এ কে এম ইয়াকুব আলী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

এ কে এম ইয়াকুব আলী বাংলাদেশের একজন লেখক, গবেষক, ইতিহাসবিদ, ও ইসলামি চিন্তাবিদ।[১][২] তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ছিলেন।[৩] তাকে ২০১৮ সালে ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ক চতুর্দশ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ঘোষণা দেওয়া হয়। তিনি বাংলাপিডিয়ার একজন লেখক।[৪]

জন্ম ও বাল্যকাল[সম্পাদনা]

ইয়াকুব আলী ১৯৩৯ সালের ১ আগস্টে বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম থানার হাটধুমা জন্মগ্রহণ করে। তার পিতার নাম আলহাজ্জ মোহাম্মদ বাসতুল্লাহ শেখ ও মায়ের ফাতিমা বেগম। তার পিতা অত্র এলাকার আলেম ছিলেন।

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

ইয়াকুব আলী ছোটবেলা থেকেই এলাকায় মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সে ১৯৫২ সালে ঢাকা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে নবম স্থান অধিকার করেন। ১৯৫৪ সালে একই বোর্ড থেকে ফাজিল পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করে উত্তীর্ণ হন। ১৯৫৫ সালে ঢাকা মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ইংরেজি ও গণিত বিষয় যুক্ত করে হাই মাদ্রাসা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৫৬ সালে হাদিস নিয়ে কামিল পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণি লাভ করেন।

তিনি মাদ্রাসা শিক্ষার পাশাপাশি তিনি সাধারণ শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছিলেন। ১৯৫৮ সালে আজিজুল হক কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আই এ পাশ করেন। একই প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯৬০ সালে পঞ্চম স্থান অধিকার করে বিএ পাশ করেন। এরপর ১৯৬২ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে এম এ পাশ করেন। তিনি ১৯৭০ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান লাভ করে ২য় বার এম এ পাশ করেন। তিনি ১৯৮২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বপ্রথম ইউজিসি ফেলো হিসেবে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ইয়াকুব আলী বাংলাভাষার পাশাপাশি ইংরেজি, আরবি, ফারসি এবং উর্দু ভাষায় অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। সংস্কৃত ভাষায়ও প্রাথমিক দক্ষ ছিলেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

ইয়াকুব আলী কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে তিনি তার পেশাজীবন শুরু করেন। তিনি ১৯৬৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তবে মাঝখানে অল্প কিছু সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় সভাপতি ও অনুষদের ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতার পাশাপাশি রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের সহকারী কিউরেটরের (জাদুঘর পরিচালক) দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়াও একাডেমিক গবেষণার দিক দিয়ে তার তত্ত্বাবধানে এ পর্যন্ত ২৫ জন গবেষক পিএইচডি ডিগ্রি ও ৭ জন এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

রচনাবলী[সম্পাদনা]

ইয়াকুব আলীর গবেষণা ও চর্চার বিশেষ বিষয়সমূহের মধ্যে মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাস, মুসলিম স্থাপত্য, মুসলিম মুদ্রাতত্ত্ব, হস্তলিখন শিল্প বা ক্যালিগ্রাফি, মুসলিম শিলালিপি, ইসলামের ইতিহাসের সামাজিক অর্থনৈতিক ধারা, ইতিহাসতত্ত্ব প্রভৃতি অন্যতম। তিনি গবেষণা ও প্রবন্ধধারার ১৬ টি প্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তার লিখিত ৬৬টি ইংরেজি প্রবন্ধ ও ১৮টি বাংলা প্রবন্ধ ও ১টি আরবি প্রবন্ধ দেশ-বিদেশের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

তার উল্লেখযোগ্য বইসমূহ:

  • বরেন্দ্র অঞ্চলে মুসলিম ইতিহাস-ঐতিহ্য (২০০৮), 9844583896
  • মুসলিম স্থাপত্য ও শিল্পকলা (১৯৯৬)[৫]
  • আরব জাতির ইতিহাসচর্চা 984702040008X (২০১৬)
  • মুসলিম মুদ্রা ও হস্তলিখন শিল্প
  • রাজশাহীতে ইসলাম
  • শিক্ষার সমাজতত্ত্ব 9847020500000
  • জীবন প্রবাহের বাঁকে বাঁকে 98470205008110
  • মুসলমানদের ইতিহাসচর্চা (খিলাফত ও ভারত উপমহাদেশ)
  • সেলেক্ট এ্যারাবিক এন্ড পার্সিয়ান ইপিগ্রাপস,
  • অ্যাসপেক্ট অব সোসাইটি এন্ড কালচার অব দ্যা বারিন্দ,
  • জিহাদ ইন ইসলাম : ইটস ইমপ্লিকেশনস প্রভৃতি।
  • সারওয়ার ই কায়েনাত মুহাম্মদ (সঃ)
  • মহানবী ও ইসলাম,
  • আলোকিত পথ

সম্পাদনা

  • হালাকু খান (২০১৮) লেখকঃ মো: আদনান আরিফ সালিম 9789849341819

পুরস্কার ও সন্মাননা[সম্পাদনা]

তাকে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিতে অনুষ্ঠিত ইতিহাস একাডেমি কতৃক আয়োজিত ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ক চতুর্দশ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ঘোষণা দেওয়া হয়। এছাড়াও কিছু পুরস্কার পেয়েছেন।

  • সিরাত একাডেমী পুরস্কার
  • বরেন্দ্র একাডেমী পদক
  • বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ পুরস্কার
  • শব্দকলা সাহিত্যপদক (রাজশাহী) প্রভৃতি।[২][৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Prothoma - Books - এ কে এম ইয়াকুব আলী"www.prothoma.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১২-১৫ 
  2. "রাজশাহীতে প্রফেসর ডক্টর ইয়াকুব আলী 'শব্দকলা' সাহিত্যপদকে ভূষিত"The Daily Sangram। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১২-১৫ 
  3. "রাবিতে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের হীরক জয়ন্তী"banglanews24.com। ২০১৬-০৩-১৯। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১২-১৫ 
  4. "লেখকবৃন্দ - বাংলাপিডিয়া"bn.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১২-১৫ 
  5. "মুসলিম স্থাপত্য ও শিল্পকলা"Goodreads। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১২-১৫ 
  6. "'শব্দকলা' সাহিত্যপদক পেলেন রাবির ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. একেএম ইয়াকুব আলী"রাজ টাইমস। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১২-১৫