উইকিপিডিয়া আলোচনা:আপলোড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ছবি আপলোড করার নিয়ম?[সম্পাদনা]

আমি উইকিপিডিয়া এর একজন নতুন সদস্য। আমি কিভাবে আমার প্রোফাইল এ ছবি যোগ করবো এবং বিভিন্ন লিংক শেয়ার করবো? - Kuhinur Kuhinur (আলাপ) ১৪:০৭, ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (ইউটিসি)

শাঁখা সিঁদুর পরার কারণ[সম্পাদনা]

"।শাঁখা সিঁদুর পরার কারণ।"

            • -******-******-******

বৈদিক সনাতন বা হিন্দু নারীরা অলংকার হিসাবে শাখাঁ সিদুঁরই তার অহংকার মনে করেন! শাঁখা সিঁদুর হিন্দু ধর্মের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। শাঁখা সিঁদুর আমাদের হিন্দু বিবাহিত নারীরা পরে আসছে অনেক আগে থেকে। তবে বর্তমানে এগুলা না পরা অনেকটা তথাকথিত আধুনিকতার স্বরুপ হয়ে দাড়িয়েছে কারো কারো কাছে। আমি এই পোস্ট এর মাধ্যমে কাউকে পড়ার কথা বলেছি না, শুধু ইতিহাস, কারণ আর মানুষের কিছু ভুল ধারণা গুলোর উত্তর দিতে চাই।

রক্তের তিনটি উপাদান, শাঁখায় ক্যালসিয়াম, সিঁদুরে মার্কারি বা পারদ এবং লোহায় আয়রণ আছে। রক্তের তিনটি উপাদান মায়েদের মাসিক রজঃস্রাবের সাথে বের হয়ে যায়। তিনটি জিনিস নিয়মিত পরিধানে রক্তের সে ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। আর্য ঋষিগণ সনাতন ধর্মের প্রতিটি আচার অনুষ্ঠানেই বৈজ্ঞানিক প্রয়োজনীয়তাকে প্রাধান্য দিয়ে আচার বা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করেছেন।

সামুদ্রিক শঙ্খ থেকে তৈরি এবং হিন্দু ধর্মীয় বৈবাহিক রীতির একটি অলঙ্কার। শাঁখা। হাতের সাধারণ শঙ্খে ডান থেকে বামে গোলাকার মোড় দেখা যায়। যখন কোনো শঙ্খে বিপরীতমুখী মোড় দেখা যায়, সে শঙ্খকে অতি মূল্যবান বলে ধরা হয় ও সেটিকে বলা হয় ‘দক্ষিণবার্তা’ বা সৌভাগ্যবান শঙ্খ। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এ শঙ্খকে পবিত্র শঙ্খ বলা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী দেবতা বিষ্ণু এ ধরনের শঙ্খ হাতে ধারণ করে থাকেন। ওলন্দাজ জাতির কাছেও শঙ্খ পবিত্র বলে চিহ্নিত। আকৃতি অনুযায়ী শঙ্খগুলিকে কয়েক নামে অভিহিত করা হয়। যেমন: পদ্ম শঙ্খ(যা বিষ্ণু ধারণ করেন), বাদ্য শঙ্খ(যা মন্দিরে ফুঁ দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়), জল শঙ্খ(পূজা-অর্চনায় ব্যবহূত হয়), গোমুখ শঙ্খ(ধর্মীয় কাজে ব্যবহার-অযোগ্য), সাধারণ শঙ্খ ইত্যাদি। ব্রহ্মবৈবরত পুরাণের মতে, মহাভারতের সময়কাল থেকে অর্থাৎ প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে এই শাঁখার ব্যবহার শুরু হয়। সেই সময় শঙ্খাশূর নামে এক অত্যাচারী অসুরের তান্ডবে দেবলোক অশান্ত হয়ে উঠে। সেই সময় সকল দেবতারা মিলে ভগবান নারায়ণের দ্বারস্থ হন। নারায়ণ সেই সময় শঙ্খাশূর-কে বধ করে দেবতাদের রক্ষা করেন। এদিকে শঙ্খাশূর-এর ধর্মপরায়ণ স্ত্রী তুলসী স্বামীকে ফিরে পাওয়ার আশায় প্রার্থণা শুরু করেন। তুলসীর প্রার্থণায় সন্তুষ্ট হয়ে নারায়ণ শঙ্খাশূর-এর হাড় দিয়ে শাঁখা তৈরি করেন। সেই থেকেই হিন্দু বিবাহিত মহিলাদের স্বামীর মঙ্গলকামনায় এই শাঁখা পড়ার প্রচলন শুরু হয়েছে বলে মনে করা হয়। মূলত শাখা শরীর বা মাথা ঠান্ডা করতে সাহায্য করে। মেয়েদের মাথা ঠাণ্ডা রেখে সুখে সংসারধর্ম পালন করতে শাঁখা সাহায্য করে। রাজস্থানের মহিলাদের তাই নিজেদের হাতে একের অধিক শাখা পরে থাকতে দেখা যায়. কারণ ওই গরম আবহাওয়ায়, শরীর ঠান্ডা রাখে শাখা. আবার এটাও মনে করা হয়, শাখার সাদা রং পবিত্রতা, শুদ্ধতা, সতীত্ব, এবং যে কোনো রকম শুভ সূচনার প্রতীক।

হিন্দু শাস্ত্রে বলা হয় শরীরের বিভিন্ন স্থানে দেবতা বিরাজমান থাকেন । বলা হয় যে স্বয়ং ব্রহ্মা কপালে অধিষ্ঠান করেন ব্রহ্মাকে সন্মান জানাতে ও তুষ্ট রাখতে বিবাহিত মহিলাদের কপালে সিঁদুর পরা শাস্ত্র মতে উচিত । এই ব্যাখ্যা মূলতঃ তন্ত্র শাস্ত্রীয় যেখানে কৈলাস চক্র তথা Pre Frontal Cortex হিসেবে দুই ভুরুর মাঝের জায়গাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ । সিঁদুর বা সিন্দূর একপ্রকার রঞ্জক পদার্থ। এটি সাধারণত মেয়েদের সিঁথিতে একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত অবধি প্রসারিত টীকা বা কপালে টিপের আকারে ব্যবহৃত হয়। হিন্দুধর্মে সিঁদুর বিবাহিতা নারীর প্রতীক। অবিবাহিত মেয়েরা সিঁথিতে সিঁদুর পরে না, কপালে সিঁদুরের টিপ পরে। বিধবাদের সিঁদুর ব্যবহার শাস্ত্রমতে নিষিদ্ধ। হিন্দুদের পূজানুষ্ঠানের সময়ও সিঁদুর ব্যবহৃত হয়।সিঁদুরের ইতিহাস অতি প্রাচীন বলে ধারণা করা হয়। হিন্দু ধর্মমতে এটি স্বামীর দীর্ঘজীবন বয়ে আনে বলে বিবাহিত হিন্দু নারীরা সিঁদুর ব্যবহার করেন। এর রঙ লাল, কারণ এটি শক্তি ও ভালোবাসার প্রতীক। হিন্দু বিবাহের সময়ে একজন নারীর প্রথম কপালে সিঁদুর দিয়ে চিহ্ন আঁকা হয়।বিবাহের সুন্দরতম মুহূর্ত হলো, সিঁদুরদান। বিবাহিত হিন্দু নারীদের সিঁথিতে সিঁদুর পরা আনুমানিক 5000 বছর প্রাচীন হিন্দু ঐতিহ্যময় সংস্কৃতি। প্রাচীন রামায়ণে মাতা সীতা এবং মহাভারতে দ্রৌপদী সিঁথিতে সিঁদুর ব্যাবহারের স্পস্ট প্রমাণ আছে। রামায়ণে শ্রীরাম যখন মাতা সীতাকে বিবাহ করেন তখন তিনি মাতা সীতার সিঁথিতে সিঁদুর দান করেছিলেন। একই প্রমাণ আছে হরিবংশ পুরাণে যখন শ্রীকৃষ্ণ রুক্মিনীদেবীকে বিবাহ করেন, তখন তিনিও রুক্কিনীদেবী সিঁথিতে সিঁদুর দান করেছিলেন। এই পরম্পরাই এখনও অবধি হিন্দু বিবাহতে চলে আসছে। যেখানে স্বামী তার স্ত্রীকে সিঁথিতে সিঁদুর দান করে, স্ত্রী হিসাবে তাকে গ্রহণ করে। এছাড়া বেশকিছু ঐতিহাসিক এটা স্বীকার করে থাকেন।প্রাচীন হরপ্পা সভ্যতাতেও নারীরা সিঁদুর ব্যবহার করতো। সিঁদুরের গুরুত্বের সবচেয়ে ভালো ব্যাখা আছে ‘ললিতা সহ নামে’। এটা ব্রহ্মান্ড পুরাণের অংশ বিশেষ। দেবী ললিতা যিনি মা দূর্গা বা মা শক্তির অপর নাম, তার মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে ললিতা দেবীর সিঁথির সিঁদুরকে শ্রীলক্ষীর প্রতীক হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থ্যাৎ একজন বিবাহিত নারীকে এই সিঁদুরই তাকে শ্রীলক্ষীর স্বরূপ হিসাবে সমাজের সামনে তুলে ধরে। হিন্দু সংস্কারে নারীকে লক্ষী হিসাবে গণ্য হয় এবং বিবাহিত নারী কে, শ্রী+লক্ষী=শ্রীলক্ষী হিসাবে গণ্য করা হয়। কারণ একজন বিবাহিত নারী সংসারের ‘শ্রী’ এর কারক। ‘শ্রী’ বিনা সেই সংসার পূর্ণতা পায় না। জগৎগুরু আদি শঙ্করাচার্য তার ‘সৌন্দর্যলহরী’ গ্রন্থে সিঁদুরকে মা শক্তির স্বরূপ অর্থ্যাৎ মা দূর্গার প্রতিক অর্থ্যাৎ যিনি দূর্গতিহারিণী তার প্রতীক ও মঙ্গলরুপী সূর্য হিসাবে ব্যাখা দিয়েছেন। সিঁথিতে সিঁদুর ও কপালের সিঁন্দুরের টিপ শ্রী চক্রের স্বরূপ।

কোনো শাঁখা সিদুঁর পরিহিত মহিলা দেখলে সবাই বোঝে যে, সে বিবাহিত। সেই ক্ষেত্রে তার সাথে সুশ্রী আচরণ করা হয়। যদিও প্রত্যেক নারীই সুশ্রী আচরণের যোগ্যা। নারীদেরও শাঁখা সিদুঁরের প্রতি আলাদা স্প্রহা থাকে। কেননা এটি তার জীবনের মিলবন্ধনে প্রতি মুহুর্তে জ্ঞাত করে। স্বামী হিন্দু মেয়েদের কাছে তাদের দেবতা সরুপ। তাই স্বামীর দেয়া প্রথম এ শাখাঁ সিঁদুরই তার অহংকার। একজন নারী তার শাখাঁ সিদুঁরের মাধ্যমে এবং বিবাহের মন্ত্রসহ সকল কাজের সমাপ্তী মাধ্যমেই তার স্বামীর সাথে আপন হতে থাকে। একটু একটু করে সকল আচার বিধি শেষ হওয়ার মাধ্যমে অটুট হতে থাকে তাদের যুগযুগান্তরের বন্ধনও।

সিঁদুর দেয়ার সময় মায়েরা নিচের দিকে নয়, ঊর্ধ্বায়ণ করে। কেন? সিঁদুর ঊর্ধ্বায়ণের মাধ্যমে রমণীগণ নিয়ত তার স্বামীর আয়ু বৃদ্ধির প্রার্থনা করে। শুভ বিজয়াতে বা বিভিন্ন পূজা পার্বণে মায়ের দেবী দুর্গাকে সিঁদুর ছোঁয়ান বা একে অন্যে সিঁদুর পরান। কেন? দুর্গা দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন, সিঁথির সিঁদুর যেন অক্ষয় থাকে। একে অন্যকে পরিয়ে দেন সে বাসনাতেই। শাস্ত্র মতে, তর্জনি দিয়ে সিঁদুর পরলে মানসিক শান্তি বৃদ্ধি পায়। মধ্যমা ব্যবহার করলে আয়ু বৃদ্ধি পায়। প্রাচীন কালে হলুদ গুঁড়ো দিয়ে সিঁদুর তৈরি হত। তার পরে তাতে লাল রং মিশিয়ে সিঁদুদের গাঢ়ত্ব বৃদ্ধি করা হতো। শাস্ত্রমতে লাল শক্তির প্রতীক। শাস্ত্র অনুযায়ী মানব শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন দেবতা অবস্থান করেন। যেমন কপালে অধিষ্ঠান করেন স্বয়ং ঈশ্বর ব্রহ্মা। লাল কুঙ্কুম ব্রহ্মাকে সন্তুষ্ট করার জন্য ব্যবহৃত হয়। লেখা - উদিত রানা দাস

ইশ্বর আছে তার প্রমাণ[সম্পাদনা]

ঈশ্বর হিন্দুধর্মের এমন একটি বিষয়, যার সময়কাল শাখাভেদে বহু অর্থ প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু ইশ্বর মানে হল যার কাছে সব কিছু করার ক্ষমতা আছে, অর্থাৎ সে জীব সৃষ্টি করতে পারে, ধ্বংস করতে পারে। তো সৃষ্টি আর ধ্বংস পঞ্চতত্ত্বের ওপর নির্ভরশীল। যথা - তেজ (অগ্নি), অপ (জল), মরুৎ(বায়ু), ক্ষিতি (মৃত্তিকা), ব্যোম (আকাশ। পঞ্চতত্ত্বের একটির অনুপস্থিতিতেও জীবনের অস্তিত্ব সম্ভব নয়। যেখানে অগ্নি নেই সেখানে জীবন নেই, যেখানে জল নেই সেখানে জীবন নেই, যেখানে বায়ু নেই সেখানে জীবন নেই, যেখানে মাটি নেই যেখানে জীবন নেই, যেখানে আকাশ নেই সেখানে জীবন নেই। তো এই পঞ্চতত্ত্বের ক্ষমতা যার মধ্যে থাকে তাকে ইশ্বর বললে ভুল হবে না। এই পঞ্চতত্ত্বের উল্লেখ আমাদের শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা থেকে অনেক আগেই আমরা পাই, অন্য কোনো ধর্মগ্রন্থ তে তার উল্লেখ নেই, এবং বিজ্ঞান সেটা পরে আবিষ্কার করেছে। তাহলে বলা যেতেই পারে বিজ্ঞান এর পূর্বে এগুলো নিয়ে যারা লিখে গেছেন, বলে গেছেন সেগুলো সত্যি আর বিজ্ঞান সেটাকে ধীরে ধীরে বিশ্লেষন করে সেগুলোকে আবিষ্কার করছে। ছোট্ট একটা উদাহরন দিই, যেটা হয়তো এখন কার নাস্তিক মানুষরা বিশ্বাস করতে পারবে, Telepathy - টেলিপ্যাথি হচ্ছে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির কাছে বার্তা প্রেরণের মাধ্যম যেখানে কোনো সাধারণ মাধ্যম অথবা শরীরের বাহ্যিক অঙ্গ ব্যবহার করা হয় না। এই Telepathy এর ব্যবহার এখনো 2020 তে হয়ে আসছে, বা ভবিষ্যত এ হবে। কিন্তু এই Telepathy শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা তে উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে, কিন্তু বিজ্ঞান এখনও এটা সম্ভব হয় নি, তবে মোবাইল ফোন এর কথা যারা বলবে তাদের বলি, মোবাইল একটা মাধ্যম আর তাতে মানুষের শরীরে ক্ষতি হয়, Telepathy তে হয় না । তো এবার ফিরে আসি পঞ্চতত্ত্বের কথায়, কি ভাবে পঞ্চতত্ত্বের শক্তি মানুষের শরীর কে ইশ্বর এর মতো ক্ষমতা অধিকারী করে দিতে পারে। হিন্দুধর্মে আদিম শক্তির একটি রূপকে নির্দেশ করে, যা মেরুদণ্ডের ভিত্তিতে অবস্থিত করে । যা কুণ্ডলিনী নামে পরিচিতি। কুণ্ডলিনী জাগরণ গভীর ধ্যানের ফলে হয়, যা কখনও কখনও আলোকপ্রাপ্তি এবং সুখের অনুভূতির পরিণতি ঘটায়। যাইহোক, কুণ্ডলিনী জাগরণ বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটতে পারে। যোগের অনেক পদ্ধতি ধ্যান, প্রাণায়াম, আসন অনুশীলন এবং মন্ত্রের জপের মাধ্যমে কুণ্ডলিনী জাগরণের ওপর আলোকপাত করে।কুণ্ডলিনী যোগ যোগশাস্ত্রের একটি ঘরানা, যা হিন্দুধর্মের শাক্তমত এবং তন্ত্র ঘরানা দ্বারা প্রভাবিত। এর নামটি উৎপন্ন হয়েছে মন্ত্র, তন্ত্র, যন্ত্র, যোগ বা ধ্যানের নিয়মিত অনুশীলন দ্বারা কুণ্ডলিনী শক্তির জাগরণের একটি উপায় মাত্র। এই কুণ্ডলিনী কে জাগ্রত করার পর মানুষের মধ্যে চলে আসে অপার শক্তি, সাথে পঞ্চতত্ত্বের ওপর নিজের আধিপত্য এককথায় ইশ্বর এর ক্ষমতা অধিকারী আপনি হবেন সে । তো Telepathy টা যেমন বিশ্বাস এর ওপর নির্ভর করে হয়, তেমন এই ধ্যান, কুণ্ডলিনী, যোগ সব কিছু বিশ্বাস এর ওপর নির্ভরশীল, আর বিশ্বাস আপনাকে ইশ্বর এর ওপর করতে হবে, কারণ এই সব কিছু ইশ্বর এর যোগ সূত্র। অর্থাৎ পঞ্চতত্ত্বের যোগ সূত্র, পঞ্চতত্ত্বের অধিপতি হলেন, শ্রী কৃষ্ণ। এবার আসি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা এর কথায়, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা কে অবিশ্বাস তো আপনি করতে পারবেন না, কারণ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা কে অবিশ্বাস করলে পঞ্চতত্ত্বের ওপর অবিশ্বাস করতে হয়, পঞ্চতত্ত্বের ওপর অবিশ্বাস করলে বিজ্ঞান এ অবিশ্বাস করতে হয়, সাথে অবিশ্বাস করতে হয় যুক্তিকে। (পঞ্চতত্ত্ব - কুণ্ডলিনী - ইশ্বর অর্থাৎ শ্রী কৃষ্ণ) দেখে নেওয়া যাক শ্রী কৃষ্ণ এর বাণী শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা কে স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্বাস করতেন ( অর্থাৎ শ্রী কৃষ্ণ কে, সেটা তার বক্তৃতার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি)

১/ যে ব্যক্তি কৃষ্ণভাবনায় যুক্ত নয়,তার মন সংযত নয়। (২/৬৬)

২/ সকলেই সর্বতোভাবে আমার পথ অনুসরণ করে।(৪/১১)

৩/ আমি সর্বলোকের মহেশ্বর (মহ+ঈশ্বর)। (৫/২৯)

৪/ আমিই সমস্ত জগতের উৎপত্তি ও প্রলয়ের মূল কারণ। (৭/৬)

৫/ আমার থেকে শ্রেষ্ঠ আর কেউ নেই। (৭/৭)

৬/ পরমাত্মা রুপে আমি সকলের হৃদয়ে বিরাজ করি। (৭/২১)

৭/ পরমেশ্বর ভগবান রুপে আমি অতীত,বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে সম্পূূর্ণরুপে অবগত। (৭/২৬)

৮/ আমাকে প্রাপ্ত হলে আর পূর্ণজন্ম হয় না। (৮/১৬)

৯/ সর্বশ্রেষ্ঠ পরমেশ্বর ভগবানকে অনন্যা ভক্তির মাধ্যমেই কেবল লাভ করা যায়। (৮/২২)

১০/ অব্যক্ত রুপে আমি সমস্ত জগতে ব্যাপ্ত আছি। (৯/৪)

১১/ আমি নিজেই সমস্ত সৃষ্টির উৎস। (৯/৫)

১২/ এই জগৎ আমারই প্রকৃতির অধীন। (৯/৮)

১৩/ আমিই এই জগতের পিতা। (৯/১৭)

১৪/ আমিই এই জগতের বিধাতা (সৃষ্টিকর্তা) । (৯/১৭)

১৫/ আমি সকলের গতি। (৯/১৮)

১৬/ আমি তাপ প্রদান করি এবং আমি বৃষ্টি বর্ষণ করি ও আকর্ষণ করি। (৯/১৯)

১৭/ আমিই সমস্ত যজ্ঞের ভোক্তা ও প্রভু। (৯/২৪)

১৮/ আমি সকলের প্রতি সমভাবাপন্ন। (৯/২৯)

১৯/ সব কিছু আমার থেকে প্রবর্তিত হয়। (১০/৮)

২০/ মনুষ্যদের মধ্যে আমি সম্রাট। (১০/২৭)

২১/ অব্যয় অমৃতের,শাশ্বত ধর্মের এবং ঐকান্তিক সুখের আমিই আশ্রয়। (১৪/২৭)

২২/ আমিই সমস্ত বেদের জ্ঞাতব্য এবং আমিই বেদান্তকর্তা ও বেদবিৎ। (১৫/১৫)

২৩/ বেদে আমি পুরুষোত্তম নামে বিখ্যাত। (১৫/১৮)

যারা আমাকে জানে না, মনে করে যে, আমি পূর্বে অব্যক্ত নির্বিশেষ ছিলাম, এখন ব্যক্তিত্ব পরিগ্রহ করেছি। তাদের অজ্ঞতার ফলে তারা আমার অব্যয় ও সর্বোত্তম পরম ভাব সম্বন্ধে অবগত নয়। ২৪

আমি মূঢ় ও বুদ্ধিহীন ব্যক্তিদের কাছে কখনও প্রকাশিত হই না। তাদের কাছে আমি আমার অন্তরঙ্গা শক্তি যোগমায়ার দ্বারা আবৃত থাকি৷ তাই, তাঁরা আমার অজ ও অব্যয় স্বরূপকে জানতে পারে না। ২৫

হে অর্জুন ! পরমেশ্বর ভগবানরূপে আমি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে সম্পূর্ণরূপে অবগত। আমি সমস্ত জীব সম্বন্ধে জানি, কিন্তু আমাকে কেউ জানে না। ২৬

তো এর থেকে তুমি যা জানতে পারলে বিজ্ঞান তার 0.1% ও এখনও আবিষ্কার করতে পারিনি,

অর্থাৎ বিজ্ঞান যেখানে শেষ ধর্ম অর্থাৎ আমাদের ভাগবত ধর্ম যা পরে সনাতন ধর্ম বা হিন্দু ধর্ম নামে চলে আসছে।

এবার বলতে পারো তাহলে শ্রী কৃষ্ণ কেনো হিন্দুদের মধ্যে অবতার রূপে এসেছিল বা ঈশ্বর শুধু কেনো হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এসেছিল? তার উত্তর এই যে, ভারতে আর্য সন্তানরা যখন বেদ পাঠ করত তখন ইউরোপ আমেরিকানরাও ল্যান্ট হয়ে ঘুরত । তারা কাপড়ও আবিস্কার করতে পারেনি । সংস্কৃত ভাষাকে মাদার অফ ল্যাঙ্গুয়েজ বলা হয় । এমনকি ইংরাজি ভাষারও প্রচুর শব্দ সংস্কৃত থেকেই নেওয়া হয়েছে । তো তিনি সব থেকে উন্নত সিভিলাইজেশানেই এসেছেন যাতে মানুষরা তার বাণী গ্রহন করতে পারেন । এটা একটা বাচ্ছাও জানে যখন ভগবান এসেছিলেন তখন ভারত বলে কোন দেশ ছিল না । তখন গোটা দুনিয়াই এক ছিল । দেশ বলে কিছু ছিল না । তিনি দুনিয়ার সব থেকে প্রাচীন ও উন্নত সিভিলাইজেশানেই এসেছিলেন। ঈশ্বর যে হিন্দু ধর্মে কেনো এসেছিল সেটাও পরিষ্কার হয়ে গেলো। আর শুন্য যে আবিষ্কার হয়েছে, যার ওপর দাঁড়িয়ে বিজ্ঞান চলছে সেটা ও কিন্তু জ্যোতিষ অর্থাৎ ইশ্বর এর সাথে যোগ সূত্র স্থাপন করছে, আনুমানিক খ্রিস্টাব্দ ৪৯৯ আর্যভট, বরাহমিহির প্রমুখ এর রচিত গাণিতিক ও জ্যোতিষীয় রচনার এই পদ্ধতির বহুল ব্যবহার দৃষ্ট হয়। তাই অনুমান করা যায় আর্যভটের সময়কালের বহুপূর্ব থেকেই শুন্য এর প্রচলন ছিল, অর্থাৎ হিন্দুরা জানতো। ইশ্বর যে আছে তার প্রমাণ করা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব না, তবে আমি আমার অতিসামান্য চিন্তা এর ওপর ভিত্তি করে যে কথা গুলো বললাম সেগুলো কে অস্বীকার করলে তোমাকে কিছু বলার নেই। লেখা - উদিত রানা দাস