গোলাম উল্লাহ খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শায়খুল কুরআন মাওলানা

গোলাম উল্লাহ খান
شیخ القران مولانا غلام اللہ خان
ব্যক্তিগত
জন্ম১৯০৫
মৃত্যু২৭ মে ১৯৮০(1980-05-27) (বয়স ৭৪–৭৫)
মৃত্যুর কারণহৃদরোগ
ধর্মইসলাম
জাতীয়তাব্রিটিশ ভারত
পাকিস্তান
আখ্যাসুন্নি
প্রধান আগ্রহকুরআন
যেখানের শিক্ষার্থীদারুল উলুম দেওবন্দ
জামিয়া ইসলামিয়া তালিমুদ্দিন ডাভেল
যে জন্য পরিচিতজাওয়াহিরুল কুরআন
পেশাইসলামি পন্ডিত
প্রতিষ্ঠানজামিয়া ইসলামিয়া তালিমুদ্দিন ডাভেল
মুসলিম নেতা
শিক্ষকআনোয়ার শাহ কাশ্মীরি
রশিদ আহমদ গাঙ্গুহি
পেশাইসলামি পন্ডিত

শায়খুল কুরআন মাওলানা গোলাম উল্লাহ খান (জন্ম; ১৯০৫ - ২৭ মে ১৯৮০) (উর্দু: شیخ القران مولانا غلام اللہ خان‎‎) হলেন একজন পাকিস্তানি ইসলামি পণ্ডিত।[১]

প্রারম্ভিক জীবন এবং শিক্ষা[সম্পাদনা]

গোলাম উল্লাহ খান ১৯০৪ সালে এটক জেলার ছাছাতে মালিক ফিরোজ খানের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ধার্মিক ছিলেন এবং গ্রামের আওয়ান উপজাতির একজন নম্বরদার ছিলেন। তিনি রশিদ আহমদ গাঙ্গুহির কাছে কুরআন শিক্ষা অর্জন করেন। তিনি হাজরো হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং তারপর রাওয়ালপিন্ডিতে চলে আসেন এবং মাওলানা সাইফুর রহমান পেশোয়ারীর ছাত্র মাওলানা আহমদ দীনের কাছ থেকে ফার্সি ও ব্যাকরণের বই পড়েন। এরপর তিনি কোকল (হাজারা) নিবাসী মাওলানা সিকান্দার আলী ও তার বড় ভাই মাওলানা মুহাম্মদ ইসমাইলের কাছ থেকে বিভিন্ন কিতাব শিক্ষা নেন। মাওলানা আবদুল্লাহ পাটোয়ার এবং মাওলানা মুহাম্মদ দীনের কাছ থেকে শিল্পের বিভিন্ন বই অধ্যয়ন করেন। গুজরাত জেলার মাওলানা গোলাম রসুল এবং তার জামাতা মাওলানা ওয়ালীউল্লাহর কাছ থেকে যুক্তিবাদের শেষ বই অধ্যয়ন করেন। মিশকাত, জালালাইন, তাফসির বায়দাভী এবং কুরআনের অনুবাদও এখান থেকেই অধ্যয়ন করেন। পরে ওয়ান ভাচরানের বাসিন্দা মাওলানা হুসাইন আলীর কাছ থেকে তাফসীর শিখেন এবং তার নির্দেশে দারুল উলুম দেওবন্দে যাত্রা করেন এবং সেখানে অধিকাংশ সাহিত্যের বই অধ্যয়ন করেন। মাওলানা রসুল খান হাজারভী প্রবেশিকা পরীক্ষা দেন। ১৯৩৩ সালে তিনি জামিয়া ইসলামিয়া তালিমুদ্দিন ডাভেলে হাদিস অধ্যয়ন করেন।[২][৩]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

আনোয়ার শাহ কাশ্মীরির নির্দেশে জামিয়া ইসলামিয়া তালিমুদ্দিন ডাভেল থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি সেখানে এক বছর শিক্ষকতা করেন। সেখানে তিনি শাব্বির আহমদ উসমানিকে তাফসীরে উসমানী সংকলনে সহায়তা করেন। শেখ মাওলানা হুসাইন আলীর নির্দেশে তাকে ওয়াজিরাবাদের মাদ্রাসা বারাকাতুল ইসলামে শিক্ষকতার জন্য নিযুক্ত করা হয়। শেখ আবদুল গনি তাকে ১৯৩৯ সালে ওয়াজিরাবাদ থেকে রাওয়ালপিন্ডিতে নিয়ে আসেন, যেখানে তিনি কয়েক মাস উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষকতা করেন। স্কুল ছাড়ার পর তিনি পুরাতন কেল্লার মসজিদে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং বিভিন্ন স্থানে বক্তৃতা দেওয়ার পাশাপাশি কুরআনের ওপর বক্তৃতা দিতে থাকেন। ১৯৩০ সালে দারুল উলুম তালিমুল কুরআন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ‘তাফসির জাওয়াহারুল কুরআন’ নামে কুরআনের তাফসীর রচনা করেন। তিনি পাকিস্তানের জমিয়তে ইশাতে তাওহিদে সুন্নতের অন্যতম বিশিষ্ট আলেম ছিলেন এবং নাজিমে আলা পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ১৯৮০ সালে, তিনি জাফর আহমদ উসমানি, শফি উসমানি এবং ইহতিশামুল হক থানভির বিশেষ সমর্থক ছিলেন এবং পাঞ্জাবের কেন্দ্রীয় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আমীর হিসেবে সমাজতন্ত্র ও সাম্প্রদায়িক আন্দোলনের বিরুদ্ধে এই ভদ্রলোকদের সাথে একত্রে সত্যের বাণী তুলে ধরেন।[২][৪]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

১৯৮০ সালের ২৬ মে রাতে দুবাইতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। সৈয়দ ইনায়েতুল্লাহ শাহ বুখারী লিয়াকতবাগে তার জানাজায় ইমামতি করেন এবং তৎকালীন সেনাপ্রধান ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি জেনারেল মুহাম্মদ জিয়া-উল-হকও জানাজায় অংশ নেন। প্রায় ২০০,০০০ মানুষ তার জানাজায় অংশ নেয়। তাকে এটকের জামিয়া ইশাতুল ইসলামে দাফন করা হয়।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

উদ্ধৃতি[সম্পাদনা]

  1. Zahid Ur Rashdi। "حضرت مولانا غلام اللہ خانؒ"। zahidrashdi.org। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০২১ 
  2. "شیخ القرآن مولانا غلام اللہ خانؒ"jang.com.pk। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৭-০৭ 
  3. سمیع اللہ। "مولانا غلام اللہ خانؒ کی تفسىر جواہر القرآن: منہج اور خصوصیات" (PDF)। Shaykh Zayed Islamic Centre, University of Peshawar। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০২১ 
  4. عبدالرازق صافي (৩১ মে ২০১৬)। "شیخ القرآن مولانا غلام الله خان –رحمه الله – وپیژنئ"। nunn.asia। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০২১ 

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

  • Ilyas, Mian Muhammad। حیات شیخ القرآن مولانا غلام اللہ خانؒ 
  • Ma'bud, Muhammad Abdul। Savānih hayāt-i Hazrat Maulānā G̲h̲ulāmullāh K̲h̲ān। Kutubk̲h̲ānah-yi Rashīdiyyah।