খেমার রুজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
খেমার রুজ
-এ অংশগ্রহণকারী
Flag of Democratic Kampuchea.svg
১৯৫০-এর দশকে খেমার গেরিলাদের ব্যবহৃত গণতান্ত্রিক কম্পুচিয়ার পতাকা।
সক্রিয় ১৯৬৮-৯৬
আদর্শ কৃষিভিত্তিক সাম্যবাদ
খেমার জাতীয়তাবাদ
বামপন্থী জাতীয়তাবাদ
নেতৃত্ব
সদর দফতর নম পেন

খেমার রুজ (ফরাসি উচ্চরণ: ​[kmɛʁ ʁuʒ]; খ্‌মের: ខ្មែរក្រហម Khmer Kraham; /kəˈmɛər ˈrʒ/) কম্বোডিয়ায় কম্পুচিয়ার কম্যুনিস্ট পার্টির অনুসারীদেরকে প্রদেয় নাম। এছাড়াও কম্বোডিয়ার স্ট্যালিনবাদী ও মাওবাদীদের গড়া বিবদমান দল এটি। ১৯৬৮ সালে উত্তর ভিয়েতনামে ভিয়েতনাম পিপলস আর্মি’র শাখা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।[১] ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত কম্বোডিয়ার ক্ষমতাসীন দল ছিল। ১৭ এপ্রিল, ১৯৭৫ তারিখে রাজধানী নম পেন দখল করে। দলটির প্রধান ছিলেন পল পট। এছাড়াও, নুন চি, ইং সারি, সন সেনখিউ সাম্পান দলটিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।[২] ক্ষমতা গ্রহণের পূর্বে তিনি সালথ সার নামে পরিচিত ছিলেন। দলটি ক্ষমতায় আসার পর দেশের নাম পরিবর্তিত করে গণতান্ত্রিক কম্পুচিয়া রাখে। সমাজতন্ত্র-বিরোধী বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে উত্তর ভিয়েতনাম, ভিয়েত কংপাথেট লাওয়ের সাথে মিত্রতা স্থাপন করে ভিয়েতনাম যুদ্ধে অংশ নেয়।

নামকরণ[সম্পাদনা]

খেমার রুজ পরিভাষাটি কম্বোডীয় রাষ্ট্রপ্রধান নরোদম সিহানুক কর্তৃক প্রবর্তিত। ফরাসী ভাষায় লাল খেমার নামে পরিচিত পরিভাষাটি পরবর্তীকালে ইংরেজিভাষীদের কাছে গৃহীত হয়। কম্বোডিয়ায় কম্যুনিস্ট পার্টি হিসেবে কম্পুচিয়ার কম্যুনিস্ট পার্টি ও পরবর্তীকালে গণতান্ত্রিক কম্পুচিয়া পার্টিতে এটি ব্যবহৃত হতে থাকে। এছাড়াও সংগঠনটি কম্পুচিয়া বা খেমার কম্যুনিস্ট পার্টি ও গণতান্ত্রিক কম্পুচিয়ার জাতীয় বাহিনী হিসেবে পরিচিত হয়।[৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

সংগঠনটি সামাজিক প্রকৌশল নীতি অবলম্বন করে দেশ পরিচালনায় অগ্রসর হয়। ফলশ্রুতিতে কম্বোডিয়ায় গণহত্যা কার্যক্রম সংঘটিত হয় ও সেজন্যে সংগঠনটি পরিচিতি পায়।[৪] কৃষি পুনর্গঠনের ফলে দেশটি ব্যাপক দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে। পর্যাপ্ত ঔষধপত্রাদি মজুত থাকা সত্ত্বেও হাজার হাজার লোক ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে।[৫] ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৮ সময়কালে নিজ অনুসারীদেরকে দিয়ে নির্বিচারে ফাঁসি ও নির্যাতন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। এরফলে তা সাংবিধানিক গণহত্যা হিসেবে পরিগণিত হয়।[৬]

১৯৭৯ সালে নির্বাসিত সরকারসহ খেমার রুজদের জাতিসংঘে আসন ছিল। কিন্তু তা পরবর্তীকালে গ্রহণ করে। ১৯৯৩ সালে রাজতন্ত্র পুনর্বহাল ঘটে এবং দেশের নাম পরিবর্তন করে কম্বোডিয়া রাজতন্ত্র রাখা হয়।

উদ্দেশ্য[সম্পাদনা]

খেমার রুজদের নেতৃত্বে কিছুসংখ্যক চীনা ও ভিয়েতনামী বংশোদ্ভূত ব্যক্তি ছিলেন। তাঁরা জাতিগোষ্ঠী নিধন কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য অংশগ্রহণ করেছেন। পল পট সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিলুপ্তি চেয়েছিলেন ও সমাজ ব্যবস্থাকে কৃষিভিত্তিক ব্যবস্থার দিকে ধাবিত করতে চেয়েছেন। ১৯৭৫ সালে চীনে বলেন যে, খেমার রুজদের প্রধান হিসেবে তিনি কালক্ষেপণ না করে মাঝারি পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে চান। শহরগুলোয় অবস্থানকারী চীনা ও ভিয়েতনামীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃষিকাজে অংশগ্রহণে অস্বীকৃতিতে তাদেরকে বিতাড়িত করা হয়, খেমার রুজদের পরিচালিত শ্রমশিবিরে প্রেরণ করা হয় ও নিজেদের ভাষায় কথা বলতে নিষেধ করা হয়।

খেমার রুজদের সমর্থনে সিহানুক তৃণমূল পর্যায়ে পরিদর্শনে গেলে যোদ্ধার সংখ্যা ছয় হাজার থেকে বেড়ে পঞ্চাশ হাজারে পৌঁছে। নতুন যোদ্ধারা চাষি ছিল। তারা রাজার সমর্থনে যুদ্ধ করতে আসে; সমাজতন্ত্রের জন্যে নয়।[৭] লন নল সরকারের বিপক্ষে খেমার রুজদের পক্ষে অনেক লোক সহায়তার জন্য এগিয়ে আসে। তারা সিহানুকের পুনর্বহাল দেখতে চেয়েছিল। ১৯৭৫ সালে সরকার পতন কেবলমাত্র সময়ের দাবী ছিল। ১৭ এপ্রিল, ১৯৭৫ তারিখে খেমার রুজ দল নম পেন করায়ত্ত করে।

মূল্যায়ন[সম্পাদনা]

১৯৯০-এর দশকের মধ্যভাগে সংগঠনটির শক্তিমত্তা বহুলাংশে খর্বিত হয় ও ১৯৯৯ সালে এর সদস্যরা পূর্ণাঙ্গভাবে আত্মসমর্পণ করে।[৮] ১৯৯৪ সালে সরকারের সাধারণ ক্ষমার আওতায় হাজার হাজার খেমার রুজ গেরিলা আত্মসমর্পণ করে। ১৯৯৬ সালে নতুন রাজনৈতিক দল ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল ইউনিয়ন মুভমেন্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়। দলের প্রতিষ্ঠাতা ইং সারিকে খেমার রুজের উপ-নেতার ভূমিকায় থাকা সত্ত্বেও সকল ধরণের কর্মকাণ্ড থেকে নিষ্কৃতি দেয়া হয়।[৯] ২০১৪ সালে খেমার রুজের অন্যতম নেতা নুন চি ও খিউ সাম্পানকে জাতিসংঘ সমর্থিত বিচারালয়ে আজীবন কারাভোগের আদেশ দেয়া হয়।[১০] মানবতা বিরোধী অপরাধ ও ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সময়কালে বধ্যভূমিতে মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ বা ২ মিলিয়নেরও অধিক কম্বোডীয় (খেমার) নিহত হবার প্রেক্ষিতে তাঁদেরকে দোষীসাব্যস্ত করা হয়।[১১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Frey, Rebecca Joyce (২০০৯)। Genocide and International Justice। Infobase Publishing। পৃ: 266, 267। আইএসবিএন 0816073104 
  2. Morris, Stephen J. (এপ্রিল ২০, ২০০৭)। "Vietnam and Cambodian Communism"Cambodian Information Center, Source: The Cambodian Human Rights and Development Association 
  3. DeRouen, Karl R. (২০০৭)। "Cambodia (1970-1975 and 1979-1991"Civil Wars of the World: Major Conflicts Since World War II, Volume 1। ABC-CLIO। পৃ: ২৩১। 
  4. McLellan, Janet (এপ্রিল ১, ১৯৯৯)। "5"Many Petals of the Lotus: Five Asian Buddhist Communities in Toronto (1st সংস্করণ)। University of Toronto Press। পৃ: ১৩৭। আইএসবিএন 978-0-8020-8225-1 
  5. Sharp, Bruce (এপ্রিল ১, ২০০৫)। "Counting Hell: The Death Toll of the Khmer Rouge Regime in Cambodia"। সংগৃহীত ২০০৬-০৭-০৫ 
  6. Ratner, Steven R.; Abrams, Jason S. (এপ্রিল ৫, ২০০১)। Accountability for Human Rights Atrocities in International Law: Beyond the Nuremberg Legacy (2nd সংস্করণ)। OUP Oxford। পৃ: ২৭২। আইএসবিএন 978-0-19-829871-7 
  7. Dining with the Dear Leader. By Bertil Lintner – Asian Times, 2007. Retrieved August 15, 2009.
  8. "No Redemption - The Failing Khmer Rouge Trial By Allan Yang"Harvard International Review। ২০০৮। 
  9. "Cambodia profile"BBC News। জানুয়ারি ১৭, ২০১২। 
  10. "Cambodian court sentences two former Khmer Rouge leaders to life term"The Cambodia News.Net। সংগৃহীত ৮ আগস্ট ২০১৪ 
  11. William Shawcross, The Quality of Mercy: Cambodia, Holocaust, and Modern Conscience (Touchstone, 1985), p115-6.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

অন্যান্য অনলাইন উৎস[সম্পাদনা]

গণহত্যা[সম্পাদনা]