অরণ্যদেব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

অরণ্যদেব (The Phantom-দি ফ্যান্টম) লি ফক সৃষ্ট কমিকস চরিত্র, যা বর্তমানে কিং ফিচারস সিন্ডিকেট থেকে প্রকাশিত হয়। বাঙ্গালা নামে এক কাল্পনিক অরণ্যে খুলিগুহায় বংশানুক্রমে একুশজন অরণ্যদেব বাস করছেন, যাঁরা পৃথিবীর সমস্ত অপরাধীদের শায়েস্তা করার শপথ গ্রহণ করেছেন। বর্তমান অরণ্যদেব হলেন একবিংশতম অরণ্যদেব, তার স্ত্রী ডায়ানা পামার ওয়াকার, তাদের দুই সন্তান: কীট ওয়াকার আর হেলিওজ ওয়াকার।

অরণ্যদেব
অরণ্যদেব.jpg
অরণ্যদেব
অঙ্কন: পল রায়ান
বর্ণসংস্থাপন: টম স্মিথ
প্রকাশনার তথ্য
প্রকাশক
প্রথম আবির্ভাবফেব্রুয়ারি ১৭, ১৯৩৬
নির্মাতালি ফক
কাহিনীর তথ্য
অন্য সত্তাকীট ওয়াকার
সহযোগীজাদুকর ম্যানড্রেক
গুরান
বাবুডান
প্রেসিডেন্ট লামান্ডা লুয়াগা
কর্নেল উইকস্
কর্নেল ওরুবু
বৃদ্ধ মজ
ডক্টর এক্সেল
কিং রেক্স
ম্যাডাম তাগামা (তরু)
ডেভ পামার
লিলি পামার
ক্যাপ্টেন সাভার্না
পঙ্গপাল
উল্লেখযোগ্য ছদ্মনামচলমান অশরীরী আত্মা, জন এক্স, অজানা কম্যান্ডার, জিওফ্রে প্রেসকট
ক্ষমতা
  • দক্ষ যোদ্ধা ও মুখ মুখোশের আড়ালে ঢাকা
  • সুদক্ষ বক্তা
  • অসামান্য শারীরিক সক্ষমতা
  • প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ
  • রাতের অন্ধকারে শত্রুদের আক্রমণ করতে পছন্দ করেন

কাহিনী সংক্ষেপ[সম্পাদনা]

প্রায় সাড়ে চারশো বছর আগে ১৫৩৬ সালে বর্তমান অরণ্যদেবের পূর্বপুরুষ প্রথম অরণ্যদেব ক্রিস্টোফার ওয়াকার সিং ব্রাদারহুড জলদস্যুদের দ্বারা আক্রান্ত হন এবং তাদের জাহাজের একমাত্র তিনিই জীবিত ছিলেন। মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বাঙ্গালার বান্দার পিগমি আদিবাসীরা এবং তাদের শুশ্রুষায় শেষপর্যন্ত তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।[১] মৃত জলদস্যুর খুলি ছুঁয়ে ক্রিস্টোফার বিশ্বজুড়ে ঘটে চলা সন্ত্রাস দমনের শপথ গ্রহণ করেন এবং সিং ব্রাদারহুডদের ধ্বংস করে তার পিতার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেন। এরপর বংশানুক্রমে তার উত্তরপুরুষরা অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে যান। বর্তমান অরণ্যদেব হলেন একুশতম, স্ত্রী ডায়ানা এবং পুত্র ও কন্যা নিয়ে তার সুখের সংসার। পাশাপাশি পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য বজায় রেখে তিনিও অপরাধীদের গালে দেগে দেন খুলিচিহ্ন। একুশতম অরণ্যদেবের রোমাঞ্চকর অভিযানের কাহিনী নিয়েই প্রকাশিত হয় ফ্যান্টম কমিকস্। ফ্যান্টমের বাংলা অরণ্যদেব নামটি আনন্দমেলা পত্রিকার প্রাক্তন সম্পাদক নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর দেওয়া।[২]

প্রধান চরিত্রসমূহ[সম্পাদনা]

আত্মীয়, শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু ও সহযোগী:[৩] এই কমিকস্ স্ট্রিপের প্রধান চরিত্র একুশতম অরণ্যদেব, যাঁর প্রকৃত নাম কীট ওয়াকার। তার স্ত্রী হলেন ডায়ানা পামার ওয়াকার। তাদের দুই সন্তান- কীট ওয়াকার ও হেলিওজ ওয়াকার।[৪] ডায়ানার মায়ের নাম লিলি পামার আর ডায়ানার কাকার নাম ডেভ। বান্দার চিকিৎসক গুরান অরণ্যদেবের প্রিয় বন্ধু; শ্রেষ্ঠ বান্দার যোদ্ধা বাবুডান, তার পুত্র কিপাওয়া, ওয়াম্বেসী গ্রামপ্রধান, বুড়ো মজ এরা সবাই অরণ্যদেবের শুভাকাঙ্ক্ষী। বাঙ্গালার রাষ্ট্রপতি লামান্ডা লুয়াগা আর তার স্ত্রী ম্যাডাম তরু[৫] অরণ্যদেবের পুত্র কীট ও হেলিওজের বাবা-মায়ের মতোই। অরণ্যদেবের দত্তক পুত্র রেক্স এবং সে বর্তমানে বাঙ্গালার প্রতিবেশী রাষ্ট্র বারোনকানের যুবরাজ, তার স্ত্রী হলো ক্যাপ্টেন লারা। জঙ্গলের নজরদার বিভাগ জাঙ্গল প্যাট্রল-এর প্রাক্তন প্রধান কর্নেল উইকস্ এবং বর্তমান প্রধান কর্নেল ওরুবু। কর্নেল উইকসের নাতি হলো নজরদার-বাহিনীর ক্যাপ্টেন উইকস্। অরণ্যদেবের আর একজন চিকিৎসক হলেন স্ক্যানডিনোভিয়ান ডক্টর এক্সেল।[৬] বিখ্যাত জাদুকর ম্যানড্রেক অরণ্যদেবের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে অন্যতম, অনেক অভিযানেই তারা পরস্পরকে সাহায্য করেছেন। ওয়াকার'স টেবিল-এ অরণ্যদেবকে দুইবার সাহায্য করেছে রহস্যময় জাদুকর পঙ্গপাল[৭] এছাড়া একুশতম অরণ্যদেবের আরও কয়েকজন সহযোগী হলো ক্যাপ্টেন সাভার্না, আর্নেস্টো, লোথার, অরণ্যরক্ষী মলি ও আগুডা প্রমুখ।

পোষ্য: একুশতম অরণ্যদেবের অবিচ্ছেদ্য দুই সঙ্গী হলো পাহাড়ি নেকড়ে ডেভিল বা বাঘা এবং অরণ্যদেবের ঘোড়া হিরো বা বিদ্যুৎ। এছাড়াও তার আরও অনেক পোষ্য আছে, যেমন- ফ্রাকা নামের বাজ, সলোমন ও নেফারটিটি নামের দুই ডলফিন প্রভৃতি।

শত্রু: বর্তমান অরণ্যদেবের সর্বপ্রধান এবং সবচেয়ে ভয়ংকর শত্রুগোষ্ঠী হলো সিং ব্রাদারহুড, যারা বিশতম অরণ্যদেবকে হত্যা করে।[৮] এদের বিরুদ্ধে একুশতম অরণ্যদেব নিরন্তর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ফ্যান্টমের সাথে বারবার সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে আরেকটি অপরাধী সংগঠন স্কাই ব্যান্ড, মহিলা আকাশদস্যুদের একটি দল।[৮] ইস্টার্ন ডার্ক অঞ্চলের কুখ্যাত অপরাধীদের বিরুদ্ধেও বংশানুক্রমে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন অরণ্যদেবরা।[৯][১০] সংবাদপত্রে প্রকাশিত স্ট্রিপগুলিতে বারবার আসা খ্যাতিমান চরিত্রগুলির মধ্যে রয়েছে জলদস্যুনেতা ব্যারন গ্রোভার, সন্ত্রাসী কমান্ডার স্কাল, চরমপন্থী জেনারেল বাবাবু প্রমুখ। বহু বছর ধরে অরণ্যদেবের প্রতিদ্বন্দী ছিলেন বাঙ্গালার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি কিগালি লুবাঙ্গা।[১১] মুনস্টোন থেকে প্রকাশিত গল্পগুলিতে ফ্যান্টমের শত্রুরা হল অপরাজিত কিকবক্সার ম্যানুয়েল ওর্তেগা[১২], আলি গুটিলা এবং হিম।[১৩] বর্তমান অরণ্যদেবের অন্যান্য শত্রুদের মধ্যে রেবেকা ম্যাডিসন (ফ্যান্টম ২০৪০ সিরিজ) এবং জেন্ডার ড্র্যাক্স (১৯৯৬ সালের চলচ্চিত্রে) অন্তর্ভুক্ত। বর্তমান অরণ্যদেবের অপর দুই প্রধানতম শত্রু হল স্যাটু আর নোম্যাড। স্যাটু ওয়াম্বেসী গ্রামের ছেলে ছিল কিন্তু বড়ো হয়ে হয় কুখ্যাত অপরাধী পাইথন এবং অরণ্যদেবের প্রধান শত্রু। দীর্ঘ লড়াইয়ের পরে স্যাটুকে কব্জা করেছেন অরণ্যদেব, কিন্তু সেই সুযোগে অপরাধজগতের সর্বোচ্চ সিংহাসন অধিকার করেছে কোটিপতি এরিক সাহারা[১৪][১৫], দি নোম্যাড(যাযাবর) নামেই যাকে সকলে চেনে। কিন্তু ২০১৮ সালে সাহারাকে পরাজিত করে অরণ্যদেবের কন্যা হেলিওজ এবং পুলিশের হাতে তুলে দেয়।[১৬] এছাড়া অরণ্যদেবের অন্যান্য শত্রুদের মধ্যে ইঁদুর, হেনড্রিক, রাম সিং, দি ভাইপার গড, লুসিফর বা কোবরা প্রমুখরা উল্লেখযোগ্য।

প্রকাশনা[সম্পাদনা]

১৯৩৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি লি ফক'স সিন্ডিকেট থেকে প্রথম প্রকাশিত হয় অরণ্যদেবের কমিকস্ দি সিং ব্রাদারহুড[১৭][১৮]। প্রথম দুই সপ্তাহ তিনিই কমিকসের ছবি আঁকেন, তৃতীয় সপ্তাহ থেকে রে মুর ছবি আঁকা শুরু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-এর সময় রে মুর যুদ্ধে যোগদান করার জন্য তার সহকারী উইলসন ম্যাকয় ফ্যান্টম কমিকস্ স্ট্রিপ অঙ্কনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২৮শে মে, ১৯৩৯ থেকে অরণ্যদেবের সানডে স্ট্রিপ প্রকাশ শুরু হয়।[১৯] এরপরে বিভিন্ন সময়ে এই কমিকস্ স্ট্রিপ অঙ্কনে ভূমিকা গ্রহণ করেছেন সাই ব্যারি, জর্জ ওলেসন, কিথ উইলিয়াম, পল রায়ান, জন ম্যানলি, ফ্রেড ফ্রেডরিকস্, এডুয়ার্ডো ব্যারেটো, টেরি বেট্টি, জেফ উইগল্,জো অরল্যান্ডো, গ্রাহাম নোলান, ডেনিস জেঙ্ক,সাল ভেলুটো, জন রোমিটা সিনিয়র, বিল লিগন্যান্ট, প্যাট কুইন, অ্যালেক্স স্যাভিয়াক প্রমুখ। ফক ছাড়াও ফ্যান্টম কমিকসের গল্প লিখেছেন টনি ডিপল, টম ডিফালকো, বেন রাব, রন গোলার্ট, স্ট্যান লি, মার্ক বারহেইডেন, স্কট বেট্টি, চক ডিক্সন প্রমুখ। ডেভিড ম্যাকয় পাবলিকেশন, হারভে কমিকস, ডায়নামাইট এনটারটেইনমেন্ট, কিং কমিকস, ডিসি কমিকস, মার্ভেল কমিকস, ডায়ামন্ড কমিকস, মুনস্টোন পাবলিকেশন প্রভৃতি প্রকাশন সংস্থাগুলি থেকে বর্তমানে অরণ্যদেবের কমিকস্ বইগুলি প্রকাশিত হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "The Phantom – For Those Who Came in Late"। Weirdscifi.ratiosemper.com। জুলাই ২৪, ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০২-২৮ 
  2. http://35.190.43.244/detailNews.php/[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  3. https://comicskingdom.com/
  4. "The Name" by Lee Falk and Sy Barry. September 9 – December 9, 1979.
  5. "Yes", Lee Falk and Sy Barry, December 7, 1970 – February 13, 1971.
  6. "Dr. Axel and the Witchmen", Lee Falk and Wilson McCoy, August 1 – October 8, 1955.
  7. "The Return of the Locust" 09/25/2017 - 02/17/2018 Writer: DePaul Artist: Manley
  8. Hubert H. Crawford, Crawford's Encyclopedia of Comic Books. Middle Village, N.Y. : Jonathan David Publishers, 1978.আইএসবিএন ০৮২৪৬০২২১৮ (pp. p. 89-91, 404)
  9. "Guardian of the Eastern Dark", Lee Falk and Sy Barry. April 4 – August 13, 1977.
  10. "The Eastern Dark",Lee Falk and Sy Barry. August 7, 1983 – January 29, 1984.
  11. "Hunted" by Lennart Moberg and Kari Leppänen.The Phantom #1084, Frew Publications, September 15, 1994.
  12. "Tiger's Blood, Part 2".Mike Bullock and Carlos Magno,The Phantom #13, Moonstone Books,November 2006.
  13. "Invisible Children Part 1", Mike Bullock and Silvestre Szilagyi. "The Phantom" #17,Moonstone Books, June 2007.
  14. "Chatu's Fate" 12/13/2010 - 05/07/2011 Writer: DePaul Artist: Ryan
  15. "The Nomad" 03/27/2011 - 09/18/2011 Writer: DePaul Artist: Ryan, Barreto
  16. "A Reckoning with the Nomad" 02/19/2018 - 11/10/2018 Writer: DePaul Artist: Manley
  17. "The Phantom"Don Markstein's Toonopedia। সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০২-২৮ 
  18. "The Daily Strip"। Deepwoods.org। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০২-২৮ 
  19. "The Sunday Strip"। Deepwoods.org। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০২-২৮ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]