আল-নুকতাহ মসজিদ

স্থানাঙ্ক: ৩৬°১১′৪৩″ উত্তর ৩৭°০৭′৫৮″ পূর্ব / ৩৬.১৯৫২৮° উত্তর ৩৭.১৩২৭৮° পূর্ব / 36.19528; 37.13278
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আল-নুকতাহ মসজিদ
Al-NuqtahMosque-MainHall.JPG
ধর্ম
অন্তর্ভুক্তিশিয়া
অবস্থান
অবস্থানআলেপ্পো, সিরিয়া
স্থানাঙ্ক৩৬°১১′৪৩″ উত্তর ৩৭°০৭′৫৮″ পূর্ব / ৩৬.১৯৫২৮° উত্তর ৩৭.১৩২৭৮° পূর্ব / 36.19528; 37.13278
স্থাপত্য
ধরনমসজিদ

আল-নুকতাহ মসজিদ ( আরবি: مَسْجِد النُّقْطَة‎, প্রতিবর্ণী. Masjid an-Nuqṭah‎ - ড্রপের মসজিদ [ইমাম হুসেনের রক্তের] হলো সিরিয়ার আলেপ্পোর জাওশান পর্বতে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহি মসজিদ। মসজিদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল একটি পাথরে মুসলমানদেরইমাম হুসেন ইবনে আলীর রক্তে রঞ্জিত আছে বলে বিশ্বাস করা হয়। [১]

এছাড়াও জাওশান পর্বতে অবস্থিত এই মসজিদের কাছে একটি মাজার আছে যা মাশাদ আল-সিক্ত নামে পরিচিত [২] [৩] (আরবি: مشهد السقط‎‎ - গর্ভপাতের স্থান)। কারবালার বন্দীরা যখন আলেপ্পোর মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন হুসাইনের স্ত্রী এখানে গর্ভপাত ঘটে। [২] জন্মগ্রহণকারী শিশুটির নাম রাখা হয়েছিল মুহসিন।[৩] এ শিশুটি এ স্থানে মারা গেলে এখানে সমাহিত করা হয়।

ঐতিহাসিক বিবরণ[সম্পাদনা]

ইয়াজিদের নির্দেশে কারবালার বন্দীদের দামেস্কে যাওয়ার পথে অনেক শহরের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।[৪] যখন তারা আলেপ্পোর কাছাকাছিে এলো তখন সেখানে বসবাসকারী একজন খ্রিস্টান পাদরিহুসেনের মাথা থেকে আকাশের দিকে আলো নির্গত দেখতে পান।[৫] কাফেলাটি বিশ্রামের জন্য থামলে সন্ন্যাসী তাদের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করেন যে, তিনি তার কাছে থাকা ১০,০০০ দিরহামের বিনিময়ে শুধু একরাতের জন্য মাথা নিতে পারেন কিনা?[৫] তারা রাজি হলে, সন্ন্যাসী মাথাটি নিয়ে একটি পাথরের উপর রাখেন। ফলে মাথা থেকে রক্ত পাহাড়ে পড়ে। সকালে মাথা ফিরিয়ে দিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।[৫] ঘটনার এই সংস্করণটি মসজিদের মধ্যেই একটি ফলকে লেখা পাওয়া যায়।

গল্পের অন্যান্য সংস্করণ[সম্পাদনা]

  • অন্যান্য শিয়ারা বর্ণনা করে যে কারবালার বন্দীরা যখন আলেপ্পোর মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন হুসাইনের মাথা একটি পাথরের উপর রাখা হয়। মাথা থেকে রক্ত পাথরের উপর পড়লে, পাথর থেকে আরও রক্ত বের হতে থাকে।[১]
  • সুন্নি সূত্র বর্ণনা করে যে, এক রাখাল স্বপ্ন দেখেছিল যে তাকে হুসাইনের সম্মানে একটি মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেখানে তার এক ছাগলের পা পাথরে ডুবে যায়। রাখাল জেগে উঠে ছাগলটিকে পাথর থেকে টেনে মুক্ত করে। তখন এ পাথর থেকে নদী প্রবাহিত হতে থাকে। [৬]

মসজিদের নিদর্শন[সম্পাদনা]

সাম্প্রতিক ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯২০ সালে বাদশাহ ফয়সাল তার লোকদেরকে মসজিদে বারুদ রাখার নির্দেশ দিলে মসজিদটি বিস্ফোরণের শিকার হয়।[৭] চল্লিশ বছর পর ১৯৭০ সালে মসজিদের সংস্কারের কাজ শেষ হয়।[৮] মসজিদের বর্তমান ছাদ ১৯৯১ সালে নির্মিত হয়। [৯]

২০১৬-১৭ সালে হাজর-উল-নুকতেহ পাকিস্তানের করাচিতে ছিল। আল-নুকতেহ মসজিদের একজন প্রশাসনিকের লিখিত অনুমতি নিয়ে স্থানীয় পণ্ডিত ডঃ আম্বার তাজওয়ার করাচিতে নিজ বাসভবনে রাখেন। সীমিত জমায়েতের জন্য প্রদর্শন করা হয়।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Qummi, Shaykh Abbas (২০০৫)। "3"। Nafasul Mahmoom। Ansariyan Publications। পৃষ্ঠা 362।  উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "qummi362" নামটি একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  2. Sachedina, Abdulaziz Abdulhussein (১৯৯৮)। The Just Ruler in Shi'ite Islam। Oxford University Press US। পৃষ্ঠা 13। 
  3. Qummi, Shaykh Abbas (২০০৫)। "3"। Nafasul Mahmoom। Ansariyan Publications। পৃষ্ঠা 364। 
  4. Jalali, Ali Hussain (২০০২)। "7"। Karbala and Ashura। Ansariyan Publications। পৃষ্ঠা 125। 
  5. Qummi, Shaykh Abbas (২০০৫)। "3"। Nafasul Mahmoom। Ansariyan Publications। পৃষ্ঠা 359–360। 
  6. Tabbaa, Yasser (১৯৯৭)। Constructions of power and piety in medieval Aleppo। Penn State Press। পৃষ্ঠা 111। 
  7. Watenpaugh, Heghnar Zeitlian (২০০৪)। The image of an Ottoman city। BRILL। পৃষ্ঠা 128 
  8. Constructions of power and piety in medieval Aleppo। পৃষ্ঠা 110–111। 
  9. Constructions of power and piety in medieval Aleppo। পৃষ্ঠা 111।