কে. পি. এ. সি. ললিতা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কে. পি. এ. সি. ললিতা
জন্ম
মহেশ্বরী আম্মা

১৯৪৭ (বয়স ৭২–৭৩)
জাতীয়তাভারতীয়
অন্যান্য নামললিতাম্মা
পেশাঅভিনেত্রী, কেরালা সংগীত নাদক একাডেমির চেয়ারপারসন
কর্মজীবন১৯৬৮-বর্তমান
দাম্পত্য সঙ্গীভারতন (প্রয়াত)
সন্তানসিদ্ধার্থ, শ্রীকুট্টি
পুরস্কারজাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯০, ২০০০)
ওয়েবসাইটkpaclalitha.in

মহেশ্বরী আম্মা (জন্ম ১৯৪৭), তাঁর মঞ্চ নাম কে. পি. এ. সি. ললিতা দ্বারা আরও বেশি পরিচিত, হলেন একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র ও মঞ্চ অভিনেত্রী যিনি মূলত মালয়ালম থিয়েটার এবং মালয়ালম চলচ্চিত্রতে কাজ করেন। পাঁচ দশক ধরে বিস্তৃত তাঁর পেশা জীবনে, তিনি ৫৫০ টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। তিনি কেরালা সংগীত নাটক একাডেমির বর্তমান চেয়ারপারসন। তিনি প্রয়াত মালয়ালম চলচ্চিত্র নির্মাতা ভারতন কে বিবাহ করেছিলেন।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

কে. পি. এ. সি. ললিতা ১৯৪৭ সালে কেরলের ত্রিবাঙ্কুরের অরণমুলাতে পাঁচ সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ হিসাবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর পিতা ও মাতার নাম ছিল যথাক্রমে কড়াইকাথারাইল ভেট্টিল কে. অনন্তন নায়ার এবং ভার্গবী আম্মা। শৈশবে তাঁর নাম ছিল মহেশ্বরী আম্মা। তাঁর চার ভাইবোন রয়েছে: ইন্দিরা, বাবু, রাজন ও শ্যামলা। তাঁর বাবা ছিলেন কায়ামকুলামের একজন ফটোগ্রাফার, আর মা ছিলেন এক গৃহবধূ এবং তিনি ছিলেন অরণমুলার। তিনি তাঁর শৈশবকালের বেশিরভাগ সময় আলেপ্পির কায়ামকুলামের কাছে রামপুরমে কাটিয়েছিলেন। তাঁর পরিবার তাঁকে নৃত্য শিক্ষা দেবার জন্য কোট্টটায়ামের চাঙ্গানাসসেরিতে চলে এসেছিল।[১] ছোটবেলাতেই তিনি নাচ শেখা শুরু করেন চেল্লাপ্পান পিল্লাইয়ের নির্দেশনায়। তারপরে তিনি শেখেন কলামন্ডলম গঙ্গাধরনের অধীনে। তিনি ১০ বছর বয়সে নাটকে অভিনয় করা শুরু করেছিলেন।[২] মঞ্চে তাঁর প্রথম উপস্থিতি ছিল গীতায়ুড়ে বালি নাটকটিতে। পরে তিনি কে.পি.এ.সি. (কেরল পিপলস আর্টস ক্লাব)তে যোগদান করেন। এটি কেরালার একটি বিশিষ্ট বামপন্থী নাটকের দল ছিল। তাঁকে নতুন নাম দেওয়া হয়েছিল ললিতা এবং পরে যখন তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেছিলেন, কে.পি.এ.সি. ট্যাগটি তাঁর নামের আগে বসে যায়, ললিতা নামে পরিচিত অন্য এক অভিনেত্রী থেকে তাঁকে আলাদা করার জন্য।[৩]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ললিতার একটি কন্যা শ্রীকুট্টি এবং একটি পুত্র সিদ্ধার্থ। সিদ্ধার্থ নম্মল চলচ্চিত্রে অভিনেতা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন, এটি পরিচালনা করেছিলেন কামাল। ললিতা একটি আত্মজীবনী প্রকাশ করেছেন, যার নাম কথা থুডারাম (কাহিনী চলবে), এটি ২০১৩ সালে চেরুকাড় পুরস্কার জিতেছে।[৪] ১৯৯৮ সালে, ভারতন মারা গেলে, তিনি কয়েক মাসের জন্য বিরতি নেন, কেবলমাত্র সাথিয়াঁ আন্থিকাড় ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয় দিয়ে ফিরে আসার জন্য। এটির পরিচালক ছিলেন ভীন্ডাম চিলা ভীটুকরিয়াঙ্গল (১৯৯৯)। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ললিতার উল্লেখযোগ্য অভিনয় ছিল শান্তম (২০০০), লাইফ ইজ বিউটিফুল (২০০০) এবং ভালকান্নাদি (২০০২)। জয়রাজ পরিচালিত শান্তম (২০০০) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি তাঁর দ্বিতীয় সেরা সহায়ক অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছিলেন। তিনি এখনও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।[৫] তিনি ৫ শতাধিক মালয়ালম ছবিতে অভিনয় করেছেন। মালয়ালম ছাড়া তিনি কয়েকটি তামিল ছবিতেও অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে আছে কাদালুক্কু মারিয়াধাই (১৯৯৭), মণিরত্নম এর আলাইপায়ুথে (২০০০) এবং কাত্রু ভেলিয়াডাই (২০১৭)। বিশেষত, তামিল ছবি কাদালুক্কু মরিয়াধাই ছবিতে শালিনীর মায়ের চরিত্রে তাঁর অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে।

অভিনয় জীবন[সম্পাদনা]

তাঁর অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্রটি ছিল কুট্টুকুদুম্বম, যার পরিচালক ছিলেন কে. এস সেতুমাধবন। ১৯৭৮ সালে, তিনি নামী মালায়ালাম চলচ্চিত্র পরিচালক ভারতনকে বিবাহ করেছিলেন।[৬] তিনি কিছু সময়ের জন্য চলচ্চিত্রে অভিনয় থেকে বিরতি নিয়েছিলেন। তাঁর অভিনয় জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়টি শুরু হয়েছিল, তাঁর স্বামী পরিচালিত কাট্টাথে কিলিক্কুড়ু দিয়ে। ১৯৮৬ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে, ইনোসেন্ট (অভিনেতা) এর সাথে জুটি বেঁধে তাঁর অভিনয় দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। সফল চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে ছিল গজকেশরিযোগম, অপ্পুর্বম চিল্লার, মাক্কাল মাহাত্ম্যম, শুভ যাত্রা, মাই ডিয়ার মুথাচান, কান্নানুম পলিসুম, অর্জুনান পিলাইয়ুম অঞ্জু মাককালুম, ইনজঙ্কদদাই মাথান এবং সন্স, পাভাম পাভাম রাজাকুমারম ইত্যাদি। এই সময়ের মধ্যে তিনি সম্মানসুল্লাবার্ককু সমাধনম (১৯৮৬), পন মুত্তিদুন্না থারাভু (১৯৮৮), মুকুন্তেট্টা সুমিত্রা ভিলিক্কুন্নু (১৯৮৮), ভড়াক্কু নুকি ইয়ন্ত্রম (১৯৮৯), দশরথম (১৯৮৯), ভেঙ্কালাম (১৯৯৩), গডফাদার (১৯৯১), আমারাম (১৯৯১), ভিয়েতনাম কলোনি (১৯৯৩), পবিত্রম ((১৯৯৩)), মণিচিত্রাথাজু (১৯৯৪), স্ফদিকম (১৯৯৫) এবং আনিয়াথি প্রুভু (১৯৯৭) ছবিতে তিনি সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসিত হয়েছিলেন। তাঁর স্বামী পরিচালিত ছবি 'আমারাম' (১৯৯১)' চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা সহ অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছিলেন।[৭][৮]

পুরস্কার[সম্পাদনা]

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
কেরালা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার
এশিয়ানেট চলচ্চিত্র পুরস্কার
ফিল্মফেয়ার পুরস্কার দক্ষিণ
অন্যান্য পুরস্কার
  • ২০০৭: প্রেমজি পুরস্কার
  • ২০০৯: থপপিল ভাসি প্রতিভা পুরস্কার
  • ২০০৯: সেরা অসামান্য অভিনয়েরর জন্য বার্ষিক মালায়ালাম চলচ্চিত্র পুরস্কার (দুবাই)[১০]
  • ২০১০: ভারত মুরলি পুরস্কার [১১]
  • ২০১১: বাহাদুর পুরস্কার[১২][১৩]
  • ২০১১: কাম্বিসেরী করুণাকরণ পুরস্কার[১৪]
  • ২০১২: থপপিল ভাসি প্রতিভা পুরস্কার
  • ২০১৪: কেরল সংগীত নাটক আকাদেমি দ্বারা কলারত্ন ফেলোশিপ
  • বনিতা চলচ্চিত্র পুরস্কার - লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট
  • সিমা - লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট
  • পিকে রোজি পুরস্কার
  • বনিতালোকম পুরষ্কার
  • দেবরাজন মাস্টার পুরস্কার
  • গুড নাইট ফিল্ম অ্যান্ড বিজনেস অ্যাওয়ার্ডস ২০১৭

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. asianetnews (৩১ মে ২০১২)। ""KPAC Lalitha"-On Record 31,May 2012 Part 1" – YouTube-এর মাধ্যমে। 
  2. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ৭ মে ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০২০ 
  3. Reporter, Staff (২২ মার্চ ২০১৬)। "KPAC Lalitha opts out" – The Hindu-এর মাধ্যমে। 
  4. "Cherukad Award for KPSC Lalitha"। Dcbooks.com। ১৯ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০১৫ 
  5. [১][অকার্যকর সংযোগ]
  6. "KPAC Lalitha – Malayalam celebrities the stories and the gossips"। Movies.deepthi.com। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০১৫ 
  7. "KPAC Lalitha draws flak"Deccan Chronicle। ১৬ অক্টোবর ২০১৮। 
  8. "K P A C Lalitha – International Theatre Festival of Kerala, ITFoK" 
  9. "Directorate of Film Festival" (PDF)। Iffi.nic.in। ২৬ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০১৫ 
  10. "Annual Malayalam Movie Awards(AMMA) Announced"। ১৫ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০১১ 
  11. "KPAC Lalitha gets Bharat Murali Award – Filmibeat"। Entertainment.oneindia.in। ৯ আগস্ট ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০১৫ 
  12. "Latest Malayalam Movies"। ১৮ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০১১ 
  13. "കെ.പി.എ.സി ലളിതയ്ക്ക് ബഹദൂര്‍ പുരസ്‌കാരം"। ৫ জুন ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৩ 
  14. "KPAC Lalitha Bags Kambiserry Karunakaran Award"। Moovyshoovy.com। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]