মাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

মাস হলো সময় গণনা করার একটি একক, যা পঞ্জিকাতে ব্যবহার করা হয়। সাধারণত চাঁদের পূর্ণ একটি পরিক্রমকালের সাথে এর সম্পর্ক আছে। মাসের ধারণার উদ্ভব হয় চাঁদের কলা হতে। এধরণের মাসকে চান্দ্র মাস বলা হয়ে থাকে। পুরাতত্ত্ববিদেরা পঞ্জিকা হিসাবে ব্যবহৃত মাপকাঠি পেয়েছেন, যা দেখে বোঝা যায়, প্যালিওলিথিক যুগ হতে মানুষ চাঁদের কলার ভিত্তিতে মাস হিসাব করে আসছে।

মাসের ধরন[সম্পাদনা]

নাহ্মত্রিক মাস[সম্পাদনা]

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় মাস[সম্পাদনা]

আনোমালিস্টিক মাস[সম্পাদনা]

ড্রাকোনিক মাস[সম্পাদনা]

যুতি মাস[সম্পাদনা]

দৈর্ঘ্য মাস[সম্পাদনা]

বিভিন্ন বর্ষপঞ্জিতে মাস[সম্পাদনা]

চান্দ্রমাসের শুরু[সম্পাদনা]

জুলিয়ান এবং গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি[সম্পাদনা]

জুলিয়ান বর্ষপঞ্জির পূর্বে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জিরও বারো মাস রয়েছেঃ

# বর্ণানুক্রম দিন
জানুয়ারি ৩১ দিন
ফেব্রুয়ারি ২৮ দিন, ২৯ দিন অধিবর্ষ
মার্চ ৩১ দিন
এপ্রিল ৩০ দিন
মে ৩১ দিন
জুন ৩০ দিন
জুলাই ৩১ দিন
আগস্ট ৩১ দিন
সেপ্টেম্বর ৩০ দিন
১০ অক্টোবর ৩১ দিন
১১ নভেম্বর ৩০ দিন
১২ ডিসেম্বর ৩১ দিন

গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জিতে গড়ে মাসের দৈর্ঘ্য হয় ৩০.৪১৬৭ দিন। যদি অধিবর্ষ না হয় তাহলে ৪.৩৪৫ সপ্তাহ এবং ৩০.৫ দিনের মাস হয়। আর যদি অধিবর্ষ হয় তাহলে ৪.৩৫৭ সপ্তাহ এবং ৩০.৪৩৬৮৭৫ দিনের মাস হয়।

অতীতে রোমান বর্ষপঞ্জিতে মাসের অন্তর্ভুক্ত:

আঙুলের গাটের ওপর (হলুদ): ৩১ দিন
আঙুলের গাটের মধ্যে(নীল): ৩০ দিন
ফেব্রুয়ারি (লাল) ২৮ অথবা ২৯ দিন।

বিখ্যাত স্মৃতিসহায়ক ত্রিশ দিনের সেপ্টেম্বর মাসের দৈর্ঘ্য ইংলিশ ভাষার বিশ্বে শিক্ষা প্রদানে সর্বাপেক্ষা সাধারণ রাস্তা। একের হাতের চার আঙুলের গাট এবং তাদের মধ্যে মাসের দৈর্ঘ্য স্মরণ করতে ব্যবহার করা যায়। দুই হাতের মুঠ একত্র করে প্রত্যেকে মাস হিসেবে তালিকাভুক্ত করা যায়। মুঠের উচু অংশকে ৩১ দিন এবং নিচু অংশকে ৩০ দিন ধরে ১২ মাসে ভাগ করা যায়। যখন এক হাতের মুঠ হিসাবে করে জুলাইতে পৌছায়, তখন দ্বিতীয় হাতের মুঠ এক করে মুঠের উচু অংশকে আগস্ট হিসেবে শুরু করা হয়।

হুব্রু বর্ষপঞ্জি[সম্পাদনা]

হুব্রু বর্ষপঞ্জির ১২ অথবা ১৩ মাস রয়েছে।

# বর্ণানুক্রম দিন হুব্রু ভাষা
নিসান ৩০ দিন ניסן
ইয়্যার ২৯ দিন אייר
সাইভান ৩০ দিন סיון
তাম্মুয ২৯ দিন תמוז
আভ ৩০ দিন אב
এলুল ২৯ দিন אלול
তিশরি ৩০ দিন תשרי
হেশভান ২৯/৩০ দিন חשון
কিসলেভ ২৯/৩০ দিন כסלו
১০ টেভেত ২৯ দিন טבת
১১ শেভাত ৩০ দিন שבט
১২ আদার ১ ৩১ দিন אדר א
ইন্টারকালারি মাস ৩০ দিন אדר א
১৩ আদার ২ ২৯ দিন אדר ב

আদার ১ শুধু ১৯ বছরে ৭ সময় কেবল যোগ করা হয়। সাধারণ বছরে, আদার ২ সহজভাবে আদার ডাক দেওয়া হয়।

ফরাসি প্রজাতন্ত্রের বর্ষপঞ্জি[সম্পাদনা]

এই বর্ষপঞ্জিটি ফরাসি বিপ্লব সময় প্রস্তাব করা হয়েছিল এবং ফরাসি সরকার একে ১৭৯৩ সাল থেকে প্রায় বারো বছরের ব্যবহার করেছিল। এটি ১২ মাসের বর্ষপঞ্জি এবং প্রত্যেক মাস ৩০ দিনের ছিল। ১০ দিনে ১ সপ্তাহ যাকে বলা হতো দেকাদেস। একে তিন মাস করে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। অতিরিক্ত পাচ অথবা ছয় দিন যথাযথ যোগ করার প্রয়োজন বোধ হয়েছে ক্রান্তি বছর জন্য যা প্রত্যেক বছরের শেষে মাস গুলোর পরে স্থাপিত করা হতো। প্রত্যেক চার বছর পর একটি অধিবর্ষ ছিল যাকে বলা হতো ফ্রানচাড। এইটি শরত্‍কাল থেকে শুরু হতো:

শরত্‍কাল শীতকাল বসন্তকাল গ্রীষ্মকাল
ভেনদেমিয়াইরে নিভসে জেরমিনাল মেসসিদর
ব্রুমাইরে প্লুভিওসে ফ্লরেয়াল থেরমিদর
ফ্রিমাইরে ভেন্তসে প্রাইরিয়াল ফ্রুকটিদর

ইরানীয়ান/পেরসীয়ান বর্ষপঞ্জি[সম্পাদনা]

ইরানী/পেরসীয়ান বর্ষপঞ্জি, বর্তমানে ইরান এবং আফগানিস্তানে ব্যবহার হচ্ছে। তাতেও ১২ মাস রয়েছে। পেরসীয়ান নামগুলো তদ্বোধক চিহ্নেতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

# বর্ণানুক্রম দিন আরবি
ফারভারদিন ৩১ দিন فروردین
অরদিবেহেশ্ত ৩১ দিন اردیبهشت
খারদাদ ৩১ দিন خرداد
তীর ৩১ দিন تیر
মরদাদ ৩১ দিন مرداد
শাহরিভার ৩১ দিন شهریور
মেহ্র ৩০ দিন مهر
আবান ৩০ দিন آبان
আযার ৩০ দিন آذر
১০ দেয় ৩১ দিন دی
১১ বাহমান ৩০ দিন بهمن
১২ এশফান্দ ২৯ দিন, ৩০ দিন অধিবর্ষ اسفند

ইসলামি বর্ষপঞ্জি[সম্পাদনা]

ইসলামি বর্ষপঞ্জিতে ও বারো মাস রয়েছে। তাদেরকে নাম ক্রমাণয়ে লেখা হলো:

# বর্ণানুক্রম দিন আরবি
মুহররম ৩০ দিন محرّم
সফর ২৯ দিন صفر
রবিউল আউয়াল ৩০ দিন ربيع الأول
রবিউস সানি ২৯ দিন ربيع الآخر أو ربيع الثاني
জমাদিউল আউয়াল ৩০ দিন جمادى الأول
জমাদিউস সানি ২৯ দিন جمادى الآخر أو جمادى الثاني
রজব ৩০ দিন رجب
শা'বান ২৯ দিন شعبان
রমজান ৩০ দিন رمضان
১০ শাওয়াল ২৯ দিন شوّال
১১ জ্বিলকদ ৩০ দিন ذو القعدة
১২ জ্বিলহজ্জ ২৯ দিন অথবা ৩০ দিন ذو الحجة

বাংলা/হিন্দ বর্ষপঞ্জি[সম্পাদনা]

বাংলা/হিন্দু বর্ষপঞ্জির মাসের নাম করার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। ভারতে প্রচলিত হিন্দু সৌর পঞ্জিকানুসারে বঙ্গাব্দের মাসসমূহ এবং তাদের দৈর্ঘ্য :

# বর্ণানুক্রম দিন যে রাশিতে সূর্য অবস্থিত
বৈশাখ ৩০ দিন মেষ
জ্যৈষ্ঠ ৩১ দিন বৃষ
আষাঢ় ৩১ দিন মিথুন
শ্রাবণ ৩১ দিন কর্কট
ভাদ্র ৩১ দিন সিংহ
আশ্বিন ৩০ দিন কন্যা
কার্তিক ২৯ দিন তুলা
অগ্রহায়ণ ২৯ দিন বৃশ্চিক
পৌষ ২৯ দিন ধনু
১০ মাঘ ২৯ দিন মকর
১১ ফাল্গুন ২৯ দিন কুম্ভ
১২ চৈত্র ৩০ দিন মীন

তামিল বর্ষপঞ্জি[সম্পাদনা]

তামিল বর্ষপঞ্জিতে ও বারো মাস রয়েছে। তাদেরকে নাম ক্রমাণয়ে লেখা হলো:

# বর্ণানুক্রম দিন
চিতিরাই
ভাইকাসি
আনি়
আদি
আভানি
পুররাথিসি
আইয়পাসি
কারথিগাই
মারগাযহি
১০ থাই
১১ মাসি
১২ পাঙ্গুনি

সিংহলি বর্ষপঞ্জি[সম্পাদনা]

সিংহলি বর্ষপঞ্জি হল বুদ্ধ বর্ষপঞ্জি যা সিংহলি ভাষায় নামগুলোর সঙ্গে শ্রীলঙ্কাতে বর্ষপঞ্জি হিসেবে ব্যবহার হয়। প্রত্যেক পূর্ণিমা পয়, একটি বুদ্ধ চান্দ্রমাসের শুরু চিহ্নিত করে। প্রথম মাস হল ভেসাক। সিংহলি এবং তামিল নব্বর্ষ শুরু হয় হিন্দু সৌর বর্ষপঞ্জির অনুসারে (সাধারণত ১৪ এপ্রিল), যা বুদ্ধ বর্ষপঞ্জিতে সম্পর্কহীন ঘটনা।

# বর্ণানুক্রম দিন
ভেসাক
পসন
এসাল
নিকিন
বিনার
ভাপ
ইল
অন্দুভাপ
দুরুথ
১০ নাভাম
১১ মেদিন
১২ বাক

আইসল্যন্ডিক/পুরোনো নোরস বর্ষপঞ্জি[সম্পাদনা]

পুরোনো ইংরেজি বর্ষপঞ্জি[সম্পাদনা]

পুরোনো হাঙ্গেরীয় বর্ষপঞ্জি[সম্পাদনা]

ঐতিহাসিকভাবে হাঙ্গেরি একটি ১২ মাসের বর্ষপঞ্জি ব্যবহার করতো যা প্রকৃতি রাশিচক্রর বলে মনে হতো। কিন্তু পরে তা গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির সাথে সম্পকৃত ছিল।

পুরোনো মিশরীয় বর্ষপঞ্জি[সম্পাদনা]

প্রাচীন মিশরীয় লোকেরা একটি বর্ষপঞ্জির ব্যবহার করতো যা ৩৬৫ দিন দীর্ঘ ছিল। বর্ষপঞ্জিকাটি ১২ মাসে ভাগ করা ছিল এবং প্রত্যেক মাস ৩০ দিনে ভাগ ছিল। বছর শেষে অতিরিক্ত ৫ দিন যোগ করা হতো। মাস গুলো ৩ সপ্তাহে ভাগ করা ছিল এবং প্রত্যেক সপ্তাহ ১০ দিনে ভাগ ছিল। কারণ প্রাচীন মিশরীয় বছর সৌর বছরের চেয়ে এক চতুর্থাংশ কম ছিল।

# বর্ণানুক্রম দিন
থউট
পাওপি
হাঠর
কইয়াক
তওবা
এমশির
পারেমহাট
পারেমউদ
পাশন্স
১০ পনি
১১ এপিপ
১২ মেসরি

নিসগা বর্ষপঞ্জি[সম্পাদনা]

নিসগা বর্ষপঞ্জি গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণয় প্রত্যেক মাসে সিদ্ধান্ত নেয় কি ধরনের ফসল তুলবে যা পিছের মাস গুলোতে বুনে ছিল।

নোট[সম্পাদনা]

সংযোগ শিরোনাম