কম্বোডিয়ার গণহত্যা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কম্বোডিয়ার গণহত্যা
কম্বোডিয়ার খেমার রুজ শাসন-এর অংশ
Skulls at Tuol Sleng.JPG
কম্বোডিয়ান গণহত্যার শিকারদের মাথার খুলি
স্থানগণতান্ত্রিক কাম্পুচিয়া
তারিখ১৭ এপ্রিল ১৯৭৫ – ৭ জানুৃয়ারি ১৯৭৯ (৩ বছর, ৮ মাস, ২০ দিন)
লক্ষ্যকম্বোডিয়ার আগের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ব্যবসায়ী নেতা, সাংবাদিক, ছাত্র, ডাক্তার, আইনজীবী, বৌদ্ধধর্ম, চ্যাম, মুসলিম, চীনা কম্বোডিয়ান, খ্রিষ্টান, বুদ্ধিজীবী, ভিয়েতনামী কম্বোডিয়ান
হামলার ধরনগণহত্যা, শ্রেণী হত্যা, রাজনৈতিক হত্যা, জাতিগত নির্মূল, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, দুর্ভিক্ষ, জোরপূর্বক শ্রম, মানব পরীক্ষা, জোরপূর্বক অন্তর্ধান, নির্বাসন, মানবতা বিরোধী অপরাধ, কমিউনিস্ট সন্ত্রাস
নিহত১.৫ থেকে ২ মিলিয়ন[১]
হামলাকারী দলখেমার রুজ
কারণরাষ্ট্রীয় নাস্তিকতা, বুদ্ধিজীবিতা-বিরুদ্ধবাদ, খেমার জাতীয়তাবাদ, বর্ণবাদ, অজ্ঞাতব্যক্তিভীতি, মার্কসবাদ-লেনিনবাদ/মাওবাদ, শূন্য বছর

কম্বোডিয়ার গণহত্যা (খ্‌মের: អំពើប្រល័យពូជសាសន៍កម្ពុជា, Âmpeu Prâlai Puchsas Kămpŭchéa) কম্বোডিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক পোল পটের নেতৃত্বে খেমার রুজ দ্বারা কম্বোডিয়ানদের পদ্ধতিগত তাড়না এবং হত্যা ছিল, যিনি কম্বোডিয়াকে সম্পূর্ণভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ কৃষি সমাজতান্ত্রিক সমাজের দিকে ধাক্কা দিয়েছিলেন। এর ফলে ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ পর্যন্ত ১.৫ থেকে ২ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল,যা কম্বোডিয়ার ১৯৭৫ সালের জনসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশ (আনু. ৭.৮ মিলিয়ন)।[১][২][৩]

পোল পট এবং খেমার রুজকে দীর্ঘদিন ধরে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি) এবং সিসিপি চেয়ারম্যান মাও ৎসে-তুং দ্বারা সমর্থন করত;[৪][৫][৬][৭][৮][৯] এটা অনুমান করা হয় যে খেমার রুজ যে বৈদেশিক সাহায্য পেয়েছিল তার অন্তত ৯০% চীন থেকে এসেছে এবং 1975 সালেই কমপক্ষে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সুদমুক্ত অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা চীন থেকে এসেছিল।[৯][১০][১১] ১৯৭৫ সালের এপ্রিল মাসে ক্ষমতা দখল করার পর, খেমার রুজ দেশটিকে একটি কৃষি সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে পরিণত করতে চেয়েছিলন। যা অতি-মাওবাদের নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত এবং সাংস্কৃতিক বিপ্লবের দ্বারা প্রভাবিত ছিল।[৪][৬][১২][১৩][১৪] পোল পট এবং খেমার রুজের অন্যান্য কর্মকর্তারা ১৯৭৫ সালের জুন মাসে বেইজিংয়ে যখন সিসিপি পলিটব্যুরোর স্থায়ী কমিটির সদস্য ঝাং চুনকিয়াওয়ের মতো উচ্চপদস্থ সিসিপি কর্মকর্তারা পরে সাহায্য প্রদানের জন্য কম্বোডিয়া যান তখন মাওয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, অনুমোদন ও পরামর্শ পান।[৪][৬][৮][১৫] তার লক্ষ্য পূরণের জন্য, খেমার রুজ শহরগুলিকে শূন্য করে দেয় এবং যেখানে গণহত্যা, জোরপূর্বক শ্রম, শারীরিক নির্যাতন, অপুষ্টি এবং রোগ ছিল সেখান থেকে কম্বোডিয়ানদের গ্রামাঞ্চলে শ্রম শিবিরে স্থানান্তরিত করতে বাধ্য করেন।[১৬][১৭] 1976 সালে,খেমার রুজ দেশের নাম পরিবর্তন করে গণতান্ত্রিক কাম্পুচিয়া রাখেন।

১৯৭৮ সালে ভিয়েতনামের সামরিক বাহিনী আক্রমণ করে এবং খেমার রুজ শাসনের পতন ঘটলে গণহত্যা শেষ হয়। জানুয়ারী ১৯৭৯ এর মধ্যে খেমার রুজ নীতির কারণে ১.৫ থেকে ২ মিলিয়ন মানুষ মারা গিয়েছিল, যার মধ্যে ২০০,০০০-৩০০,০০০ চীনা কম্বোডিয়ান, ৯০,০০০ মুসলিম এবং ২০,০০০ ভিয়েতনামী কম্বোডিয়ান ছিল।[১৮][১৯] খেমার রুজ পরিচালিত ১৯৬ টি কারাগারের মধ্যে ২০,০০০ জন নিরাপত্তা কারাগার ২১ এর মধ্য দিয়ে যায় [৩][২০] এবং মাত্র সাতজন প্রাপ্তবয়স্ক বেঁচে যায়[২১] বন্দীদের কিলিং ফিল্ডস-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যেখানে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল (গুলি বাঁচানোর জন্য প্রায়ই পিক্যাক্স দিয়ে )[২২] এবং গণকবরে সমাহিত করা হয়। শিশুদের অপহরণ এবং প্ররোচনা ব্যাপকভাবে বিস্তৃত ছিল এবং অনেককে রাজি করা হয়েছিল বা নৃশংসতা করতে বাধ্য করা হয়েছিল।[২৩] ২০০৯ সালের হিসাবে, ডকুমেন্টেশন সেন্টার অফ কম্বোডিয়া ২৩৭৪৫ টি গণকবর তৈরি করেছে যেখানে প্রায় ১.৩ মিলিয়ন সন্দেহভাজন নিহতদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।[২৪] গণহত্যার মৃত্যুর সংখ্যার ৬০% পর্যন্ত প্রত্যক্ষভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় বলে মনে করা হয়। অন্যান্য শিকাররা অনাহারে, ক্লান্তিতে বা রোগে মারা যায়।

গণহত্যার সূত্রপাত হলে শরণার্থীদের দ্বিতীয় প্রবাহ শুরু হয়, যাদের মধ্যে অনেকেই প্রতিবেশী থাইল্যান্ড এবং কিছুটা হলেও ভিয়েতনাম থেকে পালিয়ে যায়।[২৫] কম্বোডিয়ায় ভিয়েতনামী আক্রমণের সময় ১৯৭৯ সালের জানুয়ারিতে খেমার রুজকে পরাজিত করে গণহত্যার অবসান ঘটে।[২৬] ২০০২ সালের ২ জানুয়ারি, কম্বোডিয়ান সরকার কম্বোডিয়ান গণহত্যার জন্য দায়ী খেমার রুজ নেতৃত্বের সদস্যদের বিচারের জন্য খেমার রুজ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করে। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ থেকে বিচার শুরু হয়েছিল।[২৭] ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট, নুন চিয়া এবং খিয়ু সাম্পান গণহত্যার সময় সংঘটিত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ জন্য দোষী সাব্যস্ত হন এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান।[২৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Heuveline, Patrick 2001 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  2. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; CAS নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  3. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Locard নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  4. Chandler, David P. (২০১৮)। Brother Number One: A Political Biography of Pol PotRoutledgeআইএসবিএন 978-0-429-98161-6 
  5. Strangio, Sebastian (২০১২-০৫-১৬)। "China's Aid Emboldens Cambodia | YaleGlobal Online"Yale University। ২০২০-১২-১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-২৬ 
  6. "The Chinese Communist Party's Relationship with the Khmer Rouge in the 1970s: An Ideological Victory and a Strategic Failure"Wilson Center। ২০১৮-১২-১৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-২৬ 
  7. Hood, Steven J. (১৯৯০)। "Beijing's Cambodia Gamble and the Prospects for Peace in Indochina: The Khmer Rouge or Sihanouk?"। Asian Survey30 (10): 977–991। আইএসএসএন 0004-4687জেস্টোর 2644784ডিওআই:10.2307/2644784 
  8. "China-Cambodia Relations"। Radio Free Asia। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-২৬ 
  9. Levin, Dan (২০১৫-০৩-৩০)। "China Is Urged to Confront Its Own History"The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-২৬ 
  10. Kiernan, Ben (২০০৮)। The Pol Pot Regime: Race, Power, and Genocide in Cambodia Under the Khmer Rouge, 1975–79। Yale University Press। আইএসবিএন 978-0-300-14299-0 
  11. Laura, Southgate (২০১৯)। ASEAN Resistance to Sovereignty Violation: Interests, Balancing and the Role of the Vanguard State। Policy Press। আইএসবিএন 978-1-5292-0221-2 
  12. Jackson, Karl D (১৯৮৯)। Cambodia, 1975–1978: Rendezvous with Death। Princeton University Press। পৃষ্ঠা 219আইএসবিএন 978-0-691-02541-4 
  13. Ervin Staub. The roots of evil: the origins of genocide and other group violence. Cambridge University Press, 1989. p. 202
  14. David Chandler & Ben Kiernan, সম্পাদক (১৯৮৩)। Revolution and its Aftermath। New Haven। 
  15. Wang, Youqin। "2016: 张春桥幽灵" (PDF) (চীনা ভাষায়)। The University of Chicago। 
  16. Etcheson 2005, পৃ. 119।
  17. Heuveline 1998, পৃ. 49–65।
  18. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; :8 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  19. Zhang, Zhifeng (২০১৪-০৪-২৫)। "华侨忆红色高棉屠杀:有文化的华人必死"Renmin Wang (চীনা ভাষায়)। ২০২০-১১-২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-২৭ 
  20. "Mapping the Killing Fields"Documentation Center of Cambodia। ২০১৬-০৩-২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৬-০৬Through interviews and physical exploration, DC-Cam identified 19,733 mass burial pits, 196 prisons that operated during the Democratic Kampuchea (DK) period, and 81 memorials constructed by survivors of the DK regime. 
  21. Kiernan, Ben (২০১৪)। The Pol Pot Regime: Race, Power, and Genocide in Cambodia Under the Khmer Rouge, 1975–79Yale University Press। পৃষ্ঠা 464। আইএসবিএন 978-0-300-14299-0Like all but seven of the twenty thousand Tuol Sleng prisoners, she was murdered anyway. 
  22. Landsiedel, Peter, "The Killing Fields: Genocide in Cambodia", ‘'P&E World Tour'’, 27 March 2017. Retrieved 17 March 2019
  23. Southerland, D (২০০৬-০৭-২০)। "Cambodia Diary 6: Child Soldiers – Driven by Fear and Hate"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৩-২৮ 
  24. Seybolt, Aronson এবং Fischoff 2013, পৃ. 238।
  25. State of the World's Refugees, 2000 United Nations High Commissioner for Refugees, p. 92. Retrieved 21 January 2019
  26. Mayersan 2013, পৃ. 182।
  27. Mendes 2011, পৃ. 13।
  28. "Judgement in Case 002/01 to be pronounced on 7 August 2014 | Drupal"www.eccc.gov.kh। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-২৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]