কুমুদরঞ্জন মল্লিক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

কুমুদরঞ্জন মল্লিক বাংলার প্রসিদ্ধ পল্লীপ্রেমী কবি ও শিক্ষাবিদ।

কুমুদরঞ্জন মল্লিক (বাঙালি কবি)

জন্ম - ১ লা মার্চ, ১৮৮৩ কোগ্রাম(বর্তমানে কুমুদগ্রাম)পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

মৃত্যু - ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭০

ছদ্মনাম - কপিঞ্জল

ভাষা - বাংলা

নাগরিক- ভারতীয়

পেশা - কবি, শিক্ষকতা

সম্মাননা- বঙ্কিমচন্দ্র সুবর্ণপদক, জগতারিণী' স্বর্ণপদক (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়), পদ্মশ্রী (ভারত সরকার)

জন্ম ও শিক্ষা জীবন-

কবি কুমুদরঞ্জন মল্লিক ১৮৮৩ সালের ১ লা মার্চ অবিভক্ত বাংলার বর্তমানের  পশ্চিমবঙ্গের পূর্ববর্ধমান জেলার কোগ্রামে (বর্তমানে কুমুদগ্রাম)  মাতুলালয়ে  জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ছিল একই জেলার বৈষ্ণবতীর্থ শ্রীখন্ড গ্রামে। পিতা পূর্ণচন্দ্র মল্লিক ছিলেন কাশ্মীর রাজসরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। মাতা ছিলেন সুরেশকুমারী দেবী।

কুমুদরঞ্জন ১৯০১ সালে এন্ট্রান্স, ১৯০৩ সালে রিপন কলেজ থেকে এফ.এ. এবং ১৯০৫ সালে বঙ্গবাসী কলেজ  থেকে বি.এ. পাস করেন ও ' বঙ্কিমচন্দ্র সুবর্ণপদক' প্রাপ্ত হন।

কর্মজীবন-

বর্ধমান জেলার মাথরুন নবীনচন্দ্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরূপে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন । ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে অবসর গ্রহণ করেন । প্রসঙ্গত উল্লেখনীয় এই যে, বাংলার  বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ওই স্কুলে তার ছাত্র ছিলেন।

কবি প্রতিভা -

বাল্যকাল থেকেই কুমুদরঞ্জনের কবিত্বশক্তির বিকাশ ঘটে। কবির গ্রামের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে অজয় ও কুনুর নদী। এই গ্রাম আর নদীই হল কবির মুখ্য প্রেরণা ।  কবিতায় নির্জন গ্রামজীবনের সহজ-সরল রূপ তথা নিঃস্বর্গ প্রেম চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।   

পল্লী-প্রিয়তার সঙ্গে বৈষ্ণবভাবনা যুক্ত হয়ে তার কবিতার ভাব ও ভাষাকে স্নিগ্ধতা ও মাধুর্য দান করেছে। 'কপিঞ্জল' ছদ্মনামে তিনি 'চুন ও কালি' নামে ব্যঙ্গকাব্য রচনা করেন ।

কাব্য গ্রন্থ:-

তার উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত  কাব্যগ্রন্থগুলি হল - শতদল (১৯০৬ - ০৭),   বনতুলসী (১৯১১),  উজানী (১৯১১), একতারা (১৯১৪), বীথি(১৯১৫),  চুন ও কালি (১৯১৬), বীণা (১৯১৬),     বনমল্লিকা (১৯১৮), কাব্যনাট্য  দ্বারাবতী (১৯২০), রজনীগন্ধা (১৯২১),  নূপুর (১৯২২),  অজয় (১৯২৭), তূণীর (১৯২৮), স্বর্ণসন্ধ্যা (১৯৪৮) ইত্যাদি।

তার অপ্রকাশিত কাব্যগ্রন্থটি হল 'গরলের নৈবেদ্য'। এটি সোমনাথ মন্দির সম্পর্কিত ১০৮ টি কবিতার সংকলন হিসাবে প্রকাশ ।  

সম্মাননা -

বাংলাদেশের কবি-সাহিত্যিকদের প্রতিষ্ঠান - 'সাহিত্যতীর্থ' এর তীর্থপতি ছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে 'জগতারিণী' স্বর্ণপদক দেন।

১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে ভারত সরকার কর্তৃক ‘পদ্মশ্রী’ উপাধিতে ভূষিত হন তিনি ।

তার সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, 'কুমুদরঞ্জনের কবিতা পড়লে বাংলার গ্রামের  তুলসীমঞ্চ, সন্ধ্যাপ্রদীপ, মঙ্গলশঙ্খের কথা মনে পড়ে।

মৃত্যু-

১৯৭০ সালের ১৪ ডিসেম্বর কবি প্রয়াত হন।  

তথ্যসূত্র-

সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান ( প্রথম খণ্ড) সাহিত্য সংসদ কলকাতা প্রকাশিত