গৌরাঙ্গ সেতু

স্থানাঙ্ক: ২৩°২৩′০৯″ উত্তর ৮৮°২২′০০″ পূর্ব / ২৩.৩৮৫৯২৮° উত্তর ৮৮.৩৬৬৫৫৫° পূর্ব / 23.385928; 88.366555
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
গৌরাঙ্গ সেতু
Nabadwip Gouranga Setu.jpg
গৌরাঙ্গ সেতু
স্থানাঙ্ক২৩°২৩′০৯″ উত্তর ৮৮°২২′০০″ পূর্ব / ২৩.৩৮৫৯২৮° উত্তর ৮৮.৩৬৬৫৫৫° পূর্ব / 23.385928; 88.366555
অতিক্রম করেভাগীরথী নদী
স্থাননবদ্বীপ, পশ্চিমবঙ্গ
অফিসিয়াল নামগৌরাঙ্গ সেতু
রক্ষণাবেক্ষকনির্মাণ: পূর্ত দপ্তর বর্ধমান ডিভিশন-১
বর্তমান রক্ষক: নদিয়া হাইওয়ে ডিভিশন-১ (২০১৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে)
বৈশিষ্ট্য
নকশাবোর পাইলিং
উপাদানকংক্রিট, ইস্পাত
মোট দৈর্ঘ্য৫৮৮ মিটার (১,৯২৯ ফু)
ইতিহাস
নির্মাণকারীগ্যামন ইন্ডিয়া লিমিটেড
নির্মাণ শুরু১৯৭২
নির্মাণ শেষজানুয়ারি ১৯৮৩
চালু১৬ জানুয়ারি ১৯৮৩; ৩৯ বছর আগে (1983-01-16)
পরিসংখ্যান
দৈনিক চলাচলপণ্য ও যাত্রীবাহী গাড়ি
টোলহ্যাঁ[১]
অবস্থান

গৌরাঙ্গ সেতু ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভাগীরথী নদীর উপর অবস্থিত পণ্য ও যাত্রীবাহী গাড়ি বহনকারী সেতু। এর মাধ্যমে নবদ্বীপকৃষ্ণনগরের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষিত হয়। এছাড়াও এই সেতুর মাধ্যমে নবদ্বীপ-সংলগ্ন গ্রামাঞ্চল ও বর্ধমানের কালনা শহর সংযুক্ত হয়েছে।[২] এর মোট দৈর্ঘ্য ৫৮৮ মিটার।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

নির্মাণ ইতিহাস[সম্পাদনা]

নবদ্বীপ শহর ও কৃষ্ণনগরের সঙ্গে সংযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন পূর্তমন্ত্রী ভোলা সেন গৌরাঙ্গ সেতুর ভিত্তি স্থাপন করেন। গ্যামন ইন্ডিয়া লিমিটেড সেতু নির্মাণের দায়িত্বভার বহন করে।[৩] ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দের ১৬ জানুয়ারি বামফ্রন্ট সরকারের পূর্তমন্ত্রী যতীন চক্রবর্তী সেতুর উদ্বোধন করেন। সংযোগকারী শহরগুলোর গুরুত্ব ও চাহিদা অনুযায়ী ভার বহনের দিক থেকে সেতুটিকে ‘ক্লাস-এ’ পর্যায়ের নির্মাণ করা হয়।[৪]

বিপত্তি[সম্পাদনা]

ঈশ্বর গুপ্ত সেতুর মাঝখানের একটি অংশ ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে আচমকা বসে যায়। হুগলি, নদিয়াউত্তর চব্বিশ পরগনা, এই তিন জেলার সংযোগকারী সেতুর দুদিকের যান চলাচলই বন্ধ করা হয়। সেতু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ নদিয়া ও হুগলি জেলার মধ্যে সড়ক পথে যাতায়াতের জন্য প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার অধিক পথ অতিক্রম করতে বাধ্য হন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পূর্ত দফতর ঘটনার তদন্ত শুরু করে।[৫][৬]

২০১৬ সালে বড়সড় সংস্কার করা হয়। সেতুর উপরিতল নতুন করে গড়া হয় ও বেয়ারিং বদলানো হয়। মুর্শিদাবাদের একটি সেতু থেকে ২০১৮ সালের ২৯শে জানুয়ারি বাস বিলের জলের মধ্যে পড়ে যাওয়ার ঘটনা[৭][৮] উপলব্ধি করে গৌরাঙ্গ সেতুের গার্ডওয়াল বসানোর কাজও সম্পন্ন করা হয়।[৪]

গৌরাঙ্গ সেতুতে ২০১৮ সালে[৪] ও ২০২১ সালে সমস্যা দেখা যায়। সেতুতে ২০১৮ সালে ফাটল দেখা যায়।[৪] সেতুর স্প্রিং ২০২১ সালে ভেঙে যাওয়ার কারণে বিপত্তি ঘটে এবং সাময়িকভাবে কৃষ্ণনগর ও বর্ধমান শহর দুটির মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে।[৯]

বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

নদীর পশ্চিম তীর থেকে সেতুর দৃশ্য
সেতুর পশ্চিম প্রান্ত

গৌরাঙ্গ সেতু যে সময়ে নির্মিত হয়, সেই সময়ের আধুনিকতম প্রযুক্তি সেতু নির্মাণে ব্যবহার হয়েছিল। এটি একটি ৫৮৮ মিটার (১,৯২৯ ফু) দীর্ঘ অতিরিক্ত ঝুলন্ত সুষম ক্যান্টিলিভার বিম[১০] সেতু।[৪] এটি নির্মাণে প্রধান উপাদান হিসাবে কংক্রিট ও ইস্পাত ব্যবহার করা হয়। সেতুটির ‘শ্রেনি-এ’ পর্যায়ের ভার বহনের ক্ষমতা রয়েছে।[৪] সেতু নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পূর্ত দফতরের অবসরপ্রাপ্ত একজন প্রবীণ প্রকৌশলী আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন সংস্কারকে জানান, যে নবদ্বীপ ভাঙনপ্রবণ এলাকা হওয়ায় ‘বোর পাইলিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। সেতুর দু’ধারের প্রধান স্তম্ভ মাটির বহু নীচ পর্যন্ত নামিয়ে কংক্রিট দিয়ে জমানো রয়েছে। সেতুতে ‘হলো স্ফিয়ার ব্রিজ’ অর্থাৎ সেতুর দুই প্রান্তে ফাঁপা জায়গা আছে। স্তম্ভ বা গার্ডারে কোনও সমস্যা হলে সেই জায়গা দিয়ে ইঞ্জিনিয়ার বা নির্মাণকর্মীরা মেরামতির জন্য নামতে পারেন।[৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Public Works Department, Government of West Bengal (২০২০-১২-১৬)। "Collection of Toll on Shree Gouranga Setu over river Bhagirathi at Nabadwip in the District of Nadia" (PDF)wbpwd.gov.in 
  2. People, India Parliament House of the; Sabha, India Parliament Lok (১৯৯৮)। Lok Sabha Debates (ইংরেজি ভাষায়)। Lok Sabha Secretariat.। পৃষ্ঠা ৩৪৭। 
  3. Governor, MJF Lion Uday Narayan Shaw, District (২০২০-০৯-২৩)। Lions 322C1 District Directory (2020-21): Digital Edition (ইংরেজি ভাষায়)। Signpost Celfon. In Technology। 
  4. "পায়ের নীচেই বালি সরছে গৌরাঙ্গ সেতুর"anandabazar.com। ২০১৮-০৯-১২। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১২-০৪ 
  5. "হুগলি নদীর ওপর ঈশ্বর গুপ্ত সেতুর মাঝখানের একটি অংশ আচমকা বসে গিয়ে বিপত্তি"। zeenews.india.com। ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০২২ 
  6. "ভাগীরথীর ওপরে গৌরাঙ্গ সেতুতে ফাটল, তীব্র চাঞ্চল্য নবদ্বীপে"। bengali.news18.com। ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০২২ 
  7. "১০ ঘণ্টা পর দেহ বোঝাই বাস উঠল বিল থেকে, মৃত অন্তত ৪৬"। www.anandabazar.com। আনন্দবাজার পত্রিকা। ২৯ জানুয়ারি ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০২২ 
  8. "সেতু ভেঙে বাস জলে, মৃত ৩৬, উদ্ধার ঘিরে বিক্ষোভ, আগুন মুর্শিদাবাদে"। www.anandabazar.com। আনন্দবাজার পত্রিকা। ৩০ জানুয়ারি ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০২২ 
  9. "গৌরাঙ্গ সেতুর স্প্রিং ভেঙে বিপত্তি, সাময়িক বিচ্ছিন্ন কৃষ্ণনগর ও বর্ধমান"। www.sangbadpratidin.in। সময় প্রতিদিন। ২০ অক্টোবর ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০২২ 
  10. "Poor upkeep hits Nadia bridge"। www.telegraphindia.com। ২১ অক্টোবর ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০২২