খারওয়া জাতি
খারওয়া, বা খারভা, (গুজরাটি : আইএসও ১৫৯১৯ : Kārvā) হল ভারতের গুজরাট রাজ্যের একটি হিন্দু সম্প্রদায়।[১]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]গুজরাটের সৌরাষ্ট্র এবং কচ্ছের উপকূলীয় অঞ্চল জুড়ে খারওয়া সম্প্রদায় বসবাস করে। দিউয়ে বসবাসকারী কিছু খারওয়া মানুষ প্রথমে মোজাম্বিক এবং পরে সেখান থেকে লিসবনে চলে যান।[২] ১৬০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে মারাঠা সাম্রাজ্য তাদের নৌবাহিনীর জন্য ভাণ্ডারি এবং কোলিদের সাথে প্রচুর পরিমাণে খারওয়াদের নিয়োগ করেছিল। খারওয়ারা ছিলেন দক্ষ জেলে এবং নাবিক, যাঁদের সমুদ্রে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ছিল এডেন, জাঞ্জিবার এবং সিঙ্গাপুরের মতো দূরবর্তী স্থানে। তাঁরা জাহাজ নির্মাণেও অভিজ্ঞ ছিলেন।[৩]
সমাজ ও সংস্কৃতি
[সম্পাদনা]খারওয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে নিজের না হলেও সম্পর্কিত ভাই বোনের বিবাহের প্রচলন রয়েছে।[৪]
ধর্ম
[সম্পাদনা]বিশ্বাস এবং অনুশীলন
[সম্পাদনা]খারওয়া সম্প্রদায় ধর্মবিশ্বাসে হিন্দু। তাঁরা পোরবন্দরে আম্বাজি, ভদ্রকালী, বহুচরা এবং চামুণ্ডা সহ দেবীর বিভিন্ন রূপের পূজা করেন। অন্যান্য পূজিত মাতাদের মধ্যে রয়েছেন সমুদ্রি, সিকোতারি এবং হিংলাজ। কচ্ছে খোজি, দিলভাদি, মামাই, পদ্মনি, পোরাভেল এবং ভেরাভানি মাতাদেরও পূজা করা হয়। দরিয়ালাল হলেন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দেবতা, যাঁকে মুসলিম সম্প্রদায় সহ খারওয়া এবং অন্যান্য সমুদ্রযাত্রী সম্প্রদায় নির্বিশেষে উপাসনা করেন। মাণ্ডভির খারওয়া সম্প্রদায় হলেন বৈষ্ণব এবং ভেরাভালের মানুষরা শৈব । [৫]
উৎসব
[সম্পাদনা]বর্ষা পেরিয়ে যাওয়ার পর, অন্যান্য সামুদ্রিক সম্প্রদায়ের মতো, খারওয়ারা নারিকেল পূর্ণিমায় সমুদ্রযাত্রার ঋতুর সূচনা উদযাপন করে। এই উৎসব শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমায় উদযাপিত হয়। সাগরের দেবতা সমুদ্রকে ফুল, নারকেল এবং ধূপকাঠি সহ বিভিন্ন নৈবেদ্য নিবেদন করা হয়। শ্রাবণ পূর্ণিমা পালিত হয় শিব, বরুণ, মারুত, পর্জন্য এবং রত্নাকর-এর মতো দেবতাদের পূজা ক'রে। এর সঙ্গে গণেশেরও পূজা করা হয়, যাতে সমুদ্রে তাদের আসন্ন যাত্রায় কোনও বিঘ্ন না আসে। ভাদ্রবী অমাবস্যায়, শিবকে প্রসন্ন করার জন্য মেলা বসে। উপকূল বরাবর একটি শিবলিঙ্গ স্থাপন করা হয় এবং এর চারপাশে জলের স্তর বৃদ্ধি পাওয়ার সময় বিশ্বাস করা হয় যে সমুদ্রের আত্মা এর মধ্যে প্রবেশ করেছে। চৈত্রের দ্বিতীয় দিনে দরিয়ালালের জন্মদিনে আরেকটি মেলা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রসাদ হিসাবে মিষ্টি ভাত খাওয়া হয়।[৫]
বর্তমান পরিস্থিতি
[সম্পাদনা]এই সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যগত পেশা জাহাজে ক'রে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করা। তাঁরা ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সোমালিয়া এবং আফ্রিকার অন্যান্য অংশ সহ অনেক দেশের সঙ্গে ব্যবসা করেন। এখন অনেক খারওয়া মানুষের পণ্য রপ্তানির জন্য তাঁদের নিজস্ব জাহাজ আছে এবং বিভিন্ন সমবায় সমিতি স্থাপন করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ People of India Gujarat Volume XXI Part Two edited by R.B Lal, P.B.S.V Padmanabham, G Krishnan & M Azeez Mohideen pages 652-657
- ↑ Roxo, Pedro (২০১৮)। "Hindu Jati (Castes) from Diu Island and the Reproduction of Religious Expressive Culture in the Hindu-Gujarati Diaspora in Mozambique and in Portugal: The Kathiyawadi Bhajan": ৫৭–৬৯। ডিওআই:10.1080/02666030.2018.1440061।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ Pendse, Sachin (২০১৭)। "Maratha Sea Power"। The Sea in History - The Early Modern World। Boydell and Brewer। পৃ. ৬৩৫–৪৮। আইএসবিএন ৯৭৮১৭৮৩২৭১৬০৩।
- ↑ Karve, I. (১৯৪৩)। "KINSHIP TERMINOLOGY AND KINSHIP USAGES IN GUJARĀT AND KATHIĀWĀD": ২০৮–২২৬। আইএসএসএন 0045-9801। জেস্টোর 42929317।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - 1 2 Varadarajan 1983, পৃ. 5-8।
সূত্র
[সম্পাদনা]- বরদরাজন, লতিকা (১৯৮৩)। "ইণ্ডিয়ান সিফেয়ারিং: দ্য প্রিসেপ্ট অ্যাণ্ড রিয়েলিটি অফ কালীবর্জ্য": ১–১২। জেস্টোর 41562422 – জেএসটিওআর এর মাধ্যমে।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য)