হিন্দুকুশ পর্বতমালা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হিন্দুকুশ পর্বতমালা
Range
আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বতমালা
আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বতমালা
দেশসমূহ আফগানিস্তান, পাকিস্তান
অঞ্চল পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয়
অংশ হিমালয়
সর্বোচ্চ বিন্দু Tirich Mir
 - উচ্চতা ৭,৬৯০ মিটার (২৫,২৩০ ফিট)
 - স্থানাঙ্ক ৩৬°১৪′৪৫″ উত্তর ৭১°৫০′৩৮″ পূর্ব / ৩৬.২৪৫৮৩° উত্তর ৭১.৮৪৩৮৯° পূর্ব / 36.24583; 71.84389
Hindu-Kush-Range.png

হিন্দুকুশ পর্বতমালা আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানে অবস্থিত একটি পর্বতমালা। এটির পামির পর্বতমালা এবং কারাকোরাম পর্বতমালার একটি অংশ এবং হিমালয় পর্বতমালার একটি উপ-পর্বতমালা।

পার্সিয়ান অবিধান অনুযায়ী কুশ শব্দটির অর্থ "মেরে ফেলা"।[১] প্রাচীন কালে হিন্দু কৃতদাশদের এই পর্বতমালার মধ্য দিয়ে মধ্য এশিয়ার দিকে যাওয়ার সময় অধিকাংশ কৃতদাশ রুক্ষ ও বৈরী আবহাওয়া সহ্য করতে না পেরে মারা যেত। সেজন্যই ধারনা করা হয় এই পর্বতমালার নাম রাখা হয়েছে হিন্দুকুশ।[২] এন্সাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার মতে হিন্দুকুশ শব্দটি প্রথম ব্যাবহার করেন মধ্যযুগীয় পরিব্রাজক ইবন বতুতা। তবে এখনও আফগান পর্বতবাসীরা এই শব্দটি ব্যাবহার করে থাকে।[৩]

মধ্য এশিয়ার এই পর্বতমালাটি মোটামুটি দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রায় ১০০০ কিলোমিটার ধরে, আফগানিস্তানের সীমান্তে পামির পর্বতমালা থেকে শুরু হয়ে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ এবং তাজিকিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত। পর্বতমালাটির বেশির ভাগ উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানে অবস্থিত। সর্বোচ্চ শৃঙ্গ তিরিচমির (৭,৩৯০ মিটার) পাকিস্তানে পড়েছে। গিরিসঙ্কট খাইবার পাস পাকিস্তান ও আফিগানিস্তানকে সংযুক্ত করেছে। এই পথ দিয়েই ভারতীয় উপমহাদেশে বহিরাগত সেনারা সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করেছে। হিন্দুকুশ থেকে পারোপামিসুস পর্বতমালাসাফেদ কোহ পর্বতমালা আফগানিস্তানের ভেতর দিয়ে প্রসারিত প্রায় ইরান সীমান্ত পর্যন্ত চলে গেছে। গ্রানাইট ও কেলাসিত শিলাময় এই পর্বতমালাগুলি সম্ভবত টার্শিয়ারি যুগে ভূমি থেকে উত্থিত হয়েছিল। এগুলির কিছু কিছু অংশে ক্রিটেশাস যুগের চুনাপাথর এবং সেনোজোয়ীয় যুগের কর্দমশিলার দেখা পাওয়া যায়।

পামিরের পশ্চিমে প্রথম ১৬০ কিমি হিন্দুকুশ পর্বতমালাটি দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়েছে। এখানে পর্বতমালাটির শীর্ষ বেশ চওড়া, অনেকটা মালভূমির মত এবং এখানে অনেক হিমবাহজাত হ্রদ এবং সমুদ্র সমতল থেকে ৩,৮০০ থেকে ৫,৩০০ মিটার উচ্চতায় অনেক গিরিপথ দেখতে পাওয়া যায়। এরপর পর্বতমালাটি দক্ষিণ-পশ্চিমে মোড় নিয়েছে এবং এর উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানে মালভূমির পরিবর্তে খাড়া পর্বতশৃঙ্গের আবির্ভাব ঘটেছে। তিরিচমির ছাড়াও এখানকার আরও অনেকগুলি শৃঙ্গ ৬,১০০ মিটারেরও বেশি উচ্চতাবিশিষ্ট। এখানে রয়েছে বারোগিল, দোরাহ, এবং খাভাক গিরিপথ।

হিন্দুকুশ পর্বতমালা অনেক নদীর উৎসস্থল। এদের মধ্যে উত্তর ঢাল থেকে উৎপন্ন আমু দরিয়া নদী, এবং দক্ষিণ ঢাল থেকে উৎপন্ন হেলমান্দ নদী, কাবুল নদী, কোনার নদী এবং সিন্ধু নদের অনেকগুলি উপনদী উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Boyle, J.A. (1949)। A Practical Dictionary of the Persian Language। Luzac & Co.। পৃ: 129। 
  2. Encyclopedia Americana 14। 1993। পৃ: 206। 
  3. Encyclopædia Britannica 14 (15 সংস্করণ)। July 1987। পৃ: 238–240। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

সম্পর্কিত পাঠ[সম্পাদনা]

  • Drew, Frederic (1877). The Northern Barrier of India: A Popular Account of the Jammoo and Kashmir Territories with Illustrations. Frederic Drew. 1st edition: Edward Stanford, London. Reprint: Light & Life Publishers, Jammu, 1971
  • Gibb, H. A. R. (1929). Ibn Battūta: Travels in Asia and Africa, 1325–1354. Translated and selected by H. A. R. Gibb. Reprint: Asian Educational Services, New Delhi and Madras, 1992
  • Gordon, T. E. (1876). The Roof of the World: Being the Narrative of a Journey over the High Plateau of Tibet to the Russian Frontier and the Oxus Sources on Pamir. Edinburgh. Edmonston and Douglas. Reprint: Ch’eng Wen Publishing Company. Tapei, 1971
  • Leitner, Gottlieb Wilhelm (1890). Dardistan in 1866, 1886 and 1893: Being An Account of the History, Religions, Customs, Legends, Fables and Songs of Gilgit, Chilas, Kandia (Gabrial) Yasin, Chitral, Hunza, Nagyr and other parts of the Hindukush, as also a supplement to the second edition of The Hunza and Nagyr Handbook. And An Epitome of Part III of the author's 'The Languages and Races of Dardistan'. Reprint, 1978. Manjusri Publishing House, New Delhi. ISBN 81-206-1217-5