কেশরাজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
কেশরাজ
Dicrurus hottentottus-20030823.jpg
প্রাপ্তবয়স্ক কেশরাজ, সিঙ্গাপুর
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Animalia
পর্ব: কর্ডাটা
শ্রেণী: পক্ষী
বর্গ: Passeriformes
পরিবার: Dicruridae
গণ: Dicrurus
প্রজাতি: D. hottentottus
দ্বিপদী নাম
Dicrurus hottentottus
(লিনিয়াস, ১৭৬৬)

কেশরাজ (ইংরেজি: Hair-crested Drongo; বৈজ্ঞানিক নাম: Dicrurus hottentottus) বা কেশরী ফিঙে ডিক্রুরিডাই পরিবারভূক্ত এক প্রকার এশীয় পাখি[২][৩][৪] কেশরাজের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ হটেনটট চেরালেজ (গ্রিক: dikros = চেরা, -ouros = লেজের; লাতিন: hottentottus = হটেনটটের, নামিবিয়ার যাযাবর আদিবাসী)।[৩] আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে Least Concern বা ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে।[১] এর চেহারা প্রায় ফিঙের মতো হলেও আসলে তা নয়। পূর্বে এ প্রজাতির পাখিটিকে ডিক্রুরাস ব্র্যাকটিটাস প্রজাতির একটি উপপ্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিছু প্রতিষ্ঠান সুমাত্রান ফিঙে (D. sumatranus)-কে এর উপপ্রজাতি হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন।

আবাসস্থল[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার, নেপাল, ভুটান, থাইল্যান্ড থেকে শুরু করে সমগ্র ইন্দোচীন, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই প্রভৃতি দেশে এদের প্রধান আবাসস্থল। দক্ষিণ কোরিয়ায় এরা অনিয়মিত[১] ছোট ছোট দূরত্বে এরা উড়ে বেড়ায়। তবে আওয়াজ খুবই তীক্ষ্ণ প্রকৃতির। বাজ, চিল ইত্যাদি শিকারী পাখিকে দেখামাত্র উল্টো তাড়া করে। মাদাগাস্কার থেকে ড্রোঙ্গো নামটি এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল থেকে এ পাখির নামকরণ হয়েছে যা বোকাটে, নির্বোধ ব্যক্তিকে ঘায়েল করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

বৈশিষ্ট্যাবলী[সম্পাদনা]

কেশরাজের দৈর্ঘ্য গড়পড়তা ৩২-৩৩ সেন্টিমিটার। দেহে আবৃত পালকের সবটুকু অংশই ঘন কুচকুচে কালো। লেজের শেষাংশ একটু মোড়ানো। মাথায় ক'গাছি কালো কেশাকৃতির পালক আছে যা প্রায় ৬ সেন্টিমিটার লম্বা ও শরীরের অন্যান্য অংশের পালকের চেয়ে বেশ শক্ত।

স্ত্রীজাতীয় কেশরাজ পুরুষ পাখিটির মতোই দেখতে। মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত সময়কাল এদের প্রজনন ঋতু। গোলাকৃতি বাসায় গাছের ছাল, বাকল, লতা-পাতা ব্যবহার করে তৈরী করে। ৩ থেকে ৪টি ডিম পাড়ে। ডিমগুলো ১৫-১৭ দিন পর ফোটে।[৫]

মূলতঃ পোকামাকড় খেয়েই এরা জীবনধারণ করে। এছাড়াও, ফুলের মধু, খেজুরের রস পান করতেও এদেরকে দেখা যায়। নদী, পুকুরে ছোঁ মেরে জলপানের মাধ্যমে তৃষ্ণা নিবারণ করে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Dicrurus hottentottus, The IUCN Red List of Threatened Species এ কেশরাজ বিষয়ক পাতা।
  2. রেজা খান (২০০৮)। বাংলাদেশের পাখি। ঢাকা: বাংলা একাডেমী। পৃ: ২২১–২। আইএসবিএন 9840746901 
  3. জিয়া উদ্দিন আহমেদ (সম্পা.) (২০০৯)। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ: পাখি, খণ্ড: ২৬। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃ: ৩৪৫। আইএসবিএন 9843000002860 |isbn= মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) 
  4. শরীফ খান (২০০৮)। বাংলাদেশের পাখি। ঢাকা: দিব্যপ্রকাশ। পৃ: ৩১৩। আইএসবিএন 9844833310 
  5. দৈনিক ইত্তেফাক, শেষের পাতা, ১৪ অক্টোবর, ২০১২ইং, মুদ্রিত সংস্করণ

উইকিমিডিয়া কমন্সে কেশরাজ সম্পর্কিত মিডিয়া

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]