উৎসর্গ (উপাসনা)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
মার্কাস অরেলিয়াস এবং রাজপরিবারের সদস্যগণ জার্মানিক উপজাতিদের বিরুদ্ধে সালফ্য অর্জনের জন্য উৎসর্গ বা বলিদান করছেন: সমসাময়িক ব্যাস-রিলিফ, ক্যাপিটোলিন জাদুঘর, রোম

উৎসর্গ বা বলিদান হচ্ছে বিশেষ কোন উচ্চতর উদ্দেশ্যে ঐশ্বরিক চরিত্রের কাছে খাদ্য, বস্তু বা পশুর জীবন প্রায়শ্চিত্ত বা উপাসনার অংগ হিসেবে দান করা। উৎসর্গ প্রায়শই আনুষ্ঠানিক হত্যাকে নির্দেশ করে তাই অঞ্জলি (লাতিন অবলাতিয়ো) দ্বারা খাদ্য বা অন্যান্য সামগ্রী উৎসর্গ করাকে বোঝায়। তরল (পানীয়) উৎসর্গ করা হলে লাইবেশান ব্যবহার করা হয়।

পরিভাষা[সম্পাদনা]

ল্যাটিন শব্দ sacrificium (বলি) এসেছে লাতিনsacrificus (যাজকের কাজ করা যা উৎসর্গ) থেকে যা দুটি ধারণা স্যাক্রা (উৎসর্গের জিনিস) এবং ফেসেরে (উৎসর্গ সম্পাদন) এর সম্মিলিত রূপ।[১] খ্রিস্টান ইউক্যারিস্টগণ রক্ত উৎসর্গ থেকে রক্তপাতহীন উৎসর্গকে আলাদা করে বোঝাতে লাতিন শব্দ স্যারিফিসিয়াম ব্যবহার করে। অখৃষ্টিয় জাতিগত ধর্মগুলো নিজেদের মত করে স্যাক্রিফাইস শব্দের প্রতিশব্দ ব্যবহার করে যেমন ইন্ডিক ইয়াজনা, গ্রিক থুসিয়া, জার্মানিক ব্লোতান, সেমিটিক কোরবান/কুরবান, স্লাভিক যারত্বয়া।

শব্দটি সাধারণত কিছু ছাড়া করা অথবা কোন কিছু দিয়ে দেওয়া। শব্দটি রূপকার্থেও ব্যবহার করা হয়। অন্যের ভালো করা বোঝানোর জন্য অথবা বড় কিছু পাওয়ার জন্য ছোট ক্ষতি স্বীকার করা যেমন।তাস খেলায়।[২][৩][৪]

তত্ত্ব[সম্পাদনা]

রেনে গিরার্ডের মত পন্ডিতগণ মত প্রকাশ করেছেন যে উৎসর্গের উৎস হচ্ছে দায়মুক্তি (স্কেপগোটিং)।[৫]

পশু বলিদান[সম্পাদনা]

ধর্মের অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিক ভাবে হত্যা করে পশু বলিদান করা হয়। স্রষ্টা বা স্রষ্টাসমূহ অথবা প্রকৃতির গতি পরিবর্তনের জন্য অনেক ধর্মের অনুগামীগণ পশু বলিদান করে থাকেন। এটা পশু বলিদানে অংশ নেওয়া সংস্কৃতিতে সামাজিক বা অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করে কারণ উৎসর্গ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের খাওয়ার জন্য ভোজ্য মাংস বন্টন করা হয়। মুসলমান, হিন্দু, হিব্রু থেকে গ্রীকরোমীয় (লুস্ত্রাশিওর পবিত্র হওয়ার উৎসব), প্রাচীন মিশরীয় (আপিসের অর্চনা) এবং আজটেক থেকে ইয়োরুবা সকল ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ পশু বলি প্রথা পালন করে এবং করেছে। ভেড়া, ষাঁড়, পুরুষ বাছুর, এবং রাঁজহাস ব্যতীত অন্যান্য প্রাণী উৎসর্গ করা মিশরীয়দের ধর্ম বিরুদ্ধ ছিলো।[৬]

অসুস্থের রোগমুক্তি এবং ওড়িশা দেবতার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য উড়িষ্যায় স্যানতারিয়া এবং অন্যান্য বংশানুক্রম পশু বলি করে থাকে। স্যানতারিয়ায় ছোট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পশুবলি দেওয়া হয় যার মধ্যে আছে পূজা, অর্চনা, দান। গ্রীসের গ্রামীণ খ্রিস্টানেরা অর্থোডক্স সাধুদের উদ্দেশ্যে পশুবলি দিয়ে থাকে যা কৌরবানিয়া নামে পরিচিত। প্রকাশ্যে এই আচার নিষিদ্ধ হলেও প্রায়ই সহ্য করতে হয়।

গ্রীক উৎসর্গের উদ্ভব সম্পর্কে ওয়াল্টার বার্কার্টের তত্ত্ব[সম্পাদনা]

উৎসর্গ সম্পর্কে পন্ডিত ওয়াল্টার বার্কাটের মতে গ্রীক উৎসর্গ শিকার চর্চা থেকে উদ্ভূত হয়েছে। শিকারীরা খাওয়া এবং বেঁচে থাকার জন্য অন্য জীবন্ত প্রাণী করে থাকে। কিন্তু তাদের অনেকেই এর জন্য নিজেকে দোষী ভাবে এবং এসব ধর্মানুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেদের দায়মুক্তির চেষ্টা করে। এই তত্ত্বের পক্ষে প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে ডাইপোলাইয়াকে সুপারিশ করা হয় যা সীমিত ভাবে চর্চিত একটি প্রাচীন এথেনিয় উৎসব। এই উৎসবে একটি ষাঁড় বলি দেওয়া হয়। এই আনুষ্ঠানিকতার প্রধান উপাদান চাষাবাদে ব্যবহৃত ষাঁড় যা একসময়ে এথেন্সে হত্যা করা অপরাধ বলে বিবেচিত হতো। তার তত্তানুসারে ষাঁড় হত্যাকারী সবাইকে উৎসর্গের শিকারকে হত্যানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া উচিত বলে আহবান জানাতো। রাজ্য আয়োজিত বিখ্যাত উৎসর্গ উৎসবের সাধারণ নাম হিক্যাটম্ব (শত ষাঁড়) হয়ে ওঠে।

এথনিয় রাজ্যের সম্প্রসারণের সাথে সাথে ভোজন অনুষ্ঠান এবং রাজ্য উৎসবে মানুষকে খাওয়ানোর জন্য বিপুল পরিমাণ ষাঁড়ের প্রয়োজন হতে থাকে। বলির শোভাযাত্রায় ১০০ ষাঁড় বন্ধনমুক্ত করা হয়।

নরবলি[সম্পাদনা]

আজটেক নরবলি, কোডেক্স মেনডোজা, ১৬ শতক, (বদলিয় গ্রন্থাগার, অক্সফোর্ড)

নরবলি অনেক প্রাচীন সংস্কৃতি চর্চা করতো। ঈশ্বর বা আত্মাকে তৃপ্ত বা খুশী করতে ধর্মানুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষ হত্যা করতো।

বিভিন্ন মহাদেশে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের নরবলির কিছু উপলক্ষ:

  • নতুন মন্দির বা সেতু উদ্বোধনের সময় নরবলি দেওয়া হতো।
  • রাজা, প্রধান পুরোহিত বা বড় নেতার মৃত্যু হলে নরবলি দেওয়া হতো। বিশ্বাস করা হতো উৎসর্গীকৃত ব্যক্তিটি মৃত পরবর্তী জীবনে মৃত নেতাকে সেবা করবে।
  • প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময়ে নরবলি দেওয়া হয়। খরা, অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প ইত্যাদিকে দেবতার রাগ বা বিরক্তির লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং ঐশ্বরিক ক্রোধ প্রশমিত করার জন্য নরবলি দেওয়া হতো।

মেসোআমেরিকার অনেক প্রাক কলম্বিয় সভ্যতা নরবলির চর্চা করতো। আজটেকরা বড়সড় আকারে নরবলি প্রথা পালন করতো। প্রতিদিন সূর্য উদয়ের জন্য তারা একজন করে মানুষ বলি দিতো। জনশ্রুতি আছে তেনোচতিৎলান হাজার হাজার নরবলি দেওয়া এবং মেক্সিকোয় স্প্যানিশ আক্রমন ও যুদ্ধের সময়ে একাধিক বন্দীকে বলি দেওয়া হয়।

স্ক্যান্ডিনেভিয়ার পুরানো স্ক্যান্ডিনেভিয় ধর্মে নরবলির বিধান ছিলো এবং নর্স সাগা এবং জার্মান ঐতিহাসিকগণ উভয়েই এর সংগে সম্পর্ক উল্লেখ করেছেন।

প্রাক হেলেনিয় মিনোয়ান সভ্যতায় নরবলির প্রমাণ আছে। ক্রিটের ক্নসসের সিটাডেলে উৎসর্গীকৃত নরদেহ খুঁজে পাওয়া গেছে। ক্নসসের উত্তর বাড়িতে শিশুদের হাড় পাওয়া গেছে যাদেরকে জবাই করা হয়েছিলো। সম্ভবত প্রাক হেলেনিয় যুগে নরবলির পাশাপাশি নরমাংস ভোজন ঐতিহ্য ছিলো। থেসেউস এবং মিনোতাউর (ক্নসসের গোঁলকধাধা) পৌরাণিক কাহিনী নরবলির প্রমাণ দেয়। পুরাণ অনুসারে এথেন্স নরবলির জন্য মিনোতাউরের উদ্দেশ্যে সাতজন পুরুষ ও সাতজন স্ত্রীলোককে ক্রিটে প্রেরণ করে। পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে জানা যায় নরবলির অধিকাংশ ছিলো তরুন প্রাপ্তবয়স্ক অথবা শিশু।

কার্থেজের ফিনিশীয়গণ শিশুবলির প্রথা পালন করতো। রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় কারণে প্রাচীন কর্তৃপক্ষ শিশুবলির আয়োজন করতো। প্রত্নতত্ত্বীয় অনুসন্ধানে উৎসর্গীকৃত পশুর হাড়ের সংগে বিপুল সংখ্যক শিশুর হাড় পাওয়া গেছে। প্লুতার্ক (৪৬-১২০খ্রিস্টাব্দ) বলি প্রথার প্রচলন করেন, যেমনটি হতো তার্তুলিয়ান, ওরোসিয়াস, ডিয়োডোরাস সিকুলাস এবং ফিলোর ক্ষেত্রে। তারা বর্ণনা করেন শিশুকে আগুনে ঝলসে মেরে ফেলতো।

আজকের দিনেও অনেক ঐতিহ্যবাহী ধর্মে গোপনীয়ভাবে নরবলি প্রথা পালন করা হয়।[৭] পৃথিবীর কোন দেশ নরবলি সমর্থন করে না। বর্তমান পৃথিবীতে এটা অপরাধ বলে গণ্য হয়।

ভার্জিল তার আয়েনিড এ সিনন চরিত্র দাবি (মিথ্যাভাবে) করে যে তিনি সাগরকে শান্ত করতে পসেইডনকে উৎসর্গ করতে যাচ্ছেন।

ধর্মে উৎসর্গ[সম্পাদনা]

পৃথিবীর ধর্মগুলোর অধিকাংশই উৎসর্গ বা বলি প্রথাকে সমর্থন করেছে।

খ্রিস্টান ধর্ম[সম্পাদনা]

চিত্রকর্মে যীশুর আত্মোৎসর্গ : ক্রাইস্ট অন দ্যা ক্রস, কার্ল হেইনরিক ব্লচ

ত্রিত্ববাদী খ্রিস্টান ধর্মে ইশ্বর যীশুর দেহধারী, স্রষ্টা এবং মানপবের পুনর্মিলনের জন্য পুত্রকে উৎসর্গ করেন, যা নিজেকে পাপের মাধ্যমে নিজেকে ইশ্বর থেকে আলাদা করে। ২য় সহস্রাব্দের সূচনালগ্ন থেকে পশ্চিমা ধর্মতত্ত্বে একটা মত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে মানবতার পাপ প্রায়শ্চিত্ত করতে ইশ্বরের ন্যায়বিচার প্রয়োজন, যাতে মানুষ স্বর্গে তাদের স্থান পুনরুদ্ধার করতে এবং অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পারে। ইশ্বর জানতেন স্বল্প মানুষের পক্ষে যথেষ্ট প্রায়শ্চিত্ত সম্ভব নয়। কিন্তু ইশ্বরের কাছে মানবতার অপরাধ ছিলো অসীম। তাই ঈশ্বর আব্রাহের সংগে একটা চুক্তি করেন। চুক্তিটি তখনই বাস্তবায়িত হয় যখন তিনি তার একমাত্র পুত্রকে প্রেরণ করেন। খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্বে এই বলিদান পুরাতন নিয়মের অপর্যাপ্ত পশু বলিদান প্রথাকে প্রতিস্থাপিত করেছে; ল্যাম্ব অভ গডের ক্রাইস্ট প্রাচী বলিদান কোরবান তোড়াহ (থ্যাংকসগিভিং আচার) এর ভেড়া কুরবানীকে প্রতিস্থাপিত করেছে। মোজাইক আইনে যার প্রধানকে পাসওভার বলা হয়।

রোমান ক্যাথলিক চার্চের মধ্যে ইস্টার্ন অর্থোডক্স গীর্জা এবং মেথডিস্ট চার্চ এবং ইউক্যারিস্ট বা ভর, সেইসাথে পূর্ব ক্যাথলিক গীর্জার ঐশ্বরিক লিটার্জি এবং ইস্টার্ন অর্থডক্স চার্চ, এদের মধ্যে বলিদান প্রথা দেখা গেছে। এংলিক্যানদের মধ্যে এটা স্পষ্ট যে ইউক্যারিষ্ট হচ্ছে প্রশংসা এবং থ্যাংকসগিভিং এর উৎসর্গ এবং খ্রিস্টের সংগে সংযুক্ত হয়ে স্রষ্টাকে উৎসর্গ করা। ১৭৮৯ সালের সাধারণ প্রার্থণা বই এই ধারণা স্পষ্ট করে যে ইউক্যারিষ্ট ধর্মতত্ত্ব ক্যাথলিক ধারণার কাছাকাছি হয়। মার্কিন মেথডিস্ট গীর্জার ইউক্যারিষ্ট লিটার্জিতে আছে "আমাদেরকে এবং আমাদের উপহারকে স্রষ্টার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করি।" মার্কিন মেথডিস্ট গীর্জা আনুষ্ঠানিক ভাবে শিক্ষা দেয় যে "হলি কমিনিয়ন হচ্ছে এক ধরণের উৎসর্গ" যা ক্রুশবিদ্ধ যীশুর সমতুল্য। তিনি আরো উদ্ধৃত করেন:

একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দ্বারা ইউএসসিসিবি নিশ্চিত করে যে মেথোডিস্ট এবং ক্যাথলিকগণ সম্মত হয় যে ইউক্যারিস্টিক উদযাপনের উৎসর্গের ভাষা 'খ্রিস্টের উৎসর্গ সবার জন্য', সেই উৎসর্গ আমাদের সময়েও রয়েছে, আমাদের প্রশংসা এবং থ্যাংক্সগিভিং এর মধ্যে এবং আমাদেরকে খ্রিস্টের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে পিতার কাছে সমর্পণ করতে হবে।[৯] রোমান ক্যাথলিক ধর্মতত্ত্ব বলে ইউক্যারিস্ট ক্রুশের উপরে খ্রিস্টের আত্নোৎসর্গ থেকে পৃথক বা অতিরিক্ত কিছু নয় বরং এটা ঠিক একই আত্মাহুতি যা সময় এবং স্থানকে একত্রিত করে (পৃথিবী সৃষ্টির সময়কার ভেড়া হত্যা থেকে শুরু করে) (রেভ ১৩ঃ৮), নবায়িত হয়ে এবং বর্তমান দিনে শুধুমাত্র পার্থক্য হচ্ছে এখন এটা রক্তপাতহীন পদ্ধতিতে উদযাপন করা হয়। বর্তমান দিনে খ্রিস্টের মৃত্যু অথবা ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে উৎসর্গ করা হয়; এটা ঈশ্বরের কাছে পুনঃউপস্থাপনা, একবার এবং সবার জন্য উৎসর্গ হচ্ছে বর্তমানে খ্রিস্টের উত্থান, যে নিজেকে অবিরত নিবেদন করে এবং এবং ক্রুশের উপরে যা করেছিলেন তার জন্য পিতার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। এই সম্পর্কে পূর্ণ সনাক্তকরণ পাওয়া যায় লাস্ট সাপারে রুটি এবং মদের উপরে খ্রিস্টের বাণীতে পাওয়া যায়ঃ এই হচ্ছে আমার শরীর, যা তোমাদের জন্য দেওয়া হয়েছে, এবং এই হচ্ছে নতুন কনভেন্টের আমার রক্ত, যা আচ্ছাদিত... পাপের জন্য ক্ষমাপ্রার্থণা। পুরান কনভেন্টে মেলচিজেদেক উৎসর্গে রুটি এবং মদ নিবেদন করে (আদিপুস্তক ১৪:১৮; গীতসংহিতা ১১০:৪), খ্রিস্টের শরীর এবং রক্ত হিসেবে।[১০][১১] এবং নিবেদন ক্রুশের উপরে খ্রিস্টে পরিণত হয়। ক্রশের উপর খ্রিস্ট নিজে যাজক (বলি নিবেদন) এবং শিকার (নিজেকে বলিদান), পরবর্তীতে মানব যাজকগণ পবিত্র আদেশ পালনের মাধ্যমে খ্রিস্টের যাজকগিরি শেয়ার করে। ক্রুশের উপরের বলিদান আজকের দিনের পাপ বিমোচনে প্রয়োগ হতে পারে, তাদের উৎসর্গের উদ্দেশ্য এবং প্রার্থনায় এবং যন্ত্রণা থেকে আত্মাকে মুক্তির জন্য।

ওয়াডবার্গের প্রার্থনা বইয়ের একটি পাতা যেখানে পৃথিবীতে হলি ট্রিনিটির সামনে এবং স্বর্গে কুমারী মেরির সামনে পবিত্র ইউক্যারিস্ট পালনের চিত্র আকা রয়েছে।

খ্রিস্টানত্বের কেন্দ্রে আত্ম-বলিদান এবং শহীদের ধারণা রয়েছে। রোমান পুরাণে প্রায়শই আত্মবলিদানের মাধ্যমের ক্রশে খ্রিস্টের দুঃখ অনুভব করার কথা বলা হয়েছে। একজন অনৈচ্ছিক দুর্দশা নিবেদন করতে পারে যেমন অসুস্থতা অথবা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আক্ষেপের মাধ্যে দুর্দশাকে বিদ্রুপ করা। অনেক প্রটেস্ট্যান্টস সমালোচনা করে বলেন যে এটা হচ্ছে খ্রিস্টের উৎসর্গের সক্ষমতার অস্বীকার কিন্তু সেন্ট পলে এর সমর্থন পাওয়া যায়ঃ "এখন আমি তোমার জন্য আমার দুঃখভোগের আনন্দ ভোগ করছি এবং আমার মাংস দ্বারা আমি খ্রিস্টের শরীরের কষ্ট দূর করবো এবং এটা হচ্ছে গীর্জা (কোল ১ঃ২৪)। পোপ দ্বিতীয় জন পল তার স্যাল্ভিফিসি ডলরিসে পরবর্তীতে এটার ব্যাখ্যা দেন (১১ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৪):

ক্রুশবিদ্ধ খ্রিস্ট শুধুমাত্র দুর্দশার মাধ্যমে দায়মোচন নয় কিন্তু প্রত্যেক মানুষের দুর্দশা লাঘব করে... দায়মোচনে সমগ্র মানুষের তার নিজের অংশ রয়েছে। প্রত্যেককে তার নিজের ভাগের দুর্দশা ভোগ করতে হবে যার মাধ্যমে বিমোচন সম্পন্ন হবে... প্রত্যেকে নিজের মধ্যে এটা আনার মাধ্যমে খ্রিস্টের দুর্দশা মোচন করে্‌, খ্রিস্টের দুঃখভোগ পৃথিবীর জন্য ভালো বয়ে এনেছে। এই ভালো অফুরন্ত এবং অসীম। কোন মানুষ এতে অন্যকিছু যুক্ত করতে পারবে না। কিন্তু একই সময়ে সকল মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘবের জন্য নিজের দেহ উৎসর্গ করেন যা গীর্জার রহস্য।

মেথোডিস্ট এবং কিছু এংলিক্যান সহ কিছু প্রটেস্ট্যান্ট উৎসর্গ হিসেবে ইউক্যারিস্ট এর ধারণা প্রত্যাখান করে, এমনকি এটাকে পবিত্র খাবার হিসেবে বিবেচনা করে না (লুথারানগণ রুটি এবং মদে খ্রিস্টের উপস্থিতিতে বিশ্বাস করে)। ইউক্যারিস্টের উৎসর্গের প্রকৃতিতে সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ ঐতিহ্য যুক্ত হয়েছে। নতুন কনভেন্টে পাপের জন্য উৎসর্গ সম্পর্কে ক্যাথলিক/অর্থোডক্স প্রতিক্রিয়া হচ্ছে পূর্বে বলা ক্রুশে পাপের জন্য উৎসর্গ সময় এবং স্থানকে রক্তপাতহীন উপায়ে একীভুত করে এবং খ্রিস্ট হচ্ছেন প্রকৃত যাজক যিনি মানবের সকল কর্মে নিজে যাজকত্ব করেন। যাজকেরা দ্যোতনা বহন করে যারা উৎসর্গ নিবেদন করে, এংলিক্যান এবং লুথারানদের ব্যক্তিক্রম ছাড়া কিছু প্রটেস্ট্যান্ট সাধারণত তাদের ক্লার্জি ব্যবহার করে না। ইভ্যানজেলিক্যাল প্রটেস্ট্যান্টগণ ক্রুশে খ্রিস্টের বলিদান গ্রহণ করতে জোর গুরুত্ব দিয়েছে সচেতনভাবে এবং ব্যক্তিগতভাবে ব্যক্তির পাপের প্রায়শ্চিত্তের জন্য খ্রিস্টকে ব্যক্তিগত পালনকর্তা এবং পরিত্রাতা হিসেবে গ্রহণ করে

অর্থডক্স চার্চ ইউক্যারিস্ট উদযাপনে শেষ ভোজনকে রিন্যাক্টমেন্ট এর বদলে ধারাবাহিক হিসেবে দেখে যেমনটি ফ্রা. জন মাতুসিয়াক বলেছেনঃ রহস্যময় নৈশভোজের নিনাক্ট্যান্ট খুব বেশী লিটার্জি না অথবা এই অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা যা সময় এবং স্থানকে অতিক্রমকে করে। অর্থোডক্সগণ ইউক্যারিস্টকে রক্তপাতহীন উৎসর্গ হিসেবে দেখে যেখানে স্রষ্টার উদ্দশ্যে আমরা যে রুটি এবং মদ নিবেদন করি যা যীশু খ্রিস্টের শরীর এবং রক্তে রূপান্তরিত হয় পবিত্র আত্মার ইশারায় যিনি পরিবর্তন সাধন করেন। সেন্ট জনের ক্রাইসস্টমের স্বর্গীয় লিটার্জি প্রার্থনায় এটা দেখা যায় যখন যাজক বলেন, গ্রহন করো, ও ঈশ্বর, আমাদের প্রার্থনা, এসব নিবেদন করার মত সামর্থবান করো আমাদেরকে এবং প্রার্থনা এবং রক্তপাতহীন উৎসর্গ এসব লোকের জন্য, এবং মনে রেখো এই সংরক্ষিত আদেশ এবং ঐ সকল বস্তু যা আমাদের সাহচর্য্যে এসেছিলোঃ ক্রশ, কবর, তৃতীয় দিনে পুনরুত্থান, স্বর্গারোহন, ডান হাতের নিচে বসা, দ্বিতীয় এবং মহিমান্বিত আগমন, সব কিছুর জন্য আমরা নিবেদন করি এবং ... তুমি তুমি মানুষ এবং আমাদের প্রধান যাজকের নামে আমাদেরকে এই লিটারজিক্যাল এবং রক্তপাতহীন উৎসর্গ গ্রহণ করো...

হিন্দুধর্ম[সম্পাদনা]

সংস্কৃত যজ্ন(আধুনিক হিন্দি উচ্চারণঃ যজ্ঞ) প্রায়ই উৎসর্গ হিসেবে অনুবাদ করা হয়। (এছাড়া উৎসর্গকে সাধারণ ভাবে পূজা বলা হয়)।[১২] ঘি (ঘৃত), শস্য, মশলা এবং কাঠ মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে আগুনে ঢালাকে উৎসর্গ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। আগুন অগ্নি স্বর্গীয় বাহক যিনি দেবদেবীর কাছে অর্ঘ্য বহন করে নিয়ে যান।[১৩] বৈদিক যুগে যোজনায় সাধারণত দুধ, ঘি, দই, শষ্য উৎসর্গ করা হতো এবং সোমা গাছ-প্রাণী উৎসর্গ কম প্রচলিত ছিলো। বিয়ে এবং শেষকৃত্যে ও ব্যক্তিগত পূজায় প্রায়ই যজ্ঞের আয়োজন করা হয়। হিন্দুধর্মে আভ্যন্তরীণ তথা বাহ্যিক উপাসনার মাধ্যমে পরমার্থের নিকট আত্মসমর্পনকেও উৎসর্গ বলা হয়।[১৪]

ইসলাম[সম্পাদনা]

পশু জবাইকে আরবিতে বলা হয় দাবিহা (ذَبِيْحَة) বা কুরবান (قُرْبَان)। শব্দটির মূল সম্ভবত ইহুদি শব্দ কোরবান। কিছু জায়গা যেমন বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং ভারতে কুরবানী বলা হয়ে থাকে। ইসলামী প্রেক্ষাপটে পশু বলিদানকে দাবিহা বলা হয় যার অর্থ ধর্মানুষ্ঠানের মাধ্যমে পশু জবাই। শুধু মাত্র ঈদ-উল-উল-আযহায় পশু উৎসর্গ করা হয়। উৎসর্গীকৃত পশুটি একটি ভেড়া, একটি ছাগল, একটি উট অথবা একটি গাভী হতে পারে। তবে পশুটিকে অবশ্যই সুস্থ এবং জীবিত হতে হবে। ... অতএব আল্লাহ নামাজ এবং কুরবানীর আদেশ দিলেন। (সূরা আল-কাউসার) কুরআন ১৯৮.২ । ইসলামী প্রেক্ষাপটে কুরবানী হচ্ছে সমৃদ্ধশালীদের দরিদ্রদের সংগে সৌভাগ্য শেয়ারের বিধান দেওয়া হয়েছে।

ঈদ উল আজহা (উৎসর্গের উৎসব) উপলক্ষে বিশ্বের সব সামর্থ্যবান মুসলমান নবী ইব্রাহিম (আব্রাহাম) এর সুন্নাহ পালন করতে একটি গরু বা ভেড়া জবাই করে। জবাইকৃত পশুর মাংস তিনটি সমান অংশে ভাগ করা হয়। প্রথম অংশ কুরবানী দাতার নিজের, দ্বিতীয় অংশ তার আত্মীয় পরিজনকে এবং তৃতীয় অংশ গরীব দু:খীর মাঝে বন্টন করে দেওয়া হয়।

আল কোরআনে বর্ণিত আছে, কুরবানির সংগে পশুর রক্ত মাংসের কোন সম্পর্ক নেই। (কুরআন ২২:৩৭: "এটা তাদের মাংস নয় কিংবা তাদের রক্ত নয় যা আল্লাহর কাছে পৌঁছায়। তার কাছে শুধু তোমাদের ভক্তিই পৌঁছায়...)। এর মাধ্যমে দরিদ্রকে সাহায্য করা হয় এবং ইব্রাহিম তার পুত্র ইসমাইলকে আল্লাহর আদেশে কুরবানি দিয়েছিলেন তা স্মরণ করা হয়।

বাংলা, উর্দু এবং ফার্সি শব্দ "কোরবানী" এসেছে আরবি শব্দ 'কুরবান' থেকে। বলা হয়ে থাকে সর্বশক্তিমান আল্লাহর নৈকট্য এবং সহানুভূতি লাভের জন্য এই ধর্মানুষ্ঠান পালন করা হয়। উৎসগতভাবে কুরবান শব্দের অর্থ হচ্ছে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য দাতব্য সেবা, অন্য কিছুর জন্য নয়। কিন্তু পরবর্তীতে ইদ উল আজহার দিন আল্লাহর জন্য পশু জবাইকে শুধুমাত্র কুরবানী বলা চালু হয়ে যায়।[১৫]

মুসলমানগণ এরকম আরো একটি প্রতিকী অনুষ্ঠান পালন করে তা হচ্ছে হজ্বের সময়ে শয়তানের উদ্দেশ্যে ইব্রাহীম এবং ইসমাইলের মত শয়তানকে উদ্দেশ্য করে পাথর নিক্ষেপ করা।[১৬][১৭]

ইহুদীধর্ম[সম্পাদনা]

প্রাচীন ইজরায়েলে বলিদান অনুষ্ঠানের রেওয়াজ ছিলো। লেভিক্টাস বইয়ের শুরুর অধ্যায়ে উৎসর্গ করার সঠিক পদ্ধতির উল্লেখ আছে। যদিও রক্তহীন উৎসর্গ (শস্য এবং মদ) উল্লেখ আছে তবে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী উৎসর্গ করা।[১৮] রক্তের বলি কয়েকভাগে বিভক্ত। হোমবলি (হিব্রু: עלה קרבנות) তে সমগ্র প্রাণীটিকে পুড়িয়ে ফেলা হয়, অপরাধবোধ অর্ঘ এ কিছু অংশ পোড়ানো হয় এবং কিছু অংশ যাজকের জন্য রেখে দেওয়া হয়, শান্তি অর্ঘ্য তে অক্ষত প্রাণীর কিছু অংশ পোড়ানো হয় এবং বাকিটা বিশুদ্ধ অবস্থায় খাওয়া হয়।

দ্বিতীয় মন্দির ধংসের পরে, সামারিতীয় ব্যতীত অন্যদের ধর্মীয় উৎসর্গ নিষিদ্ধ করা হয়।[১৯] একজন মধ্যযুগীয় ইহুদি যুক্তিবাদী মেইমোনাইডস যুক্তি দেখান যে, স্রষ্টার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ প্রার্থনা এবং দার্শনিক ধ্যানের তুলনায় নিকৃষ্ট। যাইহোক স্রষ্টা বোঝেন যে ইজরাইলিরা পশুবলি করে কারণ পার্শ্ববর্তী প্যাগান গোত্রগুলি প্রাথমিকভাবে স্রষ্টার সাথে যোগাযোগের জন্য পশুবলি করে থাকে। মেইমোনাইডের মতে ইজরায়েলিরা যে বিশ্বাস করে স্রষ্টা ও মানুষের মধ্যকার সম্পর্কের প্রয়োজনীয় অংশ উৎসর্গ তা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। মেইমোনাইডস উপসংহারে আসেন যে ইশ্বর উৎসর্গ গ্রহণ করেন এই বিশ্বাস একটি মানুষের মানসিক সীমাবদ্ধতা। এটা আশা করা যায় যে ইজরাইলিরা লাফ দিয়ে প্যাগান পূজা থেকে এক ধাপে প্রার্থনা ও ধ্যানে চলে আসবে। কিংকর্তব্যবিমূঢ় দের জন্য নির্দেশনায় তিনি লিখেছেন:

"সেই সময়কার পুরুষদের মধ্যে সাধারণ প্রথা ছিলো এবং উপাসনার সাধারণ রীতি ছিলো যে ইজরায়েলিরা উৎসর্গের জন্য পশু নিয়ে আসবে... যা প্রজ্ঞা অনুযায়ী এবং ইশ্বরের পরিকল্পনা... এই যে স্রষ্টা আমাদের ছেড়ে দিতে আদেশ দেননি এবং এসব সেবার রীতি পরিত্যাগ করতে। এরকম আদেশ মান্য করা নর প্রকৃতির বিপরীত, যারা সাধারণত নিজেদের ব্যবহারিকের সংগে ঝুলে থাকে; এটা সেই সময়ে সেই ছাঁপ রাখতো যা বর্তমানে একজন নবী রাখে (১২ শতক), তিনি যদি আমাদেরকে ইশ্বরের নামে ইশ্বরের পথে আহবান করেন যে আমাদের ইশ্বরের প্রার্থণা করা উচিত নয়, খুব দ্রুত নয়, বিপদে তার সাহায্য প্রার্থনা না করা, আমাদেরকে তাকে কর্মে।নয় ভাবনার দ্বারা তাকে সেবা করতে হবে।" (বুক থ্রি, চ্যাপ্টার ৩২। অনুবাদ করেছেন এম. ফ্রাইডল্যান্ডার, ১৯০৪, দ্যা গাইড ফর দ্যা পারপ্লেক্সেড, ডোভার পাবলিকেশন্স, ১৯৫৬ সংস্করণ)।

তবে অনেকেই যেমন ন্যাখাম্যানাইডস (লেভিকটাস ১:৯ এ তাওরাতের পাদটীকায়) ভিন্নমত পোষণ করেন। তারা বলেন উৎসর্গ ইহুদী ধর্মে আদর্শ এবং মূলের সংগে জড়িত।

তওরাত এবং তনখের শিক্ষা নরবলির সাথে ইজরায়েলিদের পরিচিতি প্রকাশ করে, উদাহরণ হিসেবে আইজ্যাককে তার পিতা আব্রাহাম প্রায় বলি দিয়েছিলেন (আদিপুস্তক ২২:১-২৪) এবং অনেকে বিশ্বাস করে জেফাথার কন্য (জাজেস ১১:৩১-৪০) সারাজীবনের জন্য নারীমঠে সারাজীবনের সেবা করেন এবং চিরকুমারী, পুরুষের সংসর্গবিহীন জীবন কাটান (v৩৭)। রাজা মোয়াব তার প্রথম পুত্র এবং উত্তরাধিকারীকে সম্পূর্ণ পুড়িয়ে পৌত্তলিক দেবতা চেমশকে উৎসর্গ করেন।[২০] বুক অফ মিকায় আছে, একজন জিজ্ঞেস করছে, আমার পাপের জন্য কি আমার প্রথম জাত সন্তান দান করবো, আমার আত্মার পাপের জন্য আমার শরীরের ফল? (Micah 6:7) এবং জবাবে বলা হয়, এটা তো তোমাকে বলা হয়েছে হে মানুষ, কি ভালো এবং প্রভু তোমায় কোন পথ দেখাবেন তার জন্য প্রয়োজন: শুধুমাত্র ন্যায়ত কাজ করো এবং করুণা ভালোবাসো এবং বিনীতভাবে ইশ্বরের সাথে হাঁটো।': (Micah 6:8) জেরেমিয় শিশুবলির ন্যক্কারজনক চর্চাকে উৎসাহ দিয়েছে। দেখুন জেরেমিয় ৭:৩০-৩২।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Harper, Douglas। "sacrifice"Online Etymology Dictionary। সংগৃহীত ২০১৫-০৮-২৩ 
  2. "Archived copy"আসল থেকে ১ অক্টোবর ২০০৯-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০০৯ 
  3. "Archived copy"আসল থেকে ১৭ এপ্রিল ২০০৯-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০০৯ 
  4. Helm, Sarah (১৭ জুন ১৯৯৭)। "Amsterdam summit: Blair forced to sacrifice powers on immigration"The Independent (London)। সংগৃহীত ২৩ মে ২০১০ 
  5. Cowdell, Scott; Fleming, Chris; Hodge, Joel, সম্পাদকবৃন্দ (২০১৪)। Violence, Desire, and the Sacred। Violence, Desire, and the Sacred। 2: René Girard and Sacrifice in Life, Love and Literature। Bloomsbury Publishing। আইএসবিএন 9781623562557। সংগৃহীত ২০১৬-০৬-০১ 
  6. introduction, Herodotus ; translated by Robin Waterfield ; with an; Dewald, notes by Carolyn (২০০৮)। The histories (1a ed. 1998; reimpr. 2008. সংস্করণ)। Oxford: Oxford University Press। আইএসবিএন 978-0-19-953566-8 
  7. Phelps, Nate। "Ritual Child Sacrifice Is Alive and Well in 21st Century America"Huffington Post। সংগৃহীত ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  8. This Holy Mystery, Study Guide: A United Methodist Understanding of Holy Communion (English ভাষায়)। The General Board of Discipleship of The United Methodist Church। ২০০৪। পৃ: ৯। 
  9. Methodist-Catholic Dialogues (English ভাষায়)। United States Conference of Catholic Bishops and The General Commission on Christian Unity and Interreligious Concerns of The United Methodist Church। ২০০১। পৃ: ২০। 
  10. Losch, Richard R. (১ মে ২০০২)। A Guide to World Religions and Christian Traditions। Wm. B. Eerdmans Publishing। পৃ: ৯০। আইএসবিএন 9780802805218। "In the Roman Catholic Church the official explanation of how Christ is present is called transubstantiation. This is simply an explanation of how, not a statement that, he is present. Anglicans and Orthodox do not attempt to define how, but simply accept the mystery of his presence." 
  11. Neal, Gregory S. (১৯ ডিসেম্বর ২০১৪)। Sacramental Theology and the Christian Life। WestBow Press। পৃ: ১১১। আইএসবিএন 9781490860077। "For Anglicans and Methodists the reality of the presence of Jesus as received through the sacramental elements is not in question. Real presence is simply accepted as being true, its mysterious nature being affirmed and even lauded in official statements like This Holy Mystery: A United Methodist Understanding of Holy Communion." 
  12. "act of worship or devotion, offering, oblation, sacrifice (the former meanings prevailing in Veda, the latter in post-Vedic literature", Monier-Williams.
  13. Subramuniyaswami, Satguru Sivaya (২০০৩)। Dancing With Siva: Hinduism's Contemporary Catechism। Himalayan Academy Publications। আইএসবিএন 0-945497-96-2 
  14. Subramuniyaswami, p. 849.
  15. "Online Qurbani"। নভেম্বর ১, ২০১২। 
  16. Stoning of the Devil
  17. Hajj
  18. Encyclopaedia Judaica | second edition | vol 17 | sacrifice | pg 641
  19. The Samaritans .com আর্কাইভ 4 March 2006 at the Wayback Machine.
  20. http://www.biblicalstudies.org.uk/pdf/grace-journal/11-3_34.pdf