বিষয়বস্তুতে চলুন

সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
একজন জাগুয়ার শিকারি এবং তার ছেলে, চকো বোরিয়ালের স্থানীয়। বাবা তার অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে চলেছেন এবং ছেলে ইতোমধ্যে পশ্চিমা পোশাক গ্রহণ করেছেন।

সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ হল সাম্রাজ্যবাদের সাংস্কৃতিক মাত্রা। সাম্রাজ্যবাদ বলতে এখানে সভ্যতাগুলোর মধ্যে অসম সম্পর্কের সৃষ্টি এবং রক্ষণাবেক্ষণকে বোঝায়, যে সম্পর্কে একটি সভ্যতা অন্য একটি সভ্যতার উপর আধিপত্য বিস্তার করে। সুতরাং, সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ একটি কম শক্তিশালী সমাজের উপর সাধারণত একটি রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী জাতির সংস্কৃতির প্রচার ও প্রয়োগ করার অভ্যাস; অন্য কথায়, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী দেশগুলির সাংস্কৃতিক স্বৈরাচার যা বিশ্বজুড়ে নিজস্ব সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ প্রচার ও নিজ স্বার্থের অনুকূলে সভ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করে দেয়।

সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ বিভিন্ন রূপ নিতে পারে, যেমন মনোভাব, আনুষ্ঠানিক নীতি, বা সামরিক পদক্ষেপ - যতক্ষণ না এগুলি সাম্রাজ্যের সাংস্কৃতিক আধিপত্যকে শক্তিশালী করে। এই বিষয়ে গবেষণা জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় ঘটে এবং বিশেষত যোগাযোগ এবং মিডিয়া স্টাডিজ,[][][] শিক্ষা,[] বৈদেশিক নীতি,[] ইতিহাস,[] আন্তর্জাতিক সম্পর্ক,[] ভাষাবিজ্ঞান,[] সাহিত্য,[] উত্তর-উপনিবেশবাদ,[১০][১১] বিজ্ঞান,[১২] সমাজবিজ্ঞান,[১৩] সামাজিক তত্ত্ব,[১৪] পরিবেশবাদ,[১৫] এবং খেলাধুলা।[১৬]

সাধারণত অন্য রাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদের প্রভাবাধীন থাকা আরেকটি রাষ্ট্রের জন্য একটি ক্ষতিকর ব্যাপার যেহেতু সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদের মধ্য দিয়ে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র অন্য একটি দুর্বল রাষ্ট্রের বাজার ও অর্থনীতি দখল ও নিয়ন্ত্রণ করে। সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদের নানা রূপ দেখা যায়, এটি কখনও দাদাগিরি মনোভাব, সরকারি নীতি, বা সামরিক ভয়প্রদর্শনের মধ্য দিয়েও প্রকাশ পায়; তবে সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদের মধ্য দিয়ে সর্বদা সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তার তথা জোরদার করা হয়। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বড় একটি হাতিয়ার হলিউডের চলচ্চিত্র।[১৭] সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদের কবলে পড়ে ফাস্ট ফুড, ড্রিংকস, পিৎজা, পেপসি, কোকাকোলা মত অস্বাস্থ্যকর পানীয় ও খাদ্যে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে বাঙালিরা।[১৮] ভুলে যাচ্ছি তারা নিজস্ব খাবারের নাম। পরিবর্তিত হচ্ছে খাদ্যাভ্যাস। ঢাকার শপিং মলে শোনা যায় না বাংলা গান, শোনা যায় পশ্চিমা সংগীত। ডিজনি, ভায়াকম, সিবিএসের মতো গণমাধ্যম কোম্পানিগুলো ‘অবাধ তথ্য প্রবাহে’র সুযোগ নিয়ে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে নিজেদের ইচ্ছামতো জনমত গঠন ও নিয়ন্ত্রণ করছে।[১৯]

তাত্ত্বিক ভিত্তি

[সম্পাদনা]

বর্তমানের অনেক বুদ্ধিজীবী যারা সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদের কথা বলে তাদের অনেকে মিশেল ফুকো, এডওয়ার্ড সাইদ, গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক এবং অন্যান্য উত্তরকাঠামোবাদী ও উত্তরউপনিবেশবাদী তাত্ত্বিকদের রচনাকর্মের সাথে পরিচিত।[২০] উত্তরউপনিবেশবাদ তত্ত্বে সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদকে অনেক সময় অতীত উপনিবেশায়নের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার বা সামাজিক আচার হিসেবে দেখা হয়, যা পশ্চিমা আধিপত্যকে বজায় রাখতে সহায়তা করে।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Schiller, Herbert I. (১৯৯২)। Mass communications and American empire। Critical studies in communication and in the cultural industries (2. ed., updated সংস্করণ)। Boulder Oxford: Westview Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮১৩৩-১৪৩৯-৬
  2. Boyd-Barrett, Oliver; Mirrlees, Tanner, সম্পাদকগণ (২০২০)। Media imperialism: continuity and change। Lanham Boulder New York London: Rowman & Littlefield। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৩৮১-২১৫৪-২
  3. Mirrlees, Tanner (২০১৬)। Hearts and mines: the US empire's culture industry। Vancouver Toronto: UBC Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৭৪৮-৩০১৪-০
  4. Carnoy, Martin (১৯৭৪)। Education as cultural imperialism (2. print সংস্করণ)। New York, NY: McKay। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৭৯-৩০২৪৬-৯
  5. Wagnleitner, Reinhold (৯ নভেম্বর ২০০০)। Coca-Colonization and the Cold War: The Cultural Mission of the United States in Austria After the Second World War (ইংরেজি ভাষায়)। Univ of North Carolina Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮০৭৮-৬৬১৩-৯
  6. Rydell, Robert W. (২০১৩)। Buffalo Bill in Bologna : the Americanization of the world, 1869-1922। Rob Kroes (Pbk. সংস্করণ)। Chicago, Ill.: University of Chicago Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২২৬-০০৭১২-০ওসিএলসি 806198432
  7. Davis, G. Doug (২০১৯)। Cultural imperialism and the decline of the liberal order : Russian and Western soft power in Eastern Europe। Michael O. Slobodchikoff। Lanham, Maryland। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৯৮৫-৮৫৮৬-৬ওসিএলসি 1050960744{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক)
  8. Phillipson, Robert (১৯৯২)। Linguistic imperialism। Oxford [England]: Oxford University Press। আইএসবিএন ০-১৯-৪৩৭১৪৬-৮ওসিএলসি 30978070
  9. Cultures of United States imperialism। Amy Kaplan, Donald E. Pease। Durham: Duke University Press। ১৯৯৩। আইএসবিএন ০-৮২২৩-১৪১৩-৪ওসিএলসি 28113815{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অন্যান্য (লিঙ্ক)
  10. Said, Edward W. (১৯৯৪)। Culture and imperialism (1st Vintage books সংস্করণ)। New York। আইএসবিএন ০-৬৭৯-৭৫০৫৪-১ওসিএলসি 29600508{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক)
  11. Young, Robert (২০০৩)। Postcolonialism : a very short introduction। Oxford: Oxford University Press। আইএসবিএন ০-১৯-২৮০১৮২-১ওসিএলসি 51001171
  12. Teresa A. Meade; Mark Walker, সম্পাদকগণ (জানুয়ারি ১৯৯১)। Science, Medicine and Cultural Imperialism.। New York: Palgrave Macmillan। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৩৪৯-১২৪৪৭-৩ওসিএলসি 1017909068
  13. Cultural imperialism : essays on the political economy of cultural domination। Bernd Hamm, Russell Smandych। Peterborough, Ontario। ২০০৫। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৪২৬-০২০৯-০ওসিএলসি 180772881{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অন্যান্য (লিঙ্ক) উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক)
  14. Tomlinson, John (১৯৯১)। Cultural imperialism : a critical introduction। Baltimore, Md.: Johns Hopkins University Press। আইএসবিএন ০-৮০১৮-৪২৪৯-২ওসিএলসি 24142273
  15. Shah, Parth; Maitra, Vidisha (২০০৫)। Terracotta Reader: A Market Approach to the Environment (ইংরেজি ভাষায়)। Academic Foundation। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭১৮৮-৪২৬-১
  16. Besnier, Niko; Brownell, Susan; Carter, Thomas F. (৮ ডিসেম্বর ২০১৭)। Two. Sport, Colonialism, and Imperialism (ইংরেজি ভাষায়)। University of California Press। ডিওআই:10.1525/9780520963818-005আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২০-৯৬৩৮১-৮এস২সিআইডি 226765698
  17. "হলিউডের চোখে ভারত"Bangla Tribune। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
  18. "বিশ্বায়নের সাংস্কৃতিক প্রভাব"দৈনিক ইত্তেফাক (Bengali ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)
  19. "সাম্রাজ্যবাদের সাংস্কৃতিক ইন্দ্রজাল"Amadershomoy Online। ২০ জুলাই ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
  20. White, Livingston A. "Reconsidering Cultural Imperialism Theory" Transnational Broadcasting Studies no.6 Spring/Summer 2001.