উচ্চতা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
ঘনাকার একটি বস্তুর মাধ্যমে বিভিন্ন মাত্রা যেমন দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতাকে প্রদর্শন করা হচ্ছে।

উচ্চতা হল, উল্লম্বদিকে দূরত্বের পরিমাপ, হয় কোন কিছু বা কেউ কতটুকু "লম্বা", কিংবা কোন অবস্থান কতটুকু "উঁচুতে"। 

উদাহরণস্বরূপ, "একটি ভবনের উচ্চতা হল - ৫০ মিটার" বা " একটি বিমান উচ্চতা প্রায় ১০,০০০ মিটার"।

শব্দটি যখন সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতার সাপেক্ষে একটি বিমান বা একটি পর্বত শিখরের উচ্চতা পরিমাপে ব্যবহার করা হয়, প্রয়োশই এটিকে বলা হয় অ্যালটিটূড বা খাড়াই।[১]

একটি কার্টেসিয়ান স্থানাংকের পরিমাপ ব্যবস্থায়, উচ্চতাকে পরিমাপ করা হয় উল্লম্ব অক্ষ (y) বরাবর একটি নির্দিষ্ট বিন্দু ও অন্য যে কোন মানের বিন্দুর মধ্যে, যার মান আগের y-মানের সমান হবে না। যদি উভয় বিন্দুর, একই y-এর মান থাকে, তাহলে তাদের মধ্যে আপেক্ষিক উচ্চতার মান শূন্য হবে।

ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

বাংলা ভাষায় উচ্চতা শব্দটির ব্যুৎপত্তি ঘটেছে উচ্চ থেকে।

গণিতের ক্ষেত্রে[সম্পাদনা]

কোন একটি শূণ্য স্থানের প্রাথমিক মডেলের ক্ষেত্রে, উচ্চতাকে ধরা যেতে পারে, তৃতীয় মাত্রা হিসাবে, অপর দুটি মাত্রা হচ্ছে, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ। উচ্চতা সাধারণত দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ -এর তলের সাথে লম্বভাবে থাকে।

উচ্চতাকে আরো ব্যবহার করা হয়, কিছু বিমূর্ত সংজ্ঞা প্রদানের জন্য। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

  1. একটি ত্রিভুজের অ্যালটিটূড বা খাড়াই, যা একটি ত্রিভুজের চূড়া থেকে বিপরীত প্রান্ত পর্যন্ত যে দৈর্ঘ্য তার মান;
  2. বৃত্তাকার ছিন্নাংশের (Circular Segment) দূরুত্বের পরিমাপ হল একটি বৃত্তের বৃত্তচাপ দ্বারা গঠিত বৃত্তাকার ছিন্নাংশের মধ্যবিন্দু থেকে বৃত্তচাপটি দ্বারা ছেদ করা রেখাদ্বয়ের মধ্যের দূরত্ব, (বৃত্তাকার ছিন্নাংশের চিত্রটি দেখুন);
  3. একটি মূলকৃত ট্রি স্ট্রাকচারে, একটি শীর্ষবিন্দুর উচ্চতার দৈর্ঘ্য হল পাতা থেকে শীর্ষবিন্দু পর্যন্ত নিম্নগামী দীর্ঘতম পথ;
  4. এ বীজগাণিতিক সংখ্যা তত্ত্বে, একটি "উচ্চতা ফাংশন" হল বীজগাণিতিক সংখ্যালঘিষ্ঠ বহুপদী সম্পর্কিত পরিমাপ;

অন্যান্য ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে বিনিময় বীজগণিত এবং উপস্থাপনা তত্ত্ব প্রভৃতিতে।

ভূতত্ত্ববিজ্ঞানে[সম্পাদনা]

ভূতত্ত্ব[সম্পাদনা]

পার্থিব জগতের উচ্চতা হিসাব করার জন্য যদিওবা উচ্চতাকে একটি রেফারেন্স তলের সাপেক্ষে পরিমাপ করা হয়, একটি শূন্য মানের পৃষ্ঠতলের উপর ভিত্তি করে, যা সমুদ্র পৃষ্ঠতল নামে পরিচিত। উভয় অ্যালটিটূড ও এলিভেশন হল উচ্চতার প্রতিশব্দ, যা সাধারণত সংজ্ঞায়িত করা হয় গড় সমুদ্র পৃষ্ঠতল থেকে কোন বিন্দুর অবস্থানে মান। যে কেউ সমুদ্র পৃষ্ঠতলকে  একটি মহাদেশের নীচে সম্প্রসারিত করে কল্পনা করতে পারে, সহজভাবে, যে কেউ মহাদেশের ভিতর দিয়ে যাওয়া অনেক সংকীর্ণ খালের কথা কল্পনা করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে, মহাদেশের নীচে সম্প্রসারিত করা সমুদ্র পৃষ্ঠতলকে নির্ণয় করা হয় মাধ্যাকর্ষীয় পরিমাপ থেকে, এবং কিছুটা ভিন্ন গাণিতিক পদ্ধতির মাধ্যমে; দেখুন ভূগণিত, উচ্চতা

ভূগণিতের ক্ষেত্রে[সম্পাদনা]

সমুদ্র পৃষ্ঠতল থেকে পরিমাপের পরিবর্তে ভূগণিতবিদগণ প্রয়োশই উচ্চতাকে সংজ্ঞায়িত করতে পছন্দ করেন একটি রেফারেন্স উপবৃত্তের পৃষ্ঠ থেকে, দেখুন ভূগণিতিক পদ্ধতিতে উলম্ব উপাত্ত নির্ণয়

কোন একটি ভৌগলিক স্থানের উচ্চতার সংজ্ঞা প্রদানের জন্য একটি রেফারেন্সের প্রয়োজন পরে। উদাহরণস্বরূপ, সমুদ্র পৃষ্ঠতলের উচ্চতাকে রেফারেন্স ধরে এলিভেশন অনুসারে সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ হল মাউন্ট এভারেস্ট, যা অবস্থিত নেপালতিব্বত, চীনের সীমান্তে; তবে পদদেশ থেকে চূড়া পর্যন্ত পরিমাপ করলে সর্বোচ্চ পর্বত হল মেউনে কিয়া (Mauna Kea), হাওয়াই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

এভিয়েশন ব্যবস্থায়[সম্পাদনা]

এভিয়েশনের পরিভাষায়, উচ্চতা, অ্যালটিটূডএলিভেশন এই তিনটি প্রতিশব্দ নয়। সাধারণত, একটি বিমানের অ্যালটিটূড পরিমাপ করা হয় সমুদ্র পৃষ্ঠতল থেকে এটি উঁচুতে রয়েছে, অপরদিকে, যখন একটি মাটিতে থাকে তখন তখন মাটি থেকে এর দূরত্ব হল এর উচ্চতা। এলিভেশনের ক্ষেত্রেও সমুদ্র পৃষ্ঠতল থেকে দূরত্ব পরিমাপ করা হয়, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি ভূমি থেকে বস্তুসমূহের দূরত্ব পরিমাপের বৈশিষ্ট্য। সুতরাং, এলিভেশনের সাথে বস্তুর উচ্চতা যোগ করলে অ্যালটিটূডের মানের সমান হয়, কিন্তু অ্যালটিটূড শব্দটির বিভিন্ন অর্থ রয়েছে এভিয়েশন ব্যবস্থায়।

মানব সংস্কৃতিতে[সম্পাদনা]

মানুষের উচ্চতা নিয়ে পড়াশোনা হল এনথ্রোপোমেট্রয় বিজ্ঞানের একটি অংশ। যদিওবা গণমানুষের উচ্চতার পার্থক্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে মূলত জেনেটিকাল কারণে, তবে জনগণের ভিতর উচ্চতার পার্থক্যের বেশিরভাগই ঘটে পরিবেশগত কারণে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

উন্নয়নশীল দেশগুলির জনগণের পুষ্টিমানের পরিবর্তন নিরীক্ষণের জন্য জাতিসংঘ উচ্চতার পরিবর্তনের পরিসংখ্যান  (অন্যান্য পরিসংখ্যানের মধ্যে) ব্যবহার করে থাকে। মানব জনসংখ্যায়, গড় উচ্চতা থেকে বিভিন্ন জটিল তথ্য পাওয়া যায় যেমন একটি সম্প্রদায়ের জন্ম, লালন-পালন, সামাজিক শ্রেণী, খাদ্যাভাস এবং স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থার

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Strahler, Alan (২০০৬)। Introducing Physical Geography। Wiley,New York। 

বাহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]