কচ্ছপ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কচ্ছপ
সময়গত রেঞ্জ: ২১৫–০Ma Triassic to Recent
Florida Box Turtle Terrapene carolina
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Animalia
পর্ব: কর্ডাটা
উপ-পর্ব: Vertebrata
শ্রেণী: Reptilia
বর্গ: Testudines
Suborders

Cryptodira
Pleurodira
and see text

বৈচিত্র্য
14 extant families with ca. 300 species
blue: sea turtles, black: land turtles

কচ্ছপ একধরনের সরীসৃপ যারা পানি এবং ডাঙা দুই জায়গাতেই বাস করে। এদের শরীরের উপরিভাগ শক্ত খোলসে আবৃত থাকে যা তাদের শরীরকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে রক্ষা করে। কচ্ছপ পৃথিবীতে এখনও বর্তমান এমন প্রাচীন প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম। বর্তমানে কচ্ছপের প্রায় ৩০০ প্রজাতি পৃথিবীতে রয়েছে, এদের মধ্যে কিছু প্রজাতি মারাত্মক ভাবে বিলুপ্তির পথে রয়েছে। কচ্ছপ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তার নিজের শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা পরিবর্তন করতে পারে, সাধারণত এ ধরনের প্রাণীদের ঠান্ডা-রক্তের প্রাণী বলে অভিহিত করা হয়। অন্যান্য প্রাণীর মত এরা নিশ্বাস গ্রহণ করে। কচ্ছপের অনেক প্রজাতি পানিতে বা পানির আশেপাশে বাস করলেও এরা ডাঙায় ডিম ছাড়ে। কচ্ছপ (Tortoise) Testudines বর্গের অন্তর্গত ডাঙ্গায় বসবাসকারী সরীসৃপ। এদের দেহ খোলসদ্বারা আবৃত থাকে। খোলসের উপরের অংশকে Carapace(ক্যারাপেস) এবং নিচের অংশকে Plastron(প্লাসট্রন )বলে।এরা কয়েক সে.মি. থেকে ২ মিটার পর্যন্ত বড় হতে পারে। এরা সাধারণত দিবাচর প্রাণি তবে তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে তারা গোধূলীতেও সক্রিয় হয়ে থাকে। তারা সাধারণত দলবদ্ধ প্রানি নয় এবং একাকি জীবন যাপন করে থাকে। যদিও “Tortoise” শব্দটি জীববিজ্ঞানীরা Testudinidae গোত্রের প্রানিদের বোঝাতে ব্যবহার করে থাকেন তবে সাধারনভাবে ডাঙ্গায় বসবাসকারী Testudines দের বোঝাতে শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

জীবনবৃত্তান্ত[সম্পাদনা]

জন্মগ্রহণ[সম্পাদনা]

মেয়ে কচ্ছপরা ডিমের জন্য গর্ত করে এবং সেখানে ১ থেকে ৩০টি পর্যন্ত ডিম পাড়ে। তারা সাধারণত রাতের বেলা ডিম পাড়ে এবং ডিম পাড়ার পর মা কচ্ছপ ডিমগুলোকে মাটি, বালি বা অন্য যেকোন জৈব পদার্থ দিয়ে ঢেকে দেয়। মা কচ্ছপ ডিম পাড়ার পর ডিমগুলো প্রকৃতির দায়িত্বে রেখে চলে যায়। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে প্রজাতি বিশেষে ৬০ থেকে ১২০ দিন সময় লাগে। ডিমের আকার মায়ের আকারের উপর নির্ভর করে এবং carapace এবং plastron এর মাঝে অবস্থিত cloacal opening(পায়ুমুখ) এর প্রস্থ পরিমাপ করে এর মোটামুটি ধারণা পাওয়া যায়। মেয়ে কচ্ছপদের plastron এ প্রায়ই “V” আকৃতির খাঁজ থাকে। এটি ডিম পাড়ার সময় সাহায্য করে থাকে। ডিম তায়ের জন্য প্রয়োজনীয় সময় পার হওয়ার পর বাচ্চা কচ্ছপ দাঁত দিয়ে ডিম কেটে বের হয়ে আসে। এটি বাসার মাটিতে গর্ত তৈরী করে এবং এখান থেকেই জীবন ধারণ শুরু করে। বাচ্চা কচ্ছপরা একটি ভ্রণথলে (embryonic sac) নিয়ে জন্মগ্রহণ করে যা তাদের ৩ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত পুষ্টি সরবরাহ করে থাকে। শুধু মাত্র বাচ্চা কচ্ছপরা তাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের জন্য ভিন্ন ধরণের খাবার খেয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, তৃণভোজী কচ্ছপদের বাচ্চারা অতিরিক্ত আমিষের চাহিদা পূরণের জন্য কীটপতঙ্গ খেয়ে থাকে।

জীবনকাল[সম্পাদনা]

কচ্ছপদের খোলসের উপরের অংশে যে সমকেন্দ্র (concentric rings) বিশিষ্ট রিং থাকে তা তাদের বয়সের একটি ধারণা দিয়ে থাকে; যেমনটা গাছের ক্ষেত্রে তাদের বর্ষবলয়ে দেখা যায়।

কিন্তু যেসব কচ্ছপ সারা বছরই পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার পেয়ে থাকে, তাদের খোলসে উল্লেখযোগ্য কোন রিং দেখা যায়না।কারন, শরীরের বৃদ্ধি খাবার এবং পানি প্রাপ্ততার উপর নির্ভর করে।এছাড়াও কিছু কচ্ছপ এক বছরে একের অধিক রিং তৈরি করে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা ক্ষয়ে যাওয়ার কারণে দেখা যায় না। কচ্ছপরা সাধারণত মানুষেরই মত বাঁচে কিন্তু কিছু কচ্ছপদের ১৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচার কথা শোনা গেছে। এই কারনে তারা কোন কোন সংস্কৃতিতে দীর্ঘায়ুকে বোঝায়। এই পর্যন্ত রেকর্ডকৃত কচ্ছপদের মধ্যে সবথেকে দীর্ঘজীবি কচ্ছপ হচ্ছে Tu’i Malia। তাকে ১৭৭৭ সালে, বৃটিশ পরিব্রাজক Captain Cook তার জন্মের অল্প দিনের মধ্যেই উপহার দেন Tongan Royal Family কে। ১৯৬৫ সালের ১৯ মে ১৮৮ বছর বয়সে তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়। ততদিন পর্যন্ত সে Tongan royal family এর তত্ত্বাবধানে ছিল। ভারতের আলীপুর চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা দাবী করেন “আদৃতা”(Adwaita) সবথেকে দীর্ঘায়ু প্রানি। আদৃতা ২০০৬ সালের ২৩ মার্চ মারা যায়। “আদৃতা” একটি Aldabra giant tortoise এবং Lord Wellesley তাকে ভারতে আনেন। ১৮৭৫ সালে Alipur Zoological Gardens প্রতিষ্ঠার সময় তাকে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কর্মকর্তাদের মতে রেকর্ড অনুসারে আদৃতার বয়স কমপক্ষে ১৫০ বছর কিন্তু অন্যান্য তথ্য উপাত্ত অনুসারে তার বয়স ২৫০বছর। আদৃতাকে Robert Clive এর পোষা প্রানি বলে ধারনা করা হয়। Harriet ১৯৮৭ সাল থেকে তার মৃত্যু পর্যন্ত Australia Zoo এর একজন অধিবাসি ছিল। ধারনা করা হয়ে থাকে তাকে Charles Darwin তার জাহাজ বিগল (Beagle) এ করে ইংল্যান্ডে নিয়ে আসেন এবং পরবর্তীতে John Clements Wickham তাকে অস্ট্রেলিয়া নিয়ে আসেন। ২০০৬ সালের ২৩শে জুন তার ১৭৬ তম জন্মদিনের কিছু পরে সে মারা যায়। Timothy একটি spur-thighed tortoise এটি প্রায় ১৬৫ বছর বয়সে মারা যায়। প্রায় ৩৮ বছর যাবত তাকে বৃটেনের Royal Navy এর বিভিন্ন জাহাজে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে বহন করা হয়। ১৮৯২ সালে যখন তার ৫৩ বছর বয়স তখন তাকে Devon এর Powderham Castle এ ফিরিয়ে আনা হয়। ২০০৪ সালে সে মারা যায়। তাকে যুক্তরাজ্যের সবথেকে প্রাচীন অধিবাসি বলে মনে করা হয়। সেইন্ট হেলেনা (St. Helena) দ্বীপে থাকা এখনও পর্যন্ত জীবিত Seychelles(সিচেলিস) Giant tortoise প্রজাতির Jonathan এর বয়স আনুমানিক ১৭৬ বা ১৭৮ বছর। যদি এটা সত্য হয় তবে সে হবে বর্তমানে পৃথিবীতে বসবাসরত সবথেকে দীর্ঘায়ু জীবিত প্রানি।

লিঙ্গ দ্বিরুপতা[সম্পাদনা]

কচ্ছপদের অনেক প্রজাতির নারী ও পুরুষ আলাদা; যদিও বিভিন্ন প্রজাতির ক্ষেত্রে নারী পুরুষের পার্থক্য বিভিন্ন হয়ে থাকে। কিছু প্রজাতির পুরুষদের ঘাড় মেয়েদের থেকে লম্বা থাকে। আবার কিছু প্রজাতির মেয়েদের নখর পুরুষদের থেকে বড় হয়ে থাকে। অধিকাংশ কচ্ছপ প্রজাতিতে পুরুষদের থেকে মেয়েরা আকারে বড় হয়ে থাকে। পুরুষের খোলসের উপরের অংশ প্রজননে সহযোগিতা করার জন্য ভিতরের দিকে বাকানো থাকে। কচ্ছপদের লিঙ্গ নিরূপণের সবথেকে সহজ উপায় হচ্ছে তাদের লেজ লক্ষ্য করা। সাধারণত মেয়েদের নিচের দিকে বাকানো ছোট লেজ থাকে অন্যদিকে পুরুষদের উপর দিকে বাকানো তুলনামূলক ভাবে বড় লেজ থাকে।

সাধারন তথ্য[সম্পাদনা]

বড় কচ্ছপরা শুকনো জমিতে খুব ধীরে চলে, প্রায় ০.২৭ কিমি./ঘণ্টা। কচ্ছপের রেকর্ডকৃত সবথেকে দ্রুতগতি ৫ মাইল/ ঘণ্টা।

খাবার[সম্পাদনা]

অধিকাংশ ডাঙ্গায় বসবাসকারী কচ্ছপ তৃণভোজী। তারা ঘাস, আগাছা, পাতা, ফুল এবং কিছু ফল খেয়ে বেঁচে থাকে। যদিও কিছু সর্বভূক কচ্ছপও এই Family তে আছে। পোষ্য কচ্ছপরা সাধারণত ঘাস, পাতা, আগাছা এবং কিছু ফুল খায়। কিছু প্রজাতি তাদের বাসস্থানে প্রাপ্ত কীটপতঙ্গ এবং মৃতদেহও খেয়ে থাকে। তৃণভোজী কচ্ছপদের অতিরিক্ত আমিষ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং খোলস বিকৃতিসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যগত জটিলতা সৃষ্টি করে থাকে। যেহেতু প্রত্যেক প্রজাতির কচ্ছপের পুষ্টির চাহিদা ভিন্ন রকমের হয়ে থাকে তাই তাদের খাবার নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা করা দরকার।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ[সম্পাদনা]

হিন্দু ধর্মে কুর্ম অবতার ভগবান বিষ্ণুর দ্বিতীয় অবতার। মৎস অবতারের মত কুর্ম অবতারও সত্য যুগের। ভগবান বিষ্ণু শরীরের উপরের অংশ মানুষের এবং নিচের অংশ কচ্ছপের রুপ ধারণ করেন। তাকে প্রথাগত ভাবেই চার হাতধারী রূপে দেখা যায়। তিনি মহাপ্রলয়ের পর সাগরের নিচে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকেন। অন্যান্য দেবতারা তার পিঠের উপর একটি পাহাড় বসিয়ে দেন সাগর মন্থন করে অমৃত পাওয়ার জন্য। প্রাচীন চীনে কচ্ছপের খোলস ভবিষ্যৎবাণী করতে ব্যবহার করা হত। প্রাচীন গ্রীক দেবতা হার্মিস (Hermes) এর প্রতীক কচ্ছপ।

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

কচ্ছপ সম্পর্কে আরও তথ্য পেতে হলে উইকিপিডিয়ার সহপ্রকল্পগুলোতে অনুসন্ধান করে দেখতে পারেন:

Wiktionary-logo-en.svg সংজ্ঞা, উইকিঅভিধান হতে
Wikibooks-logo.svg পাঠ্যবই, উইকিবই হতে
Wikiquote-logo.svg উক্তি, উইকিউক্তি হতে
Wikisource-logo.svg রচনা সংকলন, উইকিউৎস হতে
Commons-logo.svg ছবি ও অন্যান্য মিডিয়া, কমন্স হতে
Wikivoyage-Logo-v3-icon.svg ভ্রমণ নির্দেশিকা, উইকিভয়েজ হতে
Wikinews-logo.png সংবাদ, উইকিসংবাদ হতে

Wikibooks
উইকিবই প্রকল্পে নিম্নের বিষয়ের উপরে সহায়িকা, বই, বা তথ্য রয়েছে: