সালুমারাদা থিম্মাক্কা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সালুমারাদা থিম্মাক্কা
Saalumarada Thimmakka, 2011 (cropped).jpg
২০১১ এ সালুমারাদা থিম্মাক্কা
জন্ম
পেশাপরিবেশবিদ
দাম্পত্য সঙ্গীবিকালু চিক্কাইয়া
সন্তানউমেশ (দত্তক সন্তান)
পিতা-মাতা
  • বিজয়াম্মা (মাতা)
পুরস্কারপদ্মশ্রী (২০১৯)

সালুমারাদা থিম্মাক্কা, যিনি আলাদা মারাদা তিমাক্কা নামেও পরিচিত, কর্ণাটক রাজ্যের একজন পরিবেশবিদহুলিকাল এবং কুদ্দুরের মধ্যে রাজপথের চার কিলোমিটার জায়গা বরাবর ৩৮৫টি অশ্বত্থ জাতীয় গাছ লাগিয়ে এবং তাদের যত্ন করে খবরের শিরোনামে চলে এসেছেন। তিনি প্রায় ৮০০০ অন্যান্য গাছও লাগিয়েছেন। চরিত্রের দৃঢ়তা এবং সংকল্পের আর এক নাম তিনি। শোনা যায়, সন্তান ধারণ করতে পারেননি বলে, ৪০ বছর বয়সে তিনি আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন।[২] তার স্বামীর সমর্থনে, গাছ লাগাতে শুরু করে, তিনি সান্ত্বনা পেয়েছিলেন।

তিনি প্রথাগত কোন শিক্ষা পাননি এবং নিকটবর্তী একটি খাদানে দৈনন্দিন শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।[৩][৪] তার কাজকে জাতীয় নাগরিক সম্মান প্রদান করে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।হয়েছে। তার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ভারত সরকার তাকে ২০১৯ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করেন।

লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ড ভিত্তিক একটি মার্কিন পরিবেশ সংস্থা, থিম্মাক্কা রিসোর্সেস ফর এনভায়রনমেন্টাল এডুকেশন এর নামকরণ তার নামে হয়েছে।[৫]

প্রথম জীবন[সম্পাদনা]

থিম্মাক্কা কর্ণাটকের টুমাকুরু জেলার গুব্বি তালুকে জন্মগ্রহণ করেন। কর্ণাটকের রামনগর জেলার মাগদি তালুকের হুলিকাল গ্রামের অধিবাসী চিক্কাইয়ার সঙ্গে তার বিবাহ হয়। তিনি প্রথাগত কোন শিক্ষা পাননি এবং নিকটবর্তী একটি খাদানে দৈনন্দিন শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। দুর্ভাগ্যবশত, তাঁদের কোন সন্তান হয়নি। শোনা যায়, শিশুর দুঃখ ভুলতে তিনি গাছ লাগাতে শুরু করেন।[৬] তার কাজের কারণে তাকে "সালুমারাদা" (কন্নড় ভাষায় গাছের সারি) নামে ডাকা হয়।

হুলিকাল থেকে কুদ্দুর গ্রামে এসএইচ ৯৪ বরাবর সালুমারাদা থিম্মাক্কার লাগানো গাছ

কৃতিত্ব[সম্পাদনা]

থিম্মাক্কার গ্রামের কাছে প্রচুর ডুমুর (অশ্বত্থ জাতীয় গাছ) গাছ ছিল। থিমাক্কা ও তার স্বামী এই গাছ থেকে কলম করে চারাগাছ তৈরী শুরু করেন। প্রথম বছরে দশটি কলমের গাছ তৈরি করা হয়েছিল এবং সেগুলি কুদ্দুরের আশেপাশের গ্রামগুলির কাছে ৫ কিলোমিটার দূরত্বে রোপণ করা হয়। দ্বিতীয় বছরে ১৫ টি এবং তৃতীয় বছরে ২০ টি কলমের গাছ রোপণ করা হয়।[৭] তিনি এই গাছ লাগানোর জন্য, তার নিজের সামান্য রোজগারকেই কাজে লাগান।[৬] এই দম্পতি চার কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত চারটি বালতি করে জল বহন করে নিয়ে যেতেন, গাছে জল দেবার জন্য। গাছগুলির চারিদিকে তারা কাঁটাঝোপের বেড়া দিয়েছিলেন, গাছগুলিকে গবাদি পশুর থেকে রক্ষা করার জন্য।

গাছপালা বেশিরভাগ বৃষ্টির মরশুমে রোপণ করা হয়েছিল যাতে তাদের বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট বৃষ্টির জল পাওয়া যায়। পরের বর্ষার শুরুতে, চারাগুলির শিকড় মাটির ভিতরে চলে যেত।[৭] সর্বমোট, ৩৮৪ গাছ লাগান হয়েছিল, এবং তাদের সম্পদ মূল্য প্রায় ১.৫ মিলিয়ন টাকায় মূল্যায়ন করা হয়েছে।[৪] এই গাছগুলির ব্যবস্থাপনা এখন কর্ণাটক সরকার নিয়ে নিয়েছে। [৬]

পুরস্কার[সম্পাদনা]

তার কৃতিত্বের জন্য, থিম্মাক্কাকে নিম্নলিখিত পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে:

১৬ই মার্চ, ২০১৯ তারিখে নতুন দিল্লিতে, রাষ্ট্রপতি ভবনে, একটি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, শ্রী রামনাথ কোবিন্দ, সালুমারাডা থিম্মাক্কাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করেন।
  • পদ্মশ্রী পুরস্কার - ২০১৯
  • হাম্পি বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা নাদোজা পুরস্কার - ২০১০
  • জাতীয় নাগরিক পুরস্কার - ১৯৯৫[৭]
  • ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী বৃক্ষমিত্র পুরস্কার - ১৯৯৭ (বৃক্ষমিত্র="গাছের বন্ধু")[৭]
  • বীরচক্র প্রশস্তি পুরস্কার - ১৯৯৭
  • কর্ণাটক সরকারের নারী ও শিশু কল্যাণ বিভাগের সম্মাননা শংসাপত্র
  • বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ উড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে প্রশংসার সার্টিফিকেট।
  • কর্নাটক কল্পবল্লী পুরস্কার - ২০০০
  • গডফ্রে ফিলিপস শৌর্য পুরস্কার - ২০০৬ [৮]
  • আর্ট অফ লিভিং সংগঠন দ্বারা বিশালাক্ষী পুরস্কার
  • হুভিনাহোল সংগঠন দ্বারা বিশ্বাত্মা পুরস্কার -২০১৫
  • ২০১৬ সালে বিবিসি র ১০০ মহিলার একজন[৯]
  • আই অ্যান্ড ইউ বিইং টুগেদার সংগঠন দ্বারা শি ইজ ডিভাইন পুরস্কার ২০১৭
  • সবুজ চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার
  • বৃক্ষমাতা পুরস্কার

বর্তমান কার্যকলাপ[সম্পাদনা]

জাতীয় ছাত্র সংগঠন "ভারতের ক্যাম্পাস ফ্রেন্ড" এর সদস্যদের সাথে "সালুমারাদা থিম্মাক্কা" ২০১৫ এর বিশ্ব পরিবেশ দিবস

১৯৯১ সালে থিম্মাক্কার স্বামী মারা যান।[১০] আজ, থিম্মাক্কাকে ভারতের প্রচুর বনভূমি সৃজন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়।[৪] তিনি, তার গ্রামে অনুষ্ঠিত বার্ষিক মেলাতে ব্যবহারের জন্য, বৃষ্টির জল সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে একটি জলাধার নির্মাণের মতো অন্যান্য সামাজিক ক্রিয়াকলাপের সঙ্গেও জড়িত। স্বামীর স্মরণে গ্রামে একটি হাসপাতাল নির্মাণের স্বপ্নও তার রয়েছে এবং এই উদ্দেশ্যে একটি ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।[৪]

বিবিসি দ্বারা স্বীকৃতি[সম্পাদনা]

২০১৬ সালে, ব্রিটিশ সম্প্রচার কর্পোরেশন সালুমারাদা থিম্মাক্কাকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও অনুপ্রেরণামূলক মহিলার মধ্যে একজন তালিকাভুক্ত করেছে। [১১]

তাঁর নামের অপব্যবহারের অভিযোগ[সম্পাদনা]

দিল্লির কৌতুকাভিনেতা বাসু ঋতু প্রিমলানির বিরুদ্ধে থিম্মাক্কা তার নামের অপব্যবহারের অভিযোগ করেছেন। রামনগর বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের প্রথম শ্রেণীর আদালতের (জেএফএমসি) কাছে, এক অনাবাসী ভারতীয়, ঋতু প্রিমলানির বিরুদ্ধে, তার সম্মতি বা জ্ঞান ছাড়াই, কমপক্ষে ১৪ বছর ধরে তার নামে সংগঠন চালানোর জন্য, শ্রীমতি থাম্মাক্কা ৯ই মে একটি ব্যক্তিগত অভিযোগ দায়ের করেন।[১২]

২০১৪ সালে, কর্ণাটকের উচ্চ আদালত শ্রীমতি প্রিমলানির পক্ষে সিদ্ধান্ত দেন, বলেন যে 'শ্রীমতি প্রিমলানির বিরুদ্ধে সব অভিযোগ সত্য হলেও, সেগুলি কোনও অপরাধ নয়'। শ্রীমতি প্রিমলানি অভিযোগের এক দশকেরও আগে থেকে তার অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেছিলেন।[১৩] থিম্মাক্কার দত্তক পুত্র, উমেশ, দাবি করেন যে সংগঠনটি দান সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তার নাম ব্যবহার করে। শ্রীমতি প্রিমলানি ২০০৩ সালে থিম্মাক্কার সাথে দেখা করেন এবং তাকে একটি শাড়ি দেন, এবং এর ছবি তোলা হয়। এখন অভিযোগ যে তিনি থিম্মাক্কার আঙ্গুলের ছাপ নিয়েছেন, কিন্তু তিনি বলছেন থিম্মাক্কা এক বিচারপতির সামনে আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে তার অলাভজনক সংস্থাকে ছাড়পত্র দিয়েছেন।[১৪]

অভিযোগের পর, যেখানে শ্রীমতি প্রিমলানি তার শো করছিলেন, সেখানে একজন পুলিশ আসেন তাকে হেফাজতে নিতে। তিনি দাবী করেন থিম্মাক্কার আইনজীবিরা তাকে লিখিত হুমকি দিয়েছে যা একপক্ষে টাকা আদায়ের পর্যায়ে পড়ে।

যদিও থিম্মাক্কা নিজেই বেশিরভাগ মন্তব্য করেন, তিনি তার সামান্য পেনশন ৪০০ টাকা বলে উল্লেখ করেছেন, এবং তাকে উদ্ধৃত করা হয়েছে, "যদি কোন অপব্যবহার হয় এবং আমার নাম কালিমালিপ্ত হয়?"। থিম্মাক্কা সাম্প্রতিককালে অসুস্থতার শিকার হয়েছেন এবং তার আর্থিক এই অবস্থায় চিকিৎসাতে প্রচুর অর্থ চলে যাচ্ছে।।[১৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "About Thimmakka"thimmakkafoundation.org। Thimmakka Foundation। ১৪ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০১৭ 
  2. "Watch: When The "Mother Of Trees" Blessed President Ram Nath Kovind"NDTV.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৩-১৬ 
  3. http://www.goodnewsindia.com/Pages/content/inspirational/thimmakka.html
  4. A biography of Thimmakka is provided by B. R. Srikanth। "Thimmakka's Green Crusade Transforms Heat-And-Dust Hulikal"Online Edition of The Outlook, dated 1999-05-03। © Outlook Publishing (India) Private Limited। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মে ২০০৭ 
  5. "About Thimmakka"Online Webpage of Thimmakka.org। Thimmakka's Resources for Environmental Education। ২০০৬-১২-৩১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৫-২৩ 
  6. Thimmakka started to plant banyan trees to overcome the grief of being childless: Priyanjana Dutta। "Woman plants trees, village thrives"Online webpage of Ibnlive.com। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৫-২৩ 
  7. Planting of tree by Thimmakka and the Chikkaiah is mentioned by Malini Shankat। "A mother's love"Online webpage of DownToEarth.org। ©2004 Society for Environmental Communications। ২০০৭-০৯-২৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৫-২৩ 
  8. "Unsung heroes' hour of glory"Online webpage of The Hindu, dated 2006-03-26। Chennai, India: 2006, The Hindu। ২০০৬-০৩-২৬। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৫-২৩ 
  9. 2016, BBC, Retrieved 26 November 2016
  10. Deepa Ganesh। "Mother of 400"Online webpage of The Hindu, dated 2003-12-01। 2003, The Hindu। ২০০৭-১১-২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৫-২৩ 
  11. https://thelogicalindian.com/story-feed/get-inspired/saalumarada-thimmakka/
  12. "NRI accused of misusing Thimmakka's name"। The Hindu। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০১৪ 
  13. "ASHOKA INNOVATORS FOR THE PUBLIC: Ritu Primlani"ASHOKA INNOVATORS FOR THE PUBLIC 
  14. "Police in mufti at show scares comedian" 
  15. "'Saalumarada' Thimmakka ill, in financial mess" 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]