নীরদচন্দ্র চৌধুরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নীরদ সি. চৌধুরী
জন্ম নভেম্বর ২৩, ১৮৯৭
কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমান বাংলাদেশ)
মৃত্যু আগস্ট ১, ১৯৯৯ (১০১ বছর)
লাথবুরী রোড, অক্সফোর্ডশায়ার, যুক্তরাজ্য
ছদ্মনাম বালাহাক নন্দী (শনিবারের চিঠি)
পেশা লেখক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব
জাতীয়তা ভারতীয়
কার্যকাল ১৯৩০-১৯৯৯
লেখার ধরন সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি

নীরদচন্দ্র চৌধুরী (জন্ম: ২৩ নভেম্বর, ১৮৯৭ - মৃত্যু: ১ আগস্ট, ১৯৯৯) খ্যাতনামা বাঙালি লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অবিভক্ত বাংলা (বর্তমান বাংলাদেশের) কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদীতে জন্মগ্রহণ করেন।

স্কলার এক্সট্রাঅর্ডিনারী শীর্ষক ম্যাক্স মুলারের জীবনী লিখে ১৯৭৫ সালে নীরদচন্দ্র চৌধুরী ভারত সরকার প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মাননা হিসেবে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।[১]

সূচিপত্র

[সম্পাদনা] কর্মজীবন

নীরদ চন্দ্র চৌধুরী বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ এবং কলকাতায় পড়াশোনা করেছেন। এফএ পরীক্ষা পাশ করে তিনি কলকাতার রিপন কলেজে (বর্তমান সুরেন্দ্রনাথ কলেজ) অন্যতম বাঙালি লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে একত্রে ভর্তি হন। এরপর নীরদ কলকাতার অন্যতম খ্যাতিমান স্কটিশ চার্চ কলেজে ইতিহাস বিষয়ে পড়াশোনায় মনোনিবেশ ঘটান। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে তিনি ইতিহাসে সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন এবং মেধা তালিকায় নিজের স্থান করে নেন। স্কটিশ চার্চ কলেজের সেমিনারে ভারতবর্ষের অতিপরিচিত ব্যক্তিত্ব ও ইতিহাসবেত্তা প্রফেসর কালিদাস নাগের সাথে অংশগ্রহণ করেন। স্নাতক ডিগ্রী অর্জনের পর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ডিগ্রীতে ভর্তি হলেও পরীক্ষায় অংশ না নেয়ায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করতে পারেননি।

ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনীর হিসাবরক্ষণ অধিদপ্তরে একজন কেরাণী হিসেবে নীরদ চৌধুরী তার কর্মময় জীবন শুরু করেন। চাকুরীর পাশাপাশি একই সময়ে তিনি বিভিন্ন ধরণের প্রবন্ধ রচনা করতে থাকেন। জনপ্রিয় সাময়িকীগুলোতে নিবন্ধ পাঠানোর মাধ্যমে লেখার জগতে অংশগ্রহণ করতে শুরু করেন। তার প্রথম নিবন্ধটি ছিল অষ্টাদশ শতকের বিখ্যাত বাংগালী কবি ভারত চন্দ্রের উপর। এই নিবন্ধটি ঐ সময়ে কলকাতা থেকে প্রকাশিত বিখ্যাত ইংরেজী ম্যাগাজিন "মডার্ণ রিভিউ"-তে স্থান পায়।

নীরদ চৌধুরী হিসাবরক্ষণ অধিদপ্তর থেকে খুব শীঘ্রই চাকুরী ত্যাগ করেন এবং সাংবাদিক ও সম্পাদক হিসেবে নতুন কর্মজীবন শুরু করেন। ঐ সময়ে কলকাতা কলেজ স্কয়ারের কাছাকাছি মির্জাপুর স্ট্রীটে অন্যতম লেখক - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের সাথে একত্রে বোর্ডার হিসেবে ছিলেন। তিনি তখনকার সময়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় ইংরেজী ও বাংলা সাময়িকী হিসেবে মডার্ণ রিভিউ, প্রবাসী এবং শনিবারের চিঠিতে সম্পাদনা কর্মে সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়াও, তিনি দুইটি ক্ষণস্থায়ী অথচ উচ্চস্তরের সাময়িকী - সমসাময়িক এবং নতুন পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নীরদ চৌধুরী ১৯৩২ সালে অমীয়া ধর নাম্নী একজন জনপ্রিয় লেখিকাকে বিয়ে করেন এবং তাদের তিনটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

১৯৩৮ সালে নীরদ চন্দ্র চৌধুরী ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিবিদ শরৎ চন্দ্র বসু'র একান্ত সচিব হিসেবে চাকুরী পান। ফলশ্রুতিতে তিনি খ্যাতিমান মহাপুরুষ যেমন: মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু-সহ অনেক খ্যাতিমান রাজনৈতিক নেতাদের সংস্পর্শ পান। ভারতীয় রাজনীতির অভ্যন্তরে কাজ করার দরুণ ও রাজনীতির সাথে নিবীড় ঘনিষ্ঠতা থাকায় ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি সম্বন্ধে সন্দিহান হন। নীরদ চন্দ্র চৌধুরী স্বাধীনতা আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

সচিব হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি নীরদ চন্দ্র চৌধুরী বাংলা ও ইংরেজী দৈনিক, সাময়িকীগুলোতে প্রবন্ধ রচনা প্রকাশ করতে থাকেন। এছাড়াও, তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিও'র (এআইআর) কলকাতা শাখার রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। ১৯৪১ সালে নীরদ অল ইন্ডিয়া রেডিও'র দিল্লী শাখায় কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, প্রখ্যাত সম্পাদক, ঐতিহাসিক এবং ঔপন্যাসিক খুশবন্ত সিং নীরদচন্দ্র চৌধুরী'র বন্ধু ছিলেন।

[সম্পাদনা] উল্লেখযোগ্য কর্ম

নীরদচন্দ্র চৌধুরী'র প্রধান সাহিত্যকর্ম দি অটোবায়োগ্রাফী অব অ্যান আননোন ইন্ডিয়ান (আইএসবিএন ০-২০১-১৫৫৭৬-১) ১৯৫১ সালে প্রকাশিত হয়। এর ফলে তিনি সেরা ভারতীয় ইংরেজী লেখকের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হন। নতুন ও স্বাধীন দেশ হিসেবে ভারতের বিচার ব্যবস্থাকে কটাক্ষ করে বইটি উৎসর্গ করেন তিনি।

প্রকৃতপক্ষে বইয়ের উৎসর্গ অংশে বলা হয়েছে - অনেক ক্ষুদ্ধ ভারতীয়দের অভিমত: রাজনৈতিক এবং আমলাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নব্য সাম্রাজ্যবাদের অনুকরণমাত্র।

নীরদ চৌধুরী সরকারী চাকুরী থেকে বহিস্কৃত হয়েছিলেন, ফলে অবসর ভাতা থেকেও বঞ্চিত হয়েছিলেন। কালো তালিকাভূক্ত লেখক হিসেবে চিহ্নিত হন এবং জোরপূর্বক নতুন জীবনে গমন করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তিনি ভারত সরকার নিয়ন্ত্রিত অল ইন্ডিয়া রেডিও'র রাজনৈতিক ভাষ্যকার হিসেবে আইনের বিরুদ্ধাচরণ করেছেন যা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ছিল।

নীরদ চৌধুরী পরবর্তীতে অবশ্য বলেছিলেন যে তিনি বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। তার বন্ধু, সম্পাদক, ঐতিহাসিক এবং ঔপন্যাসিক খুশবন্ত সিংয়ের মতে, "বইয়ের উৎসর্গটির বিষয়বস্তু ছিল প্রকৃতপক্ষে ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীর প্রতি নিন্দাজ্ঞাপন করা যা আমাদেরকে সাম্যের দিকে ধাবিত করতে পারেনি।" - গ্রান্তা নিবন্ধে চৌধুরীর ভাষ্য। "প্রতিকল্প হিসেবে প্রর্দশনস্বরূপ তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, প্রাচীন রোমের সাথে সমান্তরাল পথে পা রাখছে ভারত।"

১৯৫৫ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং বিবিসি যৌথভাবে নীরদ চন্দ্র চৌধুরীকে ৮ সপ্তাহের জন্য ইংল্যান্ড ভ্রমনের আয়োজন করে। তিনি বিবিসিতে বক্তৃতা পাঠ করতে সম্মত হন। ব্রিটিশ জীবনধারার উপর নীরদ চৌধুরী আটটি বক্তৃতামালা প্রদান করেন। পরবর্তীতে ঐ বক্তৃতাগুলোই একত্রিত করে প্যাসেজ টু ইংল্যান্ড বইয়ে প্রকাশ করা হয়। ই.এম.ফরস্টার এ বিষয়ের সমালোচনা-ভাষ্য ও তার দৃষ্টিভংগী দ্য টাইমস্ লিটারেরী সাপ্লিমেন্টে প্রকাশ করেন।

১৯৬৫ সালে তার রচিত দ্য কন্টিনেন্ট অব সার্স গ্রন্থটি ১ম এবং একমাত্র ভারতীয় হিসেবে ডাফ কুপার প্রাইজ অর্জনে সহায়তা করে।

১৯৭২ সালে মার্চেন্ট আইভরী প্রোডাকশনের ব্যানারে এডভেঞ্চার অব এ ব্রাউন ম্যান ইন সার্চ অব সিভিলাইজেশন শীর্ষক ডকুমেন্টারী ফিল্ম বা প্রামাণ্য চিত্রে নীরদ চন্দ্র চৌধুরীকে উপজীব্য করে তৈরী করা হয়।

নীরদ চৌধুরী ১৯৮৮ সালে দাই হ্যান্ড, গ্রেট আনার্ক শীর্ষক নিজের জীবনের শেষভাগ নিয়ে আত্মজীবনী প্রকাশ করেন। ১৯৯২ সালে তিনি ব্রিটেনের রাণী ২য় এলিজাবেথ কর্তৃক সম্মানিত হন এবং অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার উপাধীতে ভূষিত হন। ১৯৯৭ সালে নিজের শতবর্ষে সর্বশেষ বই হিসেবে থ্রী হর্সম্যান অব দ্য নিউ এপোক্যালিপস প্রকাশ করেন।

[সম্পাদনা] সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গী এবং লেখার ধরণ

  • নীরদচন্দ্র চৌধুরী স্বাধীনতা-পূর্ব কংগ্রেস পার্টি প্রতিষ্ঠায় যতটুকু না সমালোচিত হয়েছিলেন, তারচেয়েও তার বেশী সহানুভূতি ছিল ডান-পন্থী ভারতীয় হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের আন্দোলনে। তিনি অযোধ্যার বাবরী মসজিদ ধ্বংস সম্বন্ধে সমালোচনা করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।[২]
  • এছাড়াও তিনি গভীরভাবে বাংলার সমাজজীবনকে কাছে থেকে দেখার চেষ্টা করেছেন। বাঙ্গালী সমাজজীবনে ভণ্ডামী, কপটতার পাশাপাশি সামাজিক স্তর ও শ্রেণীবিভাজন দেখে গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন।
  • নীরদচন্দ্র চৌধুরী'র প্রবন্ধগুলোয় সংস্কৃত ভাষা এবং বাংলা ভাষার পুরনো ভার্সন সাধুভাষার ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তিনি কথ্য ভাষা হিসেবে চলতিভাষা যৎকিঞ্চিৎ ব্যবহার করেছেন।
  • আধুনিক বাংলা ভাষায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত আরবী, উর্দু এবং ফার্সি ভাষা প্রয়োগ করা থেকে তিনি যথাসম্ভব নিজেকে বিরত রেখেছেন।

[সম্পাদনা] সম্মাননা ও পুরস্কার

[সম্পাদনা] রচিত পুস্তকাদি

নীরদ চৌধুরী প্রধানতঃ ইংরেজীতে বই-পুস্তকাদি রচনা করেছেন। এছাড়াও, বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার মহান মানসে তিনি বাংলা ভাষায়ও মহামূল্যবান গ্রন্থ লিখেছেনঃ-

পুস্তকাদির বিবরণ
ক্রমিক নং পুস্তকের নাম ভাষা প্রকাশকাল
১। দি অটোবায়োগ্রাফী অব এ্যান আননোন ইন্ডিয়ান ইংরেজী ১৯৫১
২। অ্যা প্যাসেজ টু ইংল্যাণ্ড ইংরেজী ১৯৫৯
৩। দ্য কন্টিন্যান্ট অব সার্স ইংরেজী ১৯৬৫
৪। দি ইনটেলেকচুয়াল ইন ইন্ডিয়া ইংরেজী ১৯৬৭
৪। টু লিভ অর নট টু লিভ ইংরেজী ১৯৭১
৫। দ্য স্কলার এক্সট্রাঅর্ডিনারী: দ্য লাইফ অব প্রফেসর দ্য রাইট অনারেবল ফ্রেডরিক ম্যাক্স মুলার, পি.সি. ইংরেজী ১৯৭৪
৬। ক্লাইভ অব ইন্ডিয়া ইংরেজী ১৯৭৫
৭। কালচার ইন দ্য ভ্যানিটি ব্যাগ ইংরেজী ১৯৭৬
৮। হিন্দুইজম: অ্যা রিলিজিয়ন টু লাইভ বাই ইংরেজী ১৯৭৬
৯। দাই হ্যান্ড, গ্রেট আনার্ক! ইংরেজী ১৯৮৭
১০। থ্রী হর্সম্যান অব দ্য নিউ এপোক্যালিপস্‌ ইংরেজী (সর্বশেষ প্রকাশিত গ্রন্থ) ১৯৯৭
১১। দি ইস্ট ইজ ইস্ট এ্যাণ্ড ওয়েস্ট ইজ ওয়েস্ট (অপ্রকাশিত রচনাসমগ্র) ইংরেজী
১২। ফ্রম দি আর্কাইভস্‌ অব এ সেন্টেনারিয়ান (অপ্রকাশিত রচনাসমগ্র) ইংরেজী
১৩। হুয়াই আই মোর্ন ফর ইংল্যাণ্ড (অপ্রকাশিত রচনাসমগ্র) ইংরেজী
১৪। বাঙালি জীবনে রমণী বাংলা ১৯৬৮
১৫। আত্মঘাতী বাঙালি বাংলা
১৬। আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ বাংলা (দুই খণ্ড)
১৭। আমার দেবতার সম্পত্তি বাংলা
১৮। নির্বাচিত প্রবন্ধ বাংলা
১৯। আজি হতে শতবর্ষ আগে বাংলা (আত্মজীবনী)
২০। আমার দেশ আমার শতক বাংলা

[সম্পাদনা] পরলোকগমন

নীরদ চন্দ্র চৌধুরী মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত একজন সৃষ্টিশীল এবং স্বাধীনচেতা লেখক হিসেবেই পরিগণিত ছিলেন। ৯৯ বছর বয়সে তার শেষ বই প্রকাশিত হয়। ১৯৯৪ তার স্ত্রী অমীয়া চৌধুরী অক্সফোর্ডে মারা যান। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডেই নিজের ১০২তম জন্মদিনের দু'মাস পূর্বে পরলোকগমন করেন ক্ষণজন্মা সাহিত্যিক নীরদ চন্দ্র চৌধুরী।

[সম্পাদনা] আরও দেখুন

[সম্পাদনা] তথ্য সূত্র

[সম্পাদনা] বহিঃসংযোগ

নিজস্ব হাতিয়ারসমূহ
নামস্থান

বিকল্পসমূহ
কার্যক্রম
পরিভ্রমন
মুদ্রণ/এক্সপোর্ট
সরঞ্জাম
অন্যান্য ভাষাসমূহ