বেল (ফল)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Bael
Bael (Aegle marmelos) tree at Narendrapur W IMG 4116.jpg
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae
(শ্রেণীবিহীন): Angiosperms
(শ্রেণীবিহীন): Eudicots
(শ্রেণীবিহীন): Rosids
বর্গ: Sapindales
পরিবার: Rutaceae
উপপরিবার: Aurantioideae
গোত্র: Clauseneae
গণ: Aegle
Corrêa
প্রজাতি: A. marmelos
দ্বিপদী নাম
Aegle marmelos
(L.) Corrêa

বেল একটি পুষ্টিকর আর উপকারী ফল। কাঁচা পাকা দুটোই সমান উপকারী। কাঁচা বেল ডায়রিয়াআমাশায় রোগে ধন্বন্তরী। পাকা বেলের শরবত সুস্বাদু। বেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, এ এবং ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও পটাসিয়ামের মত মূল্যবান পুষ্টি উপাদান। বেলকে বলা হয় শ্রীফল কারণ হিন্দুদের পুজা-অর্চনায় বেলের পাতা ও ফল ব্যবহার করা হয়। হিন্দুরা বেল কাঠও পবিত্র জ্ঞান করে বিধায় কখনো বেল কাঠ পুড়িয়ে রান্না করে না।

বর্ণনা[সম্পাদনা]

বেল

ইংরেজিতে বেলকে ডাকা হয় Wood Apple কারণ এ ফলের খোসা কাঠের মত শক্ত। বাংলায় ফলটির ব্যাপক কদর দেখে ব্রিটিশরা নাম দিয়েছে Bengal quince। এর বৈজ্ঞানিক নাম: Aegle marmelos Correa (syn. Feronia pellucida Roth, Crataeva marmelos L)। বেল রুটাসি (Rutaceae) অর্থাৎ লেবু পরিবারের সদস্য। এর সংস্কৃত নাম বিল্ব। বেলের জন্ম ভারতবর্ষে। বেল গাছ বড় ধরনের বৃক্ষ যার উচ্চতা প্রায় ১০-১৬ মিটার। শীতকালে সব পাতা ঝরে যায়, আবার বসন্তে আসে নতুন পাতা আসে। পাতা ত্রিপত্র যুক্ত, সবুজ, ডিম্বাকার ; পত্রফলকের অগ্রভাগ সূঁচাল। ফুল হালকা সবুজ থেকে সাদা রঙের। বোঁটা ছোট, ৪-৫টি পাঁপড়ি থাকে, পুংকেশর অসংখ্য, গর্ভাশয় বিস্তৃত ও কেন্দ্রস্থল খোলা। ফুলে মিষ্টি গন্ধ আছে। ফল বড়, গোলাকার, শক্ত খোসাবিশিষ্ট। ফলের ভিতরে শাঁস ৮-১৫টি কোয়া বা খন্ডে বিভক্ত থাকে,। প্রতিটি ভাগে বা খন্ডে চটচটে আঠার সাথে অনেক বীজ লেগে থাকে। কাঁচা ফলের রঙ সবুজ, পাকলে হলদে হয়ে যায়। ভিতরের শাঁসের রঙ হয়ে যায় কমলা। বা হলুদ। পাকা বেলে থেকে সুগন্ধ বের হয়। পাকা বেল গাছ থেকে ঝরে পড়ে। গাছ যখন ছোট থাকে তখন তাতে অনেক শক্ত ও তীক্ষ্ণ কাঁটা থাকে। গাছ বড় হলে কাঁটা কমে যায। খাদ্য হিসাবে বেল

বেলপাতা[সম্পাদনা]

অনেকে মনে করেন প্রতিদিন একটি করে বেল পাতা ঘি দিয়ে ভেজে চিনি সহ খেলে স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটে।[১] ত্রিফলক যুগ্মপত্র। হিন্দুদের শিবপূজায় ত্রিনয়নের প্রতীক হিসাবে বিল্বপত্র ব্যবহার হয়।

বেলকাঁটা[সম্পাদনা]

বেলের দ্রব্যগুণ[সম্পাদনা]

ফলের খাদ্যগুণ[সম্পাদনা]

১০০ গ্রাম বেলের শাঁসে থাকে: পানি 54.96-61.5 গ্রাম, প্রোটিন 1.8-2.62 গ্রাম ; স্নেহপদার্থ 0.2-0.39 গ্রাম ; শর্করা 28.11-31.8 গ্রাম ; ক্যারোটিন 55 মিলিগ্রাম ; থায়ামিন 0.13 মিলিগ্রাম ; রিবোফ্ল্যাবিন ১.১৯ মিলিগ্রাম ;নিয়াসিন ১.১ মিলিগ্রাম ; এসকর্বিক এসিড ৮ - ৬০ মিলিগ্রাম ; এবং টারটারিক এসিড ২.১১ মিলিগ্রাম।

ফলের ভেষজগুণ[সম্পাদনা]

বেল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ও আমাশয়ে উপকার করে। আধাপাকা সিদ্ধ ফল আমাশয়ে অধিক কার্যকরী। বেলের শরবত হজমশক্তি বাড়ায় এবং তা বলবর্ধক। বেলের পাতার রস মধুর সাথে মিশিয়ে পান করলে চোখের ছানি ও জ্বালা উপশম হয়। পাতার রস, মধু ও গোল মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে পান করলে জন্ডিস রোগ নিরাময় হয়।

পাতা ও খোসায় (ফলের) সুগন্ধী তেল[সম্পাদনা]

উদ্বায়ী তেল:
  • d-limonene,
  • alpha-d-phellandrene,
  • cineol,
  • citronellal,
  • citral;
  • p-cyrnene,
  • cumin aldehyde

পাতা ও ছালের (কাণ্ডের) বিষ[সম্পাদনা]

পাতায় নানা উপক্ষার (Alkaloid) আছে:

  • O-(3,3-dimethylallyl)-halfordinol,
  • N-2-ethoxy-2-(4-methoxyphenyl) ethylcinnamide,
  • N-2-methoxy-2-[4-(3',3'-dimethyalloxy) phenyll]ethylcinnamide,
  • N-2-methoxy-2-(4-methoxyphenyl)-ethylcinnamamide ইত্যদি

তাই পাতা খেলে গর্ভপাত বা বন্ধ্যাত্ব হতে পারে বলে মনে করা হয়। গাছের ছাল Celebes দেশে মাছ মারা বিষ হিসাবে ব্যবহার হয়।

বেলের আঠা[সম্পাদনা]

বেল বিষয়ক প্রবাদবাক্য[সম্পাদনা]

  • বেল পাকলে কাকের কি?
  • ন্যড়া বেলতলায় দু বার যায় না ।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

http://www.hort.purdue.edu/newcrop/morton/bael_fruit.html

References[সম্পাদনা]

  1. মাধ্যমিক জীববিজ্ঞানঃ ২০০৮ সংস্করন