আবুল ফতেহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
আবুল ফতেহ
1969 Abul Fateh.jpg
১৯৬৯ সালে কলকাতা হাই কমিশনার হিসেবে আবুল ফতেহর দাপ্তরিক ছবি
জন্ম এ এফ এম আবুল ফতেহ
(১৯২৪-০৫-১৬)১৬ মে ১৯২৪
কিশোরগঞ্জ জেলা, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমান বাংলাদেশ)
মৃত্যু ৪ ডিসেম্বর ২০১০(২০১০-১২-০৪) (৮৬ বছর)[১]
লন্ডন, ইংল্যান্ড
জাতীয়তা বাঙালি
নাগরিকত্ব ব্রিটিশ
শিক্ষা ইংরেজি সাহিত্য
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আনন্দ মোহন কলেজ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ
লন্ডন স্কুল অফ ইকনোমিক্স
পেশা কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূত
যে জন্য পরিচিত বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্র সচিব
দাম্পত্য সঙ্গী মাহফুজা ফতেহ (née বানু) (বি. ১৯৫৬)
সন্তান এনাসুল ফতেহ (পুত্র)
এনাতুল ফতেহ (পুত্র)
পিতা-মাতা আবদুল গফুর (পিতা)
জোহরা খাতুন (মাতা)
আত্মীয় শাহবুদ্দিন আহমেদ (শ্বশুর)
মাসুদা বানু (শাশুড়ি)

আবুল ফতেহ (১৬ মে, ১৯২৪ - ৪ ডিসেম্বর, ২০১০)[২] ছিলেন একজন বাংলাদেশী কূটনীতিক, রাজনীতিবিদসুফি। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকালীন দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতির জনকদের মধ্যে অন্যতম। তিনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সার্ভিস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্র সচিব

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

ফতেহ ১৯২৪ সালের ১৬ মে তৎকালীন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) কিশোরগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আবদুল গফুর এবং মাতা জোহরা খাতুন। তার পিতা আবদুল গফুর প্রেসিডেন্সি কলেজ, কলকাতায় পড়াশুনা করেছেন এবং ব্রিটিশ ভারতের প্রথম সময়ের মুসলিম দারোগাদের একজন। ফতেহ ১৯৪১ সালে কিশোরগঞ্জের রামকৃষ্ণ ইংরেজি স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৯৪৩ সালে ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ইন্টামিডিয়েট পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। তিনি ১৯৪৬ সালে সেখান থেকে স্নাতক ও ১৯৪৭ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

পাকিস্তানি কূটনীতিক[সম্পাদনা]

ফতেহ যশোরের মাইকেল মধুসূদন দত্ত কলেজে কয়েক মাস এবং পরে সিলেটের বৃন্দাবন কলেজে ইংরেজি সাহিত্য বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। বৃন্দাবন কলেজে শিক্ষকতা করার সময় ১৯৪৮ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রথম সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং ১৯৪৯ সালে পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে যোগদান করে করাচি চলে যান। লন্ডনে প্রশিক্ষণের জন্য গিয়ে তিনি লন্ডন স্কুল অফ ইকনোমিক্স থেকে বিশেষ কোর্স গ্রহণ করেন এবং ১৯৫০ সালে প্যারিসে তার প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। করাচি থেকে ফিরে এসে কিছুদিন পর তাকে পাকিস্তান এম্বাসির তৃতীয় সচিব হিসেবে প্যারিসে পাঠানো হয়।

যুদ্ধকালীন সময়[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হামলার পর তিনি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের বন্ধু যুদ্ধকালীন সময়ের বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের একটি পত্র পান, যেখানে তাকে যুদ্ধ অংশগ্রহণ করার আহ্বান করা হয়। একই সময়ে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে তাকে পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তেহরানে পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতদের একটি সম্মেলনে যাওয়ার জন্য ডাকা হয়। তিনি অফিসের গাড়ি নিয়ে তেহরানে যাওয়ার জন্য রওনা হন। তিনি এবং তার গাড়ি চালক ইরাক-ইরানের সীমান্তের কাছাকাছি চলে যাওয়ার পরে তিনি বুকে ব্যথার ভান করে ফিরে আসেন। পরের দিন তিনি বিমানে করে চলে যাবেন বলে চালককে বিদায় করে দেন। সেই রাতে তিনি তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে কুয়েতের সীমান্তে পালিয়ে যান এবং সেখান থেকে স্থানীয় ভারতীয় এম্বাসির অফিসারদের সহযোগিতায় তিনি লন্ডন চলে যান।[৩] ফতেহর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ইসলামাবাদে সেনা দপ্তরে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে এই ঘটনাকে "জেমস বন্ডের মত ঠাণ্ডা মাথার রোমাঞ্চ" হিসেবে বিবৃত হয়।[৪]

বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত[সম্পাদনা]

ফতেহ প্যারিসে প্রথম বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেন এবং ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত এই পদে নিযুক্ত ছিলেন। এর পূর্বে তিনি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে যান এবং সেসব দেশের সরকারদের বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্বীকৃতি প্রদানের জন্য অনুরোধ করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি লুয়াস্কায় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৭৫ সালে তিনি মরক্কো সফরে যান এবং বাংলাদেশে ফসফেট স্বল্পতার বিষয় উত্থাপন করেন ও বাংলাদেশের জন্য ফসফেটের শিপমেন্ট মঞ্জুর করান।

অবসর[সম্পাদনা]

আবুল ফতেহ ১৯৮২ সালে অবসর গ্রহণ করেন। অবসরের পরে দশ বছর তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় বাস করার পর লন্ডনে তার সন্তানদের কাছে চলে যান।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

আবুল ফতেহ ২০১০ সালের ৪ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তাকে ৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রীয় সম্মানে লন্ডনের হেন্ডন সিমেট্রিতে দাফন করা হয়।

সম্মাননা[সম্পাদনা]

  • কার্নেগি ফাউন্ডেশন ফেলো ইন ইন্টারন্যাশনাল পীস
  • রকফেলার ফাউন্ডেশন স্কলার
  • মহামান্য রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সিলভার জুবলি পদক, ১৯৭৫
  • শেষকৃত্যে বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রীয় সম্মান

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "FM condoles death of Abul Fateh"। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস। ৯ ডিসেম্বর, ২০১০। সংগৃহীত ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ 
  2. "First foreign secy Fateh passes away"দ্য ডেইলি স্টার। ৫ ডিসেম্বর, ২০১০। সংগৃহীত ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ 
  3. আহমেদ, মহিউদ্দিন (২০০৮)। "London 71: The opening of diplomatic offensive"দ্য ডেইলি স্টার। সংগৃহীত ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ 
  4. আহসান, সৈয়দ বদরুল (২০ এপ্রিল, ২০১১)। "Diplomats carrying the torch in 1971"দ্য ডেইলি স্টার। সংগৃহীত ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

রাজনৈতিক দপ্তর
পূর্বসূরী
নাই
পররাষ্ট্র সচিব
১৯৭১–১৯৭২
উত্তরসূরী
এস এ করিম