আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Ali Ahsan Mohammad Mojaheed
জন্ম ১৯৪৮
ফরিদপুর, পূর্ব বাংলা, পাকিস্তান অধিরাজ্য
জাতীয়তা বাংলাদেশী
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
পেশা রাজনীতি
নিয়োগকারী মহাসচিব
প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
যে জন্য পরিচিত রাজনীতি, যুদ্ধ অপরাধ
আদি শহর ফরিদপুর জেলা
রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
ধর্ম ইসলাম
অপরাধের অভিযোগ গণহত্যা, conspiracy in killing intellectuals, torture and abduction during 1971 Liberation war of Bangladesh[১][২][৩][৪][৫]
অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড[৬]
অপরাধীর অবস্থা আটক[৭]

আলী আহসান মুজাহিদ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান সাধারণ সচিব, বাংলাদেশের একজন প্রাক্তন সংসদ সদস্য যাকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছে । তিনি ২০০১-২০০৭ সময়কালে চারদলীয় জোট সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেন এবং যুদ্ধ চলাকালে তিনি পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে সহায়তা করেন। তিনি একাধারে গণহত্যা, লুটপাট, ধর্ষণে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে সহাযোগিতা দান এবং ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশী বুদ্ধিজীবি হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্বদানের দায়ে অভিযুক্ত। ১৪ ডিসেম্বর তারিখটি শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস নামে পরিচিত।

২০১৩ সালের ১৭ই জুলাই, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে, মুজাহিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, বুদ্ধিজীবি হত্যার পরিকল্পনা, নির্যাতন ইত্যাদীসহ মোট উত্থাপিত ৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫টিতে দোষী প্রমানিত হয়। এর মাঝে দুটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদন্ড আদেশ দেয়া হয়।[৮][৯][১০][১১]

১৯৭১ সালে তার জীবন[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালে মুজাহিদ ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান ইসলামী ছাত্র সংঘের প্রেসিডেন্ট এবং রাজাকার বাহিনীর স্থপতি, আল বদর প্রধান। রাজাকার এবং আল বদর বাহিনীর প্রধান কাজ ছিলো স্বাধীনতাকামী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তাঁদের পাকিস্তানী সেনাবাহিনীরহাতে তুলে দেয়া। কখনো কখনো তাঁদের নির্যাতনপূর্বক হত্যাও করা হতো। স্বাধীনতা যুদ্ধ ঘোষিত হওয়া মাত্র তিনি তার আজ্ঞাবহ রাজাকার বাহিনী গঠন করেন। অতঃপর তিনি জনৈক ফিরোজ মিয়াকে এ বাহিনীর কমান্ডার নিযুক্ত করে তাদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। মুজাহিদ ছিলেন এ সংগঠনের সামরিক এবং অর্থনৈতিক মূল চালিকাশক্তি। তার স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকান্ড তৎকালীন সংবাদপত্রসমূহে প্রকাশিত বক্তব্য থেকে সুস্পষ্ট হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ এ ফরিদপুরে ইসলামী ছাত্র সংঘের এক জনসমাবেশে তিনি বলেন যে সমগ্র ভারত হস্তগত করার আগে তার উচিত ছিলো আসাম (ভারতীয় প্রদেশ) দখল করা। যুদ্ধ চলাকালে মুজাহিদ ১৮১, ফকিরাপুলে ফিরোজ মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করেন। জাতীয় পার্টি নেতা আবদুস সালাম, সাংবাদিক জি এম গাউস এবং মুক্তিযোদ্ধা ও কলামলেখক মাহবুব কামালের সাক্ষ্যমতে ফিরোজ মিয়া ছিলেন রাজাকার বাহিনীর কমান্ডার। ফিরোজ মিয়ার বাড়ি সে সময় এলাকার রাজাকারদের প্রধান কার্যালয় এবং মুক্তি বাহিনীর নির্যাতন কেন্দ্রের ভূমিকা পালন করত। এলাকাবাসীদের তথ্যমতে অনেককে সেখানে চোখ বেঁধে নিতে দেখা যেত এবং নির্যাতিতদের আর্তচিৎকারও শোনা যেত। মুজাহিদ ছিলেন এর মূল হোতা। সেপ্টেম্বর থেকে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী পরাজিত হতে শুরু করলে মুজাহিদ তার কর্মপদ্ধতি পরিবর্তন করেন। তিনি মুক্তিকামী সাধারণ বাংলাদেশী জনগণের পরিবর্তে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবি ও পেশাজীবিদের হত্যা শুরু করেন। তিনি এবং তার দল ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরে নিহত বুদ্ধিজীবিদের সম্পর্কে তথ্য সরবরাহকারীর ভূমিকা পালন করেন। গাউসের বক্তব্য মতে, মুজাহিদ নির্ধারিত বুদ্ধিজীবিদের হত্যার উদ্দেশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘেরাওকর্মে মুজাহিদ ছিলেন অন্যতম নেতা।

মুজাহিদের কীর্তি সম্পর্কে ১৯৭১ সালে পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য[সম্পাদনা]

১৫ অক্টোবর, ১৯৭১ এ "দৈনিক সংগ্রাম"-এ প্রকাশিত মুজাহিদের বক্তব্য:

"রাজাকার, আল-বদর এবং অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর তরুণেরা জাতিকে ভারতের যৌথবাহিনী এবং গুপ্তচরদের হাত থেকে রক্ষা করতে কাজ করছে। কিন্তু, সম্প্রতি দেখা গেছে যে কিছুসংখ্যক রাজনৈতিক নেতৃ যেমন জুলফিকার আলী ভুট্টো, কাওসার নিয়াজী, মুফতি আহমেদ এবং আসগর খান এই দেশপ্রেমিকদের নামে অসম্মানসূচক মন্তব্য করছেন।"

১৯৭১ পরবর্তী জীবন[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হওয়ার পর মুজাহিদ কয়েক বছর আত্মগোপন করে ছিলেন। শেখ মুজিবর রহমানের হত্যাকান্ডের পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এলে মুজাহিদ পুনরায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হন। ২০০১ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে চার দলীয় জোট সরকারের সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী হন, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা হিসেবে গণ্য।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্য সূত্র[সম্পাদনা]

  • জীবনে যা দেখলাম (What I saw in my life), গোলাম আযমের জীবনীগ্রন্থ.
  • বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর.
  • Killers and Collaborators of 1971: An Account of Their Whereabouts, compiled and published by the Center for the Development of the Spirit of the Liberation War.
  • Commission on War Criminals of Bangladesh.
  • Saiduzzaman Raushan: Speeches and Statements of Killers & Collaborators of 1971.

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Bangladesh Islamist leader sentenced to death for 1971 war crimes"Reuters। 17 July 2013। 
  2. http://www.dw.de/bangladesh-islamist-party-leader-sentenced-to-death-for-war-crimes/a-16957509
  3. । Chennai, India http://www.thehindu.com/news/international/south-asia/bangladesh-tribunal-sentences-one-more-jamaat-leader/article4923688.ece/?maneref=http%3A%2F%2Fm.bing.com%2Fnews%2Fsearch%3Fq%3DAli%2Bahsan%2Bmujahid%2Bdeath%2Bsentenced%26mid%3D10006%26form%3DBRABSB%26IIG%3De14bdebd961d4d9fb223aa0350b98627%26kval%3D3.1%26AppNs%3DmSERP  |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)[অকার্যকর সংযোগ]
  4. "Bangladesh Islamist leader sentenced to death for war crimes"The Times of India। সংগৃহীত 17 July 2013 
  5. "Death penalty for leading Bangladesh Islamist"Al Jazeera। সংগৃহীত 17 July 2013 
  6. "Bangladesh Islamist leader sentenced to death for 1971 war crimes"Reuters। 17 July 2013। 
  7. "Bangladesh war crimes trial: Key accused"BBC News। 1 October 2013। 
  8. "Bangladesh Islamist leader sentenced to death for 1971 war crimes"Reuters। সংগৃহীত 29 December 2013 
  9. "Bangladesh Islamist party leader sentenced to death for war crimes"Deutsche Welle। সংগৃহীত 29 December 2013 
  10. "Jamaat secretary-general gets death penalty for war crimes"The Hindu। সংগৃহীত 29 December 2013 
  11. Khan, Tamanna (18 July 2013)। "They now can rest in peace"The Daily Star। সংগৃহীত 29 December 2013 

অন্যান্য লিঙ্ক[সম্পাদনা]