জয়নব বিনতে আলী
জয়নব বিনতে আলী | |
|---|---|
زَيْنَب بِنْت عَلِيّ | |
| জন্ম | ৬২৬ খ্রিষ্টাব্দ |
| মৃত্যু | ৬৮২ খ্রিষ্টাব্দ |
| সমাধি | সাইয়িদা জয়নব মসজিদ, দামেস্ক অথবা আস-সাইয়িদা জয়নব মসজিদ, কায়রো |
| পরিচিতির কারণ | কারবালার যুদ্ধ পরবর্তীকালে ভূমিকা |
| দাম্পত্য সঙ্গী | আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর |
| সন্তান | |
| পিতা-মাতা |
|
| আত্মীয় | তালিকা
|
| পরিবার | আহল আল-বাইত |
| শিয়া ইসলাম |
|---|
| ধারাবাহিকের অংশ |
|
|
জয়নব বিনতে আলী (আরবি: زَيْنَب بِنْت عَلِيّ হলেন ফাতিমা ও আলী ইবনে আবি তালিব-এর জ্যেষ্ঠ কন্যা। ফাতিমা ছিলেন ইসলামের নবী মুহাম্মদ-এর কন্যা এবং আলী ছিলেন তাঁর চাচাতো ভাই এবং কন্যার জামাই। আলীকে চতুর্থ খলিফা এবং প্রথম শিয়া ইমাম হিসেবে গণ্য করা হয়। জয়নব মূলত কারবালার যুদ্ধ (৬৮০ খ্রিষ্টাব্দ) পরবর্তী ঘটনাবলিতে তাঁর ভূমিকার জন্য বিখ্যাত,যেখানে তাঁর ভাই হুসাইন এবং পরিবারের অধিকাংশ পুরুষ সদস্য উমাইয়া খলিফা ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া -এর বাহিনীর হাতে শহীদ হন। যুদ্ধের পরে হুসাইনের শিবিরের নারী ও শিশুদের বন্দি করে কুফা এবং পরে দামেস্ক-এ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জয়নব জোরালো ও হৃদয়বিদারক ভাষণে ইয়াজিদের নিন্দা করেন এবং কারবালার ঘটনা বিশ্বজুড়ে প্রচার করেন। পরে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং ৬৮২ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন। তবে তাঁর কবরস্থান নিয়ে মতভেদ রয়েছে। দামেস্ক ও কায়রোতে তাঁর সঙ্গে সম্পৃক্ত দুটি মাজার মুসলিমদের জিয়ারত-এর স্থান হিসেবে পরিচিত। তিনি ইসলামে আত্মত্যাগ, দৃঢ়তা ও ধর্মপরায়ণতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হন এবং মুসলিম নারীদের জন্য আদর্শ, সাহস, নেতৃত্ব ও জুলুমের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের মূর্ত প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হন।
উপাধি
[সম্পাদনা]আরবি শব্দ জয়নব এর আক্ষরিক অর্থ 'পিতার অলংকার'।[২][৩] তাঁকে কখনো কখনো "জায়নাব আল-কুবরা" (আক্ষ. 'বড় জায়নাব') বলা হয়, যাতে উম্মে কুলসুম বা "জায়নাব আল-সুঘরা" (আক্ষ. 'ছোট জায়নাব')-এর সঙ্গে পার্থক্য বোঝানো যায়। [২] তাঁর আরেকটি উপাধি হল আকিলাতু বানু হাশিম (আক্ষ. 'বানু হাশিম গোত্রের প্রজ্ঞা'),[৪] যেখানে আকিল শব্দটির অর্থ 'নির্জন একজন' বা 'মুক্তা'।[২] তাঁকে "বাতালাতুল কারবালা" (আক্ষ. 'কারবালার বীরাঙ্গনা') বলেও অভিহিত করা হয়, কারবালার ঘটনায় তাঁর ভূমিকার কারণে।[৫][৬] কখনো তাঁকে "আস-সাইয়্যিদা" (আক্ষ. 'মহিলা নেত্রী'),[৭][২] এবং মিশরে "আত-তাহিরা" (আক্ষ. 'পবিত্রা') ও "উম্মুল ইয়াতামা" (আক্ষ. 'এতিমদের মা') হিসেবেও ডাকা হয়।[২]
জন্ম ও শৈশব
[সম্পাদনা]জয়নব ছিলেন ফাতিমা ও আলী ইবনে আবি তালিব-এর তৃতীয় সন্তান এবং তাঁদের সবচেয়ে বড় কন্যা।[৮][৯] ফাতিমা ছিলেন ইসলামের নবী মুহাম্মদ-এর কন্যা এবং আলী ছিলেন তাঁর চাচাতো ভাই। আলী ছিলেন চতুর্থ রাশিদুন খলিফা এবং শিয়াদের মতে প্রথম ইমাম। জায়নাবের শৈশবকাল নিয়ে বিস্তারিত তথ্য ইসলামের নবী মুহাম্মদ-এর কন্যা এবং আলী ছিলেন তাঁর চাচাতো ভাই। আলী ছিলেন চতুর্থ রাশিদুন খলিফা এবং শিয়াদের মতে প্রথম ইমাম। জায়নাবের শৈশবকাল নিয়ে বিস্তারিত তথ্য স্পষ্ট নয়,[৯] এমনকি তাঁর জন্ম সাল নিয়েও মতভেদ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী এটি হতে পারে ৪ থেকে ৬ হিজরি (৬২৬ থেকে ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দ),[৮][১০] অথবা ৯ হিজরি (৬৩১ খ্রিষ্টাব্দ)।[১১] শিয়া মুসলিমরা প্রতিবছর ৫ জমাদিউল আউয়াল তারিখে তাঁর জন্মবার্ষিকী পালন করেন।[১২] তাঁর নাম রাখেন তাঁর নানা নবী মুহাম্মদ,[১১] যিনি বলেন যে এই নামটি তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ওহির মাধ্যমে পেয়েছেন।[১৩] জন্মের সময়[১১] জিবরাইল ফেরেশতা এসে নবীকে জয়নবের ভবিষ্যৎ দুঃখ-কষ্টের কথা জানিয়েছিলেন বলে বলা হয়।[১৪][১১] নবী মুহাম্মদ তাঁর নাতনিকে খুব ভালোবাসতেন এবং বলতেন যে তিনি তাঁর প্রয়াত স্ত্রী খাদিজা-এর মতো দেখতে।[১৫] শিয়া সূত্রে উল্লেখ করা হয় যে ছোটবেলায় জায়নাব তাঁর ভাই হুসাইন-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা পোষণ করতেন।[১৪][১৬] যদিও তাঁর বাবা-মা এবং দুই ভাই হাসান ও হুসাইন-কে চৌদ্দ নিষ্পাপ ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়, জায়নাব এই তালিকায় নেই। তবে যেহেতু তিনি নিষ্পাপদের সান্নিধ্যে ও যত্নে বড় হয়েছেন, তাই বারো ইমামি শিয়া মতবাদে তাঁকে "সামান্য নিষ্পাপতা" (minor infallibility)-র অধিকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[১৭] ছোটবেলায় জয়নব নাকি স্বপ্নে তাঁর ভবিষ্যৎ বিপদগুলো দেখতে পেয়েছিলেন। একটি স্বপ্নে তিনি দেখেন, তিনি একটি বিশাল গাছের ডালে ঝুলে আছেন আর ঝড় বইছে। হঠাৎ সেই গাছ উপড়ে যায় এবং তিনি ডাল ধরে রাখতে গেলে সেগুলো একে একে ভেঙে যায়। অবশেষে তিনি পড়ে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। নবী মুহাম্মদ ব্যাখ্যা করেন, সেই গাছটি ছিল তাঁর নানা, ডালগুলো তাঁর বাবা-মা ও ভাইদের প্রতীক, যাঁরা সকলেই তাঁর আগেই মৃত্যুবরণ করবেন।[১৮][১৯]
মুহাম্মদ ও ফাতিমার মৃত্যু (৬৩২)
[সম্পাদনা]৬৩২ সালে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ইন্তেকাল হলে, ছোট বয়সেই জয়নব তাঁর প্রিয় নানাকে হারান। ফাতিমা একই বছর, মুহাম্মদের ইন্তেকালের ছয় মাসের মধ্যেই মারা যান,[২০][২১] তখন তাঁর বয়স ছিল আনুমানিক আঠারো থেকে সাতাশ বছর। [২২] শিয়া মতানুসারে, তিনি গর্ভপাতের শিকার হন এবং তাঁর বাড়িতে হামলার ফলে যে আঘাত পান, তাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।[২০][২৩][২৪] এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল আলিকে বাধ্য করা,[২৫] যা কিছু সাহাবির নেতৃত্বে সংঘটিত হয়।[২৬][২০][২৭] এই দাবিগুলো সুন্নি মুসলমানরা প্রত্যাখ্যান করেন। [২৪][২৭] তাঁদের মতে, ফাতিমা দুঃখে ও শোকে মুহাম্মদের মৃত্যুর পর মারা যান এবং তাঁর সন্তান স্বাভাবিকভাবে ছোট বয়সেই মারা যায়।[২৮][২৭][২৪] এভাবেই আনুমানিক পাঁচ বছর বয়সে জয়নব তাঁর মাকেও হারান। [১৩] সুন্নি লেখক আয়েশা আবদ আল-রহমান-এর বর্ণনায়, মৃত্যুশয্যায় ফাতিমা তাঁর মেয়ে জয়নবকে একটি সাদা কাপড় দিয়ে যান, যা তাঁর ভাই হুসাইন কারবালার যুদ্ধে যাওয়ার সময় কাফন হিসেবে ব্যবহার করবেন।[৪]
বিবাহ ও পারিবারিক জীবন
[সম্পাদনা]
জয়নব তাঁর চাচাতো ভাই আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।[১৩][২৯] আবদুল্লাহর পিতা জাফর আত-তাইয়ার ছিলেন মুহাম্মদের চাচাতো ভাই এবং ইসলামের এক বিশিষ্ট প্রারম্ভিক অনুসারী, যিনি মু'তার যুদ্ধে (৬২৯ খ্রিস্টাব্দে) বাইজেন্টাইনদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শহীদ হন।[৩০] আবদুল্লাহ হাদিস বর্ণনাকারী হিসেবে খ্যাত ছিলেন এবং তাঁর বর্ণিত ১৩টি হাদিস সুন্নি হাদিসগ্রন্থ মুসনাদ ইবনে হাম্বল-এ সংকলিত রয়েছে। তিনি শিয়া ইমামদের থেকেও হাদিস বর্ণনা করেন এবং সম্ভবত ইমাম মুহাম্মদ আল-বাকিরের সাহাবী ছিলেন। যদিও এই দাবিকে শেখ তুসী স্বীকৃতি দেননি।[৩১] আবদুল্লাহ ছিলেন বিত্তশালী এবং দানশীলতার জন্য প্রসিদ্ধ,[৩২][৩৩] যদিও তাঁর জীবনযাপন ছিল সরল ও সাদামাটা।
[৩৩] সে অনুযায়ী, তাঁদের বিবাহ অনুষ্ঠানও ছিল অত্যন্ত সাধারণ।[৩২] শিয়া লেখক মি. ইশতেহার্দি লিখেছেন, জয়নব এই শর্তে আবদুল্লাহকে বিবাহ করেন যে, তিনি প্রতিদিন তাঁর ভাই হুসাইনের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন এবং প্রয়োজনে তাঁর সঙ্গে ভ্রমণ করতে পারবেন।[৩৪][৩৫] তাঁদের চার পুত্রসন্তান ছিল — আলি, আওন, আব্বাস ও মুহাম্মদ। তাঁদের এক কন্যা ছিল, নাম উম্মে কুলসুম।[৯] ইসলামি গবেষক জে. এসপোসিটো অবশ্য বলেন, তাঁদের তিন পুত্র ও দুই কন্যা ছিল, তবে নাম উল্লেখ করেননি।[৩৬] আওন ও মুহাম্মদ কারবালার যুদ্ধে শহীদ হন।[১৩] আব্বাস সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। জয়নবের বংশধারা তাঁর পুত্র আলি, যিনি আলি আল-জয়নাবি নামেও পরিচিত, তাঁর মাধ্যমে অগ্রসর হয়।[১৩][৩৭]
ধর্মীয় জ্ঞান ও বাগ্মিতা
[সম্পাদনা]হাদিস সম্পর্কে তার জ্ঞানের জন্য, নবী মুহাম্মদের চাচাতো ভাই ইবনে আব্বাস তাঁকে ‘আকীলাতু বানী হাশিম’ (আক্ষ. 'বনী হাশিম বংশের প্রজ্ঞাবতী নারী') নামে ডাকতেন।[৪] হাদিস বিশারদদের মধ্যে তাঁর এমন সুনাম ছিল যে, উমাইয়া শাসকদের আমলে আলির নাম নেওয়া নিষিদ্ধ থাকলেও তারা তাঁকে আলির কন্যা বলে উল্লেখ করতেন।[৩৮] মদিনায় নিজ শহরে তিনি নারীদের কুরআনের তাফসির শেখাতেন,[৩৯] পরে কুফাতেও এই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যান।[১৩] [৩৮] ধারণা করা হয়, তিনি এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন তাঁর পিতা আলির কাছ থেকে, যাঁকে ইসলামি চিন্তাবিদ তাহেরা কুতুবউদ্দিন "ইসলামি বিদ্বানদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ" বলে বর্ণনা করেছেন।[১৩] জয়নবকে এক বাগ্মী নারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে,[৪০] যাঁর ভাষণ শুনে শ্রোতাদের মনে হতো যেন আলির কথা শুনছেন।[৩][৪১] কারবালার যুদ্ধের পর জয়নাবের একটি খ্যাতনামা ভাষণ মুসলিম ইতিহাসবিদ ইবন আবি তাহির তাইফুর তাঁর গ্রন্থ বালাগাত আন-নিসা অর্থাৎ ‘নারীদের বাগ্মিতা’ শীর্ষক ভাষণসংকলনে লিপিবদ্ধ করেছেন।[৪২][৯] গ্রন্থটিতে আরও একটি ভাষণ আছে, যা লেখক জয়নবের বোন উম্মে কুলসুম এর নামে উল্লেখ করেছেন। তবে অধিকাংশ পরবর্তীকালের লেখক, এমনকি শিয়া পণ্ডিত ইবন আ'সাম-ও এই ভাষণ জয়নবের বলে উল্লেখ করেছেন। কুতুবউদ্দিন এই দাবিকে যথেষ্ট সম্ভাবনাময় মনে করেন।[৪২]
আলির মৃত্যু (৬৬১)
[সম্পাদনা]আলি ৬৫৬ সালে খলিফা নির্বাচিত হন,[৪৩] এরপর তিনি কুফায় রাজধানী স্থাপন করেন, যা কার্যত তার রাজনৈতিক কেন্দ্র হয়ে ওঠে ৬৫৬ থেকে ৬৫৭ সালের মধ্যে। [৪৪][৪৫] জয়নব ও তাঁর স্বামী আবদুল্লাহ আলির সঙ্গে কুফায় চলে যান।[১৩] সেখানেই ৬৬১ সালের জানুয়ারিতে, ইসলামের পবিত্র রমজান মাসে, কুফার মসজিদে ফজরের নামাজের সময় আলিকে আঘাত করে হত্যা করা হয়। [৪৬][৪৭][৪৮] বিখ্যাত শিয়া জীবনীগ্রন্থ আল-ইরশাদ, যার রচয়িতা হলেন শিয়া পণ্ডিত আল-শায়খ আল-মুফিদ (মৃ. 1022), এতে বলা হয়েছে যে, আলি মৃত্যুর আগের রাতটি জয়নবের ঘরে ইফতার ও সেহরি করেছেন এবং আহত অবস্থায় তাঁকে ওই বাড়িতেই ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। [৪৯] আলির মৃত্যুর পর তাঁর বড় ছেলে হাসান কুফায় খলিফা নির্বাচিত হন,[৫০][৫১] তবে অল্প সময় পরই তিনি মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (শা. 661–680) এর হাতে শাসন ছেড়ে দেন,[১৩][৫২] সম্ভবত তাঁর বিপুল সেনা শক্তির কারণে এবং ইরাকিদের যুদ্ধবিমুখ মনোভাবের কারণে।[৫৩][৫৪] চুক্তির শর্ত ছিল, মুয়াবিয়া পরবর্তীতে কাউকে নিজের উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করবেন না।[৫২]
হাসানের মৃত্যু (৬৬৯)
[সম্পাদনা]হাসান খিলাফত ত্যাগের পর পরিবারসহ মদিনায় ফিরে আসেন,[১৩] এবং মুয়াবিয়ার সঙ্গে করা শান্তিচুক্তির প্রতি সম্মান জানিয়ে রাজনীতি থেকে নিজেকে বিরত রাখেন।[৫৫][৫৬][৫৭]প্রাচীন শিয়া সূত্রসমূহ প্রায় সর্বসম্মত যে, ৬৬৯ সালে মুয়াবিয়ার প্ররোচনায় হাসানকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল,[৫২][১৩][৫৮]সম্ভবত তার পুত্র ইয়াজিদের উত্তরাধিকারের পথ সুগম করতেই।[৫৯][৬০] বলা হয়, জয়নব তাঁর ভাই হাসানের মৃত্যুকালীন সময়ে তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন। [১৩][৬১] এরপর মুহাম্মদের পরিবারপ্রধান হিসেবে হাসানের স্থলাভিষিক্ত হন তাঁর ভাই হুসাইন ইবনে আলি,[১৩] যিনি তবুও মুয়াবিয়ার সঙ্গে করা শান্তিচুক্তির প্রতি সম্মান রেখেছিলেন।[৬২][৬৩]
ইয়াজিদের ক্ষমতাগ্রহণ (৬৮০)
[সম্পাদনা]মুয়াবিয়া ৬৭৬ সালে তাঁর পুত্র ইয়াজিদকে উত্তরসূরি মনোনীত করেন,[৬৪][৬৫] এবং তাঁর এই সিদ্ধান্ত মুহাম্মদের বহু বিশিষ্ট সাহাবির সন্তানদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যার মধ্যে হুসাইন-ও ছিলেন।[৬৬][৬৭] মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর ৬৮০ সালে ইয়াজিদ ক্ষমতা গ্রহণ করলে, মদিনার গভর্নরকে আদেশ দেওয়া হয় যে, হুসাইনের কাছ থেকে জোরপূর্বক আনুগত্য আদায় করতে হবে। ফলে হুসাইন রাতে গোপনে মদিনা ত্যাগ করে মক্কায় চলে যান, যেন ইয়াজিদকে খলিফা হিসেবে স্বীকৃতি না দিতে হয়।[৬২] তাঁর সঙ্গে ছিলেন কিছু আত্মীয়,[৬৮] যাঁদের মধ্যে ছিলেন জয়নব ও তাঁর দুই পুত্র আউন ও মুহাম্মদ।[৬৯][১৩] জয়নাবের স্বামী আবদুল্লাহ হুসাইনের অভিযানে অংশ নেননি, যদিও তিনি হুসাইনের উদ্দেশ্যের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন বলে জানা যায়,[৭০] সুন্নি ইতিহাসবিদ আল-তাবারীর মতে। [৭১] এশতেহার্দী মনে করেন, আবদুল্লাহর অসুস্থতা বা বার্ধক্যই হয়তো তাঁর না যাওয়ার কারণ ছিল, আর তাঁর পক্ষ থেকে দুই ছেলেকে প্রেরণ করাই তাঁর সমর্থনের প্রমাণ। [৩৫][৬৯] এর বিপরীতে, আবদুর রহমান লিখেছেন যে, জয়নব সম্ভবত আবদুল্লাহকে তালাক দিয়ে হুসাইনের সঙ্গে রওনা হন এবং পরে আবদুল্লাহ তাঁর বোন উম্মে কুলসুমকে বিয়ে করেন, যদিও এই মতামত বিতর্কিত [৭২] কারণ, ইসলামী আইন অনুযায়ী স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রী ভ্রমণে যেতে পারেন না। তাই কেউ কেউ মনে করেন, জয়নবের বিয়ের শর্ত ছিল যে, তিনি সব ভ্রমণে ভাই হুসাইনের সঙ্গে যেতে পারবেন,[৩৫][৭১] বিশেষত কারবালার উদ্দেশ্যে।
কারবালার যুদ্ধ (৬৮০)
[সম্পাদনা]কারবালার পথে যাত্রা
[সম্পাদনা]কুফার কিছু লোক হুসাইনকে সমর্থন জানিয়ে চিঠি পাঠালে, তাঁর চাচাতো ভাই মুসলিম ইবনে আকিল সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেন। এরপর হুসাইন ১০ বা ১২ সেপ্টেম্বর ৬৮০ সালে মক্কা থেকে কুফার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, সঙ্গে ছিলেন কিছু আত্মীয় ও অনুগামী।[৬২] আল-ইরশাদ-এ হুসাইনের প্রতি এক বর্ণনায় বলা হয়, তিনি ইয়াজিদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই জীবন ত্যাগ করতে প্রস্তুত ছিলেন।[৭৩][৭৪] তাঁর সৎভাই ইবনে হানাফিয়ার জন্য লিখিত বার্তায় হুসাইন উল্লেখ করেন, তাঁর উদ্দেশ্য “অত্যাচার বা দুর্নীতি ছড়ানো” নয়, বরং “সৎকাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ” করা। [৭৫] যাই হোক, পথেই ইয়াজিদের বাহিনী হুসাইনের কাফেলাকে বাধা দেয় এবং ২ মুহাররম ৬১ হিজরিতে (২ অক্টোবর ৬৮০) তাঁদের কারবালায় একটি নির্জন মরুভূমিতে শিবির গাড়তে বাধ্য করে, যেখানে পানির উৎস বা সুরক্ষার ব্যবস্থা ছিল না। [৬২] কুফাবাসীর প্রতিশ্রুত সমর্থন আর আসে না, কারণ কুফার নতুন গভর্নর উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ হুসাইনের দূতকে হত্যা করেন এবং স্থানীয় নেতাদের ভীতসন্ত্রস্ত করে ফেলেন।[৬২]
পানির সংকট
[সম্পাদনা]৭ মুহাররম তারিখে,[৭৬] ইবনে জিয়াদের আদেশে উমাইয়া সেনাপতি উমর ইবনে সাদ হুসাইনের শিবিরের পানির উৎস ইউফ্রেটিস বন্ধ করে দেন। [৭৭][৬২] হুসাইনের সৎভাই আব্বাস ইবনে আলী ও তাঁর সহযোগীরা রাতের বেলায় অভিযান চালিয়ে কিছু পানি আনতে সক্ষম হন।[৬২] কিন্তু তবুও হুসাইনের শিবিরে তৃষ্ণা ও ক্ষুধার্ত অবস্থায় কাটাতে হয় অবরোধের সময়কাল। [৭৮][৭৯][৮০] কারবালার জলবায়ু উষ্ণ মরুপ্রধান।[৮১][৮২]
আলোচনা
[সম্পাদনা]ইবনে সা'দকে আদেশ দেওয়া হয়েছিল যে, হুসাইন যেন ইয়াজিদকে আনুগত্য প্রকাশ না করা পর্যন্ত চলে যেতে না পারেন। [৭৭] হুসাইন ইয়াজিদের প্রতি আত্মসমর্পণ করেননি,[৬২][৭৮] তবে তিনি রক্তপাত এড়াতে নিজে থেকে সরে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে ইবনে সা'দের মাধ্যমে ইবনে জিয়াদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু গভর্নর অনমনীয় ছিলেন,[৭৮][৬২] এবং শেষে ইবনে সা'দকে আদেশ দেন, হুসাইন ও তাঁর অনুগামীরা যদি ইয়াজিদকে আনুগত্য প্রকাশ না করেন, তাহলে তাঁদের হত্যা ও বিকৃত করে ফেলা হোক; আর যদি আনুগত্য করেন, তবে তাঁদের ভাগ্য পরে নির্ধারিত হবে।[৬২]
তাসুয়া (৯ মুহাররম)
[সম্পাদনা]হুসাইনের অনুরোধে, তাসুয়ার দিনে সংঘর্ষ একদিন পিছিয়ে দেওয়া হয়।[৬৮][৬২] ওই রাতে হুসাইন তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশে এক ভাষণ দেন যাতে তিনি তাঁদের বলেন তাঁকে ছেড়ে যেতে ও নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে।[৬৮] কিন্তু সেখানে উপস্থিত প্রায় সবাই তাঁর সঙ্গে থেকে যান।[৬২][৮২][৮৩] হুসাইন ও তাঁর সঙ্গীরা সেই রাত অতিবাহিত করেন কুরআন তিলাওয়াত ও নামাজের মাধ্যমে,[৮৪] যেমনটি বেশিরভাগ মাকাতিল সাহিত্যে উল্লেখ আছে।[৮৫] এই রাতে হুসাইন তাঁর বোন জয়নাবকে চেতনা হারানোর পর সান্ত্বনা দেন এবং মনোবল জোগান, কারণ জয়নাব তাঁর আসন্ন মৃত্যুর চিন্তায় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। [৭৮] কারবালার একটি প্রচলিত বিবরণ অনুযায়ী, জয়নাব তাঁর সৎভাই আব্বাসকে তাঁদের পিতার ইচ্ছার কথা স্মরণ করিয়ে দেন যে, আব্বাস যেন কারবালার রক্ষাকবচ হন এবং হুসাইনের প্রতি এমন হন যেমন আলি ছিলেন মুহাম্মদের জন্য। আব্বাস তা মেনে নিয়ে শপথ করেন।[৮৬]
আশুরা (১০ মুহাররম)
[সম্পাদনা]
আশুরার সকালে, হুসাইন তাঁর প্রায় বাহাত্তর জন সমর্থককে সাজিয়ে শত্রুদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং প্রশ্ন করেন, কীভাবে তারা মুহাম্মদের দৌহিত্রকে হত্যা করা বৈধ মনে করে। [৭৮] উমাইয়া সেনাপতি আল-হুর ইবনে ইয়াজিদ আল-তামিমি সম্ভবত এই ভাষণের পর হুসাইনের পক্ষে চলে আসেন।[৮৭] এরপর উমাইয়া বাহিনী হুসাইনের শিবিরে তীর বর্ষণ শুরু করে,[৭৮] এবং যুদ্ধ শুরু হয়, যা সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত চলে; এতে একক লড়াই, ছোটখাটো সংঘর্ষ, আক্রমণ ও পশ্চাদপসরণ অন্তর্ভুক্ত ছিল।[৬২] সেনারা হুসাইনের তাঁবুগুলোতেও আগুন ধরিয়ে দেয়,[৬২] যদিও আল-তাবারী লিখেছেন যে, হুসাইনের স্ত্রী ও সন্তানদের তাঁবু রক্ষা পায়, কারণ উমাইয়া সেনাপতি শিমার ইবনে জিল-জাওশন সে তাঁবুতে আগুন দেওয়ার কথা বললেও অন্য সৈনিকেরা তাঁকে নিবৃত্ত করে।[৭৮]হুসাইনের সঙ্গীরা দুপুরের মধ্যেই শহিদ হন, এরপর বনু হাশিম পরিবারের সদস্যদের পালা আসে,[৮৮] যাঁদের মধ্যে ছিলেন হুসাইনের দুই পুত্র, হাসানের তিন পুত্র,[৬২] এবং জয়নাবের দুই পুত্র—যাঁদের যুদ্ধ করতে উৎসাহিত করেছিলেন জয়নাব। [৭৬][৮৮] শিয়া দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী, জয়নাব তাঁর সন্তানদের উৎসর্গ করেছিলেন ইসলাম টিকিয়ে রাখার জন্য। হুসাইনের প্রতি ভালোবাসার কারণে।[৮৯] তিনি সারাদিন শহিদ যোদ্ধাদের পরিবারকে সান্ত্বনা দেন [৮১][৯০] এবং আহতদের সেবা করেন।[৯০] বলা হয়, তিনি একটি জিনিসের কাঁধে তৈরি উঁচু মঞ্চ (তাল) থেকে যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেন,[৯১] তবে যখন তাঁর সন্তানদের যুদ্ধ করার পালা আসে, তখন তিনি তাঁবুতেই ছিলেন। [৮১] একটি বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি একবার যুদ্ধক্ষেত্রে ছুটে গিয়েছিলেন, কিন্তু হুসাইন তাঁকে ফেরত পাঠিয়ে বলেছিলেন, যারা রয়ে গেছে, তাঁদের দেখভাল করতে। [৯২] তেমনি, আল-তাবারী লিখেছেন, জয়নাব যুদ্ধক্ষেত্রে দৌড়ে গিয়ে কান্নাকাটি করে পড়ে যান তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র আলি আল-আকবার-এর মৃতদেহের উপর, যিনি তখন সদ্য শহিদ হয়েছেন। হুসাইন তাঁকে শান্ত করে তাঁবুতে ফিরিয়ে নিয়ে যান।[৭১]
হুসাইনের শাহাদাত
[সম্পাদনা]যখন হুসাইনের শেষ বেঁচে থাকা যোদ্ধাও শহিদ হলেন, উমাইয়া সেনাবাহিনী একত্র হয়ে একা থাকা ইমামের দিকে অগ্রসর হয়, যিনি তবুও শেষ অবধি লড়াই চালিয়ে যান। [৮২] কারবালার একটি প্রচলিত বর্ণনা অনুসারে, যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে হুসাইনকে তাঁর মা ফাতিমার পক্ষ থেকে চুম্বন করেন জয়নব, মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য,[৯৩] এবং হুসাইন জয়নাবকে অনুরোধ করেন, যেন তিনি তাঁর শাহাদাতের পর শোক প্রকাশ না করেন। [৯৪] আহত হুসাইন যখন ঘোড়া থেকে পড়ে যান ও তাঁকে ঘিরে ফেলা হয়, তখন জয়নব তাঁর দিকে ছুটে যান এবং ইবনে সা'দের কাছে তাঁর ভাইয়ের প্রাণভিক্ষা করেন।[৭৮][৯৫] উমাইয়া সেনাপতি তাঁর এই অনুরোধ উপেক্ষা করেন।[৯৫] ফলে হুসাইনের পরিবার স্বচক্ষে দেখেন, কীভাবে তাঁকে বারবার আঘাত করে কেটে ফেলা হয়।[৯৬] এরপর শামির অথবা সিনান ইবনে আনাস[৯৭] কিংবা খাওয়ালি ইবনে ইয়াজিদ আসবাহির দ্বারা তাঁর শিরচ্ছেদ করা হয়,[৬২] যদিও প্রচলিত বর্ণনাগুলো শামিরকে দায়ী করে। [৯৮][৮২] কিছু বর্ণনায় বলা হয়েছে, হুসাইনের অনুরোধে জয়নব ইতোমধ্যে তাঁবুতে ফিরে গিয়েছিলেন[৯৯][১০০] এবং ভাইয়ের শিরচ্ছেদ প্রত্যক্ষ করেননি,[৯৯] যদিও আল-তাবারীর বক্তব্য ভিন্ন।[৯৬] আধুনিক কারবালা বর্ণনায় বলা হয়, হুসাইনের অনুরোধ মেনে জয়নব দৃঢ় থাকেন এবং মুষড়ে পড়েননি। তিনি হুসাইনের নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, "হে আল্লাহ! আমাদের পক্ষ থেকে এই উৎসর্গ গ্রহণ করো।" এই কথা শোনে শত্রু সেনারা হতবাক হয়ে পড়ে।[৯০]
ঘটনার পরপরই
[সম্পাদনা]হুসাইনের শাহাদাতের পর, উমাইয়া সৈন্যরা তাঁর জামাকাপড় ও ব্যক্তিগত জিনিস লুট করে, তাঁর শিবির তছনছ করে,[৭৮] এবং শহিদদের মাথা কেটে বর্শার উপর তুলে শহরে প্রদর্শন করে।[৮২] তাড়াহুড়োর মধ্যে কিছু শিশুও নিহত হয় বলে উল্লেখ রয়েছে। [৯৯] ইবনে জিয়াদের পূর্ব নির্দেশে, হুসাইনের মৃতদেহ পদদলিত করা হয়,[৬২] সম্ভবত দশজন অশ্বারোহীর দ্বারা, যারা এই "চরম অবমাননা" ঘটাতে স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসে।[৭৮] পরে কাছাকাছি আল-গাদিরিয়্যা গ্রামের বানু আসাদ গোত্রের লোকেরা হুসাইন ও তাঁর অনুসারীদের প্রায় বাহাত্তরটি দেহ দাফন করেন। [৭৮] মহিলারা ও শিশুরা বন্দি হন, তাদের মধ্যে ছিলেন জয়নাব ও উম্মে কুলসুম।[৭৯] বন্দিদের মধ্যে ছিলেন হুসাইনের একমাত্র জীবিত পুত্র আলি, যিনি যুদ্ধের সময় অসুস্থ ছিলেন বলে লড়াই করতে পারেননি। [১৯] শিয়া মতে, ‘আল-সাজ্জাদ’ ও ‘জয়নুল আবেদিন’ উপাধিধারী এই আলিই ছিলেন বারো ইমামের চতুর্থ ইমাম। তাঁর মাধ্যমেই শিয়া ইমামতের বংশধারা বেঁচে থাকে।[১০১] শামির তাঁকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছিল,[৭৮] কিন্তু জয়নব অনুরোধ করে তাঁর জীবন রক্ষা করেন,[১৯][১০২] বলেছিলেন, “তাঁকে মারার আগে আমাকে হত্যা করো।”[৯৬] কারবালার পরে বন্দিরা শোক প্রকাশ করেন।[১০৩]
কুফায় বন্দিত্ব
[সম্পাদনা]বন্দিদের কুফায় নিয়ে যাওয়া হয়,[৮২] তাঁরা সেখানে পৌঁছান ১২ মুহাররম।[১০৪] পথিমধ্যে তাঁদের অসম্মান করা হয়[১০৫] এবং তাঁদের মাথা খোলা ও নগরজুড়ে প্রদর্শন করা হয়, শহীদদের মাথাগুলোর সঙ্গে।[১০৫] বন্দিরা জয়নবকে তাঁদের নেতা হিসাবে মান্য করতেন বলে ধারণা করা হয়।[১০৬]
কুফায় জয়নবের ভাষণ
[সম্পাদনা]ইবনে তাইফুর তাঁর রচনায় বালাঘাত আন-নিসা'-তে কারবালা নিয়ে দুটি ভাষণের উল্লেখ করেন—একটি কুফার বাজারে উম্মে কুলসুমের নামে,[১০৫] অন্যটি দামেস্কে ইয়াজিদের দরবারে জয়নবের নামে।[১০৫][৪২] যদিও অধিকাংশ শিয়া লেখক পরবর্তীতে উভয় ভাষণকেই জয়নবের বলে উল্লেখ করেছেন, যেটি কুতবুদ্দিন অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে বিবেচনা করেন।[৪২] ইবনে তাইফুর লেখেন, কুফার জনগণ বন্দি অবস্থায় মুহাম্মদের পরিবারকে দেখে বিলাপ করতে থাকে। এরপর জয়নাব (বা উম্মে কুলসুম) জনতাকে লক্ষ্য করে ভাষণ দেন, তাঁদের হুসাইনের শাহাদাতে অংশগ্রহণ ও ভূমিকার জন্য ভর্ৎসনা করেন এবং কারবালার ঘটনাবলি বর্ণনা করেন।[১০৭][১০৮]
ইবনে জিয়াদের দরবারে
[সম্পাদনা]আল-তাবারী ও আল-মুফিদের বর্ণনা অনুযায়ী,[১০৯] বন্দিদের পরে ইবনে জিয়াদের সামনে হাজির করা হয়। সে তখন হুসাইন ও অন্যান্যদের হত্যা করার ব্যাপারে গর্ব করে। জয়নব এর জবাবে কুরআনের তাযকিয়া আয়াত (৩৩:৩৩) স্মরণ করিয়ে মুহাম্মদের পরিবার সম্পর্কে কুরআনের মর্যাদা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হুসাইন ও তাঁর সঙ্গীদের হত্যা পূর্বনির্ধারিত ছিল এবং খুব জলদিই আল্লাহ ইবনে জিয়াদের সঙ্গে তাঁদের ফয়সালা করবেন। তাঁর এই জবাবে ইবনে জিয়াদ রেগে গেলেও তাঁর এক সেনা স্মরণ করিয়ে দিলে যে নারীর কথা নিয়ে দোষারোপ করা যায় না, তখন সে নিজেকে সংযত রাখে।[১১০] ইবনে জিয়াদ আলি ইবনে হুসাইনকে হত্যার নির্দেশও দেন, কিন্তু জয়নব তাঁকে রক্ষা করেন এবং অনুরোধ করেন, তাঁকে আগে হত্যা করা হোক।[১১০] এই ঘটনা প্রাচীন ঐতিহাসিক আবু মিখনাফ (মৃ. 773–774), ইবনে সা’দ (মৃ. 845), ও আল-তাবারী উল্লেখ করেছেন।[১০৯] এরপর ইবনে জিয়াদ অন্যদের মুক্তি দিলেও,[১১১] কিছু সময়ের জন্য হাশিমি বন্দিদের কারাগারে পাঠান এবং পরে তাঁদের দামেশকে পাঠান।[১১২]
দামেস্ক যাত্রা
[সম্পাদনা]বন্দিদের দামেস্কগামী পথ সুনির্দিষ্ট নয়,[১১৩] যদিও কেউ কেউ বলেন যে তাঁরা মরুভূমির পথ ধরেছিলেন।[১১৪] দশম শতাব্দীর সুন্নি আলেম আল-খাওয়ারিজমি তাঁর আল-মাকতাল গ্রন্থে উল্লেখ করেন, বন্দিদের "গ্রাম থেকে গ্রামে" নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে প্রদর্শন করা হয়।[১১৫][১১৬][১১৭] পক্ষান্তরে, শিয়া-ঘেঁষা ঐতিহাসিক আল-ইয়াকুবি (মৃ. 897–898) বর্ণনা করেন, ইবনে আব্বাস এক চিঠিতে ইয়াজিদকে ভর্ৎসনা করেন মুহাম্মদের পরিবারের নারীদের কুফা থেকে দামেস্ক পর্যন্ত প্রদর্শন করে বিজয় দেখানোর জন্য। তিনি এটিকে হুসাইন ও তাঁর আত্মীয়দের হত্যার চেয়েও জঘন্য হিসেবে আখ্যা দেন।[১০৩]
দামেস্কে বন্দিত্ব
[সম্পাদনা]
বন্দিদের দামেস্কের রাস্তায় প্রদর্শন করা হয়,[১৯] এবং পরে কিছুদিন কারাগারে রাখা হয়।[২] যখন তাঁদের ইয়াজিদের দরবারে হাজির করা হয়, ইসলামি অধ্যয়নবিদ এল. ভেকিয়া ভাগ্লিয়েরি লেখেন যে ইয়াজিদ প্রাথমিকভাবে কঠোর ব্যবহার করলেও পরে দয়া প্রদর্শন করেন এবং ইবনে জিয়াদের আচরণে অনুতপ্ত হন। তিনি এমনকি বলেন, হুসাইন জীবিত থাকলে তাঁকে ক্ষমা করতেন।[৭৮] অনুরূপ বিবরণ দিয়েছেন ইতিহাসবিদ ডব্লিউ. মাডেলুং (মৃ. 2023) এবং এইচ. হাল্ম।[৬২][১১৮] তবে ইসলামি পণ্ডিত এম. মোমেন মনে করেন, ইয়াজিদ শুরুতে কঠোর আচরণ করলেও পরে বন্দিদের মুক্তি দেন কারণ জনমত তাদের পক্ষে চলে যেতে থাকে এবং তিনি বিদ্রোহের আশঙ্কা করেন।[১১২] এই ধরনের মত দেন আরও অনেকে, যেমন এসপোসিটো,[১৯] আর. ওসমান,[১১৯] কে. আগাই,[১২০] ডি. পিনো,[১১৪] এইচ. মুনসন,[৮৪] এবং শিয়া আলেম মুহাম্মদ হুসাইন তাবাতাবাই (মৃ. 1981)।[১২১]
অন্যদিকে, সুন্নি ঐতিহাসিক ইবনে কাসির (মৃ. 1373) লিখেছেন যে ইয়াজিদ তাঁর গভর্নরকে এই হত্যার জন্য কোনো ভর্ৎসনা করেননি। এইচ. এম. জাফরি এটিকে ইয়াজিদের অনুশোচনার প্রমাণ না বলে মত দেন এবং বলেন, এই অনুশোচনার দাবি ইয়াজিদের পূর্ব নির্দেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে হুসাইন বায়াত না দিলে তাঁকে হত্যা করতে বলা হয়েছিল।[১২২]
একটি বিকল্প বিবরণ দিয়েছেন শিয়া আলেম তাবারসি (মৃ. 1153) ও আবু মিখনাফ।[১২৩] তাঁরা লেখেন, বন্দিদের একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে খলিফার দরবারে আনা হয়, যেখানে ইয়াজিদ কবিতা আবৃত্তি করেন ও তাঁর মুশরিক পূর্বপুরুষদের বদরের যুদ্ধে নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে গর্ব করেন।[১১৯][১২৪][১২৫] কিছু বর্ণনায় বলা হয়, ইয়াজিদ হুসাইনের কাটা মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন,[৭৯] যদিও এই ঘটনাটি ইবনে জিয়াদের সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত।[৭৮][১১২][৯৪] ভেকিয়া ভাগ্লিয়েরির বর্ণনায় ইয়াজিদকে সম্মানজনক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যিনি ইবনে জিয়াদকে দায়ী করেন।[১০৯] এই দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করে মাডেলুং বলেন, প্রারম্ভিক (সুন্নি) উৎসসমূহ সাধারণত খলিফাকে নির্দোষ দেখাতে ইবনে জিয়াদকে দোষারোপ করে। কিন্তু মাডেলুং নিজে মনে করেন, হুসাইনের হত্যার প্রধান দায়ভার ইয়াজিদের উপরই বর্তায়।[৬২]
ইবনে জিয়াদের দরবার
[সম্পাদনা]ইবনে জিয়াদ হত্যার গৌরব নিয়ে যখন জয়নাবের সঙ্গে কথা বললেন, তখন তিনি তাহারাতের আয়াত (সূরা আহযাব ৩৩:৩৩) উল্লেখ করে মুহাম্মদের পরিবারের মর্যাদা স্মরণ করিয়ে দেন এবং বলেন, হুসাইনের মৃত্যু ও তাঁর সঙ্গীদের শাহাদাত পূর্বনির্ধারিত ছিল এবং আল্লাহ্ শিগগিরই তাদের বিচার করবেন। ইবনে জিয়াদ এতে ক্রুদ্ধ হন, তবে তাঁর সেনারা বলেন যে একজন নারীর কথার জন্য তাঁকে দোষারোপ করা যায় না—এই যুক্তিতে তিনি নিজেকে সংযত করেন।[১১০] তিনি তখন আলি ইবনে হুসাইনকে হত্যা করার আদেশ দেন, কিন্তু জয়নাব নিজের ভ্রাতুষ্পুত্রকে বাঁচানোর জন্য নিজেকে তাঁর সামনে রেখে বলেন, "তাঁকে মারার আগে আমাকে হত্যা করুন।"[১১০] ইবনে জিয়াদ কিছু সময় তাদের বন্দি করে রাখেন এবং পরে তাদের দামেস্কএ পাঠান।[১১২]
দামেস্কে যাত্রা
[সম্পাদনা]যাত্রাপথ নির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও অনেকে বলেন, তারা মরু পথ ধরে গিয়েছিল।[১১৪] কিছু সূত্র মতে, বন্দিদের এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রদর্শন করা হয়।[১১৫][১১৬] শিয়া ইতিহাসবিদ ইয়াকুবি বলেন, ইবনে আব্বাস পরে ইয়াজিদকে একটি চিঠিতে এই কার্যকলাপের নিন্দা জানান এবং বলেন, এ ছিল কারবালার হত্যাযজ্ঞের চেয়েও জঘন্য।[১০৩]
দামেস্কে বন্দিত্ব
[সম্পাদনা]বন্দিদের দামেস্কে প্রকাশ্যে ঘোরানো হয় এবং পরে তাদের কিছুদিন বন্দি করে রাখা হয়।[১৯][২] লওরা ভেচিয়া ভালিয়েরির মতে, শুরুতে ইয়াজিদ রুক্ষভাবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেও পরে তিনি নরম মনোভাব দেখান ও তাঁর গভর্নরের আচরণে অনুশোচনা প্রকাশ করেন।[৭৮] তবে মূজান মোমেন মনে করেন, ইয়াজিদ প্রথমে কঠোর ছিলেন, কিন্তু জনমতের চাপে পরে বন্দিদের মুক্তি দেন।[১১২] অন্যদিকে শাইখ তাবারসি ও আবু মিখনাফএর মতে, ইয়াজিদ বিজয় উদ্যাপন করে কবিতা আবৃত্তি করেন এবং বদরের যুদ্ধএ নিহত তাঁর আত্মীয়দের প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেন।[১১৯][১২৪][১২৫]
দামেস্কে জয়নবের ভাষণ
[সম্পাদনা]বালাগাত আল-নিসা গ্রন্থ জয়নাবের একটি ভাষণ উল্লেখ করে, যেখানে তিনি ইয়াজিদের দরবারে তাঁর অপমানের প্রতিক্রিয়া জানান।[৪২] ভাষণে ইয়াজিদকে "আত্-তুলাকা-র পুত্র" বলে সম্বোধন করা হয়—এটি সেইসব লোকদের জন্য ব্যবহৃত হয়, যাদের মুহাম্মদ তাঁর মক্কা বিজয়ের সময় ক্ষমা করেছিলেন।[১১৯] তিনি প্রশ্ন করেন, তাঁর পরিবারের নারীদের প্রকাশ্যে নিয়ে যাওয়া কি ন্যায়সংগত, যেখানে ইয়াজিদের নিজের পরিবার রক্ষিত?[১২৬] এই ভাষণটি বিভিন্ন কুরআনিক আয়াত দ্বারা সমৃদ্ধ।[১২৭] উদাহরণস্বরূপ, ৩:১৭৯ আয়াতে বলা হয়, "অবিশ্বাসীরা যেন না ভাবে যে তাদের অবকাশ ভালো কিছু; বরং এই অবকাশ দিয়ে তারা অধিকতর গোনাহ করবে, এবং তাদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি রয়েছে।"[১২৮] আরেকটি আয়াতে (১১:১৮) বলা হয়, "জালিমদের উপর আল্লাহ্র অভিশাপ।"[১২৯]
অন্যান্য ঘটনা
[সম্পাদনা]আল-তাবারি ও ইবনে বাবাওয়াইহ বলেন, দামেস্কে এক সিরীয় ব্যক্তি ইয়াজিদের কাছে হুসাইনের কন্যাদের একজনকে ক্রীতদাসী হিসেবে চেয়েছিল, কিন্তু জয়নব তা রুখে দেন।[২][১৯] একবার তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, কারবালার ঘটনাকে তিনি কীভাবে দেখেন, তখন তিনি বলেন, "আমি শুধু সৌন্দর্যই দেখেছি" (ma ra'aytu illa jamila)।[৪০] এটি তাঁর আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক ধৈর্য ও দূরদর্শিতার প্রতীক।[৪০] বন্দিত্বকালে সাকিনা বা রুকাইয়া নামে হুসাইনের একজন কন্যা দামেস্কে মারা যান।[১৩০][১৩১]
মুক্তি ও মদিনায় প্রত্যাবর্তন
[সম্পাদনা]পরবর্তীতে বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয় এবং তাদের মদিনায় ফেরত পাঠানো হয়।[১০৫] কিছু সূত্র মতে, তারা কারবালার পথে ফিরে যান ও সেখানে তাঁদের শহীদ আত্মীয়দের শোক পালন করেন।[১১৪] বশীর নামক এক ব্যক্তি তাদের সাহায্য করেন, যাঁকে জয়নাব তাঁদের সামান্য সম্পদ থেকে পুরস্কৃত করেন।[১৩২] সুন্নি সূত্রমতে, ইয়াজিদ তাঁদের ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করেন,[১৩৩] কিন্তু শিয়া মতে, জয়নবের সাহসিক প্রতিবাদই ইয়াজিদকে বাধ্য করে তাঁর অবস্থান পরিবর্তনে।[১১৯]
মৃত্যু ও মাজারসমূহ
[সম্পাদনা]জয়নাব ৬৮২ সালে প্রায় ৫৬ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।[২] কিছু সূত্র তাঁর মৃত্যুবছর ৬৮১ সাল বলে উল্লেখ করে।[১৩৪] শিয়া মতানুসারে, ১৫ রজব তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী হিসেবে পালিত হয়।[১২] তবে অন্যান্য তারিখ যেমন ১১ বা ২১ জমাদিউস সানি, ২৪ সফর এবং ১৬ যুলহিজ্জাও বলা হয়েছে।[৩৩] কিছু সূত্র বলেন, তিনি মদিনাতেই ইন্তেকাল করেন, কেউ বলেন সিরিয়াতে তাঁর স্বামীর সম্পত্তিতে, আবার কেউ বলেন, তাঁকে মিশরএ নির্বাসিত করা হয়।[২] তাঁর কবরস্থান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে: দামেস্ক এর সাইয়্যিদা জয়নাব মসজিদ এবং কায়রোর একই নামের মসজিদ দাবি করে থাকেন।[১৩৫] উভয় স্থানই মুসলিম তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে।[২]
শোকানুষ্ঠান
[সম্পাদনা]জয়নব ও ইমামদের রীতি অনুসরণ করে শিয়া মুসলমানরা মুহাররম ও সফর মাসজুড়ে কারবালার ঘটনাবলি শোকানুষ্ঠানে স্মরণ করেন।[১৩৬] বিশেষ করে মুহাররমের প্রথম দশ দিনে শোকমিছিল হয় এবং আশুরায় তা চূড়ান্ত রূপ নেয়।[১৩৭] এসব অনুষ্ঠানে মাজলিস নামে কারবালার বর্ণনা আবেগঘনভাবে উপস্থাপন করা হয় যাতে শ্রোতাদের কাঁদিয়ে তোলা যায়।[১৩৮] এই অনুষ্ঠানগুলোতেই জয়নবসহ কারবালার নারীদের স্মরণ করা হয়।[১৩৯]
ঐতিহাসিক প্রভাব
[সম্পাদনা]অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব
[সম্পাদনা]জয়নাব মুসলিম নারীদের জন্য সাহস, নেতৃত্ব, ধর্মীয় নিষ্ঠা ও বাগ্মিতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হন।[২] ইরান ও লেবাননের ইতিহাসে তাঁকে একজন প্রতিবাদী ও ন্যায়বিচারের পক্ষে দৃঢ় নারীর প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়।[৭০][৯] ইরানে তাঁর জন্মদিন "নার্স দিবস" হিসেবে পালিত হয়, সম্ভবত কারবালায় আহতদের সেবার কারণে।[১৩৪]
কারবালার দূত
[সম্পাদনা]কারবালা শিয়াদের ধর্মীয় পরিচয়ের কেন্দ্রে পরিণত হয় এবং জয়নাবকে "কারবালার দূত" হিসেবে স্মরণ করা হয়।[১৪০] হুসাইনের আত্মত্যাগকে জয়নাবের ভাষিক সংগ্রাম স্মরণীয় করে তোলে, যাতে কারবালার ঘটনা বিস্মৃত না হয়।[১৪১]
চিত্রে
[সম্পাদনা]- দামেস্কের সৈয়দা জয়নব মসজিদ
- কায়রো
সূত্র
[সম্পাদনা]- Abbas, H. (২০২১)। The Prophet's Heir: The life of Ali ibn Abi Talib। Yale University Press। আইএসবিএন ৯৭৮০৩০০২৫২০৫৭।
- Abu Zahra, N. (১৯৯৭)। The Pure and Powerful: Studies in Contemporary Muslim Society। Ithaca Press। আইএসবিএন ০৮৬৩৭২২৬৯৫।
- Adamec, L.W. (২০১৭)। Historical Dictionary of Islam (Third সংস্করণ)। Rowman & Littlefield। আইএসবিএন ৯৭৮১৪৪২২৭৭২৩৬।
- (অভিসন্দর্ভ)।
{{অভিসন্দর্ভ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - Encyclopedia of Islam and the Muslim World।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - Aghaie, K.S. (২০০৪b)। The Martyrs of Karbala: Shi'i Symbols and Rituals in Modern Iran। University of Washington Press। আইএসবিএন ০২৯৫৯৮৪৪৮১।
- Aghaie, K.S. (২০০৫)। "Introduction"। The Women of Karbala: Ritual Performance and Symbolic Discourses in Modern Shi'i Islam। University of Texas Press। আইএসবিএন ৯৭৮০২৯২৭০৯৫৯১।
- Encyclopaedia of Islam।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - Aslan, R. (২০০৫)। No god but God: The Origins and Evolution of Islam। Random House। আইএসবিএন ১৫৮৮৩৬৪৪৫৩।
- Encyclopaedia Islamica।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - Blomfield, B. (২০১০)। "From Ritual to Redemption: Worldview of Shi'a Muslim Women in Southern California"। Women and Islam। ABC-CLIO। পৃ. ৩০৩ –&#৩২, ৩২৪। আইএসবিএন ৯৭৮০৩১৩০৮২৭৪০।
- Muhammad in History, Thought, and Culture: An Encyclopaedia of the Prophet of God।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - Encyclopaedia Iranica।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - Cortese, D.; Calderini, S. (২০০৬)। Women and the Fatimids in the World of Islam (First সংস্করণ)। Edinburgh University Press। আইএসবিএন ৯৭৮০৭৪৮৬২৬২৯৮।
- Daftary, F. (২০১৩)। A History of Shi'i Islam। I.B. Tauris। আইএসবিএন ৯৭৮০৮৫৭৭২৩৩৩৮।
- Deeb, L. (২০০৬)। An Enchanted Modern: Gender and Public Piety in Shi'i Lebanon। Princeton University Press। আইএসবিএন ৯৭৮০৬৯১১২৪২১৬।
- Donner, F.M. (২০১০)। Muhammad and the Believers: At the Origins of Islam। Harvard University Press। আইএসবিএন ৯৭৮০৬৭৪০৬৪১৪০।
- D'Souza, D. (১৯৯৮)। "The Figure of Zaynab in Shi'i Devotional Life"। Spiritual Traditions: Essential Visions for Living। United Theological College। পৃ. ২০১ –&#৩২, ২২৫। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৭২১৪৪৬১৬।
- Esposito, J.L. (২০০৩)। The Oxford Dictionary of Islam। Oxford University Press। আইএসবিএন ০১৯৫১২৫৫৮৪।
- The Islamic World: Past and Present।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - Encyclopedia of Women in World Religions।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - Flaskerud, I. (২০০৫)। "'Oh, My Heart Is Sad. It Is Moharram, the Month of Zaynab' The Role of Aesthetics and Women's Mourning Ceremonies in Shiraz"। The Women of Karbala: Ritual Performance and Symbolic Discourses in Modern Shi'i Islam। University of Texas Press। পৃ. ৬৫ –&#৩২, ৯২। আইএসবিএন ৯৭৮০২৯২৭০৯৫৯১।
- Encyclopaedia of Islam।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - Haider, N. (২০১৪)। Shi'i Islam: An Introduction। Cambridge University Press। আইএসবিএন ৯৭৮১১০৭০৩১৪৩২।
- Halm, H. (১৯৯৯)। Shi'a Islam: From Religion to Revolution। Markus Wiener Publishers। আইএসবিএন ১৫৫৮৭৬১৩৪৯।
- "Jihad of words: Gender and contemporary Karbala narratives"। ২০০৯: ৮৪ –&#৩২, ১০০। ডিওআই:10.1353/yes.2009.0016।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - Hazleton, L. (২০০৯)। After the Prophet: The Epic Story of the Shia-Sunni Split in Islam। Doubleday। আইএসবিএন ৯৭৮০৩৮৫৫৩২০৯৯।
- Hawting, G.R. (২০০০)। The First Dynasty of Islam: The Umayyad Caliphate AD 661 – 750 (Second সংস্করণ)। Routledge। আইএসবিএন ০৪১৫২৪০৭৩৫।
- Encyclopaedia of Islamic Civilisation and Religion।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - Hyder, S.A. (২০০৬)। Reliving Karbala: Martyrdom in South Asian Memory। Oxford University Press। আইএসবিএন ৯৭৮০১৯৫৩৭৩০২৮।
- Jafri, S.H.M. (১৯৭৯)। Origins and Early Development of Shi'a Islam। Longman। আইএসবিএন ০৫৮২৭৮০৮০২।
- Kassam, Z.; Blomfield, B. (২০১৫)। "Remembering Fatima and Zaynab: Gender in Perspective"। The Shi'i World: Pathways in Tradition and Modernity। I.B. Tauris। আইএসবিএন ৯৭৮০৮৫৭৭২৯৬৭৫।
- Kennedy, H. (২০১৬)। The Prophet and the Age of the Caliphates: The Islamic Near East from the Sixth to the Eleventh Century (Third সংস্করণ)। Routledge। আইএসবিএন ৯৭৮১১৩৮৭৮৭৬১২।
- (অভিসন্দর্ভ)।
{{অভিসন্দর্ভ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - Encyclopaedia of Islam।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - Encyclopaedia of Islam।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - Madelung, W. (১৯৯৭)। The Succession to Muhammad: A Study of the Early Caliphate। Cambridge University Press। আইএসবিএন ০৫২১৫৬১৮১৭।
- Encyclopaedia Iranica।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - Encyclopaedia Iranica।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - Momen, M. (১৯৮৫)। An Introduction to Shi'i Islam। Yale University Press। আইএসবিএন ৯৭৮০৩০০০৩৫৩১৫।
- Munson, H. (১৯৮৮)। Islam and Revolution in the Middle East। Yale University Press। আইএসবিএন ০৩০০০৪১২৭৬।
- Nakash, Y. (১৯৯৩)। "An Attempt to Trace the Origin of the Rituals of 'Āshūrā'": ১৬১–১৮১। ডিওআই:10.1163/157006093X00063।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - Nashat, G. (১৯৯৯)। "Women in the Middle East: 9000 B.C.E. – C.E. 1800"। Women in the Middle East and North Africa: Restoring Women to History। Indiana University Press। পৃ. ৫ –&#৩২, ৭২। আইএসবিএন ৯৭৮০২৫৩২১২৬৪১।
- Nematollahi Mahani, M.A. (২০১৩)। The Holy Drama: Persian Passion Play in Modern Iran। Leiden University Press। আইএসবিএন ৯৭৮৯৪০০৬০০৩৪৮।
- Osman, R. (২০১৫)। Female Personalities in the Qur'an and Sunna: Examining the Major Sources of Imami Shi'i Islam। Routledge। আইএসবিএন ৯৭৮১৩১৫৭৭০১৪৭।
- Pinault, D. (১৯৯৮)। "Zaynab bint 'Alī and the Place of the Women of the Households of the First Imāms in Shī'īte Devotional Literature"। Women in the Medieval Islamic World: Power, Patronage, and Piety। Macmillan। পৃ. ৬৯ –&#৩২, ৯৮। আইএসবিএন ৯৭৮০৩৩৩৭৪০৯৬৫।
- Pinault, D. (২০০১)। Horse of Karbala: Muslim Devotional Life in India। Palgrave। আইএসবিএন ০৩১২২১৬৩৭৮।
- Encyclopedia of Islam and the Muslim World।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - Oxford Encyclopedia of the Islamic World।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - Encyclopedia of Religion।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - Medieval Islamic Civilization: An Encyclopedia।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - Qutbuddin, T. (২০১৯)। "Orations of Zaynab and Umm Kulthūm in the Aftermath of Ḥusayn's Martyrdom at Karbala: Speaking Truth to Power"। The 'Other' Martyrs: Women and the Poetics of Sexuality, Sacrifice, and Death in World Literatures। Harrassowitz Verlag। পৃ. ১০৩ –&#৩২, ১৩২। আইএসবিএন ৯৭৮৩৪৪৭১১২১৪৭।
- The Oxford Encyclopedia Women in World History।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - "The Image of Ḥusayn ibn 'Alī in Maqātil Literature" (পিডিএফ)। ২০০২: ৭৯ –&#৩২, ১০৪। জেস্টোর 25802958।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - Medieval Islamic Civilization: An Encyclopedia।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - "Sayyida Zaynab in the State of Exception: Shi'i Sainthood as 'Qualified Life' in Contemporary Syria"। ২০১২: ২৮৫ –&#৩২, ২৯৯। ডিওআই:10.1017/S0020743812000050।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - Tabatabai, S.M.H. (১৯৭৫)। Shi'ite Islam। State University of New York Press। আইএসবিএন ০৮৭৩৯৫৩৯০৮।
- Encyclopaedia of Islam।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - Encyclopaedia of Islam।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - Encyclopaedia of Islam।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - Muhammad in History, Thought, and Culture: An Encyclopaedia of the Prophet of God।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - Wellhausen, J. (১৯০১)। Die religiös-politischen Oppositionsparteien im alten Islam (জার্মান ভাষায়)। Weidmannsche Buchhandlung। ওসিএলসি 453206240।
- Wellhausen, J. (১৯২৭)। The Arab Kingdom and Its Fall। University of Calcutta। ওসিএলসি 752790641।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Badruddīn, Amir al-Hussein bin (১৮ ডিসেম্বর ২০০৮)। The Precious Necklace Regarding Gnosis of the Lord of the Worlds। Imam Rassi Society।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 Qutbuddin 2005, পৃ. 9938।
- 1 2 Adibzadeh 2013, পৃ. 37।
- 1 2 3 Adibzadeh 2013, পৃ. 57।
- ↑ Esposito 2003।
- ↑ Adibzadeh 2013, পৃ. 90।
- ↑ Blomfield 2010, পৃ. 306।
- 1 2 Kassam ও Blomfield 2015, পৃ. 215।
- 1 2 3 4 5 Sayeed 2008।
- ↑ Adibzadeh 2013, পৃ. 43।
- 1 2 3 4 Adibzadeh 2013, পৃ. 35।
- 1 2 Momen 1985, পৃ. 239।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 Qutbuddin 2005, পৃ. 9937।
- 1 2 Pinault 2009।
- ↑ Adibzadeh 2013, পৃ. 44।
- ↑ Adibzadeh 2013, পৃ. 51।
- ↑ Szanto 2012, পৃ. 286।
- ↑ Adibzadeh 2013, পৃ. 47-8।
- 1 2 3 4 5 6 7 Esposito 2022।
- 1 2 3 Buehler 2014, পৃ. 186।
- ↑ Abbas 2021, পৃ. 104।
- ↑ Abbas 2021, পৃ. 33।
- ↑ Fedele 2018, পৃ. 56।
- 1 2 3 Abbas 2021, পৃ. 98।
- ↑ Abbas 2021, পৃ. 97।
- ↑ Khetia 2013, পৃ. 77।
- 1 2 3 Fedele 2018।
- ↑ Veccia Vaglieri 2012c।
- ↑ Adibzadeh 2013, পৃ. 65।
- ↑ Adibzadeh 2013, পৃ. 66-7।
- ↑ Adibzadeh 2013, পৃ. 68।
- 1 2 Adibzadeh 2013, পৃ. 68-9।
- 1 2 3 Nematollahi Mahani 2013, পৃ. 73।
- ↑ Adibzadeh 2013, পৃ. 51, 66।
- 1 2 3 Aghaie 2004b, পৃ. 127।
- ↑ Esposito 2003, পৃ. 347।
- ↑ Adibzadeh 2013, পৃ. 69।
- 1 2 Hamdar 2009, পৃ. 90।
- ↑ Adibzadeh 2013, পৃ. 51-2।
- 1 2 3 Osman 2015, পৃ. 132।
- ↑ Kassam ও Blomfield 2015, পৃ. 216।
- 1 2 3 4 5 Qutbuddin 2019, পৃ. 109-10।
- ↑ Gleave 2008।
- ↑ Donner 2010, পৃ. 159।
- ↑ Madelung 1997, পৃ. 182।
- ↑ Shah-Kazemi 2006, পৃ. 37।
- ↑ Esposito 2003, পৃ. 15।
- ↑ Momen 1985, পৃ. 25।
- ↑ Adibzadeh 2013, পৃ. 70-1।
- ↑ Wellhausen 1901, পৃ. 18।
- ↑ Veccia Vaglieri 2012a।
- 1 2 3 Madelung 2003।
- ↑ Momen 1985, পৃ. 27।
- ↑ Jafri 1979, পৃ. 154 – 155।
- ↑ Hulmes 2008, পৃ. 218।
- ↑ Momen 1985, পৃ. 27-28।
- ↑ Jafri 1979, পৃ. 157।
- ↑ Madelung 1997, পৃ. 331।
- ↑ Momen 1985, পৃ. 28।
- ↑ Jafri 1979, পৃ. 158।
- ↑ Adibzadeh 2013, পৃ. 73।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 Madelung 2004।
- ↑ Daftary 2013, পৃ. 32।
- ↑ Madelung 1997, পৃ. 322।
- ↑ Abbas 2021, পৃ. 167।
- ↑ Wellhausen 1927, পৃ. 145।
- ↑ Hawting 2000, পৃ. 46।
- 1 2 3 Bahramian ও Bulookbashi 2015।
- 1 2 Adibzadeh 2013, পৃ. 75।
- 1 2 Osman 2015, পৃ. 134।
- 1 2 3 Osman 2015, পৃ. 150।
- ↑ Aghaie 2004b, পৃ. 127-8।
- ↑ Munson 1988, পৃ. 22-3।
- ↑ Tabatabai 1975, পৃ. 175, 188।
- ↑ Adibzadeh 2013, পৃ. 78–79।
- 1 2 Qutbuddin 2019, পৃ. 106।
- 1 2 Momen 1985, পৃ. 29।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 Veccia Vaglieri 2012b।
- 1 2 3 Pinault 1998, পৃ. 71।
- ↑ Hamdar 2009, পৃ. 85–86।
- 1 2 3 Adibzadeh 2013, পৃ. 82।
- 1 2 3 4 5 6 Momen 1985, পৃ. 30।
- ↑ Tabatabai 1975, পৃ. 176।
- 1 2 Munson 1988, পৃ. 23।
- ↑ Sindawi 2002, পৃ. 91।
- ↑ Aghaie 2004a, পৃ. 128।
- ↑ Wellhausen 1901, পৃ. 66।
- 1 2 Hyder 2006, পৃ. 89।
- ↑ Nematollahi Mahani 2013, পৃ. 86।
- 1 2 3 Hamdar 2009, পৃ. 91।
- ↑ Adibzadeh 2013, পৃ. 81।
- ↑ Aghaie 2004b, পৃ. 119।
- ↑ Aghaie 2005, পৃ. 20।
- 1 2 Abu Zahra 1997, পৃ. 118।
- 1 2 Adibzadeh 2013, পৃ. 85-6।
- 1 2 3 Nashat 1999, পৃ. 47।
- ↑ Kohlberg 2012b।
- ↑ Aghaie 2004b, পৃ. 8-9।
- 1 2 3 Adibzadeh 2013, পৃ. 87।
- ↑ Aslan 2005, পৃ. 176।
- ↑ Kohlberg 2012a।
- ↑ Hazleton 2009, পৃ. 276।
- 1 2 3 Osman 2015, পৃ. 129।
- ↑ Adibzadeh 2013, পৃ. 92।
- 1 2 3 4 5 Qutbuddin 2019, পৃ. 107।
- ↑ Deeb 2006, পৃ. 130।
- ↑ Qutbuddin 2019, পৃ. 111।
- ↑ Hamdar 2009, পৃ. 92।
- 1 2 3 Osman 2015, পৃ. 149।
- 1 2 3 4 Osman 2015, পৃ. 130।
- ↑ Adibzadeh 2013, পৃ. 99।
- 1 2 3 4 5 Momen 1985, পৃ. 31।
- ↑ Adibzadeh 2013, পৃ. 102-3।
- 1 2 3 4 Pinault 2001, পৃ. 13।
- 1 2 Adibzadeh 2013, পৃ. 102।
- 1 2 Aghaie 2004a।
- ↑ Aghaie 2004b, পৃ. 9।
- ↑ Halm 1999, পৃ. 15।
- 1 2 3 4 5 Osman 2015, পৃ. 131।
- ↑ Aghaie 2004b, পৃ. 121।
- ↑ Tabatabai 1975, পৃ. 177।
- ↑ Jafri 1979, পৃ. 194।
- ↑ Osman 2015, পৃ. 149n212।
- 1 2 Qutbuddin 2019, পৃ. 118–119।
- 1 2 Adibzadeh 2013, পৃ. 121।
- ↑ Osman 2015, পৃ. 94।
- ↑ Qutbuddin 2019, পৃ. 130-1।
- ↑ Qutbuddin 2019, পৃ. 119।
- ↑ Hamdar 2009, পৃ. 93।
- ↑ Pinault 1998, পৃ. 78।
- ↑ Aghaie 2005, পৃ. 51।
- ↑ Nematollahi Mahani 2013, পৃ. 85-6।
- ↑ Haider 2014, পৃ. 70।
- 1 2 Adamec 2017, পৃ. 492।
- ↑ Szanto 2012, পৃ. 287।
- ↑ Hyder 2006, পৃ. 9।
- ↑ Momen 1985, পৃ. 240।
- ↑ Pinault 1998, পৃ. 77।
- ↑ Osman 2015, পৃ. 133।
- ↑ Kennedy 2016, পৃ. 77।
- ↑ Hamdar 2009, পৃ. 87।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- Zaynab bint Ali in Encyclopedia of Religion
- Speech said to have been given by Zaynab to Yazid