কাওরাইদ ইউনিয়ন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কাওরাইদ
ইউনিয়ন
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সীল.svg ৫ নং কাওরাইদ ইউনিয়ন পরিষদ
কাওরাইদ ঢাকা বিভাগ-এ অবস্থিত
কাওরাইদ
কাওরাইদ
কাওরাইদ বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
কাওরাইদ
কাওরাইদ
বাংলাদেশে কাওরাইদ ইউনিয়নের অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°১২′৫৮″ উত্তর ৯০°২৬′৩১″ পূর্ব / ২৪.২১৬১৯২৫° উত্তর ৯০.৪৪২০২৩৭° পূর্ব / 24.2161925; 90.4420237স্থানাঙ্ক: ২৪°১২′৫৮″ উত্তর ৯০°২৬′৩১″ পূর্ব / ২৪.২১৬১৯২৫° উত্তর ৯০.৪৪২০২৩৭° পূর্ব / 24.2161925; 90.4420237
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগঢাকা বিভাগ
জেলাগাজীপুর জেলা
উপজেলাশ্রীপুর উপজেলা, গাজীপুর উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
আয়তন
 • মোট১৫ বর্গকিমি (৬ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা
 • মোট৯৪,৮৪৪
 • জনঘনত্ব৬,৩০০/বর্গকিমি (১৬,০০০/বর্গমাইল)
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড১৭৪৭ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
মানচিত্র

কাওরাইদ ইউনিয়ন বাংলাদেশের গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার অন্তর্গত একটি ইউনিয়ন।[১]

এক নজরে কাওরাইদ[সম্পাদনা]

এক নজরে সুতিয়া নদীর পাড়ে কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে কাওরাইদ ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের মোট গ্রামের সংখ্যা ১৫ টি। অত্র ইউনিয়ন শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধূলার মাধ্যমে শ্রীপুর উপজেলায় আপন গতিতে বহমান।

ভৌগোলিক অবস্থানঃ

কাওরাইদ ইউনিয়নের পশ্চিমে তেলিহাটি ইউনিয়ন, উত্তরে পাইথল ইউনিয়ন, উত্তর-পশ্চিমে রাজৈ ইউনিয়ন, দক্ষিনে বরমী ইউনিয়ন, পূর্বে নিগুয়ারী ইউনিয়ন।

১. নামঃ ০৫নং কাওরাইদ ইউনিয়ন পরিষদ। ২. আয়তন দৈর্ঘ্যঃ ১৫ কিঃ মিঃ। ৩. জনসংখ্যাঃ ৯৪,৮৪৪ জন। ৪. গ্রামের সংখ্যাঃ ১৫টি- যোগীরছিট নান্দিয়া সাংগুন, বাপ্‌তা, বয়রা, বেলদিয়া, কাওরাইদ, সোনাব, শিমুলতলা, নয়াপাড়া, আবদার, বিধাই,গলদাপাড়া, হয়দেবপুর, জাহাঙ্গীরপুর, ধামলই। ৫. মৌজার সংখ্যাঃ ০৪ টি। ৬. হাট বাজার সংখ্যাঃ ১২ টি। ৭. যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ বাস, ট্রেন। ৮. শিক্ষার হারঃ ৫২%৯. সরকারী প্রা% বিদ্যালয়ঃ ১২ টি। ১০. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ০৮ টি। ১১. দাখিল মাদ্রাসাঃ ০২ টি। ১২. মসজিদঃ ১২০ টি। ১৩. স্বাক্ষরতার হারঃ ১০০% ১৪. সেনিটেশনঃ ১০০% ১৫. ভি.জি.ডি-১৮১ জন, বিধবা ভাতা-৪৫ জন, বয়স্ক ভাতা-১৬০ জন। ১৬. দায়িত্ব প্রাপ্ত চেয়ারম্যানঃ জনাব, মোঃ রফিকুল ইসলাম মন্ডল। ১৭. ইউ.পি নতুন ভবন স্থাপন কালঃ ২০০২ ইং ১৮. নব গঠিত পরিষদের বিবরন-

চেয়ারম্যান সাহেবের শপথ গ্রহনঃ ২৫/০৭/২০১১ ইং
সদস্য ও সদস্যার শপথ গ্রহনঃ ২৭/০৭/২০১১ ইং
প্রথম সভাঃ ২৮/০৭/২০১১ ইং

মেয়াদ উর্ত্তীন তারিখ ১৯. ইউনিয়ন়ন পরিষদের জনবলঃ চেয়ারম্যান-০১ জনসচিব-০১ জন সদস্যা-০৩ জনসদস্য-০৯ জনদফাদার-০১ জনগ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার)-০৯ জন। ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রঃ ০১ টি। উদ্যোক্তাঃ ০২ জন।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

শ্রীপুরের ঐতিহাসিক পটভূমি যুগে বিভিন্ন রাজবংশের শাসনের ক্রমঃ বিবর্তনের বৈশিষ্ট্যে অলংকৃত সম্ভবতঃ মহারাজাধিরাজ শশাংকের রাজত্বকালে ইহা প্রাগ জ্যেতিষপুর রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইতিহাস বেত্তাগণ অনুমান করেন যে, আনই ভৌমিক বলিয়া প্রাগ জ্যেতিষপুর রাজ্যের সমস্ত রাজা ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া ভালুকা-গফরগাঁও ও শ্রীপুরের উত্তারাঞ্চলের রাজা ছিলেন। তাহার রাজবাড়ি ছিল ফুলবাড়িয়া বানার নদীর তীরে। মহারাজা ধীরাজ শশাংকের পর বাংলাদেশে গোলাপ নামে এক রাজা, বৌদ্ধ রাজত্বের স্থাপন করেন। ঐ সময় হতে সম্ভবতঃ এই অঞ্চলে বৌদ্ধ রাজত্বের সৃষ্টি হয়। ১০৫০ সালে বিখ্যাত সুফী সাধক শাহ সুলতান কমরুদ্দিন রুমী যখন নেত্রকোনায় মদনপুরে আসেন, প্রাগ জ্যেতিষপুর রাজ্যের সমস্ত রাজা মদন গারোর রাজ্যে আস্তানা স্থাপন করেন। এর প্রায় অর্ধ শতাব্দীর পর ভাওয়ালের সুফী সাধক শাহ কারফরমা শাহ ইসলামের মহান বাণী নিয়ে ভাওয়ালে আসেন। তখনও শ্রীপুর এলাকা দুইটি ছোট বৌদ্ধ রাজত্বে বিভক্ত ছিল। একজন ইন্দ্রপাল রাজধানী ইন্দ্রপুরে যা আধুনিক মাওনার নিকট অবস্থিত । অপরজন ভবপাল । তার রাজধানী ছিল রাজাবাড়ী ইউনিয়নের চিনাইশুখানিয়া গ্রামে। সম্ভবত: অষ্টম শতাব্দীতে রাজা ইন্দ্রপাল ইন্দ্রপুর ও তার আশেপাশের এলাকা নিয়ে স্বাধীন রাজ্য গঠন করেন। এটা আদিত্যপালের দীঘি নামে পরিচিত। বর্তমান প্রচলিত নাম ওয়াদ্দা দীঘি। তৎপুত্র রাজা শ্রীপালের নাম অনুসারে শ্রীপুর মৌজার নামকরণ করা হয়। মৌজার নাম অনুসরণ করে শ্রীপুর উপজেলার নামকরণ করা হয়। অভিধানিক অর্থে শ্রী-অর্থ সৌর্ন্দয্য,পুর -অর্থ নগরী অর্থাৎ সৌন্দর্য্যের নগরী।শ্রীপুর উপজেলা থেকে প্রায় ১২ কিঃমিঃ উত্তরে কাওরাইদ ইউনিয়ন অবস্থিত। প্রাগ ঐতিহাসিক কাল থেকে অত্র ইউনিয়ন ব্যবসা-বানিজ্যে দ্বারা অগ্রগামী। এখানে ঐদিহাসিক পুরাতন একটি বিদ্যালয় রয়েছে। আছে একটি প্রাচীন কাচারী ঘর।

অবস্থান[সম্পাদনা]

উত্তর দিকে পাইথল ইউনিয়ন, উত্তর-পশ্চিম দিকে রাজৈ ইউনিয়ন, কাওরাইদ ইউনিয়নের পশ্চিমে দিকে তেলিহাটি ইউনিয়ন, দক্ষিণে বরমী ইউনিয়ন, পূর্বে নিগুয়ারী ইউনিয়ন অবস্থিত।

প্রশাসনিক অঞ্চল[সম্পাদনা]

১৫ টি গ্রাম নিয়ে গঠিত কাওরাইদ ইউনিয়ন।

গ্রামের নাম ও জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

*যোগীরছিট		        ৩৩২৭ জন৷
*বয়রা				৪৬৮ জন৷ 
*বাপ্তা				৬০৪২ জন৷ 
*বেলদিয়া			৬০৯৫ জন৷ 
*ধামলই			        ২৫১৪৬ জন৷ 
*বিধাই				৩৮০৭ জন৷ 
*আবদার			১৪০৩১ জন৷ 
*নয়াপাড়া			২৪০৫০ জন৷ 
*শিমুলতলা			৫৫৫২ জন৷ 
*গলদাপাড়া			৫০৪৮ জন৷ 
*হয়দেবপুর			৩০৭২ জন৷ 
*জাহাঙ্গীরপুর		        ৪০৮২ জন৷ 
*কাওরাইদ			১৪০০৭ জন৷ 
*নান্দিয়া সাংগুন		        ৭০২৮ জন৷ 
*সোনাব			        ৬২৮৯ জন৷

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

জনসংখ্যাঃ ৯৪,৮৪৪ জন

ভাষা ও সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

বাংলা

খাল ও নদী[সম্পাদনা]

১৷ সুতিয়া নদী ২৷ মাটি কাটা নদী

যোগাযোগব্যবস্থা[সম্পাদনা]

যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসাবে বাস ও ট্রেন আছে।

কাওরাইদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে, রেলগাড়ী। শ্রীপুর উপজেলা থেকে কাওরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের দুরত্ব ১৩ কিঃ মিঃ। যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হিসাবে রয়েছে ট্রেন, সি.এন.জি ইত্যাদি।


শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

প্রাথমিক বিদ্যালয়[সম্পাদনা]

  1. যোগীরছিট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৯৬৯)

মাধ্যমিক বিদ্যালয়[সম্পাদনা]

  1. বলদীঘাট জে.এম. সরকার উচ্চ বিদ্যালয়
  2. ত্রিমোহনী বি, ডি ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়
  3. বলদীঘাট জে.এম. সরকার উচ্চ বিদ্যালয়
  4. হয়দেবপুর ডাঃ কামাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়
  5. কাওরাইদ কে, এন উচ্চ বিদ্যালয়
  6. ধামলই উচ্চ বিদ্যালয়
  7. যোগীরছিট উচ্চ বিদ্যালয় (২০০০)

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

কবি অতুল প্রসাদ সেনের সমাধী Atulprushad

পঞ্চকবির একজন অতুলপ্রসাদ সেনের সমাধি আছে কাওরাইদে। ঢাকার অদূরবর্তী গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মীদের সঙ্গে আলাপে জানা গেল এ কথা। সংশয় জাগে মনে, ব্রাহ্মধর্মের অনুসারী অতুলপ্রসাদের তো চিতা হওয়ার কথা_ সমাধি নয়। স্মৃতি হাতড়ে যতদূর মনে পড়ছিল 'মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা' গানের রচয়িতা অতুলপ্রসাদ সেনের শেষজীবন কেটেছে ভারতের লক্ষেষ্টৗতে। কিন্তু শ্রীপুর থেকে ১০-১২ কিলোমিটার দূরে কাওরাইদে গিয়ে সুতিয়া নদীতীরে সত্যি অতুলপ্রসাদ সেনের সমাধির দেখা মিলল।নদীর এক তীরে গাজীপুরের শ্রীপুর, অন্য তীরে ময়মনসিংহের গফরগাঁও। শ্রীপুরের কাওরাইদ ইউনিয়নের কাওরাইদ গ্রামেই ছিল ভাওয়ালের জমিদার কালীনারায়ণ গুপ্তের কাছারিবাড়ি। এখানেই কালীনারায়ণ গুপ্ত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একটি ব্রাহ্মমন্দির। এই ব্রাহ্মমন্দির লাগোয়া সমাধিতে শুধু অতুলপ্রসাদের নয়_ রয়েছে তার দাদামশাই কালীনারায়ণ ও মামা কেজি গুপ্ত নামে সমধিক পরিচিত স্যার কৃষ্ণগোবিন্দ গুপ্তের সমাধিও। এই কালীনারায়ণের নামেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া হয় কালীনারায়ণ বৃত্তি। বৃত্তিটা কালে কালে এর অর্থমূল্যের কারণে আকর্ষণ হারালেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মলগ্নে এই বৃত্তির মূল্য ছিল অনেক। কেজি গুপ্ত ছিলেন প্রথম ভারতীয় প্রিভি কাউন্সিলর ও পূর্ববঙ্গ থেকে প্রথম আইসিএস। 

কালীনারায়ণের কন্যা হেমন্তশশীর পুত্র অতুলপ্রসাদ সেন। ১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর কালীনারায়ণের ঢাকার বাড়িতে অতুলপ্রসাদের জন্ম। তার পৈতৃক বাড়ি ছিল দক্ষিণ বিক্রমপুরের মাগর-ফরিদপুর গ্রামে। এ গ্রামটি বর্তমানে শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলায় অবস্থিত এবং এখন সেখানকার মানুষ গ্রামটিকে আর মাগর-ফরিদপুর নয়, মগর বলে ডাকে। অতুলপ্রসাদের বাবার নাম রামপ্রসাদ সেন। অতি অল্পবয়সেই অতুলপ্রসাদ পিতৃহারা হন । অতুলপ্রসাদের বাবা রামপ্রসাদ সেন মারা যাওয়ার পর, বছর ছয়েক মা হেমন্তশশী তার ছেলেমেয়েদের নিয়ে বাপের বাড়িতেই থাকতেন। ১৮৯০ সালে ছেলেমেয়েদের রেখে হেমন্তশশী কিছু সময়ের জন্য গিয়েছিলেন বড় ভাই কৃষ্ণগোবিন্দ গুপ্তের কাছে। কয়েক দিন পর হঠাৎ প্রকাশ পেল দেশবন্ধুু চিত্তরঞ্জন দাশের জেঠা ও আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর শ্বশুর সমাজসংস্কারক দুর্গামোহন দাশের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে হেমন্তশশীর। বিয়েটা হয় অত্যন্ত গোপনে। বাংলায় ততদিনে সতীদাহ প্রথা রদ ও বিধবা বিয়ের প্রচলন আন্দোলনে রূপ পেলেও চারদিকে এ বিয়ের খবর বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। গভীর আঘাত পান অতুলপ্রসাদও। যৌবনে অতুলপ্রসাদও মামাতো বোনের সঙ্গে প্রেম ও বিয়ের মধ্য দিয়ে একই রকমের আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। ১৮৮২ সালে ব্যারিস্টারি পড়তে বিলেত যান অতুলপ্রসাদ। কিছু পরেই সপরিবারে বিলেতে আসেন তার বড় মামা কেজি গুপ্ত। এই সময় কেজি গুপ্তের মেয়ে, নিজের মামাতো বোন হেমকুসুমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে অতুলপ্রসাদের। হেমকুসুমের গানে, বেহালা-পিয়ানো বাজানোর হাতে মুগ্ধ হন অতুলপ্রসাদ। শুরু হয় তাদের প্রেম। বিলেত থেকে ফিরে আসার পর বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন তারা। প্রবল অশান্তি শুরু হয় পরিবারে। অতুলপ্রসাদের মা হেমন্তশশীও এই বিয়ের বিরোধিতা করেন। এ কথাও শোনা যায়, অতুলপ্রসাদের এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে কোথাও হয়তো কাজ করেছিল মায়ের প্রতি পুরনো অভিমান। তাই সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ সম্পর্ক গড়ে প্রতিশোধ নেন তিনি। কিন্তু বিয়ে হবে কী করে? আইনে তো এমন বিয়ে স্বীকৃত নয়। সত্যেন্দ্রপ্রসন্ন সিংহের পরামর্শে অতুলপ্রসাদ পাড়ি দিলেন স্কটল্যান্ডের গ্রেটনা গ্রিন গ্রামে। সেখানকার রীতিতে ১৯০০ সালে বিয়ে করেন অতুলপ্রসাদ ও হেমকুসুম। অতুলপ্রসাদের মামা থেকে শ্বশুর হয়ে গেলেন স্যার কেজি গুপ্ত। এ ঘটনার অভিঘাত ছিল বহুদূর। বিলেতে আইন ব্যবসা জমাতে ব্যর্থ হন তিনি। এরই মধ্যে ১৯০১ সালে তাদের যমজ পুত্রসন্তানের জন্ম হলে তাদের নাম রাখা হয় দিলীপকুমার ও নিলীপকুমার। বিলেতে পসার জমাতে ব্যর্থ হয়ে এক সন্তান নিলীপকুমারের মৃত্যুর পর ১৯০২ সালে যখন আরেক সন্তান দিলীপকুমারকে নিয়ে বিধ্বস্ত অবস্থায় তারা কলকাতায় ফিরে এলেন, তখন প্রকাশ্যে একজন আত্মীয়ও পাশে দাঁড়ায়নি। এরপর সপরিবারে লক্ষেষ্টৗতে চলে যান অতুলপ্রসাদ। সেখানে তার আইন ব্যবসায় পসার জমে ওঠে। অতুলপ্রসাদের সঙ্গীতজীবনেও এ পর্বটি সবচেয়ে সমৃদ্ধ। অবশ্য পারিবারিক জীবনে সুখ আসেনি তার। স্ত্রীর সঙ্গে এখানে এসেই সীমাহীন দূরত্ব তৈরি হয়। ১৯০০ সালে মামাতো বোন হেমকুসুমের সঙ্গে বিয়ের পর অতুলপ্রসাদের মামা স্যার কেজি গুপ্ত ২৫ বছর বেঁচে ছিলেন। কেজি গুপ্তের মৃত্যু হয় ১৯২৬ সালের ২৩ মার্চ। অতুলপ্রসাদও দীর্ঘায়ু পাননি। তার মৃত্যু হয় ১৯৩৪ সালের ২৭ আগস্ট। জীবদ্দশায় মামা-ভাগ্নের মধ্যে যোজন দূরত্ব রচিত হলেও সমাধিতে আছেন তারা কাছাকাছি। পাশেই রয়েছে কালীনারায়ণের নিজের ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সমাধিও। গাজীপুরের ইতিহাস গবেষক ড. ফরিদ আহমদ জানালেন, সমাধিতে কারোরই মৃতদেহ নেই, চিতাভস্ম রয়েছে। তাদের কেউ লক্ষেষ্টৗ, কেউ আবার লন্ডনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। যে যেখানে মারা গেছেন, সেখানেই তাদের চিতা হয়েছে। পরে চিতাভস্ম এনে কাওরাইদে সমাহিত করা হয়েছে। ধারণা করা হয়, ব্রাহ্ম ও হিন্দু রীতি অনুযায়ী সবারই পিণ্ডদান করা হয়েছে পাশের সুতিয়া নদীতে। তিনি বলেন, কালীনারায়ণ, কৃষ্ণগোবিন্দ ও অতুলপ্রসাদ_ শ্রেষ্ঠ তিন বাঙালি ও তাদের সমাধিটি পুরোপুরি অরক্ষিত রয়েছে। পাশের ব্রাহ্মমন্দিরটিও অরক্ষিত। তবু মন্দিরকে ঘিরে কাওরাইদে যে ব্রাহ্মসমাজ রয়েছে, তারাই এর রক্ষণাবেক্ষণ করছেন। সরেজমিন কাওরাইদে গিয়ে দেখা গেল, ব্রাহ্মমন্দিরটি তালাবদ্ধ। সমাধিতে যাওয়ার একমাত্র গেটেও তালা ঝুলছে। এলাকাটি কাওরাইদ নামে পরিচিত হলেও মন্দিরের ফলকে লেখা আছে কাওরাদি ব্রাহ্মমন্দির। দর্শনার্থীদের আসার খবর পেয়ে এলেন শান্তা পাল। কাওরাইদের সর্বশেষ ব্রাহ্মধর্মানুসারী একমাত্র পরিবারটির কনিষ্ঠ সদস্য শান্তা। তার বড় ভাই দীপক পাল কাওরাইদ ব্রাহ্মধর্ম মণ্ডলীর সাধারণ সম্পাদক। শান্তা জানালেন, একদা এই কাওরাইদে কিছু সময়ের জন্য এসেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্র্রনাথ ঠাকুরও। পরে শান্তার বড় ভাই দীপক পালের সঙ্গে আলাপ হলে তিনিও একই কথা বললেন। তবে কবে-কখন রবীন্দ্রনাথ এসেছিলেন, তা নিশ্চিত করতে পারলেন না তারা। দীপক পাল বলেন, শুনেছি রবীন্দ্রনাথ ময়মনসিংহে যাওয়ার পথে ট্রেন থেকে এখানে নেমেছিলেন। গাজীপুরের ইতিহাস গবেষক ফরিদ আহমদ বলেন, কাওরাইদে রবীন্দ্রনাথ এসেছিলেন, এটা এখানকার মানুষের কাছে একটা জনপ্রিয় জনশ্রুতি, প্রামাণ্য কিছু আমাদের জানা নেই। তবে এটা নিশ্চিত যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এসে সপ্তাহখানেক থাকার পর ময়মনসিংহে গিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ব্রাহ্মধর্মের অনুসারী ছিলেন। রাজা রামমোহন রায় ১৮২৬ সালে একেশ্বরবাদী মণ্ডলী স্থাপন করে নাম দেন 'বেদান্ত প্রতিপাদ্য ধর্ম'। ১৮৩০ সালের ২৩ জানুয়ারি বুধবার মন্দিরগৃহ প্রতিষ্ঠা করেন। তাই বুধবার ব্রাহ্মদের পবিত্র দিন। পরে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর বেদান্ত প্রতিপাদ্য ধর্মের নামকরণ করেন ব্রাহ্মধর্ম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পঞ্চদশ সন্তানের অন্যতম। ১৯২৬ সালে রবীন্দ্রনাথ যখন ময়মনসিংহে যান, তখন কাওরাইদে ব্রাহ্মধর্মের অনেক বড় মণ্ডলী ছিল। তাই পথে তার যাত্রাবিরতি করা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। দীপক পাল জানালেন, বর্তমানে কাওরাইদে তাদের পরিবারটি ছাড়া আর কোনো ব্রাহ্মধর্মের অনুসারী নেই। পাশের গফরগাঁওয়ে রয়েছে আরেকটি পরিবার। তবে উৎসব-আচারে এখনও এখানে সারাদেশ থেকে ব্রাহ্মধর্মের অনুসারীরা জমায়েত হন। সারাদেশে ব্রাহ্মধর্মের অনুসারী পরিবারের সংখ্যা সাকল্যে ২৫ থেকে ৩০টি। কাওরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের সময় অতুলপ্রসাদ সেনের স্মৃতিফলকটি পাকিস্তানি সৈন্যরা গুলি করে ভেঙে ফেলেছিল। তখন স্মৃতিফলকে তার 'মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা' গানের চরণটি লেখা ছিল। তার মতে, ব্রাহ্মমন্দির ও অতুলপ্রসাদ, স্যার কেজি গুপ্তসহ অন্য মনীষীদের সমাধিস্থল রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পরিত্যক্ত স্থানে পরিণত হতে চলেছে। তিনি এই স্থানটি সংরক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করবেন বলে জানালেন। কিভাবে যাওয়া যায়:উপজেলা থেকে সি,এন,জি যোগে ২৫ কিঃ মিঃ দূরে কাওরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের সাথে কবি অতুল প্রসাদ সেনের সমাধী।

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি[সম্পাদনা]

  • স্যার কৃষ্ণগোবিন্দ গুপ্ত (কে.জি গুপ্ত) - ভাটপাড়া ও কাওরাইদের জমিদার, ভাইসরয়ের ইন্ডিয়ান কাউন্সিলের প্রথম ভারতীয় সদস্য।
  • অতুল প্রসাদ সেন কে ব্রহ্ম মন্দিরের পাশে সমাধিস্থলে তার চিতাভস্ম সমাহিত করা হয়।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. কাওরাইদ ইউনিয়ন "এক নজরে কাওরাইদ ইউনিয়ন" |আর্কাইভের-ইউআরএল= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭। ৫ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১৯