সর্দার সরোবর বাঁধ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সর্দার সরোবর বাঁধ
নর্মদা নদীর উপরে নির্মিত সর্দার সরোবর বাঁধ
দেশIndia
অবস্থাননবগাও, গুজরাত, ভারত
স্থানাঙ্ক২১°৪৯′৪৯″ উত্তর ৭৩°৪৪′৫০″ পূর্ব / ২১.৮৩০২৮° উত্তর ৭৩.৭৪৭২২° পূর্ব / 21.83028; 73.74722স্থানাঙ্ক: ২১°৪৯′৪৯″ উত্তর ৭৩°৪৪′৫০″ পূর্ব / ২১.৮৩০২৮° উত্তর ৭৩.৭৪৭২২° পূর্ব / 21.83028; 73.74722
অবস্থাOperational
নির্মাণ শুরুএপ্রিল, ১৯৮৭
মালিক(s)নর্মদা কন্ট্রোল অথরিটি
বাঁধ এবং স্পিলওয়েস
স্পিলওয়ের ধারণক্ষমতা৮৪,৯৪৯ মি/সে (২৯,৯৯,৯০০ ঘনফুট/সে)
পাওয়ার স্টেশন
কার্যকারক (s)সর্দার সরোবর নর্মদা নিগম লিমিটেড [১]
সম্পাদনের তারিখজুন, ২০০৬
ওয়েবসাইট
www.sardarsarovardam.org
সর্দার সরোবর বাঁধ

সর্দার সরোবর বাঁধ পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম[২] নদী বাঁধ, যা নর্মদা নদীর উপরে ভারতের গুজরাতে শোনগড়, নবগাও অঞ্চলে নির্মিত হয়েছে। ভারতের চারটি অঙ্গরাজ্য যথা গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং রাজস্থান এই বাঁধ থেকে সরবরাহকৃত জল ও বিদ্যুৎ-এর সুবিধা ভোগ করে। ১৯৬১ সালের ৫ই এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত জওহরলাল নেহরু কর্তৃক এই প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। প্রকল্পটির রূপায়ণ শুরু হয় ১৯৭৯ সালে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটি উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে।অবশেষে ২০১৭ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন[৩]। নর্মদা নদীর উপর পরিকল্পিত ৩০টি বাঁধের মধ্যে সরদার সরোবর বাঁধ (এসএসডি) বৃহত্তম এবং এটি বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধগুলির মধ্যে অন্যতম [৪][৫]।এটি নর্মদা ভ্যালি প্রজেক্টের অংশ,যা কিনা নর্মদা নদীতে বহুবিধ জলবিদ্যুত এবং সেচের সুবিধার্থে ৩০টি বাঁধ নির্মাণের সাথে জড়িত। সুপ্রিম কোর্ট অফ ইন্ডিয়াতে ১৯৯৯, ২০০০ এবং ২০০৩ এ বিতর্কিত বেশ কয়েকটি মামলার পর ২০১৪ সালে নর্মদা কন্ট্রোল বোর্ড চূড়ান্ত উচ্চতায় কিছু পরিবর্তন অনুমোদন করে এবং জলাধারের বর্ধিত উচ্চতা মূল ৮০ মি (২৬০ ফু) থেকে চূড়ান্ত ১৩৮ মি (৪৫৩ ফু) এ রূপান্তরিত হয়.[৬][৭]। এই প্রকল্পটি ১৮,০০০ কিমি (৬,৯০০ মা) এর চেয়েও বেশি, খরা প্রবণ কচ্ছ এবং সৌরাষ্ট্র এলাকায় সেচের সুবিধা প্রদান করে। বাঁধের মূল পাওয়ার প্ল্যান্ট টি পাম্পড স্টোরেজ এর সুবিধা যুক্ত এবং ৬ টি ২০০ মেগাওয়াটের ফ্রান্সিস টারবাইন রয়েছে এখানে। এছাড়াও প্রধান খালটির উৎসমুখে আর একটি পাওয়ার প্ল্যান্ট রয়েছে যেখানে ৫টি ৫০ মেগাওয়াটের কাপলান টারবাইন জেনারেটার রয়েছে। সর্ব সাকুল্যে এই জল্বিদ্যুত কেন্দ্রের ক্ষমটা ১৪৫০ মেগাওয়াট।

ভৌগোলিক অবস্থান[সম্পাদনা]

মধ্য প্রদেশের আলিরাজপুর জেলাতে দক্ষিণ-পশ্চিম মালওয়া মালভূমির একটি ছিন্ন বিচ্ছিন্ন অংশ মাথোয়াড় পাহাড়ের রূপ নিয়েছে এবং এই পাহাড়ের গিরিখাত দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে নর্মদা; গিরিখাত থেকে বের হওয়ার মুখেই গুজরাতে সর্দার সরোবর বাঁধ গতিরোধ করছে নর্মদার।

নর্মদা ক্যানেল[সম্পাদনা]

প্রধান নর্মদা ক্যানেল গুজরাটে ১২ টি জেলার ৬২ টি তালুকের ৩৩৯৩ টি গ্রামের ১৭,৯২০ কিমি (৬,৯২০ মা) ভূমিতে (এই ভূমির ৭৫ শতাংশ (খরা প্রবণ অঞ্চলে)) এবং রাজস্থান এর বারমের এবং জালোর জেলার শুষ্ক অঞ্চলে৭৩০ কিমি (২৮০ মা)ভূমিতে সেচ প্রদান করবে। বাঁধটি ২১০টি গ্রাম এবং ভারুচ শহর এবং গুজরাটের প্রায় ৪০০,০০০ অধিবাসীকে ৩০,০০০ হেক্টর[রূপান্তর: অজানা একক] পরিমাপ নদী প্রবাহে বন্যা সুরক্ষা প্রদান করবে [৮]সৌরাষ্ট্র নর্মদা অবতরন সেচ প্রকল্প একটি প্রধান কর্মসূচী যা খালের জলের ব্যবহার করে অনেকগুলি অঞ্চলে সেচ দিতে সাহায্য করে।

সৌর শক্তি উৎপাদন[সম্পাদনা]

২011 সালে, গুজরাট সরকার খালের উপর সৌর প্যানেল স্থাপন করে সৌরশক্তি উৎপাদনের পরিকল্পনা ঘোষণা করে, যাতে আশেপাশের গ্রামগুলির জন্য বিদ্যুৎ পেতে সুবিধা হয় এবং তা জলের বাষ্পীভবন কমাতেও সাহায্য করে। প্রথম পর্যায়ে ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ খালের উপর প্যানেল স্থাপন করা হয় যার থেকে 25 মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়[৯]

বিতর্ক[সম্পাদনা]

এই বাঁধটির নির্মাণ ভারতের সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায়গুলির একটি, এবং এর পরিবেশগত প্রভাব এবং মোট খরচ এবং সুবিধার অনুপাত ব্যাপকভাবে বিতর্কিত। বিশ্বব্যাংক প্রাথমিকভাবে সর্দার সরোবর বাঁধে অর্থায়ন করেছিল, কিন্তু 1994 সালে তা প্রত্যাহার করে নেয়। ১৯৮০ থেকেই নর্মদা ভ্যালী প্রকল্প এবং প্রস্তাবিত বাঁধ গুলি বিতরকের কেন্দ্রে ছিল। মানবাধিকার কমিশন এবং বাবা আমতে ও মেধা পাটেকারের নেতৃত্বে 'নর্মদা বাচাও আন্দোলন' শুরু হয়[১০] এই আন্দোলনটি 1989 সালে সংঘটিত হয় এবং 1991 সালে রাইট লাইভলিহউড অ্যাওয়ার্ড লাভ করে[১১] দ্য গার্ডিয়ান 'এর একটি মতামত অনুযায়ী, এনবিএ কর্মীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষকে,যারা ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করেছিল, আক্রমণ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় [১২] এছাড়াও বুকার পুরস্কার বিজয়ী ভারতীয় লেখক অরুন্ধতী রায় এই আন্দোলনে সমর্থন দেন; তিনি নর্মদা বাঁধ প্রকল্পের প্রতিবাদে লেখেন প্রবন্ধ "দ্য গ্রেটার কমন গুড" যা 'দ্য কস্ট অব লিভিং' বইতে পুনঃপ্রকাশিত হয়[১৩] । প্রবন্ধে, রয় বলেছেন: একটি রাষ্ট্রের "উন্নয়ন" ের জন্যে বিশাল বাঁধগুলি হল সামরিক বাহিনীর আর্সেনালের জন্য নিউক্লিয়ার বোমার সমানুপাতিক। তারা উভয়ই গণ ধ্বংসের অস্ত্র এবং তারা সরকারের দ্বারা তাদের নিজস্ব জনগণকে নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যবহৃত হয়।

উচ্চতা পরিবর্ধন[সম্পাদনা]

সর্দার সরোবর বাঁধ,
২০০৬ এ উচ্চতা পরিবর্ধনের সময়.
  • ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারীতে, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট প্রাথমিকভাবে ৮০ মি (২৬০ ফু) থেকে বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধি করে ৮৮ মি (২৮৯ ফু) করার অনুমতি দেয়
  • ২000 সালের অক্টোবর মাসে আবার সুপ্রিম কোর্টে ২ঃ১ বিচারে সরকারকে ৯০ মি (৩০০ ফু) বাঁধ নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়[৬]
  • ২০০২ সালের মে মাসে, নর্মদা কন্ট্রোল কর্তৃপক্ষ বাঁধের উচ্চতা ({|convert | 95 | m | abbr = on}} করার অনুমতি দেয়
  • ২০০৪ সালের মার্চে, কর্তৃপক্ষ ১৫ মি (৪৯ ফু) উচ্চতা বৃদ্ধি করে১১০ মি (৩৬০ ফু) করার অনুমতি দেয়।
  • ২০১৩র আগস্টে, ভারী বৃষ্টিপাতে জলাধারটি ১৩১.৫ মি (৪৩১ ফু)-এ উত্থাপিত হয়, যা নর্মদা নদীর তীরে ৭০০০ গ্রামবাসীকে উচ্ছেদ হতে বাধ্য করে [১৪]
  • ২০১৪ সালের জুনে নর্মদা কন্ট্রোল কর্তৃপক্ষ উচ্চতা ১২১.৯২ মি (৪০০.০ ফু)থেকে ১২১.৯২ মি (৪০০.০ ফু) করার জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়[১৫]
  • নর্মদা কন্ট্রোল অথরিটি ২০১৭ র ৭ই জুন তারিখে সরদার সরোবর বাঁধের উচ্চতা 163 মিটার উঁচু করার জন্য 30 গেটস বন্ধ করার আদেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে

পরিবেশ ও বনমন্ত্রকের প্রতিবেদন[সম্পাদনা]

সরদার সরোবর (এসএসপি) এবং ইন্দিরাসাগর সংক্রান্ত পরিবেশগত রক্ষাকবচগুলির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন মূল্যায়ন করার জন্য ভারত সরকারের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের [এমইওএফ] কর্তৃক বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়।এই কমিটির দ্বিতীয় অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিকিত্সা (ক্যাট), উদ্ভিদ ও প্রাণিসম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসার, কমান্ড এলাকা উন্নয়ন (সিএডি), ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন এবং প্রকল্পের প্রভাব এলাকায় মানুষের স্বাস্থ্যগত দিকগুলি সম্পর্কে সম্মতির অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি সুপারিশ করে যে, এসএসপি বা আইএসপিতে আর কোনও জলাধার-ভরাট করা যাবে না; খাল নির্মাণে আর কোন কাজ করা হবে না; এমনকি সেচ ব্যবস্থাও তৎক্ষণাৎ থামানো হবে যতক্ষণ না বিভিন্ন সুপারিশ সম্পূর্ণ ভাবে মেনে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। [১৬]

সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত[সম্পাদনা]

গণ প্রতিবাদ সত্ত্বেও, সুপ্রিম কোর্ট উচ্চতা ১২১.৯২ মি (৪০০ ফু) বৃদ্ধির অনুমোদন দেয় কিন্তু একই বিচারে, বিচারপতি শ্রী ভেরুচা মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র সরকারকে নির্দেশ দেন যে আর কোন নির্মাণের আগে তারা পরিদর্শন করে প্রত্যয়ন করবেন যে ৫ মিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তাদের যেন যথাযোগ্য এবং সুষ্ঠু পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয় এবং রাজ্যগুলি যেন এটি নিশ্চিত করে যে তাদের পুনর্বাসন দেওয়ার উপযুক্ত খালি জমি ইতিমধ্যে নিজ নিজ রাজ্যের দখল করা হয়ে গেছে। এই প্রক্রিয়া উচ্চতা প্রতিবার পাঁচ মিটার বৃদ্ধি করার সময় পুনরাবৃত্তি করা হবে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.sardarsarovardam.org/
  2. https://www.ndtv.com/india-news/pm-modi-to-inaugurate-worlds-second-biggest-dam-on-september-17-1750039
  3. "A short history of the Sardar Sarovar Dam on river Narmada"The Indian Express। সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭। 
  4. http://indianexpress.com/article/india/pm-narendra-modi-to-inaugurate-worlds-second-biggest-sardar-sarovar-dam-on-september-17-4843132/
  5. http://www.aljazeera.com/news/2017/09/narendra-modi-inaugurates-sardar-sarovar-dam-170917123309247.html
  6. "BBC News — SOUTH ASIA — Go-ahead for India dam project"bbc.co.uk 
  7. "Sardar Sarovar Power Complex"। Narmada Control Authority। সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০১২ 
  8. "Main Features of the Dam"। supportnarmadadam.org। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০১০ 
  9. "Soon, solar power panels on Narmada canal: Narendra Modi"dna 
  10. Scudder T. (2003) (SSP), Unpublished Manuscript, retrieved 7/9/2007 India’s Sardar Sarovar Project
  11. Friends of River Narmada, retrieved 9 July 2007 he Sardar Sarovar Dam: a Brief Introduction
  12. Kirk Leech (৩ মার্চ ২০০৯)। "The Narmada dambusters are wrong"The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৩-০৪ 
  13. Roy, Arundhati (এপ্রিল ১৯৯৯)। "The Greater Common Good"। Friends of River Narmada। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৫-২৯ 
  14. "7000 villagers relocated after water level in Narmada dam crosses 130m"Express News Service। ২৫ আগস্ট ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১৩ 
  15. "NCA permits raising Narmada dam height after eight years"Times of India। ১২ জুন ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০১৪ 
  16. Mahadevan Ramaswamy and Ramaswamy R. Iyer (২০১০-০৩-৩১)। "A damaging report"The Hindu। Chennai: "Kasturi & Sons Ltd। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০১০