ঙ্গাগ-দ্বাং-ব্লো-ব্জাং-র্গ্যা-ম্ত্শো

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
পঞ্চম দলাই লামা ঙ্গাগ-দ্বাং-ব্লো-ব্জাং-র্গ্যা-ম্ত্শো

ঙ্গাগ-দ্বাং-ব্লো-ব্জাং-র্গ্যা-ম্ত্শো (তিব্বতি: ངག་དབང་བློ་བཟང་རྒྱ་མཚོ་ওয়াইলি: ngag dbang blo bzang rgya mtsho), (১৬১৭-১৬৮২) তিব্বতী বৌদ্ধধর্মের অন্যতম প্রধান ধর্মসম্প্রদায় দ্গে-লুগ্স ধর্মসম্প্রদায়ের পঞ্চম দলাই লামা ছিলেন। তিনি তিব্বতে বহু বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের অবসানের মাধ্যমে এক ঐক্যবদ্ধ তিব্বত গড়ে তোলেন বলে অনেকসময় তাঁকে মহান পঞ্চম নামেও অভিহিত করা হয়।

জন্ম ও পরিবার[সম্পাদনা]

ঙ্গাগ-দ্বাং-ব্লো-ব্জাং-র্গ্যা-ম্ত্শো ১৬১৭ খ্রিষ্টাব্দে তিব্বতের ইয়ার্লুং উপত্যকায় র্ন্যিং-মা বৌদ্ধসম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।[১] তাঁর পিতার নাম ছিল মি-দ্বাং-ব্দুদ-‘দুল-রাব-ব্র্তান (ওয়াইলি: mi dbang bdud 'dul rab brtan) এবং মাতার নাম ছিল কুন-দ্গা’-ল্হা-ম্দ্জেস (ওয়াইলি: kun dga' lha mdzes)।[২] জন্মের পর তাঁর নাম রাখা হয় কুন-দ্গা'-স্ন্যিং-পো (ওয়াইলি: kun dga' snying po)।[৩]

অবতার রূপে চিহ্নিতকরণ[সম্পাদনা]

চতুর্থ দলাই লামা য়োন-তান-র্গ্যা-ম্ত্শো মৃত্যুবরণ করার পরে ১৬১৮ খ্রিষ্টাব্দে ছোখুর মঙ্গোলদের একটি দল দ্বুস অঞ্চলে তীর্থযাত্রায় এসে মধ্য তিব্বত শাসনকারী গ্ত্সাং-পা রাজবংশের অধীনস্থ এলাকায় লুঠপাট চালালে গ্ত্সাং-পা রাজবংশের রাজা ফুন-ত্শোগ্স-র্নাম-র্গ্যাল দ্বুস অঞ্চলে আক্রমণ করে দ্গে-লুগ্স বৌদ্ধধর্মসম্প্রদায়ের বহু বৌদ্ধবিহারকে কার্মা-ব্কা'-ব্র্গ্যুদ ধর্মসম্প্রদায়ের বৌদ্ধবিহারে পরিণত করেন ও দলাই লামার পরবর্তী অবতার খোঁজার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।[৪]:৩২৭,৩২৮ শেষ জীবনে চতুর্থ পাঞ্চেন লামা ব্লো-ব্জাং-ছোস-ক্যি-র্গ্যাল-ম্ত্শানের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি হলে ফুন-ত্শোগ্স-র্নাম-র্গ্যাল এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন।[৫]:৩৩ এর ফলশ্রুতিতে য়োন-তান-র্গ্যা-ম্ত্শোর প্রধান সহায়ক ব্সোদ-নাম্স-ছোস-'ফেল পঞ্চম দলাই লামা হিসেবে কুন-দ্গা'-স্ন্যিং-পোকে চিহ্নিত করেন।[১] এবং ব্লো-ব্জাং-ছোস-ক্যি-র্গ্যাল-ম্ত্শান তাঁর নতুন নাম রাখেন ঙ্গাগ-দ্বাং-ব্লো-ব্জাং-র্গ্যা-ম্ত্শো। যদিও এই চিহ্নিতকরণ পদ্ধতি বিতর্কের ঊর্ধ্বে ছিল না। দলাই লামা হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পূর্বে তাঁকে ব্কা'-ব্রগ্যুদ ধর্মসম্প্রদায়ের গ্রাগ্স-পা-দোন-গ্রুব (ওয়াইলি: grags pa don grub) নামক চতুর্থ ম্ত্শুর-ফু-র্গ্যাল-ত্শাব (ওয়াইলি: mtshur phu rgyal tshab) উপাধিধারী লামার অবতার রূপে চিহ্নিতকরণের অসফল প্রচেষ্টা করা হয়েছিল।[৬] অন্যদিকে গ্রাগ্স-পা-র্গ্যাল-ম্ত্শান (ওয়াইলি: grags pa rgyal mtshan) নামক অপর এক শিশুকেও পঞ্চম দলাই লামা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু ব্লো-ব্জাং-ছোস-ক্যি-র্গ্যাল-ম্ত্শান তাঁকে পান-ছেন-ব্সোদ-নাম্স-গ্রাগ্স-পা নামক পঞ্চদশ দ্গা'-ল্দান-খ্রি-পার অবতার রূপে চিহ্নিত করে এই বিতর্কের অবসান ঘটান।[৭][৮]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

ঙ্গাগ-দ্বাং-ব্লো-ব্জাং-র্গ্যা-ম্ত্শো দলাই লামা হিসেবে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর দ্কোন-ম্ছোগ-ছোস-'ফেল (ওয়াইলি: dkon mchog chos 'phel) নামক পঁয়ত্রিশতম দ্গা'-ল্দান-খ্রি-পা এবং চতুর্থ পাঞ্চেন লামা ব্লো-ব্জাং-ছোস-ক্যি-র্গ্যাল-ম্ত্শানের নিকট প্রজ্ঞাপারমিতা, মধ্যমক, বিনয় ও অভিধর্ম সম্বন্ধে শিক্ষাগ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি স্মোন-'গ্রো (ওয়াইলি: smon 'gro) নামক এক পন্ডিতের নিকট জ্যোতিষশাস্ত্র ও কাব্যশাস্ত্র সম্বন্ধে অধ্যয়ন করেন। ১৬৮৩ খ্রিষ্টাব্দে ব্লো-ব্জাং-ছোস-ক্যি-র্গ্যাল-ম্ত্শানদ্কোন-ম্ছোগ-ছোস-'ফেল তাঁকে ভিক্ষুর শপথ দান করেন। দ্গে-লুগ্স ধর্মসম্প্রদায়ের পন্ডিতদের নিকট শিক্ষাগ্রহণ ছাড়াও তিনি র্ন্যিং-মা ধর্মসম্প্রদায়ের তন্ত্র সম্বন্ধেও শিক্ষাগ্রহণ করেন।[৯][১০]:১৭১,১৭২[১১]

রাজনৈতিক উত্থান[সম্পাদনা]

১৬২১ খ্রিষ্টাব্দে ল্হাত্সুন এবং হুংতাইজির নেতৃত্বে মঙ্গোলরা দ্গে-লুগ্স ধর্মসম্প্রদায়ের সমর্থনে দ্বুস অঞ্চল আক্রমণ করলে গ্ত্সাং-পা রাজবংশের রাজা ব্স্তান-স্ক্যোং-দ্বাং-পো গ্যাথাংগাং নামক স্থানে তাঁদের সম্মুখীন হন কিন্তু তিনি ও তাঁর সৈন্যদল মঙ্গোলদের কাছে পরাজিত ও বন্দী হন।[১২]:৬৯৭ এই সময় পাঞ্চেন লামা সহ দ্গে-লুগ্স ধর্মসম্প্রদায়ের প্রধান লামারা তাঁদের মুক্তির জন্য মঙ্গোলদের অনুরোধ করলে তাঁরা মুক্তি পান। কিন্তু এর পরিবর্তে দ্গে-লুগ্স ধর্মসম্প্রদায় তাঁদের পূর্বেকার সমস্ত বৌদ্ধবিহার পুনরায় অধিকার করে এবং দ্বুস অঞ্চলে গ্ত্সাং-পা রাজবংশের সমস্ত সামরিক ছাউনিগুলিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। ১৬৩১ খ্রিষ্টাব্দে ব্স্তান-স্ক্যোং-দ্বাং-পো দ্গে-লুগ্স ধর্মসম্প্রদায়কে পিছু হঠিয়ে দিতে সক্ষম হন, যার ফলশ্রুতিতে পঞ্চম দলাই লামা শক্তিহীন ফাগ-মো-গ্রু-পা রাজবংশের অধীনস্থ নেদং অঞ্চলে আশ্রয় নিত বাধ্য হন।[১২]:৫৯ ১৬৩৫ খ্রিষ্টাব্দে চোগথু মোঙ্গোলদের নেতা আর্সলান তিব্বত আক্রমণ করলে ব্স্তান-স্ক্যোং-দ্বাং-পো তাঁর সঙ্গে সন্ধি স্থাপন করেন। এই জোট তৈরী হওয়ার পর আর্সলান দ্গে-লুগ্স ধর্মসম্প্রদায়ের বৌদ্ধবিহার ধ্বংসের উদ্দেশ্যে লাসার দিকে যাত্রা করেন, কিন্তু অকস্মাৎ তিনি দলাই লামার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ব্স্তান-স্ক্যোং-দ্বাং-পোর বাহিনীকে আক্রমণ করেন এবং গ্যাংত্সে ও রাজধানী শিগাত্সে অধিকার করে নেন। ব্স্তান-স্ক্যোং-দ্বাং-পো এরপর আর্সলানের পিতার নিকট দূত পাঠিয়ে আর্সলানের বিশ্বাসঘাতকতার খবর পাঠালে তাঁর পিতার দূত আর্সলান ও তাঁর সমর্থকদের হত্যা করেন।[১২]:৬০,৬১[১৩]:১০৩,১০৪ আর্সলানের মৃত্যুর পর ১৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দে দলাই লামাপন্থী খোসুত মঙ্গোল নেতা গুশ্রী খান দ্জুঙ্গার নেতা এর্দেনি বাতুরের সঙ্গে কোকোনর অঞ্চলে চোগথু মোঙ্গোলদের পরাজিত করেন। ঙ্গাগ-দ্বাং-ব্লো-ব্জাং-র্গ্যা-ম্ত্শো গুশ্রী খানকে ব্স্তান-'দ্জিন-ছোস-র্গ্যাল (ওয়াইলি: bstan 'dzin chos rgyal) নামক উপাধি দান করেন। ব্স্তান-স্ক্যোং-দ্বাং-পো খাম্স অঞ্চলের বোন ধর্মাবলম্বী ও দ্গে-লুগ্স ধর্মসম্প্রদায় বিরোধী রাজা দোন-য়োদ-র্দো-র্জের সাথে সন্ধি স্থাপন করলে ১৬৪০ খ্রিষ্টাব্দে গুশ্রী খান আমদো অঞ্চলের পারিক জনজাতির সাথে মিলিতভাবে খাম্স অঞ্চল আক্রমণ করে দোন-য়োদ-র্দো-র্জেকে হত্যা করেন। এরফলে খাম্স অঞ্চল দ্গে-লুগ্স ধর্মসম্প্রদায়ের প্রভাবাধীন হয়ে পড়ে।[১২]:৬১-৬৩[১৩]:১০৪-১০৭

ঙ্গাগ-দ্বাং-ব্লো-ব্জাং-র্গ্যা-ম্ত্শোর প্রধান সহায়ক ব্সোদ-নাম্স-ছোস-'ফেল দলাই লামার অজ্ঞাতসারে গুশ্রী খানকে গ্ত্সাং-পা রাজবংশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অনুরোধ করলে গুশ্রী খান ব্স্তান-স্ক্যোং-দ্বাং-পোর বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করেন। ঙ্গাগ-দ্বাং-ব্লো-ব্জাং-র্গ্যা-ম্ত্শো এই ব্যাপারে কোন ধরণের রক্তপাতের পক্ষপাতী না হলেও ব্সোদ-নাম্স-ছোস-'ফেল এই যুদ্ধের ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেন। পঞ্চম দলাই লামা ব্সোদ-নাম্স-ছোস-'ফেলকে মঙ্গোলদের ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানাতে বললে তিনি সরাসরি তা প্রত্যাখ্যান করেন।[৬] গুশ্রী খান ও তাঁর সেনাবাহিনী খুব সহজে গ্ত্সাং-পা রাজ্যের তেরোটি জেলা অধিকার করে নেন এবং রাজধানী শিগাত্সে অবরোধ করেন কিন্তু ব্স্তান-স্ক্যোং-দ্বাং-পোর তীরন্দাজেরা তাঁদের মাসের পর মাস ঠেকিয়ে রাখেন। এই সময় ব্সোদ-নাম্স-ছোস-'ফেল দ্বুস অঞ্চলে গ্ত্সাং-পা রাজবংশের প্রভাধীন এলাকাগুলিকে বলপূর্বক নিজের অধিকারে আনেন। এরপর তিনি গুশ্রী খানের সমর্থনে বহু সংখ্যক সৈন্য নিয়ে শিগাত্সে অবরোধে সামিল হন।[১৩]:১১০ ১৬৪২ খ্রিষ্টাব্দে শিগাত্সের পতন হয় এবং ব্স্তান-স্ক্যোং-দ্বাং-পো তাঁর পরিবারসহ লাসা শহরের নিকট নেউ দুর্গে বন্দী হন। কয়েকদিন পরে গুশ্রী খান ব্স্তান-স্ক্যোং-দ্বাং-পো এবং তাঁর দুই মন্ত্রী দ্রোন্যের বোঙ্গোং ঙ্গো গাংজুকপাকে কো-থুমগ্যাব-পা পদ্ধতিতে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেন। ব্স্তান-স্ক্যোং-দ্বাং-পোকে একটি বস্তার মধ্যে ঢুকিয়ে নেউ দুর্গের নিকটস্থ নদী ডুবিয়ে হত্যা করা হয়।[১৩]:১১১,১১২[১৪]

এই ভাবে সমগ্র মধ্য তিব্বত ও খাম্স অঞ্চল অধিকার করার পর গুশ্রী খান নিজেকে তিব্বতের রাজা বা বোদ-গ্যি-র্গাল-পো হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি ঙ্গাগ-দ্বাং-ব্লো-ব্জাং-র্গ্যা-ম্ত্শোকে ধর্মীয় কর্মকান্ডের দায়িত্ব দেন ও ব্সোদ-নাম্স-ছোস-'ফেলকে তিব্বতের রাজনৈতিক দায়িত্ব প্রদান করেন।[১৫]:১৫৮-১৬১[১৬] ১৬৫৫ খ্রিষ্টাব্দে গুশ্রী খানের মৃত্যু হলে তাঁর সন্তানেরা তিব্বত সম্বন্ধে উৎসাহ হারিয়ে ফেলতে শুরু করে।[৮] এর পরের কয়েক দশক ঙ্গাগ-দ্বাং-ব্লো-ব্জাং-র্গ্যা-ম্ত্শো নিজেকে অবলোকিতেশ্বরের অবতার রূপে ঘোষণা করে ধীরে ধীরে সমস্ত রাজনৈতিক ক্ষমতা অধিকার করা শুরু করেন।[৬]

পোতালা প্রাসাদ নির্মাণ[সম্পাদনা]

পঞ্চম দলাই লামার ধর্মীয় উপদেষ্টা দ্কোন-ম্ছোগ-ছোস-'ফেলের উপদেশে তিনি দ্রেপুংসেরা বৌদ্ধবিহারের মধ্যবর্তী স্থানে লাসা শহরের উপকন্ঠে মার-পো-রি (ওয়াইলি: mar po ri) বা লাল পাহাড়ে ১৬৪৫ খ্রিষ্টাব্দে পোতালা প্রাসাদ নির্মাণ শুরু করান।[৮][১৫]:১৭৫ ১৬৪৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি তাঁর সরকারকে নিয়ে শ্বেত প্রাসাদে উঠে আসেন।[৮] পোতালা প্রাসাদ সম্পূর্ণ নির্মিত হতে উনপঞ্চাশ বছর সময় লাগে এবং ১৬৯৪ খ্রিষ্টাব্দে এর নির্মাণ সম্পূর্ণ হয়।[১০]:৮৪

চীনের সঙ্গে বৈদেশিক সম্পর্ক[সম্পাদনা]

চীনা চিত্রশল্পে চিং সম্রাট শুনজি ও পঞ্চম দলাই লামার সাক্ষাতকার

১৬৫১ খ্রিষ্টাব্দে চিং সম্রাট শুনজি (順治) ঙ্গাগ-দ্বাং-ব্লো-ব্জাং-র্গ্যা-ম্ত্শোকে বেজিং যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান এবং ১৬৫২ খ্রিষ্টাব্দে ৩০০০ লোক নিয়ে প্রায় নয় মাস যাত্রা করে তিনি এই আমন্ত্রণ রক্ষা করেন। ১৬৫৩ খ্রিষ্টাব্দে জানুয়ারী মাসে তাঁদের সাক্ষাত ঘটে। যদিও বহু ঐতিহাসিক মনে করেন যে চিং সম্রাট শুনজি পঞ্চম দলাই লামাকে সমান হিসেবে মর্যাদা দিয়েছিলেন[১৫]:১৭০-১৭৪, অনেকের মতে এই সম্মান পঞ্চম দলাই লামা পাননি।[৬] পঞ্চম দলাই লামার নিজের জীবনীতে বর্ণিত আছে যে তাঁর অনুরোধে বেজিং শহরের বাইরে শুনজি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করেন, কিন্তু দলাই লামা সম্রাটের থেকে নীচে আসন পান।[৬] বিদায়ের সময় সম্রাট তাঁকে একটি সোনার শীলমোহর ও উপাধি দান করেন।[১৭]

জো-নাং ধর্মসম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক[সম্পাদনা]

পঞ্চম দলাই লামার অধীনে দ্গে-লুগ্স ধর্মসম্প্রদায় রাজনৈতিক ও আদর্শগত কারণে জো-নাং ধর্মসম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা দোল-পো-পা-শেস-রাব-র্গ্যাল-ম্ত্শানের সমস্ত রচনাকে অবদমিত করে রাখে। জো-নাং ধর্মসম্প্রদায়ের সমস্ত বৌদ্ধবিহার ও সম্পত্তি দ্গে-লুগ্স ধর্মসম্প্রদায়ের হস্তগত হয়ে পড়ে। দ্গে-লুগ্স ধর্মসম্প্রদায়ের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে পরিচিত গ্ত্সাং-পা রাজবংশের শাসকেরা জো-নাং ধর্মসম্প্রদায়ের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন বলে এই অবদমনের পেছনে আদর্শগত কারণের চেয়েও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বেশি প্রাধান্য পেয়েছিল। পঞ্চম দলাই লামার নির্দেশে দোল-পো-পা-শেস-রাব-র্গ্যাল-ম্ত্শানের রি-ছোস-ঙ্গেস-দোন-র্গ্যা-ম্ত্শো সহ অন্যান্য রচনা[n ১] এবং ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর গ্ঝান-স্তোং তত্ত্বের প্রচার নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করে দেওয়া হয়। ১৬৫৮ খ্রিষ্টাব্দে বিখ্যাত জো-নাং ধর্মসম্প্রদায়ের পন্ডিত তারানাথ দ্বারা স্থাপিত র্তাগ-ব্র্তান-দাম-ছোস-গ্লিং (ওয়াইলি: rtag brtan dam chos gling) বৌদ্ধবিহারকে দ্গে-লুগস সম্প্রদায়ের অধীনে নিয়ে আসা হয়।[n ২]

রচনা[সম্পাদনা]

পঞ্চম দলাই লামা জা-হোর-গ্যি-বান-দে-ঙ্গাগ-দ্বাং-ব্লো-ব্জাং-র্গ্যা-ম্ত্শো'ই-দি-স্নাং-'খ্রুল-বা'ই-রোল-র্ত্সেদ-র্তোগ্স-ব্র্জোদ-ক্যি-ত্শুল-দু-বকদ-পা'দু-কু-লা'ই-গোস-ব্জাং (তিব্বতি: ཟ་ཧོར་གྱི་བན་དེ་ངག་དབང་བློ་བཟང་རྒྱ་མཚོའི་འདི་སྣང་འཁྲུལ་བའི་རོལ་རྩེད་རྟོགས་བརྗོད་ཀྱི་ཚུལ་དུ་བཀོད་པ་དུ་ཀུ་ལའི་གོས་བཟང་ওয়াইলি: Za hor gyi ban de ngag dbang blo bzang rgya mtsho'i 'di snang 'khrul ba'i rol rtsed rtogs brjod kyi tshul du bkod pa du ku la'i gos bzang) নামক আত্মজীবনী রচনা করেন।[৩] এছাড়া তিনি গ্সাং-বা-র্গ্যা-চান (তিব্বতি: གསང་བ་རྒྱ་ཅན་ওয়াইলি: gsang ba rgya can) নামক পঁচিশ খন্ডের একটি ধর্মীয় গ্রন্থ রচনা করেন।[২০] এই গ্রন্থেই থুগ্স-স্গ্রুব-য়াং-স্ন্যিং-কুন-'দুস (তিব্বতি: གསང་བ་རྒྱ་ཅན་ওয়াইলি: gsang ba rgya can) নামক পদ্মসম্ভবের ওপর তাঁর বিখ্যাত রচনা অন্তর্ভুক্ত।[২১] এছাড়াও তিনি ১৬৪৩ খ্রিষ্টাব্দে তিব্বতের ইতিহাসের ওপর দ্প্যিদ-ক্যি-র্গ্যাল-মো'ই-গ্লু-দ্ব্যাংস (ওয়াইলি: dpyid kyi rgyal mo'i glu dbyangs নামক গ্রন্থ রচনা করেন।[২২]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

১৬৮২ খ্রিষ্টাব্দে পঞ্চম দলাই লামার মৃত্যু হয়, কিন্তু তাঁর প্রধান মন্ত্রী সাংস-র্গ্যাস-র্গ্যা-ম্ত্শো এই ঘটনার কথা প্রায় পনেরো বছর ধরে সকলের নিকট লুকিয়ে রাখেন। কারণ এই সময় তিনি পোতালা প্রাসাদের নির্মাণ সম্পূর্ণ করে নিতে এবং তিব্বতের শাসনব্যবস্থা সুদৃঢ় করে নিতে চেয়েছিলেন।[১৫]:১৭৫ তিনি এই সময় পঞ্চম দলাই লামার নতুন পুনর্জন্ম খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যান এবং ১৬৮৮ খ্রিষ্টাব্দে ষষ্ঠ দলাই লামা হিসেবে ত্শাংস-দ্ব্যাংস-র্গ্যা-ম্ত্শোকে চিহ্নিত করা হয়, যদিও ১৬৯৭ খ্রিষ্টাব্দে তাঁকে আনুষ্ঠানিক ভাবে পরবর্তী দলাই লামা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।[n ৩]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. Tsong-ka-pa and his successors have been especially vehement in their objections to the views of Shay-rap-gyel-tsen, (shes rab rgyal mthsan, 1292-1361) and his followers. Shay-rap-gyel-tsen, an abbot of Jo-mo-nang, formulated his view in Ocean of Definitive Meaning (nges don rgya mtsho) and other writings; his followers are called Jo-nang-bas. As Ge-luk political power reached its apogee under the Fifth Dalai Lama in the seventeenth century, the Jo-nang-bas were proscribed and their monasteries and other property were completely confiscated and converted to Ge-luk use. Tibet's intersectarian conflicts were almost always driven by motives more political than "purely philosophical", indeed, the Jo-nang-bas were allies of the king of Tsang (gtsang), the main political and military adversary of Ge-luk in the first half of the seventeenth century. On the other hand, for more than two hundred years before they destroyed the Jo-nang-ba order the Ge-luk-bas had been denouncing Shay-rap-gyel-tsen's philosophy as something utterly beyond the pale of Mahāyāna Buddhism...While the immediate occasion for the persecution of Jo-nang was its defeat in a power struggle, proscription suggested itself as a penalty in the context of a long history of substantial and deeply felt philosophical differences. This hostility is reflected in the banning of Shay-rap-gyel-tsen's major books from the premises of Ge-luk monasteries more than 150 years prior to his order's extinction.[১৮]:৩০,৩১
  2. In the year 1650, the 5th Dalai Lama sealed and banned the study of zhentong, prohibiting the printing of Jonang zhentong texts throughout Tibet. Then in 1658, the 5th Dalai Lama forcibly converted Jonang Takten Damcho Ling (Phuntsok Choling) Monastery into a Geluk Monastery — officially initiating the demise of the Jonangpa in U-Tsang. Although the sphere of Geluk political and military influence reached to the borders of Central Tibet, it did not penetrate the far northeastern domain of Amdo, Tibet. Here, in the remote valleys and vast countrysides of the Dzamthang, Golok and Ngawa regions, the Jonangpa took refuge and made their home.[১৯]
  3. "In order to complete the Potala Palace, Desi Sangye Gyatso carried out the wishes of the Fifth Dalai Lama and kept his death a secret for fifteen years. People were told that the Great Fifth was continuing his long retreat. Meals were taken to his chamber and on important occasions the Dalai Lama's ceremonial gown was placed on the throne. However, when Mongol princes insisted on having an audience, an old monk called Depa Deyab of Namgyal monastery, who resembled the Dalai Lama, was hired to pose in his place. He wore a hat and an eye shade to conceal the fact that he lacked the Dalai Lama's piercing eyes. The Desi managed to maintain this charade till he heard that a boy in Mon exhibited remarkable abilities. He sent his trusted attendants to the area and, in 1688, the boy [the future 6th Dalai Lama] was brought to Nankartse, a place near Lhasa. There he was educated by teachers appointed by the Desi until 1697...."[২৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. The Dalai Lamas of Tibet, p. 38. Thubten Samphel and Tendar. Roli & Janssen, New Delhi. (2004). আইএসবিএন ৮১-৭৪৩৬-০৮৫-৯.
  2. Gyatso, Tenzin। "The Dalai Lamas"। Dharamsala, India: Office of His Holiness the Dalai Lama। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জানুয়ারি ২০১৩ 
  3. McCune, Lindsay G. (৩০ মার্চ ২০০৭)। "Tales of Intrigue from Tibet's Holy City: the Historical Underpinnings of a Modern Buddhist Crisis" (PDF)Master's Thesis। College of Arts & Sciences; Department of Religion; 600 W. College Ave.; Tallahassee, FL 32306; United States: Florida State University। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০১৩ 
  4. Tsepon W.D. Shakabpa, One Hundred Thousand Moons, Leiden 2010
  5. Ya Hanzhang, Biographies of the Tibetan Spiritual Leaders Panchen Erdenis, Beijing 1994.
  6. Gardner, Alexander (2009-12)। "The Fifth Dalai Lama, Ngawang Lobzang Gyatso"The Treasury of Lives: Biographies of Himalayan Religious Masters। সংগ্রহের তারিখ 2014-05-05  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  7. Gardner, Alexander (2010-10)। "Drakpa Gyeltsen"The Treasury of Lives: Biographies of Himalayan Religious Masters। সংগ্রহের তারিখ 2014-05-05  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  8. Karmay, Samten G. (ডিসেম্বর ২০০৫)। "The Great Fifth" (PDF)IIAS Newsletter Number 39। Leiden, The Netherlands: International Institute for Asian Studies। পৃষ্ঠা 12, 13। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০১৩ 
  9. Tibet is My Country: Autobiography of Thubten Jigme Norbu, Brother of the Dalai Lama as told to Heinrich Harrer, p. 249. English translation by Edward Fitzgerald, published 1960. Reprint, with updated new chapter, (1986): Wisdom Publications, London. আইএসবিএন ০-৮৬১৭১-০৪৫-২.
  10. Stein, R. A. (1972). Tibetan Civilization, Stanford University Press, Stanford California. আইএসবিএন ০-৮০৪৭-০৮০৬-১ (cloth); আইএসবিএন ০-৮০৪৭-০৯০১-৭ (paper).
  11. The Crystal and The Way of Light. Sutra, Tantra and Dzogchen. Chögyal Namkhai Norbu. Compiled and Edited by John Shane, Snow Lion Publications, Ithaca, New York, USA, 2000, আইএসবিএন ১-৫৫৯৩৯-১৩৫-৯, pp. 82-87, 190, 191
  12. Giuseppe Tucci, Tibetan Painted Scrolls, Rome 1949
  13. Tsepon W.D. Shakabpa, Tibet. A Political History, Yale 1967.
  14. Sarat Chandra Das, 'Tibet, a Dependency of Mongolia', Journal of the Asiatic Society of Bengal I:5 1905, p. 153-54.
  15. Laird, Thomas. (2006). The Story of Tibet: Conversations with the Dalai Lama. Grove Press, New York. আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮০২১-১৮২৭-১.
  16. Richardson, Hugh E. (1984). Tibet and its History. Second Edition, Revised and Updated, p. 42. Shambhala. Boston & London. আইএসবিএন ০-৮৭৭৭৩-৩৭৬-৭.(pbk)
  17. Berzin, Alexander। "A Survey of Tibetan History"Reading notes taken by Alexander Berzin from Tsepon, W. D. Shakabpa, Tibet: A Political History. New Haven, Yale University Press, 1967 (Engish ভাষায়)। Berlin, Germany: The Berzin Archives। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  18. Newland, Guy (1992). The Two Truths: in the Mādhyamika Philosophy of the Ge-luk-ba Order of Tibetan Buddhism. Ithaca, New York, USA: Snow Lion Publications. আইএসবিএন ০-৯৩৭৯৩৮-৭৯-৩.
  19. "The Living Tradition"। Cambridge, MA: Jonang Foundation। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জানুয়ারি ২০১৩ 
  20. "Sangwa Gyachen"। Rigpa Shedra। সংগ্রহের তারিখ 30 December 2012.  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  21. "Tukdrup Yang Nying Kundü"। Rigpa Shedra। সংগ্রহের তারিখ 30 December 2012.  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  22. Zahiruddin Ahmad, A History of Tibet by the Fifth Dalai Lama of Tibet, Indiana University, 1995.
  23. The Dalai Lamas of Tibet, pp. 93-94. Thubten Samphel and Tendar. Roli & Janssen, New Delhi. (2004). আইএসবিএন ৮১-৭৪৩৬-০৮৫-৯.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  • Excerpts from 5th Dalai Lama's Autobiography, ২০০৯-০৬-০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা, সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০১-২৯ 
  • Gold Seal of the 5th Dalai Lama given to him by Emperor Shunzhi in 1653, on Chinese website (জার্মান)

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Karmey, Samten Gyaltsen (২০১৪)। Illusive Play, : The Autobiography of the Fifth Dalai Lama। Serindia Publications। আইএসবিএন 1932476679 
  • Practice of Emptiness: The Perfection of Wisdom Chapter of the Fifth Dalai Lama's "Sacred Word of Manjushri". (1974) Translated by Jeffrey Hopkins with instruction from Geshe Rapden. Library of Tibetan Works and Archives. Dharamsala, H.P., India.
  • Mullin, Glenn H. (2001). The Fourteen Dalai Lamas: A Sacred Legacy of Reincarnation, pp. 184–237. Clear Light Publishers. Santa Fe, New Mexico. আইএসবিএন ১-৫৭৪১৬-০৯২-৩.
  • Dudjom Rinpoche. 2002. The Nyingma School of Tibetan Buddhism. Gyurme Dorje and Matthew Kapstein, trans. Boston: Wisdom.
  • Ishihama, Yumiko. 1992. “A Study of the Seals and Titles Conferred by the Dalai Lamas.” In Tibetan Studies: Proceedings of the 5th Seminar of the International Association for Tibetan Studies, Narita 1989, edited by Ihara Shoren and Yamaguchi Zuiho. Narita: Naritasan Shinshoji.
  • Ishihama, Yumiko. 1993. “On the Dissemination of the Belief in the Dalai Lama as a Manifestation of Bodhistattva Avalokiteśvara.” Acta Asiatica 64: 38-56.
  • Karmay, Samten G. 1988. Secret Visions of the Fifth Dalai Lama: The Gold Manuscript in the Fournier Collection. London: Serindia.
  • Karmay, Samten G. 1998. “The Fifth Dalai Lama and his Reunification of Tibet.” In The Arrow and the Spindle: Studies in History, Myth, Rituals and Beliefs in Tibet, edited by Samten G. Karmay. Kathmandu: Maṇḍala Book Point, pp. 504–517.
  • Karmay, Samten G. 1998. “The Gold Seal: the Fifth Dalai Lama and Emperor Shun-chih.” In The Arrow and the Spindle: Studies in History, Myths, Rituals and Beliefs in Tibet. Kathmandu: Maṇḍala Book Point, pp. 518–531.
  • Richardson, Hugh. 1980. “The Fifth Dalai Lama's Decree Appointing Sangs-rgyas rgya-mtsho as Regent.” Bulletin of the School of Oriental and African Studies 43, no. 2: 329-344.
  • Rockhill, William Woodville. 1910. "The Dalai Lamas of Lhasa and their relations with the Manchu emperors of China, 1644-1908." T'oung Pao 11, pp. 1–104.
  • Schaeffer, Kurtis. 2005. “The Fifth Dalai Lama, Ngawang Lobzang Gyatso.” In The Dalai Lamas: A Visual History. Martin Brauen, ed.. London: Serindia, pp. 65–91.
  • Tucci, Giuseppe. 1949. Tibetan Painted Scrolls. Rome: La Libreria dello Stato , vol. 1, pp. 57 ff, 133 ff.
  • Tuttle, Gray. "A Tibetan Buddhist Mission to the East: The Fifth Dalai Lama’s Journey to Beijing, 1652-1653." In Power, Politics, and the Reinvention of Tradition. Bryan J. Cuevas and Kurtis R. Schaeffer, eds. Leiden: Brill, pp. 65–87.
  • Yamaguchi, Zuiho. 1995. “The Sovereign Power of the Fifth Dalai Lama: sPrul sku gZims-khang-gong-ma and the Removal of Governor Nor-bu.” Memoirs of the Research Department of the Toyo Bunko 1995: 1-27.
  • Yamaguchi, Zuiho. 1999. “The Emergence of the Regent Sangs-rgyas-rgya-mtsho and the Denouement of the Dalai Lama’s First Administration.” Memoirs of the Research Department of the Toyo Bunko 57: 113-136.
পূর্বসূরী
য়োন-তান-র্গ্যা-ম্ত্শো
ঙ্গাগ-দ্বাং-ব্লো-ব্জাং-র্গ্যা-ম্ত্শো
পঞ্চম দলাই লামা
উত্তরসূরী
ত্শাংস-দ্ব্যাংস-র্গ্যা-ম্ত্শো