগের কথা বলে।শেষে চীনপাকিস্তান এর সহযোগিতায় শুরু হয় চীন পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর নির্মাণ। এই প্রকল্পটি চীন তার ত্রয়দশ পঞ্চবার্ষিকি পরিকল্পনাতে উল্লেখ করে। ২০১৫ সালে এই করিডর গড়ার জন্য চীন ও পাকিস্তান মৌ-স্বাক্ষর করে।বর্তমানে এর নিরমান কার্য চলছে।

গদর বন্দর ও শহর প্রকল্প[সম্পাদনা]

গদর প্রমন্তরি এবং ইস্তামাস এর একটি দৃশ্য।

গাদর সিপিইসি প্রকল্পের মূল আংশ গঠন করে, কারণ এটি চীনের উচ্চাভিলাষী ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড প্রজেক্ট এবং তার সামুদ্রিক সিল্ক রোড প্রকল্পের মধ্যে সংযোগ ঘটাবে।[৪] সামগ্রিকভাবে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে গবাদার বন্দর প্রকল্প প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আর্থে গড়ে তোলা হবে।

গদর বন্দর চত্বর[সম্পাদনা]

গদর বন্দের দৃশ্য

চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের গুরুত্ব পূর্ন অংশ হল গদর বন্দর। এটি গদর শহরের পাশে গদর উপসাগরএর তীরে গড়ে উঠেছে। ২০০২ সালে গদর বন্দরের প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং ২০০৬ সালে সম্পন্ন হয়, তবে গদর বন্দরটি উন্নয়ন এবং প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বন্দরটির আধুনিকিকরনে চীন ১.৫৬ বিলিওন ডলারের অর্থ সাহায্য দেবে। এই বন্দরের গভীরতা ১৫ মিটার থেকে ১৮ মিটির পর্যন্ত। সিপিইসি চুক্তির আওতায়, গদর বন্দরকে প্রাথমিকভাবে বাড়ানো এবং আধুনিকিকরন করা হবে যাতে ৭০,০০০ টন[৫] পর্যন্ত মালবাহী বড় বড় সমুদ্রগামী জাহাজ, তেলের ট্যাঙ্কার বন্দরটিতে নোঙর করতে পারবে। এই বন্দরে খনিজ তেল জাহাজে করে এনে চীন নিজের দেশে পরিবহন করবে এই করিডর দ্বারা। উন্নততর পরিকল্পনাগুলির মধ্যে রয়েছে বন্দরের চারপাশে ১৩০ মিলিয়ন ডলার খরচে ব্রেকওয়াটার নির্মাণ,[৬] সেইসাথে প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতার একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাসমান সুবিধা এবং গদর-নওয়াবশাহকে সংযুক্তকারী ইরান-পাকিস্তান গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে।[৭]

পাইপ লাইন[সম্পাদনা]

চীনের অর্থ সাহায্যে গদর থেকে কাশগর পর্যন্ত একটি তেল ও খ্যাসের পাইপ লাইন নির্মাণের প্যস্তাব রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল গদর বন্দর-এ এনে পরিষোধিত করে তা পাইপ লাইনের মধ্যমে চীনে পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছার ইরান থেকে গ্যাস আনার জন্য ইরান-এর থেকে গদর পর্যন্ত একটি পাইপ লাইন নির্মাণ করা হবে।

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Investment under CPEC rises to $62 billion: Zubair" 
  2. "CPEC-Corridor of Uncertainty"Dawn। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০১৬ 
  3. "চীনের ৭ হাজার কর্মীকে পাহারা দিচ্ছে ১৫ হাজার পাক সেনা", DD News, সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০১৬ 
  4. Saran, Shyam (১০ সেপ্টেম্বর ২০১৫)। "What China's One Belt and One Road Strategy Means for India, Asia and the World"। The Wire (India)। ১৮ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  5. "Industrial potential: Deep sea port in Gwadar would turn things around"The Express Tribune। ১৭ মার্চ ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০১৬ 
  6. Butt, Naveed (৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫)। "Economic Corridor: China to Extend Assistance at 1.6 Percent Interest Rate"Business Recorder। ১৭ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  7. "Gwadar-Nawabshah LNG project part of CPEC"The Nation। ২৮ মার্চ ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০১৬ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]