হাশিম ইবনে উতবাহ
হিশাম ইবনে উতরা | |
|---|---|
| জন্ম | মক্কা, হেজাজ |
| মৃত্যু | ৬৫৭ সিফফিন, সিরিয়া |
| আনুগত্য | রাশিদুন খিলাফত |
| যুদ্ধ/সংগ্রাম | |
| সম্পর্ক | তালিকা
|
হাশিম ইবনে উতবা বিন আবি ওয়াক্কাস (আরবি: هاشم بن عتبة بن أبي وقاص ) ছিলেন একজন মুসলিম সেনাপতি। তিনি পিতার দিক থেকে প্রসিদ্ধ সেনাপতি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের ভাতিজা ছিলেন। তিনি নবি মুহাম্মদের একজন সাহাবি ছিলেন। নবি মুহাম্মাদের মৃত্যুর পর তিনি বিদ্রোহী আরব গোত্রগুলোকে পুনরায় ইসলামে ফিরিয়ে আনার জন্য সংঘটিত রিদ্দার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি খালিদ বিন ওয়ালিদের অধীনে বাইজান্টাইনদের বিরুদ্ধে ইয়ারমুকের যুদ্ধে যুদ্ধ করেন। তিনি কাদিসিয়ার যুদ্ধেও বিশেষ ভূমিকা পালন করেন, যার ফলে মুসলমানরা আল-মাদাইন বিজয় করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে তিনি খলিফা আলির পক্ষে সিফফিনের যুদ্ধে নিহত হন।
জীবনী
[সম্পাদনা]হাশিম ইবন উতবা নবি মুহাম্মাদ মক্কায় নবুয়তের ঘোষণা দেওয়ার পর জন্ম গ্রহণ করেন।[১] তিনি মক্কা বিজয়ের সময় ইসলাম গ্রহণ করেন বলে উল্লেখ করা হয়। কারণ এর আগে তিনি অত্যন্ত ছোট ছিলেন।[১] এরপর নবি মুহাম্মদের মৃত্যুর পর যখন আরব উপদ্বীপে ব্যাপক ধর্মত্যাগী বিদ্রোহ শুরু হয়, তখন হাশিম বিদ্রোহী আরব গোত্রগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এসব যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য ছিল, তাদের পুনরায় ইসলামের অধীনে নিয়ে আসে। এসব সংঘর্ষকে সাধারণভাবে রিদ্দার যুদ্ধ বলা হয়। হাশিম পার্সিক বিরুদ্ধে সংঘটিত ইয়ারমুকের যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেন।[২] ইবনে আবদুল বার উল্লেখ করেন যে, এই যুদ্ধে হাশিম তাঁর একটি চোখ হারান।[২]
শিয়া ঐতিহাসিক ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি বর্ণনা করেন যে, হাশিমকে ইরাকে পাঠানো হয়েছিল এবং সেখানে তিনি কাদিসিয়ার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।[৩]
পরবর্তীতে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস হাশিম ইবন উতবাকে জালুলার যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একটি বাহিনীর সাথে প্রেরণ করেন। সেখানে হাশিম শত্রুর অবস্থান পর্যবেক্ষণ করার জন্য বাজিলা গোত্রের নেতা জারির ইবন আবদুল্লাহ আল-বাজালিকে শক্তিশালী অশ্বারোহী বাহিনীসহ প্রেরণ করেন।[৪]
বর্ণিত হয়েছে যে, যখন সাহাবি আবু উবাইদা ইবনুল জাররা ইয়ামুকের যুদ্ধে পদাতিক বাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য লোক নির্বাচন করতে চাইলেন, তখন তিনি বলেন: আমি এই দায়িত্ব এমন একজনের হাতে দেব, যার কাপুরুষতা বা যুদ্ধে পিছিয়ে পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। আমি এই দায়িত্ব দেব হাশিম ইবন উতবা ইবন আবি ওয়াক্কাসকে। আয়িশা বিনতে আবু বকর একবার জিজ্ঞাসা করেন যে, সিফফিনের যুদ্ধে নিহতদের মধ্যে কে কে ছিলেন। তখন তাঁকে জানানো হয়, নিহতদের মধ্যে হাশিম ইবন উতবাও ছিলেন। এটি শুনে তিনি বলেন: “তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যার ঘোড়া প্রায় কখনোই হোঁচট খেত না।” ইতিহাসবিদ ইবনুল আসির বলেন, তিনি একজন সাহসী বীর ও উত্তম ও নেক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইমাম আয-যাহাবি উল্লেখ করেন, "তিনি সাহসিকতা, বীরত্ব ও অগ্রগামী মানসিকতার জন্য পরিচিত ছিলেন।”[৫]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 Ad-Dhahabi, Shams ad-Din। Siyar A'lam Nubala - Hashim ibn Utbah। পৃ. ৩। সংগ্রহের তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০২১।
- 1 2 Ibn Abd al Barr, Yusuf ibn Abdallah ibn Mohammed (১৯৯২)। Ali Al-Bajawi, Muhammad (সম্পাদক)। الاستيعاب في معرفة الاصحاب [The Comprehensive Compilation of the Names of the Prophet's Companions (Al-Isti'ab fi Ma'rifat al-Ashab)] (first সংস্করণ)। Dar al Jeel। সংগ্রহের তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ Ibn Musa al-Khawarizm, Muhammad। کتاب المناقب للخوارزمي [Manaqib al Khawarizm]। সংগ্রহের তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ Bin Yahya Bin Jabir Al Biladuri, Ahmad (২০১১)। The Origins of the Islamic State Being a Translation from the Arabic Accompanied With Annotations, Geographic and Historic Notes of the Kitab Futuh Al-buldan (Paperback) (ইংরেজি ভাষায়)। Philip Khuri Hitti কর্তৃক অনূদিত। Cosimo, Incorporated। পৃ. ৪২১। আইএসবিএন ৯৭৮১৬১৬৪০৫৩৪২। সংগ্রহের তারিখ ৭ ডিসেম্বর ২০২১।
- ↑ كامل سلمان الجبوري (2003). معجم الأدباء من العصر الجاهلي حتى سنة 2002م. بيروت: دار الكتب العلمية। পৃ. ৬/৪১৫।