বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের কালপঞ্জি
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(মুক্তিযুদ্ধের কালানুক্রম থেকে ঘুরে এসেছে)
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয় মার্চ ২৬, ১৯৭১ এবং শেষ হয় ডিসেম্বর ১৬, ১৯৭১। প্রধান ঘটনাগুলো নিচের কালানুক্রম তালিকাবদ্ধ রয়েছে।
সূচিপত্র |
[সম্পাদনা] কালানুক্রম
[সম্পাদনা] যুদ্ধের পূর্বে
- মার্চ ১: ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদ-এর অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে ৩রা মার্চ দেশের সব জায়গায় হরতাল আহ্বান করেন।গভর্ণর আহসানকে পদচ্যুত করে লে: জেনারেল সাহেবজাদা ইয়াকুব খানকে পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়া হয়।[১]
- মার্চ ২: শেখ মুজিবুর রহমান সংসদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত না মানার ঘোষণা দিয়ে ৭ মার্চ রেসকোর্সের ময়দানে গণ জমায়েতের আহ্বান জানান।ঢাকায় হরতাল পালিত হয় পূর্ব ঘোষণা অনুসারে।ঢাকা বিমানবন্দরে সামরিক বাহিনীর প্রবেশকে বাধা দেয়ার সময় সেনাবাহিনীর গুলিতে দু'জন নিহত হন।৩ মার্চ থেকে ৬ মার্চ দেশব্যাপী হরতালের কর্মসূচী অপরিবর্তিত রাখা হয়।অপরদিকে সামরিক জান্তা সংবাদপত্রের উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করে নতুন আদেশ জারি করে।[২]
- মার্চ ৩: সারা দেশে পূর্ণ হরতাল পালিত হয়। চট্টগ্রামে বহু লোক সেনাবাহিনীর গুলিতে মারা যায়।বঙ্গবন্ধু দেশব্যাপী অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।অন্যদিকে সামরিক সরকার কার্ফু্ জারি করে।প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ১০ মার্চ জাতীয় পরিষদের নেতাদের বৈঠক আহ্বান করেন । শেখ মুজিব একে প্রত্যাখ্যান করেন।[৩]
- মার্চ ৪: সেনাবাহিনীর সাথে জনসাধারণের সংঘর্ষে শতাধিক লোক হতাহত হন যার ফলশ্রুতিতে ঢাকাসহ পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান প্রধান শহরে কার্ফু জারি করা হয়।নুরুল আমিন ইয়াহিয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। সামরিক বাহিনী ব্যারাকে ফিরে না গেলে তাদের প্রতিহত করা হবে বলে শেখ মুজিব ঘোষণা দেন। স্টেট ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংক হরতালের সময় শুধু বেতন দেয়ার জন্য দু'ঘণ্টা খোলা রাখার জন্য তিনি নির্দেশ দেন।[৪]
- মার্চ ৫: ইয়াহিয়ার সঙ্গে ভুট্টোর আলোচনা চলে।অন্যদিকে ঢাকা ও টঙ্গীতে বিক্ষুব্ধ জনতার উপর গুলিবর্ষণে শতাধিক লোক নিহত এবং আরও অনেকে আহত হন।[৫]
- মার্চ ৬: ইয়াহিয়া বেতার ভাষণে ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেন।ভুট্টোর পিপলস পার্টি অধিবেশনে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়।অন্যদিকে সামরিক জান্তা পূর্ব পাকিস্তানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করছে বলে আওয়ামী লীগ অভিযোগ করে।ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙ্গে কয়েদিরা পালানোর সময় রক্ষীদের গুলিতে ৭ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়।এদিকে জেনারেল টিক্কা খানকে একই সাথে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর ও সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়।[৬]
- মার্চ ৭: শেখ মুজিবুর রহমান - নির্বাচনে সদ্য জয়ী হওয়া আওয়ামী লীগ এর নেতা, রেস কোর্সের ময়দানে ঘোষণা করেন , "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ". [৭]
সেই ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি নিম্নলিখিত চারটি শর্ত প্রদান করেন--
-
-
- সামরিক আইন প্রত্যাহার করা
- জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা
- সামরিক বাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া এবং
- গণহত্যা সম্পর্কে তদন্ত করা।
-
শর্ত চারটি পূরণ করা হলে আওয়ামী লীগ অধিবেশনে যোগ দেবে কি দেবে না তা বিবেচনা করবে বলে তিনি জানান।অন্যদিকে ঢাকা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিক্কা খানের শপথ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান।[৮]
- মার্চ ৮: দেশব্যাপী অসহযোগ আন্দোলন নতুন উদ্যমে শুরু হয়।জায়গায় জায়গায় কালো পতাকা উত্তোলন আর সংগ্রাম কমিটি গঠন করা হয়।সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তানের লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়।ঢাকা হাইকোর্টের সব বিচারপতি টিক্কা খানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনায় অস্বীকৃতি জানান।[৯]
- মার্চ ৯: পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা স্বীকার করে নেয়ার জন্য মওলানা ভাসানী উদাত্ত আহ্বান জানান।তিনি ১৪ দফার ভিত্তিতে আন্দোলনের ডাক দেন।সামরিক বাহিনীর পশ্চিম পাকিস্তানি অফিসারদের পরিবারবর্গকে পশ্চিম পাকিস্তানে পাঠানো শুরু হয়।[১০]
- মার্চ ১০: সরকারের এক ঘোষণায় জানায় যে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংঘর্ষে শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়।[১১]
- মার্চ ১১: সাড়ে সাত কোটি মানুষের মানবিক অধিকার আদায়ের সপক্ষে সমর্থন দান করার জন্য শেখ মুজিব জাতিসংঘের মহাসচিব উথান্টের কাছে আহ্বান জানান। [১২]
- মার্চ ১২: শেখ মুজিবের সাথে আলোচনা শেষ করে এয়ার ভাইস মার্শাল(অব.) আজগর খান করাচিতে বলেন যে, শেখ মুজিব হচ্ছেন পূর্ব আর পশ্চিমের ক্ষীয়মান সম্পর্কের শেষ সংলাপ।তিনি ঢাকায় কোনো পাকিস্তানের পতাকা দেখেননি বলে জানান।[১৩]
- মার্চ ১৩: মওলানা ভাসানী রাজবন্দীদের মুক্ত করার জন্য 'জেল ভাঙ্গা' নামে এক আন্দোলনের ডাক দেন।ইয়াহিয়া লাহোরে সর্বদলীয় বৈঠক আহ্বান করেন।কিন্তু ঢাকায় বৈঠক হলে তাতে যোগ দেবেন বলে শেখ মুজিব সম্মতি প্রদান করেন।[১৪]
- মার্চ ১৪: সামরিক আইন লংঘন করে মিছিল সভা চলতে থাকে। বেসামরিক প্রশাসন পশ্চিম পাকিস্তানি নীতি অনুযায়ী কাজ করা থেকে বিরত থাকে।[১৫]
- মার্চ ১৫: শেখ মুজিব আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবিতে বাংলাদেশের শাসন নিজ হাতে নেয়ার ঘোষণা দেন এবং কাজ-কর্ম পরিচালনার জন্য ৩৫ টি বিধি জারি করেন। মাত্র দুটি ব্যাংকে সরকারকে দেয় কর প্রদানের নির্দেশ দেন।সামরিক প্রহরায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ঢাকায় আসেন।জাতির উদ্দেশ্যে ২৩ মার্চ ভাষণ প্রদানের ঘোষণা দেন।[১৬]
- মার্চ ১৬: প্রথম দফায় শেখ মুজিবের সাথে ইয়াহিয়ার আড়াই ঘণ্টা বৈঠক হয়।চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা চীন থেকে আমদানি করা সমরাস্ত্রবাহী জাহাজের মাল খালাসে অস্বীকৃতি জানায়।স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এক বিবৃতিতে পূর্ব পাকিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার দাবি করে।[১৭]
- মার্চ ১৭: মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক দ্বিতীয় দফায় চলে । বেসামরিক প্রশাসনকে সাহায্য করার জন্য কোন অবস্থার প্রেক্ষিতে ২ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত সামরিক বাহিনী তলব করা হয়েছিল, সে সম্পর্কে তদন্ত করার জন্য সামরিক কর্তৃপক্ষের কমিশন নিয়োগ করা হয়।[১৮]
[সম্পাদনা] যুদ্ধের ঘটনাবলি
[সম্পাদনা] মার্চ
- মার্চ ২৫: পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকা সহ সারা দেশে অপারেশন সার্চলাইট শুরু করে, রাজনৈতিক কর্মী,ছাত্র, এবং সেনাবাহিনী ,পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর বাংলাদেশী সদস্যদের হামলা করার মধ্য দিয়ে ।
- মার্চ ২৬: শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হবার পূর্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন । বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা দিবস এই দিনটিতে উদযাপিত হয় ।
- মার্চ ৩১: কুষ্টিয়া প্রতিরোধ শুরু।
[সম্পাদনা] এপ্রিল
- এপ্রিল ২: জিঞ্জিরা গণহত্যা.
- এপ্রিল ৬: ব্লাড টেলিগ্রাম
- এপ্রিল ১১: নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদের রেডিও ভাষণ।
- এপ্রিল ১০: মুজিবনগরে অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়।
- এপ্রিল ১২: এম এ জি ওসমানী মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হন .
- এপ্রিল ১৭: অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে বৈদ্যনাথতলায় (যা এখন মুজিবনগর নামে পরিচিত) ।
- এপ্রিল ১৮: দরুইনের যুদ্ধে সিপাহী মোস্তফা কামাল ও রাঙ্গামাটি-মহালছড়ির যুদ্ধে ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ শহীদ হন।
- এপ্রিল ২৪: অনাবাসী বাংলাদেশীরা যুক্তরাজ্যের কভেন্ট্রি-তে বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন।[১৯]
- এপ্রিল ২৮: বিশ্ববাসীর কাছে তাজউদ্দিনের অস্ত্র সাহায্য প্রার্থনা
[সম্পাদনা] মে
- মে ৫: গোপালপুর গণহত্যা[২০]
- মে ১৫: মুক্তিবাহিনীর সাথে ভারতীয় বাহিনীর সহযোগিতা শুরু।[২১].
- মে ২০: খুলনায় চুকনগর গণহত্যা সংঘটিত হয়, যেখানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রায় ১০ হাজার মানুষকে হত্যা করে।
- মে ২৪: স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র কলকাতায় কাজ শুরু করে।
[সম্পাদনা] জুলাই
- জুলাই ১১-১৭: সেক্টর কমান্ডার সম্মেলন, ১৯৭১.
[সম্পাদনা] অগাস্ট
- অগাস্ট ১: নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনে The Concert for Bangladesh, George Harrison এবং তাঁর বন্ধুদের অংশগ্রহণে।
- অগাস্ট ১৬: অপারেশন জ্যাকপট, বাংলাদেশি নৌ-কমান্ডো অভিযানে পাকিস্তানি জাহাজ ধ্বংস।
- অগাস্ট ২০: ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান (সামরিক বিমানচালক)' একটি যুদ্ধবিমান দখল করে পাকিস্তান ত্যাগের ব্যর্থ চেষ্টা করেন।.
- অগাস্ট ৩০: ঢাকা গেরিলাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযান। [২২].
[সম্পাদনা] সেপ্টেম্বর
- সেপ্টেম্বর ৫: গোয়াহাটির যুদ্ধে নূর মোহাম্মদ শেখ শহীদ হন।
- সেপ্টেম্বর ২৮: বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পত্তন।
[সম্পাদনা] অক্টোবর
- অক্টোবর ১৩: ঢাকার গেরালা যোদ্ধারা পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর আব্দুল মোনেম খানকে হত্যা করেন.
- অক্টোবর ২৮: ধলাই সীমান্তফাঁড়ির যুদ্ধ, শ্রীমঙ্গল।
- অক্টোবর ৩১ to নভেম্বর ৩: ধলাইয়ের যুদ্ধ: পাকিস্তানের সীমান্ত হতে শেলিং বন্ধ করতে ত্রিপুরা হতে পূর্ব পাকিস্তানে ভারতের আক্রমণ।
[সম্পাদনা] নভেম্বর
- নভেম্বর ৯:ছয়টি ছোট যুদ্ধ জাহাজের সমন্বয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রথম যুদ্ধবহর যাত্রা শুরু করে .
- নভেম্বর ১৬: আজমিরিগঞ্জ যুদ্ধ, মুক্তিবাহিনী ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মধ্যে ১৮ ঘণ্টাব্যাপী যুদ্ধ। খ্যাতনামা মুক্তিযোদ্ধা জগজ্জ্যোতি দাস এ যুদ্ধে শহীদ হন।
- নভেম্বর ২০ থেকে নভেম্বর ২১: গরীবপুরের যুদ্ধ: [বয়রা]]য় ভারতীয় হামলা বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করে
- নভেম্বর ২১: মিত্রবাহিনী, বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ বাহিনী গঠিত হয়।
- নভেম্বর ২২ - ডিসেম্বর ১৩, খণ্ড খণ্ড যুদ্ধ
- ডিসেম্বর ১৬: হিলি যুদ্ধ: বগুড়ায় মিত্রবাহিনীর হামলা।
[সম্পাদনা] ডিসেম্বর
- ডিসেম্বর ৩: ভারতের ওপর পাকিস্তানের বিমান হামলা যার ফলে ভারত পাকিস্তানের ওপর যুদ্ধ ঘোষণা করে।
- ডিসেম্বর ৪ to ডিসেম্বর ৬: বসন্তরের যুদ্ধ: ভারত জয়সলমিরে পাকিস্তানের হামলা প্রতিরোধ করে।
- Dec ৫ to Dec ৬: Battle of Longewala: Indians attack and take over Pakistani territory opposite Jammu
- ডিসেম্বর ৪ Operation Trident (Indo-Pakistani War): Indian naval attack on Karachi
- ডিসেম্বর ৬: India becomes the first country to recognize Bangladesh. Swadhin Bangla Betar Kendra becomes Bangladesh Betar.
- ডিসেম্বর ৭: যশোর, সিলেট ও মৌলভী বাজার মুক্ত হয়।
- ডিসেম্বর ৮ night: অপারেশন পাইথন: করাচীতে ভারতীয় নৌবাহিনীর আক্রমণ।
- ডিসেম্বর ৯: কুষ্টিয়ার যুদ্ধ: Indian attack from West Bengal into East Pakistan.
- Chandpur and Daudkandi liberated.
- ডিসেম্বর ১০: Liberation of Laksham. Two Bangladeshi ships sunk mistakenly by Indian air attack.
- ডিসেম্বর ১১: Liberation of Hilli, Mymenshingh, Kushtia and Noakhali. USS Enterprise is deployed by the USA in the Bay of Bengal to intimidate Indian Navy.
- ডিসেম্বর ১৩: Soviet Navy deploys a group of ship to counter USS Enterprise.
- ডিসেম্বর ১৪: Selective genocide of nationalist intellectuals. Liberation of Bogra.
- ডিসেম্বর ১৬: Pakistan Army surrenders to Mitro Bahini represented by Jagjit Singh Aurora of the Indian Army faction of the military coalition.
- Freedom of Bangladeshi people.
- ডিসেম্বর ২২: প্রবাসী অস্থায়ী সরকারের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন।
[সম্পাদনা] জানুয়ারি
- ০৪: আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত এমএনএ এবং এমপিএবৃন্দ রেসকোর্স ময়দানে জনতার সামনে শপথ গ্রহণ করেন। এসময় শেখ মুজিবুর রহমান বলেন যে ৬-দফা ও ১১-দফা প্রশ্নে কোন আপোস হবেনা তবে পশ্চিম পাকিস্তানী নেতৃবৃন্দের সাহায্য চাওয়া হবে।
- ১৫: ২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদ দিবস পালনের জন্য পূর্ব বাংলা বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন ঐদিন পূর্ণ দিবস হরতাল পালনের আহবান করে।
- ৩১: আওয়ামী লীগের সাথে ৩ দিনের আলোচনা শেষে জুলফিকার আলী ভুট্টো ঢাকায় পাকিস্তান টাইম্স-কে দেয় এক বিবৃতিতে বলেন যে দু'দলের আলোচনা সাপেক্ষে একটি গ্রহণযোগ্য সংবিধান প্রণয়ন করা হবে।
[সম্পাদনা] ফেব্রুয়ারি
- ০৫: লাহোরে ভারতীয় বিমান অপহরণ এবং ধ্বংসের প্রেক্ষাপটে শেখ মুজিব বিবৃতি দেন যে অচিরেই এর সুষ্ঠু তদন্তের ভিত্তিতে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
- ০৯: জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বানে বিলম্ব হওয়ায় শেখ মুজিব বলেন যে, এটি নিজেদের সরকার থেকে তার জনগণকে বঞ্চিত করার আরেকটি ষড়যন্ত্র।
- ১৪: রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন।
- ১৫: ভুট্টো বলেন যে, তার দল পাকিস্তান পিপ্লস পার্টি জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদান করবেনা। তবে তিনি একটি শর্তারোপ করেন। শেখ মুজিব এই সিদ্ধান্তকে গণতন্ত্রবিরোধী আখ্যা দেন।
- ১৬: পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি নুরুল আমিন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সকলকে জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান।
- ২১: বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন এবং বাংলা ছাত্রলীগ ভাষা দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করে বিশেষ বিবৃতি দেয়। বাংলা ছাত্রলীগ বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করে। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন তার ১৪-দফা দাবী পেশ করে।
- ২৫: তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিবেচনা করে পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি একটি বিশেষ প্রস্তাব করে।
- ২৮: শেখ মুজিব ভুট্টোকে অধিবেশনে যোগদানের আহ্বান জানান এবং বলেন যে ৬-দফা কারো উপর চাপিয়ে দেয়া হবেনা।
[সম্পাদনা] মার্চ
- ০১: রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন। সমগ্র বাংলাদেশে এই ঘোষণার বিরুদ্ধে বিবৃতি প্রচারিত হয়।
- ০২: পূর্ব পাকিস্তানের সর্বত্র ধর্মঘট পালিত হয় এবং শেখ মুজিবের নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
- ০৬: লেঃ জেঃ টিক্কা খানকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর নিয়োগ করা হয়।
- ০৭:
- ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমান তার ঐতিহাসিক ভাষণ দেন যা ৭ই মার্চের ভাষণ নামে খ্যাত।
- কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ব বাংলা সমন্বয় কমিটি গেরিলা যুদ্ধের আহ্বান করে।
- ০৮:
- শেখ মুজিবুর রহমান ১০-দফা দাবী পেশ করেন।
- গেরিলা যুদ্ধের নিয়ম সংক্রান্ত একটি বেনামী লিফলেট প্রচারিত হয়।
- পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৪-দফা দাবী পেশ করা হয় এবং স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠনের আহ্বান জানানো হয়।
- ০৯:
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এক জনসভায় বলেন, "পূর্ব পাকিস্তানের আজাদী রক্ষা ও মুক্তি সংগ্রামে ঝাপাইয়া পড়ুন"। তিনি তার ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি নিয়ে শেখ মুজিবের সাথে আন্দোলন করার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন।
- টিক্কা খান পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- ১৪: ভুট্টো দুই সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানান।
- ১৭: মুজিব-ইয়াহিয়া দ্বিতীয় দফা বৈঠক শেষে শেখ মুজিব বলেন যে, আন্দোলন চলবে।
- ১৯: জয়দেবপুরের রাজবাড়িতে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি ব্যাটালিয়নকে নীরস্ত্র করার পশ্চিম পাকিস্তানী প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দেয় বাঙালি সৈন্যরা।
- ২০: উপদেষ্টাসহ মুজিব-ইয়াহিয়া চতুর্থ দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
- ২১: ইয়াহিয়ার সাথে আলোচনার উদ্দেশ্যে ভুট্টো ঢাকায় আসেন।
- ২২: ইয়াহিয় ২৫ মার্চ আহূত জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন।
- ২৩: পূর্ব পাকিস্তানের সর্বত্র স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন পতাকা উত্তোলন করা হয়। এই দিনটি বাংলাদেশে জাতীয় পতাকা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ২৫: পাকিস্তান সেনাবাহিনী রাতের অন্ধকারে সমগ্র ঘুমন্ত ও নীরস্ত্র বাঙালিদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে ব্যাপক গণহত্যা চালায় যা অপারেশন সার্চলাইট হিসেবে পরিচিত।
- ২৬: স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হতে শেখ মুজিবুর রহমানের নামে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়।
- ২৭: কালুরঘাটে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
- ৩০: পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশের গণহত্যা রোধে এগিয়ে আসার জন্য জাতিসংঘ এ বৃহৎ শক্তিবর্গের প্রতি মেজর জিয়াউর রহমান আহ্বান জানান।
[সম্পাদনা] তথ্যসূত্র
- একাত্তরের দশমাস - রবীন্দ্রনাথ ত্রীবেদী
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলীলপত্র - তথ্য মন্ত্রনালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
[সম্পাদনা] আরও দেখুন
[সম্পাদনা] তথ্যসূত্র
- ↑ লেখকের নাম- এ. এস. এম. সামছুল আরেফিন (প্রকাশের বছর-১৯৯৫). বইয়ের নাম- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান (সংস্করণ-২য় সম্পাদিত). প্রকাশক: ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড. pp. পৃষ্ঠা নম্বর-৬০৭. আইএসবিএন ৯-৮৪০৫-0১৪৬-১.
- ↑ লেখকের নাম- এ. এস. এম. সামছুল আরেফিন (প্রকাশের বছর-১৯৯৫). বইয়ের নাম- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান (সংস্করণ-২য় সম্পাদিত). প্রকাশক: ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড. pp. পৃষ্ঠা নম্বর-৬০৭ & ৬০৮. আইএসবিএন ৯-৮৪০৫-0১৪৬-১.
- ↑ লেখকের নাম- এ. এস. এম. সামছুল আরেফিন (প্রকাশের বছর-১৯৯৫). বইয়ের নাম- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান (সংস্করণ-২য় সম্পাদিত). প্রকাশক: ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড. pp. পৃষ্ঠা নম্বর-৬০৮. আইএসবিএন ৯-৮৪০৫-0১৪৬-১.
- ↑ লেখকের নাম- এ. এস. এম. সামছুল আরেফিন (প্রকাশের বছর-১৯৯৫). বইয়ের নাম- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান (সংস্করণ-২য় সম্পাদিত). প্রকাশক: ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড. pp. পৃষ্ঠা নম্বর-৬০৮. আইএসবিএন ৯-৮৪০৫-0১৪৬-১.
- ↑ লেখকের নাম- এ. এস. এম. সামছুল আরেফিন (প্রকাশের বছর-১৯৯৫). বইয়ের নাম- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান (সংস্করণ-২য় সম্পাদিত). প্রকাশক: ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড. pp. পৃষ্ঠা নম্বর-৬০৮. আইএসবিএন ৯-৮৪০৫-0১৪৬-১.
- ↑ লেখকের নাম- এ. এস. এম. সামছুল আরেফিন (প্রকাশের বছর-১৯৯৫). বইয়ের নাম- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান (সংস্করণ-২য় সম্পাদিত). প্রকাশক: ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড. pp. পৃষ্ঠা নম্বর-৬০৮. আইএসবিএন ৯-৮৪০৫-0১৪৬-১.
- ↑ [১]
- ↑ লেখকের নাম- এ. এস. এম. সামছুল আরেফিন (প্রকাশের বছর-১৯৯৫). বইয়ের নাম- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান (সংস্করণ-২য় সম্পাদিত). প্রকাশক: ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড. pp. পৃষ্ঠা নম্বর-৬০৯. আইএসবিএন ৯-৮৪০৫-0১৪৬-১.
- ↑ লেখকের নাম- এ. এস. এম. সামছুল আরেফিন (প্রকাশের বছর-১৯৯৫). বইয়ের নাম- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান (সংস্করণ-২য় সম্পাদিত). প্রকাশক: ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড. pp. পৃষ্ঠা নম্বর-৬০৯. আইএসবিএন ৯-৮৪০৫-0১৪৬-১.
- ↑ লেখকের নাম- এ. এস. এম. সামছুল আরেফিন (প্রকাশের বছর-১৯৯৫). বইয়ের নাম- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান (সংস্করণ-২য় সম্পাদিত). প্রকাশক: ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড. pp. পৃষ্ঠা নম্বর-৬০৯. আইএসবিএন ৯-৮৪০৫-0১৪৬-১.
- ↑ লেখকের নাম- এ. এস. এম. সামছুল আরেফিন (প্রকাশের বছর-১৯৯৫). বইয়ের নাম- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান (সংস্করণ-২য় সম্পাদিত). প্রকাশক: ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড. pp. পৃষ্ঠা নম্বর-৬০৯. আইএসবিএন ৯-৮৪০৫-0১৪৬-১.
- ↑ লেখকের নাম- এ. এস. এম. সামছুল আরেফিন (প্রকাশের বছর-১৯৯৫). বইয়ের নাম- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান (সংস্করণ-২য় সম্পাদিত). প্রকাশক: ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড. pp. পৃষ্ঠা নম্বর-৬০৯. আইএসবিএন ৯-৮৪০৫-0১৪৬-১.
- ↑ লেখকের নাম- এ. এস. এম. সামছুল আরেফিন (প্রকাশের বছর-১৯৯৫). বইয়ের নাম- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান (সংস্করণ-২য় সম্পাদিত). প্রকাশক: ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড. pp. পৃষ্ঠা নম্বর-৬০৯. আইএসবিএন ৯-৮৪০৫-0১৪৬-১.
- ↑ লেখকের নাম- এ. এস. এম. সামছুল আরেফিন (প্রকাশের বছর-১৯৯৫). বইয়ের নাম- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান (সংস্করণ-২য় সম্পাদিত). প্রকাশক: ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড. pp. পৃষ্ঠা নম্বর-৬১০. আইএসবিএন ৯-৮৪০৫-0১৪৬-১.
- ↑ লেখকের নাম- এ. এস. এম. সামছুল আরেফিন (প্রকাশের বছর-১৯৯৫). বইয়ের নাম- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান (সংস্করণ-২য় সম্পাদিত). প্রকাশক: ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড. pp. পৃষ্ঠা নম্বর-৬১০. আইএসবিএন ৯-৮৪০৫-0১৪৬-১.
- ↑ লেখকের নাম- এ. এস. এম. সামছুল আরেফিন (প্রকাশের বছর-১৯৯৫). বইয়ের নাম- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান (সংস্করণ-২য় সম্পাদিত). প্রকাশক: ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড. pp. পৃষ্ঠা নম্বর-৬১০. আইএসবিএন ৯-৮৪০৫-0১৪৬-১.
- ↑ লেখকের নাম- এ. এস. এম. সামছুল আরেফিন (প্রকাশের বছর-১৯৯৫). বইয়ের নাম- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান (সংস্করণ-২য় সম্পাদিত). প্রকাশক: ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড. pp. পৃষ্ঠা নম্বর-৬১০. আইএসবিএন ৯-৮৪০৫-0১৪৬-১.
- ↑ লেখকের নাম- এ. এস. এম. সামছুল আরেফিন (প্রকাশের বছর-১৯৯৫). বইয়ের নাম- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান (সংস্করণ-২য় সম্পাদিত). প্রকাশক: ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড. pp. পৃষ্ঠা নম্বর-৬১০. আইএসবিএন ৯-৮৪০৫-0১৪৬-১.
- ↑ http://www.liberationwarmuseum.org/liberationwar.html#০৬
- ↑ Locals still have nightmare about supreme sacrifices of Lt. Azim, ২০০ others The New Nation, Internet Edition, মে ৮, ২০০৯
- ↑ A Tale of Millions, Islam, Major Rafiqul Bir Uttam, p ২১১
- ↑ Jahanara Imam, Ekatturer Dinguli