মেরিনা সমুদ্র সৈকত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(Marina Beach থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মেরিনা সমুদ্র সৈকত
বাতিঘর থেকে দেখা মেরিনা সমুদ্র সৈকত
মেরিনা সমুদ্র সৈকত
অবস্থানচেন্নাই, তামিলনাড়ু, ভারত
সৈকতকরমন্ডল, বঙ্গোপসাগর
ধরণশহরকেন্দ্রিক, প্রাকৃতিক বালুকাময় সৈকত
সীমানা নির্দেশ১৮৮৪
মোট দৈর্ঘ্য১৩ কিমি (৮.১ মা)
বেড়াবার পথের দৈর্ঘ্য৬ কিমি (৩.৭ মা)
সর্বাধিক প্রস্থ৪৩৭ মি (১,৪৩৪ ফু)
দিক হিসেবে অবস্থানউত্তর দক্ষিণ
উল্লেখযোগ্য জায়গাবাতিঘর, আন্না মেমোরিয়াল, এমজিআর মেমোরিয়াল, নেপিয়ার ব্রিজ
দায়িত্বেকর্পোরেশন চেন্নাই

মেরিনা সমুদ্র সৈকত হল বঙ্গোপসাগর বরাবর তামিলনাড়ু রাজ্যের চেন্নাই শহরের একটি প্রাকৃতিক শহরকেন্দ্রিক সৈকত[১] সৈকতটি উত্তরের সেন্ট জর্জ দুর্গ থেকে দক্ষিণে ফোরশোর এস্টেট পর্যন্ত বিস্তৃত, এর মোট দৈর্ঘ্য ৬.০ কিমি (৩.৭ মা)।[২] এটি দেশের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক শহরকেন্দ্রিক সৈকত। [৩][৪][৫] মেরিনা সৈকত মূলত বালুকাময়, মুম্বাইয়ের জুহু সৈকতের মত ছোট ছোট শিলা পাথরে ভরা নয়। সৈকতের গড় প্রস্থ ৩০০ মি (৯৮০ ফু),[৬] এবং সবচেয়ে বিস্তৃত জায়গায় প্রস্থ ৪৩৭ মি (১,৪৩৪ ফু)। এখানে জলের অন্তর্নিহিত স্রোত খুব অশান্ত হওয়ার কারণে মেরিনা সৈকতে স্নান এবং সাঁতার কাটা বিপদজনক, এবং আইনত নিষিদ্ধ। এটি দেশের অন্যতম জনবহুল সমুদ্র সৈকত এবং সপ্তাহের দিনগুলিতে প্রতিদিন প্রায় ৩০,০০০ পর্যটক এখানে আসে।[৭] সপ্তাহান্তে এবং অন্যান্য ছুটির দিনে এই সংখ্যাটি হয়ে যায় ৫০,০০০।[৮][৯][১০] গ্রীষ্মের মাসগুলিতে, প্রতিদিন প্রায় ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ লোক সৈকতে যায়।[১১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯১৩ সালে সমুদ্র সৈকতে পায়ে চলা পথ

ষোড়শ শতাব্দীর আগে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে উপকূলের অদূরের জমি জলের নিচে চলে যাচ্ছিল। এরপর সমুদ্র যখন পিছিয়ে গেল, তখন বেশ কয়েকটি বালির শিরা এবং নোনা জলের উপহ্রদ জেগে উঠেছিল। সেন্ট জর্জ দুর্গের দক্ষিণ দিকে, এই জাতীয় একটি বালির শিরা কৌমের মুখ থেকে প্রেসিডেন্সি কলেজের বর্তমান স্থান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। শিরার পিছনের দিকে একটি বিরাট নিচু জমি ছিল, যেখানে পরে কলেজটি গড়ে উঠেছিল। আর বালির শিরার ওপর বর্তমানের সৈকতটি গড়ে উঠেছে।[১২] ১৬৪০ সালে সেন্ট জর্জ দুর্গ নির্মাণের সময়, সমুদ্র দুর্গের খুব কাছে ছিল। দুর্গের কাছে বন্দর নির্মাণের ফলে দুর্গের দক্ষিণে এবং বন্দরে এবং সমুদ্রে বালির বৃদ্ধি ঘটে, যা দুর্গের ঢালু অংশকে দুর্গ থেকে প্রায় ২.৫ কিমি দূরে সরিয়ে ফেলে। এর ফলে স্থল এবং সমুদ্রের মধ্যে প্রশস্ত সৈকত তৈরি হয়।[১২]

মাদ্রাজ বন্দর তৈরি হওয়ার আগে, সৈকত বলতে ছিল শুধু কাদার একটি ফালি, সাথে ছিল শুধু চিড়িং মাছ। ১৮৮১ সালে বন্দরটি তৈরি না হওয়া অবধি সমুদ্র সৈকতটি বর্তমান রাস্তা পর্যন্ত ছিল। ১৮৮১ থেকে ১৮৮৬ সাল পর্যন্ত মাদ্রাজের গভর্নর মাউন্টস্টুয়ার্ট এলফিনস্টোন গ্রান্ট ডাফ, ১৮৭০ এর দশকের শেষদিকে, শহরে আগের সফরে এসে, সৈকত দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন।[১৩][১৪] তিনি এখানে পায়ে চলা পথ করার পরিকল্পনা করেন। ১৮৮৪ সালে সৈকত বরাবর নরম বালির সাহায্যে ব্যাপক পরিমার্জন ও স্তর তৈরি করে পায়ে চলা পথ নির্মিত হয়েছিল। সেই বছরেই তিনি এটিকে মাদ্রাজ মেরিনা নাম দিয়েছিলেন।[১৩][১৪] উনিশ শতকের গোড়ার দিকে, সৈকতকে সামনে রেখে বেশ কয়েকটি সরকারি ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল।[১২]

বন্দরটি তৈরি হওয়ার পর থেকে বন্দরের দক্ষিণ অঞ্চলটি উল্লেখযোগ্যভাবে বর্ধিত হয়ে বর্তমান সময়ের সৈকত গঠিত হয়েছে। মূলত বন্দরটি নির্মাণের জন্য রাখা তরঙ্গ ভঙ্গের উপস্থিতির সত্ত্বেও উত্তরাঞ্চলের উপকূলে মারাত্মক ভূমিক্ষয় হয়েছে।[১৫] অবশেষে, উত্তর-প্রবাহমান স্রোত সৈকতটিকে আরও প্রশস্ত করেছে। সমুদ্র সৈকতটি বন্দরের তরঙ্গরোধ দ্বারা ভেসে যাওয়া বালি আটকে ফেলার ফলে গঠন করা গিয়েছিল।[১৬][১৭] সৈকতের বিস্তৃতি অগ্রগতির কারণে প্রতি বছরে ৪০ বর্গ মিটার করে বাড়ছে।[৩]

১৮৮৪ সালে পায়ে চলা পথ তৈরির পরে, সেই পথ বরাবর বেশ কয়েকটি সংযোজন হয়েছিল। ১৯০৯ সালে, দেশের প্রথম অ্যাকোয়ারিয়ামটি এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর মেরিনা সমুদ্র সৈকতে উদ্ধারকার্য।

একাধিক পাথরের মূর্তি দিয়ে এই সমুদ্র-সৈকত পার্শ্ববর্তী ক্ষেত্র অলঙ্কৃত যা এই সমুদ্র-সৈকতের একটি বিখ্যাত বৈশিষ্ট্য। এখানে রয়েছে মহাত্মা গান্ধী, তিরুভল্লুবরের মত ভারতীয় এবং স্থানীয় কিংবদন্তির মুর্তি। তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম জি রামচন্দ্রন এবং আন্নার স্মৃতিচিহ্নও এই সমুদ্র-সৈকতে বর্তমান।

মেরিনা সমুদ্র সৈকত এর অকৃত্রিম সৌন্দর্য, প্রফুল্ল পরিবেশ এবং সমৃদ্ধ ইকোসিস্টেমের জন্য বিখ্যাত ছিল। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে এই সমুদ্র সৈকত এবং জল দূষিত হতে শুরু করে। প্লাস্টিকের থলি, মানব বর্জ্য এবং অন্যান্য দূষক সমুদ্র সৈকতের অনেক অংশকে অব্যবহারযোগ্যে পরিণত করে। সাম্প্রতিককালে অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মেরিনা পরিষ্কার এবং ইকোসিস্টেম সংরক্ষণের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে সমুদ্র সৈকতের নীলাঙ্গাড়াই বিভাগে যেখানে ওলিভ রিডলি কচ্ছপ বাসা তৈরি করে। এসকল সমস্যা সত্ত্বেও মেরিনা পরিদর্শন চেন্নাইয়ে আসা যেকোনও পর্যটকের জন্য একটি অবশ্য দ্রষ্টব্য স্থান।

২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর, একটি ভূকম্পনের দরুন উদ্ভূত সুনামি মেরিনা সমুদ্র সৈকতে মৎস্যজীবি সম্প্রদায়সহ শতাধিক সাধারণ লোকের প্রাণহানি ঘটায়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Marina Beach in Chennai, Tamilnadu"। Tamilnadu.com। 
  2. "Beaches in Tamilnadu"। Tamilnadu Tourism Development Corporation। সংগ্রহের তারিখ ৮ মে ২০০৭ 
  3. EARSeL (২০০২)। Observing our environment from space: new solutions for a new millennium ...। A. A. Balakema। আইএসবিএন 90-5809-254-2 
  4. Doctor, Geetha (নভেম্বর ২০০৮)। "Favourite Things: Marina Beach"Outlook Traveller। Outlook Publishing। 8 (11): 58–60। সংগ্রহের তারিখ ২৩ অক্টোবর ২০১১ 
  5. Pamintuan, Ana Marie (৭ অক্টোবর ২০১২)। "A slice of Chennai life"PhilStar.com। Manila: PhilStar.com। সংগ্রহের তারিখ ৭ অক্টোবর ২০১২ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  6. Kumar, Manoj (মে ২০১১)। "Fast Track: 48 Hours in Chennai"। Spiceroute। Spicejet। 6 (5): 32–40। 
  7. "Corpn seizes filthy food and beverages from Marina"The Times of India। Chennai: The Times Group। ১১ মে ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ৮ অক্টোবর ২০১১ 
  8. "Marina beach to become more tourist-friendly"The Hindu। Chennai: The Hindu। ২০ ডিসেম্বর ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১১ 
  9. Ponnusamy, Mahalingam (২০ সেপ্টেম্বর ২০১১)। "Two drown off Marina, Neelankarai beaches"The Times of India। Chennai: The Times Group। সংগ্রহের তারিখ ৪ অক্টোবর ২০১১ 
  10. TNN (৫ মে ২০০৮)। "Thousands throng Marina to escape heat"The Times of India। Chennai: The Times Group। সংগ্রহের তারিখ ৫ অক্টোবর ২০১১ 
  11. Kumar, K Praveen (২২ এপ্রিল ২০০৮)। "Fake parking attendants on the prowl"The Times of India। Chennai: The Times Group। সংগ্রহের তারিখ ৬ অক্টোবর ২০১১ 
  12. "Structure of Chennai" (PDF)Chapter 1। CMDA। ২৬ আগস্ট ২০১৩ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  13. Muthiah, S. (২১ আগস্ট ২০০২)। "The fourth longest beach?"The Hindu। Chennai: The Hindu। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ 
  14. Tercentenary Madras Staff (১৯৩৯)। Madras Tercentenary Celebration Committee Commemoration Volume। Indian Branch, Oxford Press। পৃষ্ঠা 271–273। 
  15. Waste Load Allocation & Waster Assimilative Capacity Studies for Ennore Creek & North Chennai Coastal Waters (PDF), National Institute of Ocean Technology, ১ এপ্রিল ২০১২ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা, সংগ্রহের তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  16. Integrated Coastal and Marine Area Management Project Directorate, Chennai (নভেম্বর ২০০৬)। "Shoreline Management Plan for Ennore Coast (Tamilnadu)" (PDF)Report। Government of India, Ministry of Earth Sciences। ১ এপ্রিল ২০১২ তারিখে মূল (pdf) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১১ 
  17. Fernandes, Paul (১৬ জুন ২০১১)। "Experts suggest scientific management of spits"The Times of India। Chennai: The Times Group। সংগ্রহের তারিখ ৪ অক্টোবর ২০১১ 
  18. "Irfan Ahmed Photography"। Chennai: Irfan Ahmed Photography। ১৪ ফেব্রু ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ফেব্রু ২০১৬ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Hydrography of Tamil Nadu