যায়যায়দিন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

যায়যায়দিন বাংলাদেশ থেকে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত একটি দৈনিক সংবাদপত্র। এ সংবাদপত্রটির সম্পাদক শফিক রেহমান। শুরুতে এটি সাপ্তাহিক যায়যায়দিন হিসেবে প্রকাশিত হয়ে আসছিল। উল্লেখ্য যে এটি প্রথম বার দৈনিক হিসেবে ট্যাবলয়েড আকারে প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। সে সময় তেমন সাড়া না পাওয়ায় দৈনিক হিসেবে প্রকাশ বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর আবার ২০০৬ সালে নতুন আঙিকে পত্রিকাটি দৈনিক হিসেবে প্রকাশ আরম্ভ হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

৮০ দশকের শেষে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সাপ্তাহিক পত্রিকাটি দারুন ভূমিকা পালন করে। ফলে এরশাদ সরকার কর্তৃক শফিক রেহমান অবাঞ্ছিত ঘোষিত হন।

অবস্থান[সম্পাদনা]

যায়যায়দিন পত্রিকাটি ঢাকায় "যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স" ভবনে অবস্থিত। বাংলাদেশের এটিই সবচেয়ে বিলাসবহুল পত্রিকা অফিস।

যায়যায়দিন অফিস[সম্পাদনা]

যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স ঢাকার তেজগাঁও বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত। কমপ্লেক্সটি দুটি দালান নিয়ে গঠিত। দক্ষিণের দালানটি তিনতলা বিশিষ্ট। এর নিচতলায় প্রকাশনা শাখা, বাণিজ্যিক বিভাগ, বিপনন বিভাগ ও অভ্যর্থনা ডেস্ক অবস্থিত। দ্বিতীয় তলা সর্বসাধারণের জন্য উম্মুক্ত। গোলটেবিল বৈঠকের জন্য "ক্লিনটন রুম" ব্যবহৃত হয়। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ. বিউটেনিস এই কক্ষের উদ্বোধন করেন। বিভিন্ন কর্মশালা আয়োজনের জন্য রয়েছে "মাহাথির রুম"। "মনরো স্টুডিও" পত্রিকার ফটোস্টুডিও ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান ধারনের জন্য ব্যবহৃত হয়। "হিচকক হল" হচ্ছে একটি ৪০ আসনের মুভি থিয়েটার। এর পরে আছে "পিকাসো গ্যালারি" এবং "চে ক্যাফে"। এখানে যায়যায়দিনের জনপ্রিয় কলাম "চে ক্যাফেতে দশ মিনিট" আয়োজন করা হয়।

তৃতীয় তলা সংবাদকর্মীদের কর্মস্থল। সংবাদ, সম্পাদকীয়, নিবন্ধ ও ফটোগ্রাফি বিভাগ এখানে অবস্থিত। এই তলায় কাজ করার উপযোগী ১৭৬টি ডেস্ক রয়েছে।

উত্তরের দালানটি দুইতলা বিশিষ্ট। নিচতলায় প্রকাশিত সংবাদপত্র জমা রাখা হয়। পুরো কমপ্লেক্সের বিদ্যুৎ শক্তিকেন্দ্র এখানেই রয়েছে। প্রথম তলায় ৪৪ আসনের ডরমিটরি রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানের শিক্ষার্থীদের স্বল্পকালীন মেয়াদে যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স পরিদর্শনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। একারনে ডরমিটরিটি ব্যবহৃত হচ্ছে। যায়যায়দিন এসব শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি সংবাদপত্র প্রকাশনা বিষয়ক স্বল্পকালীন কোর্স পরিচালনাও করে থাকে। এই তলায় "মাও ক্যান্টিন" অবস্থিত।

অন্যান্য তথ্য[সম্পাদনা]

যায়যায়দিন বাংলাদেশে ভালবাসা দিবস তথা ভ্যালেন্টাইন'স ডে চালু করতে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছে। যায়যায়দিন পাঠকের কাছ থেকে লেখা নিয়ে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের ধারনা বাংলাদেশে চালু করেছে। বিভিন্ন উপলক্ষে সাধারণ জনগনের লেখা প্রকাশের এ উদ্যোগের ফলে বিভিন্ন অনেক পাঠক লেখকে পরিনত হতে প্রেরণা পেয়েছেন। যায়যায়দিনের বহুল প্রচারিত বাক্য হচ্ছে "পাঠকই যার লেখক, লেখকই যার পাঠক"। বিভিন্ন প্রবাসী পাঠকও যায়যায়দিনে লিখেছেন। ভ্যালেন্টাইন দিবস ছাড়াও বাংলাদেশের সংবাদপত্রগুলির মধ্যে যায়যায়দিনই সর্বপ্রথম নিজস্ব ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠা করেছে। বিভিন্ন জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য শিল্পী ও কলাকুশলী নির্বাচনে পাঠকের ভোটের ধারনা যায়যায়দিন প্রথম বাংলাদেশে এনেছে।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]