স্ট্রোক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
স্ট্রোক
শ্রেণীবিভাগ এবং বহিরাগত রিসোর্স

মস্তিস্কের একটি সিটি স্ক্যান চিত্র যেখানে ডানপার্শীয় মস্তিষ্ক হেমিস্ফীয়ারের ইসচেমিক স্ট্রোক দেখা যাচ্ছে। (ছবির বাম পার্শ্বে).
আইসিডি-১০ I61.-I64.
আইসিডি- 434.91
ওএমআইএম 601367
রোগ ডাটাবেস 2247
মেডলাইনপ্লাস 000726
ইঔষধ neuro/9 emerg/558 emerg/557 pmr/187
মেএসএইচ D020521

মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রক্ত সরবরাহে ব্যঘাত ঘটার ফলে যে অব্যবস্থা দ্রুত জন্ম নেয় তাকে বলা হয় স্ট্রোক (Stroke)। দেহের রক্তের মাত্র ২% মস্তিষ্ক ব্যাবহার করে থাকে। কিন্তু মস্তিষ্ক কোষসমূহ অত্যন্ত সংবেদনশীল---অক্সিজেন বা শর্করা সরবরাহে সমস্যা হলে দ্রুত এই কোষগুলো নষ্ট হয়ে যায়। ওই কোষগুলো শরীরের যেই অংশ নিয়ন্ত্রণ করত ওই অংশ গুলো পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে।

স্ট্রোকের টাইপ[সম্পাদনা]

  • ইসচেমিক (Ischemic) স্ট্রোক (আঞ্চলিকভাবে রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়া)
  • হেমোরেজিক (Hemorrhagic) স্ট্রোক (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ)

স্ট্রোকের লক্ষণ[সম্পাদনা]

মস্তিষ্কে রক্ত ক্ষরণ কিংবা আঞ্চলিকভাবে রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়া---এই দুই অবস্থাই স্ট্রোক-এর আওতায় আসে। রোগীরা দু'অবস্থাতেই প্রায় একই ধরনের উপসর্গ বা লক্ষ্মণ (symptoms & signs) নিয়ে আসতে পারে। তবে রোগীর অবস্থা কতটা খারাপ তা নির্ভর করে মস্তিষ্কের অঞ্চলসমূহের কোন এলাকায় রক্ত চলাচলে ব্যত্যয় ঘটলো তার উপর, কতোটা এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হল এবং কতো দ্রুত ওই অঘটন ঘটে থাকে, তার উপর।

সাধারণত যেসব উপসর্গ দেখা যায়ঃ

  • মাথা ঘুরানো, হাটতে অসুবিধা হওয়া, ভারসাম্য রক্ষায় অসুবিধা হওয়া
  • কথা বলতে সমস্যা হওয়া
  • অবশ, দুর্বলতা লাগা, শরীরের এক পাশ অকেজো হওয়া
  • চোখে ঘোলা লাগা, অন্ধকার লাগা বা ডাবল দেখা
  • হঠাত খুব মাথা ব্যথা

ঝুকিপূর্ণ কারণ[সম্পাদনা]

হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুকির কারণ গুলো মোটামুটি একই, যেমন

  • উচ্চ রক্তচাপ
  • বেশি কোলেস্টেরল
  • ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ
  • ধুমপান
  • স্থূলতা
  • মদ্যপান
  • পারিবারিক ইতিহাস

সাধারণত স্ট্রোক ৫৫ বছরের বেশি বয়স্ক পুরুষদের বেশি হয়

স্ট্রোকের রোগ নির্ণয় করে কিভাবে?[সম্পাদনা]

মস্তিষ্কে রক্ত ক্ষরণজনিত স্ট্রোক একটি ভয়ানক জরুরী অবস্থা (Critical condition) এবং তা যদি মস্তিষ্কের অতীব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঘটে, তবে তা দ্রুত রোগীর জীবনাবসানের কারণ হয়। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ (uncontrolled High Blood Pressure), বহুমূত্র (Diabetes),মাথায় তীব্র আঘাত (severe Head injury) ছাড়াও কতিপয় জন্মগত কারণ, যেমন ধমনীর দেয়ালের দুর্বল অংশ ফেটে যাওয়া (Ruptured Aneurysm), ধমণী-শিরার ভেতর অস্বাভাবিক সংমিশ্রণ, ইত্যাদি থেকে রক্ত ক্ষরণ (bleeding from Arteriovenous malformation) সচরাচর ঘটে থাকে। রোগ নির্ণয়ে দ্রুত ব্যাবস্থা অতীব জরুরী। কেননা মস্তিষ্কে রক্ত ক্ষরণের পর কোষগুলো ফুলে উঠতে শুরু করে, মস্তিষ্ক করোটি বা স্কাল চারিধার থেকে প্রায় বদ্ধ বিধায় আক্রান্ত মস্তিষ্ক দ্রুত জটিলতার শিকার হয়। মস্তিষ্ক হারনিয়েশন (ইংরেজি: Hernia) হচ্ছে এর অবশ্যম্ভাবী পরিণতি- অর্থাৎ দুর্বল অংশ গলিয়ে মস্তিষ্কের গুরুত্বপর্ণ অংশ বের হয়ে আসে এবং রোগী দ্রুত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

ধমণী বা শিরাবাহিত জমাট বাধা রক্তপিন্ড (embolus) মস্তিষ্কে কোন এলাকায় রক্ত সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটালে জন্ম নেয় অপর প্রকার স্ট্রোক---রক্ত চলাচল শূন্য অকার্যকর মস্তিষ্ক বা সেরিব্রাল ইনফার্কশন (Cerebral Infarction)। এ ক্ষেত্রেও রোগ নির্ণয়ে দ্রুত প্রয়োজন। জমাট বাধা রক্ত অম্বুরকে দ্রুত ভেঙ্গে ফেলা সম্ভব এবং এ জন্য শল্য চিকিৎসক মাত্র ৩ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় পান ।

স্ট্রোক হয়েছে কিনা সেটা বোঝার কিছু উপায়:

  • শারীরিক পরিমাপ: ব্লাড প্রেসার মাপা, রক্তে কোলস্টেরল মাপা, ডায়াবেটিস মাপা, আমায়িনো এসিড মাপা
  • আল্ট্রাসাউন্ড : ঘাড়ের আর্টারির ছবি নিয়ে দেখা যে কথাও রক্তনালী সরু কিংবা বন্ধ হয়ে গেছে কিনা
  • আর্টরীয়গ্রাফি (Arteriography) : রক্তনালীতে এক ধরনের রং প্রবেশ করিয়ে x-ray করানো, এতে রক্ত চলাচলের একটা ছবি পাওয়া যায়
  • CT scan (Computerized Tomography scan) : করে মস্তিস্কের 3D স্ক্যান করা যায়
  • MRI (Magnetic Resonance Imaging) : চুম্বকক্ষেত্র তৈরী করে দেখার চেষ্টা করা হয় যে মস্তিষ্ককলার কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা
  • ইকো কার্ডইওগ্রাফি: Echocardiography তে আল্ট্রা সাউন্ড ব্যবহার করে হৃদপিন্ডের একটা ছবি তুলে দেখা হয় কোনো জমাট রক্ত, বুদ বুদ কিংবা অন্যকিছু(ইংরেজি: embolus) রক্ত চলা চল বন্ধ করছে কিনা)

স্ট্রোকের ঝুকি কমানোর উপায় কি?[সম্পাদনা]

স্বাস্থ্যসম্মত জীবনব্যবস্থা বজায় রাখলে অনেক খানি ঝুকি কমানো যায় :

  • ব্লাড প্রেসার জানা এবং কন্ট্রোল করা
  • ধুমপান না করা
  • কোলেসটেরল এবং চর্বি জাতীয় খাবার না খাওয়া
  • নিয়ম মাফিক খাবার খাওয়া
  • সতর্ক ভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা
  • নিয়ম করে হাটা বা হালকা দৌড়ানো
  • দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করা
  • মাদক না নেয়া , মদ্য পান না করা

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিসংযোগ[সম্পাদনা]