বিষয়বস্তুতে চলুন

কচুরিপানা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

কচুরিপানা (পন্টেডেরিয়া ক্র্যাসিপস; পূর্বে আইচোর্নিয়া ক্র্যাসিপস ), বা জার্মানিপানা, দক্ষিণ আমেরিকার একটি জলজ উদ্ভিদ, যা সারা বিশ্বে প্রাকৃতিকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এবং অন্য অঞ্চলে একটি বহিরাগত প্রাণী হিসেবে প্রভাব ফেলেছে। এটি পন্টেডেরিয়া গণের মধ্যে উপজাতি ওশুনাইয়ের একমাত্র প্রজাতি। উপাখ্যান অনুসারে, আক্রমণাত্মক বৃদ্ধির প্রবণতার কারণে এটি "বাংলার সন্ত্রাস" নামে পরিচিত।

১৭৬৯ সালে ভারত অভিমুখে আসার পথে 'ডিউক অফ গ্রাফটন' (Duke of Grafton) নামক জাহাজে ওয়ারেন হেস্টিংসের সাথে ব্যারনেস ম্যারিয়ান ইমহফ এর প্রথম দেখা হয়। সেই সময় ব্যারনেস ম্যারিয়ান ইমহফ তার প্রথম স্বামী ব্যারন ক্রিস্টোফ কার্ল অ্যাডাম ফন ইমহফের সাথে ছিলেন। তাদের মধ্যে প্রেম হয় এবং দীর্ঘ আট বছরের প্রণয় ও প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদের পর ১৭৭৭ সালে তারা বিয়ে করেন। হেস্টিংস তাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং তাকে নিজের 'প্রিয় ম্যারিয়ান' (Beloved Marian) বলে সম্বোধন করতেন। ম্যারিয়ান ইমহফ বিদেশি ও সুন্দর গাছের খুব ভক্ত ছিলেন। ধারণা করা হয়, তার বাগান সাজানোর শখের কারণেই বাংলায় কচুরিপানা (Water Hyacinth) আনা হয়েছিল, যা বর্তমানে বাংলার জলাশয়ের একটি পরিচিত দৃশ্য। তবে ইতিহাসবিদদের মধ্যে এটি নিয়ে বিতর্ক আছে। সে সময়ের পর থেকেই বাংলায় কচুরিপানার বিস্তার লাভ করে।

বাসস্থান এবং বাস্তুশাস্ত্র

[সম্পাদনা]

এর আবাসস্থল গ্রীষ্মমন্ডলীয় মরুভূমি থেকে শুরু করে উপ-ক্রান্তীয় বা উষ্ণ, নাতিশীতোষ্ণ মরুভূমি থেকে রেইনফরেস্ট অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। জলীয় কচুরিপানার তাপমাত্রা সহনশীলতা:

  • এর সর্বনিম্ন বৃদ্ধির তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৫৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট)
  • এর বৃদ্ধির সর্বোত্তম তাপমাত্রা ২৫–৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৭৭–৮৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট)
  • এর সর্বোচ্চ বৃদ্ধির তাপমাত্রা ৩৩–৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯১–৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট)

এর pH সহনশীলতা ৫.০-৭.৫ অনুমান করা হয়। পাতাগুলি তুষারপাতে মারা যায় এবং গাছপালা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বেশি জলের তাপমাত্রা সহ্য করে না। জলের প্রতি কেজিতে প্রায় ৫ গ্রাম লবণ বা এর চেয়ে বেশি লবণাক্ততা থাকলে কচুরিপানা হয় না। লোনা পানিতে, কচুরিপানার পাতায় এপিনাস্টি এবং ক্লোরোসিস দেখা যায় এবং অবশেষে মারা যায়। সংগ্রহ করা কচুরিপানার ভেলা সমুদ্রে ভাসিয়ে দেওয়া হয়, কচুরিপানা মেরে ফেলার জন্য। []

অ্যাজোটোব্যাক্টর ক্রোকোকাম ব্যাকটেরিয়ার একটি নাইট্রোজেন-সংশোধনকারী প্রজাতি। এটি সম্ভবত কচুরিপানার বৃন্তের গোড়ার চারপাশে থাকে। ব্যাকটেরিয়াটি নাইট্রোজেন স্থির করে না যদি না উদ্ভিদ চরম নাইট্রোজেনের ঘাটতিতে ভুগে। []

তাজা উদ্ভিদে কাঁটাযুক্ত স্ফটিক থাকে। [] এই উদ্ভিদে হাইড্রোজেন সায়ানাইড, অ্যালকালয়েড এবং ট্রাইটারপেনয়েড থাকে এবং এটি চুলকানির কারণ হতে পারে। দূষিত পরিবেশে 2,4-ডাইক্লোরোফেনোক্সাইসেটিক অ্যাসিড (2,4-D) স্প্রে করা উদ্ভিদে নাইট্রেটের মারাত্মক মাত্রা এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক উপাদান থাকতে পারে। [ তথ্যসূত্র প্রয়োজন ]

গ্যালারি

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 Duke 1983
  2. Matai, S.; Bagchi, D.K. (১৯৮০), Gnanam, A.; Krishnaswamy, S.; Kahn, J.S. (সম্পাদকগণ), "Water hyacinth: a plant with prolific bioproductivity and photosynthesis", Proceedings of the International Symposium on Biological Applications of Solar Energy, 1–5 December 1978, MacMillan Co. of India, Madras, পৃ. ১৪৪–১৪৮ apud Duke (1983).