চার্লস হুইটস্টোন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
স্যার চার্লস হুইটস্টোন
Wheatstone Charles drawing 1868.jpg
হুইটস্টোন,
১৮৬৮ সালে স্যামুয়েল লরেন্স অঙ্কিত
জন্ম(১৮০২-০২-০৬)৬ ফেব্রুয়ারি ১৮০২
বার্নউড, গ্লৌসেসস্টারশায়ার, ইংলন্ড
মৃত্যু১৯ অক্টোবর ১৮৭৫(1875-10-19) (বয়স ৭৩)
প্যারিস, ফ্রান্স
কর্মক্ষেত্রপদার্থবিদ্যা
প্রতিষ্ঠানকিংস কলেজ লন্ডন
পরিচিতির কারণহুইটস্টোন ব্রিজ, প্লেফায়ার সাইফার, প্রথম দিকের অবদান স্টিরিওস্কোপি এবং টেলিগ্রাফি
উল্লেখযোগ্য
পুরস্কার
রয়্যাল মেডেল (১৮৪০, ১৮৪৩)
অ্যালবার্ট মেডেল (1867)
কোপলি মেডেল (১৮৬৮)

চার্লস হুইটস্টোন (Sir Charles Wheatstone) /ˈwtstən/[১] এফআরএস/এফআরএসই/ডিসিএল/এলএলডি (৬ ফেব্রুয়ারি ১৮০২ - ১৯ অক্টোবর ১৮৭৫) ছিলেন একজন ইংরেজ বিজ্ঞানী। তিনি ছিলেন ভিক্টোরিয়ান যুগ এর বিরাট সাফল্য অর্জনকারী বিজ্ঞানী। বিজ্ঞানের বহু বিষয়ে আবিষ্কার রয়েছে তাঁর। যেমন ইংলিশ কনসার্টিনা, স্টিরিওস্কোপ (ত্রিমাত্রিক চিত্র প্রদর্শনের জন্য একটি ডিভাইস) এবং প্লেফায়ার সাইফার (একটি এনক্রিপশন প্রযুক্তি)। তবে হুইটস্টোন সর্বাধিক পরিচিত হুইটস্টোন ব্রিজ এর উন্নয়নে অবদানের জন্য। এটির মূল উদ্ভাবক ছিলেন শামুয়েল হান্টার ক্রিস্টি। এটি ব্যবহৃত হত একটি অজানা বৈদ্যুতিক রোধ পরিমাপ করার জন্য। তিনি ছিলেন টেলিগ্রাফি বিকাশের প্রধান ব্যক্তিত্ব।

জীবন[সম্পাদনা]

চার্লস হুইটস্টোনের জন্ম হয়েছিল গ্লৌসেসস্টারশায়ার এর বার্নউড এ। তাঁর বাবা ডাব্লু. হুইটস্টোন ছিলেন এই শহরের সংগীত-বিক্রেতা যিনি চার বছর পরে লন্ডনের ১২৮ পল মলে চলে যান এবং বাঁশির শিক্ষকতা শুরু করেন। চার্লস ছিলেন দ্বিতীয় পুত্র। তিনি গ্লোসেস্টারের কাছে একটি গ্রামের স্কুলে পড়াশুনো শুরু করেন এবং তারপরে লন্ডনের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাঠ নেন। তাদের মধ্যে একটি ছিল কেনিংটন এ। সেখানে মিসেস ক্যাসেলমাইন তাঁর দ্রুত অগ্রগতি দেখে অবাক হয়েছিলেন। অন্য আর একটি থেকে তিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন। তবে উইন্ডসর-এ ধরা পড়েন যা তাঁর ব্যবহারিক টেলিগ্রাফের থিয়েটার থেকে খুব দূরে ছিল না। বাল্যকালে তিনি খুব লাজুক এবং সংবেদনশীল ছিলেন। নিজের চিন্তাভাবনা বাদে অন্য কারও সংস্পর্শ ছাড়াই তিনি চিলেকোঠায় ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটাতে পছন্দ করতেন।

হুইটস্টোন এর ইংলিশ কনসার্টিনা

চৌদ্দ বছর বয়সে তিনি লন্ডনের ৪৩৬ স্ট্র্যান্ডে বাদ্যযন্ত্রের প্রস্তুতকর্তা ও বিক্রেতা তাঁর কাকার কাছে শিক্ষানবিশী শুরু করেন। কিন্তু হস্তশিল্প বা ব্যবসার কাজে তিনি খুব অল্পই আগ্রহ দেখাতেন। তার থেকেও তিনি বই পড়তে আরও বেশি পছন্দ করতেন এবং তাতেই বেশি সময় ব্যয় করতেন। তাঁর বাবা তাঁকে এতে উৎসাহিত করতেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে কাকার দায় থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।

পনেরো বছর বয়সে হুইটস্টোন ফরাসি কবিতা অনুবাদ করেছিলেন এবং দুটি গান লিখেছিলেন। তার মধ্যে একটি তাঁর কাকাকে দেওয়া হয়েছিল। তিনি এটি তার ভাইপোর রচনা হিসাবে না জেনে প্রকাশ করেছিলেন। তার কিছু কিছু লাইন বার্তোলোজি দ্বারা খোদাই করার পর মূলমন্ত্র হয়ে উঠেছিল। তাঁকে প্রায়ই পল মল এর আশেপাশে একটি পুরাতন বইয়ের স্টলে ঘুরে বেড়াতে দেখা যেত। সেটি তখন পুরোপুরি জীর্ণ এবং অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ছিল। তাঁর পকেট-খরচের বেশিরভাগটাই ব্যয় করতেন রূপকথার গল্প, ইতিহাস বা বিজ্ঞানের বই কেনার জন্য। একদিন বইয়ের বিক্রেতাকে অবাক করে দিয়ে তিনি ভোল্টার আবিষ্কারের বিষয়ে এক খন্ডের একটি বইয়ের কথা উল্লেখ করেছিলেন। বইটি ফরাসি ভাষায় লেখা ছিল এবং তাই অভিধান কিনতে না পারা পর্যন্ত তিনি সেটি সংরক্ষণ করতে বাধ্য হয়ে ছিলেন। তারপরে তিনি খণ্ডটি পড়তে শুরু করেন এবং তাঁর বড় ভাই উইলিয়ামের সাহায্যে বাবার বাড়ির পিছনের একটি ঘরে বইয়ে বর্ণীত ব্যাটারি তৈরির পরীক্ষা শুরু করেন। ব্যাটারিটি তৈরি করতে গিয়ে বালক দার্শনিকদের অচিরেই প্রয়োজনীয় তামা-প্লেট সংগ্রহের জন্য অর্থের অভাব ঘটল। এই পরীক্ষায় নেতৃত্বদানকারী চার্লসের কাছে সেটি ছিল তাঁর চিন্তাভাবনার জগতে এক সুখের মুহুর্ত। তিনি ঠিক করেন তাঁর সঞ্চিত অর্থ ব্যয় করবেন এবং শীঘ্রই ব্যাটারিটি তৈরী সম্পূর্ণ করে ফেলেন।

১২ ফেব্রুয়ারি ১৮৪৭ সালে হুইটস্টোন ক্রাইস্টচার্চের মেরিলিবোন এ এমা ওয়েস্টের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই সুদর্শন মহিলা ছিলেন একজন টাউনটন নিবাসী ব্যবসায়ীর মেয়ে। ১৮৬৬ সালে তিনি পাঁচটি অল্প বয়সী সন্তান রেখে মারা যান। হুইটস্টোনের পারিবারিক জীবন ছিল নিরিবিলি এবং নির্বিঘ্ন।

হুইটস্টোন পরবর্তী কালে

যদিও কম কথা বলতেন এবং জনসমক্ষে আড়ষ্ট থাকতেন তবুও হুইটস্টোন ব্যক্তিগত আলাপচারিচায় স্পষ্ট এবং বাকপটু বক্তা ছিলেন। তাঁর পছন্দের পড়াশোনার কক্ষে তাঁর ছোট কিন্তু সক্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিল সরল কিন্তু বুদ্ধিমান এবং মজাদার। স্যার হেনরি টেলর বলেছেন যে তিনি একবার অক্সফোর্ডের একটি সান্ধ্য পার্টিতে হুইটস্টোনকে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তিনি তাঁর টেলিগ্রাফের দক্ষতা নিয়ে লর্ড পামারস্টনের কাছে আন্তরিকতার সাথে কথা বলছিলেন। 'তুমি এমন বলো না!' চিৎকার করে ওঠেন রাষ্ট্রপ্রধান। 'আপনাকে অবশ্যই তা লর্ড চ্যান্সেলরের কাছে বলতে হবে।' এবং এই বলে তিনি লর্ড ওয়েস্টবারির সামনেই বিদ্যুৎ মিস্ত্রিকে এমন নিবদ্ধ করেছিলেন যে তা প্রধানের পলায়নকে ত্বরান্বিত করেছিল। এই সাক্ষাত্কারের একটি স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিতে পারে এমন একটি মন্তব্য পামারস্টনকে করতে হয়েছিল: এমন সময় আসছে যখন কোনও মন্ত্রীকে সংসদে জিজ্ঞাসা করা হতে পারে যে ভারতে যুদ্ধ শুরু হয়েছে কি না এবং এর জবাবে তিনি বলবেন 'এক মিনিট অপেক্ষা করুন; আমি কেবল গভর্নর জেনারেলকে টেলিগ্রাফ করব এবং আপনাকে জানাবো। '

স্বয়ংক্রিয় টেলিগ্রাফের কাজ শেষ হওয়ার পরে ১৮৬৮ সালে হুইটস্টোনকে নাইট উপাধি দেওয়া হয়েছিল।[২] এর আগে তাকে লিজিয় অফ অনার এর শেভালিয়ার করা হয়েছিল। দেশ বা বিদেশের প্রায় চৌত্রিশটি সম্মাণ এবং ডিপ্লোমা তাঁর বৈজ্ঞানিক খ্যাতির সাক্ষ্য দেয়। ১৮৩৬ সাল থেকে তিনি রয়েল সোসাইটির ফেলো ছিলেন এবং ১৮৫৯ সালে তিনি রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অফ সায়েন্সেস এর বিদেশী সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৮৭৩ সালে ফরাসী বিজ্ঞান একাডেমীর বিদেশী সহযোগী নির্বাচিত হন। একই বছর তিনি জাতীয় শিল্পের উৎসাহের জন্য ফরাসি সোসাইটি কর্তৃক অ্যাম্পিয়ার পদক লাভ করেন। ১৮৭৫ সালে তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন এর সম্মানিত সদস্য পদ লাভ করেন। তিনি ছিলেন অক্সফোর্ডের ডিসিএল এবং কেমব্রিজের এলএলডি।

১৮৭৫ সালের শরতে প্যারিস সফরকালে এবং সাবমেরিন কেবলের জন্য তার গ্রহণের উপকরণকে নিখুঁত করার কাজে ব্যস্ত থাকাকালীন তিনি সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হন যার থেকে ফুসফুসের প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এই অসুস্থতার সময়কালে ১৮৭৫ সালের ১৯ অক্টোবরে তিনি প্যারিসেই মারা যান। প্যারিসের অ্যাঙ্গেলিকান চ্যাপেল এ একটি স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয় এবং একাডেমির একজন প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর দেহাবশেষ লন্ডনের পার্ক ক্রিসেন্টে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় (এখন নীল ফলক দ্বারা চিহ্নিত) এবং সমাধীস্থ করা হয় কেনসাল গ্রীন সেমেন্ট্রি তে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Wheatstone, Sir Charles"Oxford Dictionaries। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জানুয়ারি ২০১৫ 
  2. "নং. 23349"দ্যা লন্ডন গেজেট (ইংরেজি ভাষায়)। ৪ ফেব্রুয়ারি ১৮৬৮। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

উইকিসংকলন
উইকিসংকলন-এ এই লেখকের লেখা মূল বই রয়েছে: